Home / বই থেকে / স্বামীর অধিকার ও মর্যাদা

স্বামীর অধিকার ও মর্যাদা

স্বামীর অধিকার ও মর্যাদা

যে আল্লাহ তা’আলা পুরুষদের অভিভাবক বানিয়েছেন, তাই সিন্ধান্ত তারই। তএ নারিগণ তাদের মতাকতব্যক্ত করতে পারে, পরামর্শ দিতে পারে। পুরুষদেরকে এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যে, তারা সাম্ভাব্য সকল উপায় নারীদের মনোতুষ্টির খেয়াল রাখবে। তবে সিন্ধান্ত তাঁর হবে। যদি একথা মাথায় না থাকে আর বেগম সাহেবা চায় সকল বিষয়ে আমার সিন্ধান্তই চলবে, আমার স্বামী অভিভাবক হবে না, আমি অভিভাবক হব, তাহলে এ কথা স্বভাব বিরোধী শরীয়ত, বিবেক বর্জিত এবং ইনসাফ বহিভূর্ত, এর ফলাফল ঘর ও পরিবার ধ্বংস ছাড়া কিছু নয়।

 

আরবী………

পূর্বের অধ্যায়ে একজন স্বামীর যিম্মায় তাঁর স্ত্রীর কি কি অধিকার রয়েছে তা আলোচনা করা হয়েছে। তাতে স্ত্রীর সাথে স্বামীর আচরণ কি ধরণের হওয়া চাই এ সম্পর্কে  স্বামীর জন্য সুনির্দিষ্ট পথ নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু শরী’আত যা বস্তুত আল্লাহ প্রদত্ত আহকাম ও কানুন তা শুধু একদিক বিবেচনা করে না এবং এক পক্ষকে নসীহত করে না বরং তা উভয়দিককেই সমানভাবে বিবেচনা করে এবং উভয় পক্ষের ইহলৌকিক ও পরলৌকিক শান্তি ও সফলতার গ্যারান্টি দেয়। ইসলাম যেরূপ স্বামীর উপর স্ত্রীর কিছু অধিকার ধার্য্য করেছে তেমনি আল্লাহ এবং আল্লাহ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম স্ত্রীর উপর স্বামীর কিছু অধিকার সাব্যস্ত করেছেন।  কুরআনে  কারীমে এবং হাদীসে রাসূল উভয় প্রকার অধিকার সংরক্ষণ ও তাঁর প্রতি যত্মবান হওয়ার উপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছে।

১ আজ প্রত্যেকেই অধিকার চায়

শরী’আত সকলকে এ শিক্ষায় দেয় যে, প্রত্যেক নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করবে। অধিকার আদায়ের দাবীর উপর শরী’আতে জোর দেওয়া হয় নি। বর্তমান পৃথিবী হল অধিকার আদায়ের পৃথিবী। প্রত্যেকই নিজ অধিকার দাবী করছে, এর জন্য বিভিন্ন দফা পেশ করছে, আন্দোলন করছে, মিটিং মিছিল করছে, হরতাল ডাকছে। নিজ অধিকার দাবী ও অধিকার আদায়ের জন্য আজকে সারা পৃথিবীতে অবিরাম চেষ্টা তদবীর হচ্ছে, এর জন্য রীতিমত সংগঠন প্রতিষ্ঠিত চলছে, নারী অধিকার সংরক্ষণ কমিটি ইত্যাদি নামে কমিটি গঠিত হচ্ছে। কিন্তু আজকে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন হচ্ছে কি না দেখার জন্য কোন সংগঠন নেই। কারও এ চিন্তা নেই যে, আমার দাতিত্ব আমি কত টুকু পালন করছি? শ্রমিক বলছে, আমার অধিকার চাই, মালিক বলছে, আমার অধিকার চাই। কিন্তু উভয়ের কারও এই দিকে লক্ষ্য নেই যে, আমি আমার দায়িত্ব কতটুকু পালন করছি? স্বামী বলছে আমার অধিকার আমাকে পেতে হবে। স্ত্রী বলছে, আমার অধিকার আমাকে পেতে হবে এবং এর জন্য চেষ্টা ও সাধনা অব্যাহত আছে, ঝগড়া বিবাদ হচ্ছে কিন্তু আল্লাহর কোন বান্দাই এটা ভাবে না যে, আমার দায়িত্ব আমি কতটুকু পালন করছি?

 

০২ প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ দায়িত্ব পালন করবে

আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের শিক্ষা এটাই যে, প্রত্যেক ব্যক্তি নিজ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবে। যদি প্রত্যেকে নিজ দায়িত্ব ও কর্তব্য পালন করে তবে সকলের অধিকার এমনিতেই আদায় হয়ে যায়। যদি শ্রমিক নিজ দায়িত্ব পালন করে তবে মালিকের অধিকার আদায় হয়ে যাবে। যদি মালিক নিজ দায়িত্ব পালন করে শ্রমিকের অধিকার আদায় যাবে। যদি স্বামী নিজ দায়িত্ব পালন করে তবে স্ত্রীর অধিকার আদায় হবে। যদি স্ত্রী নিজ দায়িত্ব পালন করে তবে স্বামীর অধিকার আদায় হবে। শরী’আতের প্রকৃত দাবী এটাই যে, প্রত্যেকে নিজ দায়িত্ব পালনে সচেষ্ট হবে।

 

০৩ প্রথমে নিজের কথা ভাব

বর্ত্মান যুগে বাতাস উল্টা দিকে প্রবাহিত হচ্ছে। যে ব্যক্তিই  ইসলাহ ও সংশোধনের শ্লোগান তোলে, সে চায় অন্য ব্যক্তি থেকে সংশোধন শুরু হোক। নিজের মাঝেও যে ক্রটি আছে, নিজেরাও যে ভুল হতে পারে তাঁর কোন ভাবনা নেই। অথচ কুরআনে কারীমের শিক্ষা হচ্ছে—

হে মুমিনগণ তুমি নিজের কথা ভাব যে, তোমার দায়িত্ব কি? আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের তোমার কাছে দাবী কি? শরী’আত ও দ্বীন তোমার কাছে কি চায়? সে সকল দাবী পূরণ কর। কেউ যদি বিভ্রান্তিতে নিমজ্জিত থাক এবং নিজের দায়িত্ব পালন না করে তবে তাঁর দায় দায়িত্ব তোমার উপর বর্তাবে না। শর্ত হল তুমি তোমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করে যাও। (সূরা আল মায়েদা-১১৫)

 

০৪ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর শিক্ষা পদ্ধতিঃ

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষা পদ্ধতি দেখুন! হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের যুগে মুসলমানদের থেকে যাকাত উসূল করার জন্য দায়িত্ব শীল কর্মকর্তাগণ বিভিন্ন এলাকায় যেতেন। সে সময় মানুষের সম্পদের সিংহভাগই ছিল গৃহপালিত পশু, উট, গরু, দুম্বা, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যখন দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের বিভিন্ন এলাকায় প্টহাতেন, প্রত্যেকের সাথে লিখিত আইনপত্র দিয়ে দিতেন। তাতে যাকাত প্রদানকারীদের সাথে কর্মকর্তাদের আচরণ কি হবে, কোন সম্পদে কতটুকু যাকাত ফরয ইত্যাদি বিষয় লেখা থাকত। তাতে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ-ও লিখে দিতেন যে,

আরবী….

অর্থাৎ, তোমরা (দায়িত্বশীল কর্মকর্তাগণ) স্বয়ং মানুষের ঘরে ঘরে যেয়ে যাকাত উসূল করবে। কখনও এরূপ করবে না যে, তোমরা একস্থানে ক্যাম্প করবে আর যাকাতের মাল তোমাদের কাছে পৌছে দেওয়ার জন্য লোকদের বাধ্য করবে। তিনি এ-ও বলতেন (আরবী) অর্থাৎ যে ব্যক্তি যাকাত উসূলের মাঝে বাড়াবাড়ি করে, উদাহরণ স্বরূপ, যতটুকু যাকাত ফরয ছিল তাঁর চেয়ে পরিমাণে বেশী উসূল করল অথবা মধ্যম মানের মালের পরিবর্তে উন্নত মানের মাল নিল, তাঁর সম্পর্কে তিনি বলেন যাকাত প্রদান না করার কারণে কোন ব্যক্তি যেরকম গুনাহগার হত, এই ব্যতকি ততটুকু গুনাহগার হবে। একদিকে যাকাত উসূলকারীদের জোর তাগিদ দিয়েছেন যে, তোমরা লোকদের কষ্ট দিও না, যতটুক যাকাত ওয়াজিব হয় তাঁর চেয়ে বেশি উসূল কর না। যদি এরূপ কর তবে কিয়ামতের দিন তোমরা শাস্তির সম্মুখীন হবে। অন্যদিকে যে সকল লোকদের কাছে যাকাত উসূল করার জন্য দায়িত্বশিলদের পাঠাচ্ছেন তাদের উদ্দেশ্য হুঁশিয়ার উচ্চারণ করেছেন যে,  

আরবী…….

অর্থাৎ, তোমাদের কাছে যাকাত উসূলকারীগণ আসবে, তারা যেন তোমাদের কাছ থেকে অসন্তুষ্টি নিয়ে না ফিরে। (আবু দাউদ)

তোমাদের দায়িত্ব হল, তোমরা তাদেরকে সন্তুষ্ট করে দিবে, এমন কোন আচরণ করবে না যাতে সে অসন্তুষ্ট হয়। কারণ তারা আমার দূত ও প্রতিনিধি। তাদেরকে অসন্তুষ্ট করা আমাকে অসন্তুষ্ট করার নামান্তর। দায়িত্বশীলদের তাগিদ দিয়েছেন যে, তোমরা কারও সাথে বাড়াবাড়ি করবে না আর যাকাত প্রসানকারীদের তাগিদ দিয়েছেন যে, যাকাত উসূলকারীগণ অসন্তুষ্টি নিয়ে তোমাদের এলাকা ছাড়বে, তোমরা তা হতে দিও না। প্রত্যেককে স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে সচেওত্ন করে তুলেছেন। তিনি যাকাত প্রদানকারীদের একথা বলেননি যে, তোমরা সকলে মিলে আন্দোলন কর, যাতে যাকাত উসূলকারীগণ তোমাদের অধিকার ক্ষুণ্ন না করে। এ জন্য সংগঠন প্রতিষ্ঠা কর। কারণ এভাবেও লড়াই পথই তৈরী হয়। এই বিষয়ে পূর্ণ জোর দেয় যে, প্রত্যেক স্ব স্ব দায়িত্ব পালনে যত্নবান হবে, নিজ দায়িত্বের ফিকর করবে। আল্লাহ তা’আলার সামনে প্রতিটি কর্মের জবাব দিতে হবে। এই ফিকর করবে যে, আমি আল্লাহর সম্মুখে জবাব দিতে পারব তো? পুরো শরী’আতের দর্শন এটাই। এই নয় যে, প্রত্যেকে অপরের কাছে নিজ অধিকার দাবী করবে আর নিজ দায়িত্বের ব্যাপারে উদাসীন থাকবে।

০৫ জীবন সুন্দর করার উপায়

আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই পদ্ধতিও অবলম্বন করেছেন যে, স্বামী ও স্ত্রীর পারস্পরিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দুজনকে দুজনের দায়িত্ব বলে দিয়েছেন। স্বামীকে বলেছেন—তোমার এই এই দায়িত্ব, স্ত্রীকে বলেছেন—তোমার এই এই দায়িত্ব। প্রত্যেকে  নিজ দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করবে। বস্তুত; জীবনের গাড়ি এভাবে চলে। দুজন দুজনের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হবে এবং অপরের অধিকার আদায়ের চেষ্টা করবে। নিজ অধিকার আদায়ের ফিকির যতটুকু হবে, তারচেয়ে বেশি হবে অপরের অধিকার আদায়ের ফিকির। যদি এ আবেগ ও অনুভূতি সৃষ্টি হয় তবেই জীবন সুন্দর হবে। আমাদের জীবন সুন্দর ও সফল হোক এ বিষয়ে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের আগ্রহ এর বেশী যে, আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্যের আলোচনায় কুরআন ও হাদীস ভরে আছে। যদি এসকল দায়িত্ব ও সম্পর্কে টানা পোড়ন লেগে যায় তবে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে দুনিয়ার অন্য কোন জিনিস এতটুকু অপছন্দনীয় নয় যতবেশী স্বামী স্ত্রীর পাস্পরিক বিবেদ অপছন্দনীয়। আরো পড়ুন   

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *