Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১৮)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১৮)

১১ ইসলামে আমীরের ধারণা

আল্লাহ তা’আলা আলোচ্য আয়াতে যে শব্দ ব্যবহার করেছেন তা বিশেষভাবে প্রণিধানযোগ্য। আল্লাহ তা’আলা আয়াতে ‘আমীর’ হাকেম ও ‘বাদশাহ’ শব্দ ব্যবহার করেন নি। তিনি (আরবী) শব্দ ব্যবহার করেছেন। (আরবী) অর্থ কোন কাজের দায়গিত্বশীল মানে পারিবারিক জীবন যাপনের কৌশল ও নীতি পুরুষ নির্ধারণ করবে এবং সেই নীতি অনুসারেই জীবন যাপন করবে। দায়িত্বশীল হওয়ার অর্থে এটা নয় যে, পুরুষ মুনিব আর স্ত্রী তাঁর চাকরাণী বা দাসী বরং দুজনের মাঝে সম্পর্ক মহল আমীর ও মামূরের, খাদেম ও মাখদুমের। আর ইসলামে আমীরের ধালণ এটা নয় যে,  সে আসনে বসে শধু হুকুম চলাবে বরং ইসলামে আমীরের ধারণা তাই যা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

আরবী

“দলের নেতা তাদের খাদেম হয়ে থাকে” (কানযুল উম্মাল, হাদীস নং ১৭৫১৭)

১২ আমীর হলে এমন আমীর হওয়া চাই

আমার মুহতারাম পিতা হযরত মুফতী মুহাম্মদ শফী (রহঃ) একটি ঘটনা প্রায়ই বলতেন যে, একবার আমরা দেওবন্দ থেকে কোথাও সফরে যাচ্ছিলাম। আমাদের সাথে ছিলেন, আমার ওস্তাদ মাওলানা ইযায আলী (রহঃ)। যিনি দারুল উলূম দেওবন্দের শাইখুল আদব নামে প্রসিদ্ধ। আমরা ষ্টেশনে পৌছলাম, ট্রেন আসতে তখনও কিছু বিলম্ব ছিল।  মাওলানা ইযায আলী সাহেব (রহঃ) বললেন—হাদীসে আছে, যখন তোমরা কোথাও সফরে যাও তখন কাউকে আমীর বানিয়ে নাও। সুতরাং আমাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেওয়া নাও। সুতরাং আমাদের একজনকে আমীর বানিয়ে নেওয়া উচিত। মুহতারাম আব্বাজান বলেন—যেহেতু তিনি উস্তাদ, আমরা ছাত্র, তাই আমরা বললাম—আমীর বানানোর কি প্রয়োজন, আমীর তো নির্ধারণ করাই আছে। হযরত মাওলানা জিজ্ঞেস করলেন—কে? আমরা বললাম –আমীর আপনি। কারণ আপনি উস্তাদ আর  আমরা ছাত্র। হযরত মাওলানা বললেন আচ্ছে তোমরা আমাকে আমির বানাতে চাও? আমরা বললাম জী হ্যাঁ। আপনি ছাড়া আর কে আমির হতে পারে? মাওলানা বললেন—আচ্ছা ঠিক আছে।

কিন্তু আমীরের প্রতিটি নির্দেশ মানতে হবে। আমিরের অর্থই হল তাঁর নির্দেশের আনুগত্য করতে হবে। আমরা বললাম—যখন আমীর বানিয়েছি, ইনশাআল্লাহ সমস্ত নির্দেশ মেনে চলব। মাওলানা বললেন—ঠিক আছে, আমি আমীর। আমার হুকুম তোমরা পালন করবে। যখন ট্রেন আসল হযরত মাওলানা সকল সাথীরা ব্যাগ কারোটা মাথায়, কারোটা হাতে, কারোটা কাঁধে নিয়ে ট্রেনের দিকে হাটতে শুরু করছেন। আমরা বললাম—হযরত! এটা কি? আপনি দেখছি সর্বনাশ করছেন। আমাদের নিতে দিন। মাওলানা বললেন, না। যখন আমীর বানিয়েছেন, হুকুম মানতে হবে। আমিই সব ব্যাগ ট্রেনে তুলব। অবশেষে তিনিই সকল ব্যাগ ট্রেনে তুললেন। সেই সফরে যত কষ্টের কাজ ছিল তিনিই সব করলেন। আমরা কিছু, বললেই বলতেন—দেখ, তোমরা আমাকে আমীর বানিয়েছ, আর আমীরের হুকুম মানতে হয়। সুতরাং আমরা নির্দেশ পালন কর। তাকে আমীর বানিয়ে আমাদের লজার শেষ নেই। বাস্তবে ইসলামে আমীর ধারণা এটাই।

১৩ আমীর সেই যে খদমত করে

বর্তমানে যক্লহ্ন আমীরের ধারণা আমায় আসে তখন এমন একজন বাদশাহ ও শাসনের চিত্র ভেসে ওঠে, যে নিজেদের প্রজাদের সাথে কথা বলাকেও অপমানজনক মনে করে। কিন্তু কুরআন ও হাদীসের ধারণ হল, আমীর সেই ব্যক্তিই যে, খেদমত করে, যিনি খাদেম। ‘আমীর’ এর অর্থ এটা নয় যে, তাকে বাদশাহ বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন সে শুধু হুকুম চালাবে আর অন্য সকলে তাঁর গোলাম ও চাকর হয়ে থাকবে বরং আমীর এর অর্থ হল, সিদ্ধান্ত তারাই গৃহীত হবে কিন্তু সিদ্ধান্ত তাই হবে যা সকলের খেদমতের জন্য হয়। সকলের সুখ সমৃদ্ধি ও কল্যাণের জন্য হয়।

১৪ স্বামী—স্ত্রীর সম্পর্ক হল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক

হাকীমুল উম্মত হযরত থানভী (রহ.) বলেন, (আল্লাহ তাআলা তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধি করুন) পুরুষদের তো (আরবী)(পুরুষ নারীর কর্তা) এ আয়াত মনে থাকে। তাই বসে বসে মহিলাদের উপর হুকুম চালায় আর মনে করে যে, মহিলাদেরকে তো সর্বাবস্থাতেই অনুগত ও বাধ্যগত থাকা উচিত। তাদের সাথে আমাদের সম্পর্ক মুনিব ও চাকরের মত। আল্লাহ হেফাযত করুন। কিন্তু কুরআনে কারীমে আল্লাহ তাআলা অন্য আরেকটি আয়াতও অবর্তীণ করেছেন। এই আয়াত পুরুষদের থাকে না আয়াতটি হলঃ

আরবী………..

তাঁর নিদর্শনাবলীর মধ্যে রয়েছে তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের থেকেই সৃষ্টি করেছেন তোমাদের সঙ্গীদেরকে যাতে তোমরা তাদের থেকে শান্তি পাও এবং তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক ভালবাসা ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। (সূরা রোম-২১)

হযরত থানভী (রহ.) বলেন নিঃসন্দেহে স্বামী—স্ত্রীর অভিভাবক কিন্তু সাথে সাথে পরস্পর বন্ধুত্বের সম্পর্কও রয়েছে। ব্যবস্থাপনা এ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ অভিভাবক কিন্তু পারস্পরিক বন্ধুর মত। তাই দুজনের সম্পর্ক এরূপ নয় যেরূপ মুনিব ও চাকরের সম্পর্ক। এর উদাহরণ হল, দু’বন্ধু কোথাও সফরে যাচ্ছে, একজন অপরজনকে আমীর বানিয়ে নিল। স্বামী এই হিসাবে আমীর যে, জীবনের সকল সিদ্ধান্ত গ্রহণে সেই দায়িত্বশীল। কিন্তু এর অর্থ এটা নয় যে, সে স্ত্রী সাথে এমন ব্যবহার করবে যেমন ব্যবহার করা হয় গোলাম ও চাকরদের সাথে বরং এ বন্ধুত্বের কিছু আদব ও আবেদন আছে। সে সকল আদব ও আবেদনের মাঝে কিছু সুক্ষ্ম ও স্পর্শকাতর বিষয়ও আছে তবে তা স্বামীর অভিভাবক হওয়ার প্রতিবন্ধক নয়।

১৫ এমন গাম্ভীর্যতা কাম্য নয়

হযরত থানভী (রহ.) বলেন—আমাদের এলাকায় কিছু পুরুষ মনে করে, আমরা অভিভাবক। সুতরাং আমদের এতটুকু দাপট থাকা চাই, যেন আমাদের নাম শুনেই স্ত্রী কাপতে আরম্ভ করে এবং দ্বিধাহীনভাবে কথা বলতে না পারে। ছাত্রজীবনের আমার একজন বন্ধু ছিল। তিনি একবার বেশ গর্ব করে আমাকে বললেন—যখন বেশ কয়েক মাস পর আমি বাড়ি যাই, আমার স্ত্রী সন্তানদের এতটুকু সাহস হয় না, তারা আমার কাছে আসে এবং আমার সাথে কথা বলে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনি যখন বাড়ি যান, আপনি কি কোন হিংস্র জন্তু বা বাঘ চিতা হয়ে যান? তিনি বললেন—আমি ঘরের কর্তা। কর্তা ব্যক্তিদের একটু দাপট থাকা চাই।

ভাল করে শুনেন! অভিভাবক হওয়ার কখনও এই অর্থ নয় যে, স্ত্রী সন্তানরা কাছে আসতে এবং কথা বলতে ভয় পাবে বরং তাঁর সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্কও থাকবে আর সেই বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক কেমন হওয়া চাই, শুনুন।–আরো পড়ুন….. 

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE