Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১৪)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১৪)

৬৬ চরিত্র গঠনের নিয়ম

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নির্দেশিত আখলাক গঠনের জন্য শুধু কিতাব পড়া যথেষ্ট নয়। শুধু ওয়াজ-নসীহত শোনাও যথেষ্ট নয়। এর জন্য কোন মুরব্বী ও আল্লাহ ওয়ালা বুযুর্গের সান্নিধ্য জরুরী। তাসাওফ ও পীর মুরীদির যেই ধারাবাহিকতা বুযুর্গদের থেকে চলে আসছে, তাঁর আসল উদ্দেশ্যই হল। মানুষের মাঝে সত্যিকার আদর্শ গঠন করা, খারাপ আখলাক মন্দ স্বভাব দূর করা। মোটকথা ঈমানের দিক থেকে উত্তম ব্যক্তি সেই, যার আখলাক ভাল, যার হৃদয় সঠিক অনুভূতি ও প্রেরণা সৃষ্টি হয় এবং তাঁর কর্মকান্ড ও অঙ্গ প্রত্যঙ্গের দ্বারা সেই অনুভূতি প্রকাশ ঘটে। আল্লাহ স্বীয় অনুগ্রহে আমাদের সবাইকে কামেল মুমিন বানিয়ে দিন।

৬৭ আল্লাহর বান্দীদের প্রহার করা

আরবী…

হযরত আয়াস ইবনে আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) বলেন—হুযুরে আকদাস  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—আল্লাহ বান্দীদের তোমরা মেরো না অর্থাৎ স্ত্রীদের মারা ভাল নয়। তাই তাদেরকে মেরো না।

আলোচ্য হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের স্ত্রীদের মারার উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন। যারা এ নিষেধাজ্ঞা সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুবারক মুখ  থেকে শুনেছেন, তাদের জন্য এ কাজ নিশ্চত হারাম হয়ে গেছে। সুতরাং কোন অবস্থাতেই তাদের জন্য মারা জায়েয নেই।

৬৮ হাদীস যন্নী কাতয়ী?

এক প্রকার হাদীস আছে যা আমরা কিতাবে পড়ি বা শুনে থাকে, যা (আরবী) এভাবে দীর্ঘ সনদের সাহায্যে হাদীসের কিতাবে সংকলিত হয়েছে। এ ধরণের হাদীসকে যন্নী বলা হয়। কারণ যন্নী পদ্ধতিতে এ হাদীস আমাদের পর্যন্ত পৌঁছেছে। এ প্রকার হাদীসের সাথে আমল করা ওয়াজিব। যদি আমল না করে তবে গুনাহগার হবে। কিন্তু সাহাবায়ে কিরাম সরাসরি যে হাদীস নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে শুনেছেন, তা যন্নী নয় বরং কাতয়ী তথা অকাট্য। সুতরাং কেউ যদি তা বিরোধিতা করে তবে সে শুধু গুনাহগার হবে না বরং কাফির হয়ে যাবে। কারণ সে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাণী প্রত্যাখ্যান করেছে। তাই তৎক্ষনাত সে কাফির হয়ে যাবে।

৬৯ সাহাবায়ে কিরামই এর যোগ্য ছিলেন

কখনও কখনও আমাদের মাঝে নির্বুদ্ধিতাসূলভ চিন্তা আসে যে, হায়! আমি যদি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবদ্দশায় জম্ম নিতাম! তাহলে যে যুগের বরকত লাভ করতে পারতাম, আল্লাহ তা’আলা স্বীয় হেকমত অনুযায়ী আমাদেরকে এ যুগে সৃষ্টি করেছেন। যদি আমরা সেই যুগে নিতাম তাহলে আল্লাহই জানত, আমরা কোন জাহান্নামে থাকতাম। আল্লাহ তা’আলা সবাইকে হেফাযত করুন। কারণ সে সময় ঈমানের বিষয় এত স্পর্শকাতর ছিল যে, সামান্য হেরফেরে মানুষ এদিক থেকে সেদিক হয়ে যেত। সাহাবায়ে কিরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—এর জন্য যে ভাবে স্বর্বস্ব উৎসর্গ করেছিলেন, এটা তাদের দ্বারাই সম্ভব ছিল। শুধু তারাই এর যোগ্য ছিলেন। তাদের কুরবানীর বিনিময়েই তারা এই মর্যাদার আসনে পৌঁছেছেন।

আমাদের মত আরামপ্রিয় ও স্বার্থপর মানুষ যদি সেই যুগে হত তাহলে আল্লাহই জানেন কি হত আল্লাহ তা’আলার বিরাট বড় অনুগ্রহ ও ইহসান যে তিনি আমাদেরকে সেই পরিণতি থেকে বাঁচিয়েছেন এবং এমন যুগে আমাদের জম্ম দান করেছেন, যে যুগে আমাদের জন্য অনেক সুবিধা রয়েছে। আজকে আমরা হাদীসের ব্যাপারে বলি, এটি যন্নি হওয়ার কারণে কেউ যদি প্রত্যাক্ষান করে তাহলে সে কাফির হবে না। শুধু গুনাহগার হবে। কিন্তু সাহাবায়ে কিরামের ব্যাপারে ছিল, যদি কোন ব্যক্তি সরাসরি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মুখ থেকে কোন বাণী শোনার পর তা প্রত্যাক্ষাণ করত তাহলে তৎক্ষনাত কাফির হয়ে যেত। আল্লাহ হেফাযত করুন। আমীন।

৭০ নারীরা তো বাঘ হয়ে গেছে!

তাই রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যখন বললেন যে, তোমরা স্ত্রীদের মেরো না, তখন মারার ব্যাপারটি সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেল, এর কিছুদিন পর একদিন হযরত উমর (রাযিঃ) নবী কারীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে উপস্থিত হলেন এবং বললেন,

আরবী….

অর্থঃ হে আল্লাহর রাসূল নারীরা তো এখন স্বামীদের জন্য বাঘ পরিণত হয়েছে। কারণ আপনি মারতে নিষেধ করেছেন। ফলে কেউ তাঁর স্ত্রীকে মারে না বরং মারার কাছাকাছি কোন কাজ করাকেও ভয় করছে, না মারার ফলে নারীরা বাঘ হয়ে গেছে এবং স্বামীদের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে শুরু করেছে। তাদের সাথে খারাপ আচরণ করছে। এখন আপনি বলুন, এমতাবস্থায় আমরা কি করব?

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অনুমতি দিলেন যে, যদি নারীরা স্বামীর অধিকার ক্ষুণ্ন করে এবং মারা ছাড়া কোন উপায় না থাকে তবে তোমাদের মারার অনুমতি আছে। এই অনুমতি দেওয়ার পর কিছুদিন না যেতেই নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে মহিলারা আসতে লাগল এবং অভিযোগ করতে লাগল যে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আপনি স্বামীদিএরকে মারার অনুমতি দিয়েছেন। এতে অনেকে অবৈধ ফায়দা উঠাচ্ছে এবং আমাদের কে জঘন্যভাবে মারছে। আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE