Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১৭)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১৭)

০৬ ইবলিশের দরবার

হাদীসে আছে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—ইবলিশ মাঝে মাঝে সমুদ্রের পানির উপর তাঁর সিংহাসন স্থাপন করে এবং দরবার কায়েম করে। দুনিয়াতে তাঁর যত চেলা আছে যারা তাঁর স্কিম ও রুল অনুযায়ী বিভিন্ন ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালনরত, তারা সকলে সেই দরবারে যোগ দেয়। ইবলিশ সকলের কাছে তাদের কাজের রিপোর্ট জানতে চায়। সকলে তাদের দায়িত্ব পালনের রিপোর্টে পেশ করে আর ইবলিশ সিংহাসনে বসে তা মনোযোগ সহকারে শ্রবণ করে। এক চেলা রিপোর্ট পেশ করে,  এক ব্যক্তি নামায পড়ার নিয়্যতে মসজিদে যাচ্ছিল, আমি তাকে এক কাজে ফাঁসিয়ে দিয়েছি। ফলে তাঁর নামায ছুটে গেছে। ইবলিশ শুনে খুশি হয়। বলে, তুমি ভাল কাজ করেছ। কিন্তু খুব খুশি প্রকাশ করে না। দ্বিতীয় চেলা এসে বর্ণনা করে, অমুক ব্যক্তি ইবাদতের নিয়্যতে যাচ্ছিল, আমি তাকে ইবাদত থেকে বিরত রেখেছি।

ইবলিশ শুনে খুশি হয়। বলে, তুমি ভাল কাজ করেছ। এভাবে প্রত্যেক চেলা তাঁর কাজের রিপোর্ট পেশ করে আর ইবলিশ শুনে খুশি হয়। সর্বশেষ এক চেলা এসে বলে, আমি কোন ভাল কাজ করতে পারিনি, ছোট একটা কাজ করেছি। এক দম্পতি বড় মিল মহব্বতে জীবন কাটাচ্ছিল, বড় মধুর জীবন অতিবাহিত করছিল। আমি এমন এক কাজ করেছি যার ফলে তাদের মাঝে ঝগড়া বেঁধে যায় এবং পরিণতিতে তাদের মাঝে বিচ্ছেদ হয়ে যায়। ইবলিশ একথা শোনে আনন্দে সিংহাসন ছেড়ে দাঁড়িয়ে যায় এবং তাকে বুকে ঝড়িয়ে ধরে, তাকে বাহবা দেয় এবং বলে, তুই আমার যোগ্য প্রতিনিধি। তুই যেই কীর্তি স্থাপন করেছিস অন্য কেউ তা করেনি। (সহীহ মুসলিম)

এ থেকে আপনি অনুমাণ করুন, স্বামী—স্ত্রীর  পারস্পরিক বিবেদ সম্পর্কচ্ছেদ এবং একের প্রতি অন্যের ঘৃণা আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এতটুকু অপছন্দনীয় এবং এ কাজ শয়তানের কাছে কতটুকু প্রিয়। এ কারণে আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কুরআন ও হাদীসে উভয়ের প্রতি উভয়ের দায়িত্ব হল ও অধিকার বিশদভাবে বর্ণনা করেছেন। যদি মানুষ এর উপর আমল করে তবে তাঁর দুনিয়াও সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়ে যাবে, আখেরাতও সুষ্ঠু ও সুন্দর হয়ে যাবে।

০৭ পুরুষ নারীর কর্ত

ইমাম নববী (রহ) তাঁর দ্বিতীয় অনুচ্ছেদ করেছেন এই শিরোনামযে যে, (আরব)-স্ত্রীর উপর স্বামীর কি অধিকার? তিনি এ অনুচ্ছদের অধীনে কুরআনের আয়াত ও হাদীস উল্লেখ করেছেন। সর্বপ্রথম কুরআনের এই আয়াত এনেছেনঃ

আরবী…….

অর্থাৎ, পুরুষ নারীর শাসক। ঐ ব্যক্তিকে বলে, যিনি কোন কাজের বা তাঁর ব্যবস্থাপক এবং তাঁর কর্তা বা অভিবাবক। (সূরা নিসা-৩৪)

শরী’আত একটি মূল নীতি বর্ণনা করেছেন। কারণ মূলনীতি স্মরণ না থাকলে মানুষ যত কাজ করবে তা ভুল চিন্তার আলোকে জানানো। তাই পুরুষের অধিকার বর্ণনার পূর্বে মহিলাকে প্রথমে মূলনীতি জানানো হচ্ছে যে, পুরুষ তোমার জীবনের যাবতীয় কর্মকান্ডের তত্ত্বাবধায়ক এবং অভিবাবক।

০৮ বর্তমান পৃথিবীর প্রোপাগন্ডা

আজকের পৃথিবীতে যেখানে নারী স্বাধীনতা, নারীর সমক্ষতা, এবং পুরুষ ও নারীর সমান অধিকারের জোয়ার চলেছে সেখানে একথা বলতে অনেকের লজ্জাবোধ করে যে, শরী’আত পুরুষকে কর্তা বানিয়েছে আর নারীকে বানিয়েছে অধিনস্ত। কারণ আজ পৃথিবীতে এই প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে যে, নারীর উপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব জবরদস্তিমূলক চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নারীকে অধিনস্থ বানিয়ে তাঁর হাত শৃংখলিত করা হয়েছে, তাকে ছোট করা হয়েছে।      

০৯ সফরে একজনকে আমীর বানিয়ে নাও

কিন্তু বাস্তবতা হল, পুরুষ ও নারী জীবন নামক গাড়ীর দুটি চাকা। জীবন উভয়কে একসাথে নদী পাড়ি দিতে হবে। জীবন-পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য এটা জরুরী যে, দুজনের কোন একজন সফরের জিম্মাদার হবে। হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই নির্দেশ দিয়েছেন যে, যখনই দু’ব্যক্তি কোন সফর করে, সফর ছোট হলেও সফরে সকল ব্যবস্থাপনা ও কৌশল আমীরের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়। আমীর ছাড়া সফর করা উচিত নয়। যদি আমীর নির্ধারণ  না কর তবে অনিময় ও  বিশৃঙ্খল দেখা দিতে পারে। (আবু দাউদ, জিহাদ অধ্যায়, হাদীস নং ২৬০৮)

যখন একটি ছোট সফরে আমীর নির্ধারণ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে, তখন জীবনের এই দীর্ঘ সফর যা একসাথে পাড়ি দিতে হবে সেক্ষেত্রে কেন এই তাগিদ হবে না যে, নিজেদের কোন একজন কে আমীর নির্ধারিত কর। আতে অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল না হয় বরং সর্বক্ষেত্রে শৃংখলা বজায় থাকে। শৃঙ্খলা রক্ষার্থে একজনকে আমীর নির্ধারণ করা জরুরী।

১০ এ জীবন—সফরে আমীর কে হবে?

দুটি রাস্তা আছে, হয় পুরুষকে এ জীবন সফরের আমীর নিযুক্ত করা হবে অথবা নারীকে আমীর নিযুক্ত করা হবে এবং পুরুষকে তাঁর অধীন বানিয়ে দেওয়া হবে। তৃতীয় কোন পথ নেই। পুরুষের সৃষ্টি, স্বভাব, শক্তি ও সামর্থের বিচারে এবং বিবেকের স্বাধীন বিবেচনায়ও মানুষ যদি ভাবে, তবে এতাই পরিলক্ষিত হবে যে, আল্লাহ তা’আলা পুরুষকে যে শক্তি দিয়েছেন, বড় বড় কাজ করার যে সামর্থ্য দিয়েছেন তা নারীকে দেননি। তাই নেতৃত্ব ও তত্ত্বাবধায়নের কাজ সঠিকভাবে পুরুষই আনযাম দিতে পারে। এ বিষয়ে নিজের জ্ঞান ও বিবেক দ্বারা ফায়সালা করার পরিবর্তে যদি সেই সত্ত্বাকে জিজ্ঞেস করা হয় যিনি এ দুই শ্রেণীকেই সৃষ্টি করেছেন, যে আপনি দুজনকে সফরে পাঠিয়েছেন, আপনিই বলুন। এদের মধ্যে কে আমীর হবে? আর কে অধীনস্থ হবে? আল্লাহ তা’আলা ফায়সালা দিয়েছেন যে, এ জীবন সফরের পথ পাড়ি দেওয়ার জন্য পুরুষ দায়িত্বশীল, তত্ত্বাবধায়ক ও ব্যবস্থাপক। যদি তোমরা এ ফায়সালাকে সঠিক মনে কর এবং তা মেনে চল তবে তাতেই তোমাদের কল্যাণ ও সফলতা। যদি না মানো বরং তাঁর বিরোধিতা কর এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ কর তবে তুমি এবং তোমরা জীবন সাক্ষ্য, তোমরা জীবন ব্যর্থ হবে। আর হচ্ছেও তাই। যারা এই ফায়সালা বিরুদ্ধাচারণ ক্রছে, তাদের পরিণতি দেখে নাও যে, কি হচ্ছে?–আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE