Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১৯)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব১৯)

১৬ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নত দেখুন

একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা (রাযি.) কে বলেন—তুমি কখন আমার প্রতি সন্তুষ্ট থাক এবং কখন অসন্তুষ্ট হও উভয় অবস্থাই আমি বুঝি। হযরত আয়েশা বলে—হে আল্লাহ রাসূল! কিভাবে আপনি বুঝেন? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন—যখন তুমি আমার উপর সন্তুষ্ট থাকে তখন তুমি কোন কসম করলে, মুহাম্মদের রবের কসম বলে কসম কর। আর যখন তুমি অসন্তুষ্ট থাক তখন কোন কসম করলে ইবরাহীম রবের কসম বল। তখন তুমি আমার নাম উচ্চারণ কর না বরং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের নাম উচ্চারণ কর। হযরত আয়েশা বলেন—হে আল্লাহর রাসূল! আমি শুধু আপনার উচ্চারণ করি না, এ ছাড়া সব ঠিক থাকে। (সহীহ বুখারী)

আপনি ভেবে দেখুন, এখানে কে অসন্তুষ্ট হচ্ছেন? হযরত আয়েশা (রাযি.) কার প্রতি অসন্তুষ্ট হচ্ছেন? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রতি। এ থেকে বুঝা যায়, হযরত আয়েশা (রাযি.) অভিমান করে কখনও কখনও এমন কথা বলতেন, যা থেকে বুঝা যেত তাঁর হৃদয়ে অসন্তুষ্টি আছে কিন্তু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এটাকে নিজের অভিভাবক হওয়ার বিরোধী মনে করতেন না বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় খুশি মনে আলোচনা করেছেন যে, তুমি যে অসন্তুষ্ট হয়েছ, এটা আমি ঠিকই বুঝতে পারি।

১৭ স্ত্রীর অভিমানকে বরদাশত করা চাই

যখন উম্মল মুমিনীন হযরত আয়েশা (রাযি.)—এর পূতপবিত্র চরিত্রে মারাত্মক অপবাদ দেওয়া হয়েছিল। আস্তাগফিরুল্লাহ! এ অপবাদের কারণে হযরত আয়েশা (রাযি.) এর উপর দিয়ে কীযে, কেয়ামত বয়ে গিয়েছিল মানুষের মাঝে এ ধরণের কথা ছড়িয়ে  গেছে। তাই স্বাভাবিকভাবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম—এর এ ব্যাপারে পেরেশানীর অন্ত ছিল। একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হযরত আয়েশা (রাযি.) কে এই কথা বললেন দেখ আয়েশা তোমার এত দুঃখিত হওয়ার কারণ নেই। যদি তুমি নির্দোষ ও নিষ্পাপ হও তাহলে আল্লাহ তা’আলা তোমার নিষ্কলুষতা প্রকাশ করবেন।

আর যদি আল্লাহ না করুন, তোমার থেকে কোন ক্রটি ও ভুল হয়ে যেয়ে থাকে তাহলে আল্লাহর কাছে তাওবা বা ইস্তেগফার কর। আল্লাহ তা’আলা মাফ করে দিবেন। এ কথায় হযরত আয়েশা (রাযি.) খুব কষ্ট পেলেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কেন দুটি যদি বললেন। যদি নির্দোষ হও তাহলে আল্লাহ তা’আলা নিঙ্কলুষতা প্রকাশ করবেন। আর যদি ভুল হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে তাওবা কর। এ থেকে বুঝা যায় যে, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হৃদয়েও এ ব্যাপারে সন্দেহ আছে যে,  আমার থেকে ভুল হয়ে থাকতে পারে। তাই হযরত আয়েশা (রাযি.) এ কথায় খুব কষ্ট পেলেন এবং দুঃখের আতিশয্যে তিনি শুয়ে গেলেন। আর এ অবস্থাতেই তাঁর নিঙ্কলুষতা সম্পর্কে আল্লাহর পক্ষ থেকে আয়াত নাযিল হয়।

এ সময় ঘরে হযরত আবু বকর সিদ্দিকও (রাযি.) ছিলেন। যখন এ আয়াত শুনলেন, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুব খুশি হলেন। হযরত আবু বকর সিদ্দিক (রাযি.) খুব খুশি হলেন এবং তিনি বললেন—এখন ইনশাআল্লাহ সমস্ত অপবাদ দূর হয়ে যাবে। তিনি হযরত আয়েশা (রাযিঃ) বললেন—সুসংবাদ শুন! আল্লাহ তোমার নিঙ্কুলষতা সম্পর্কে আয়াত নাযিল করেছেন—যাও, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সালাম কর। হযরত আয়েশা (রাযি.) শুয়েই থাকলেন। তিনি শুয়ে শুয়েই বললেন-এটা তো আল্লাহ তা’আলার অনুগ্রহ যে, তিনি আমার নিঙ্কুলষতা প্রমাণে আয়াত নাযিল করেছেন। তাই আমি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারও শুকরিয়া আদায় করব না। আপনারা তো মনে মনে এ সন্দেহ পোষণ করতেন যে, আমার থেকে হয়ত ভুল হয়ে গেছে। (বুখারী)

১৮ স্ত্রীর মনোতুষ্টি সুন্নত

বন্ধুত্বের হক নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এভাবে আদায় করেছেন যে, যেখানে আল্লাহর সাথে তাঁর সার্বক্ষণিক সম্পর্ক, প্রতি মুহুর্তে কথাবার্তা আদান প্রদান হচ্ছে, তিনি উচ্চ মর্যাদার অধিষ্ঠিত। এতদসত্ত্বেও পবিত্র সহধর্মিণীদের মনোতুষ্টি, তাদের মন রক্ষা এবং তাদের সাথে সদ্ব্যবহারের নমুনা ছিল এই যে, রাতে হযরত আয়েশা (রাযি.) কে এগার মহিলার ঘটনা শুনাচ্ছেন যে, ইয়ামেনে এগারজন মহিলা ছিল। তারা পরস্পর এই অঙ্গিকার করেছিল যে, তারা একে অপরের কাছে স্ব স্ব স্বামীদের বাস্তব সত্য অবস্থা বর্ণনা করবে। অর্থাৎ প্রত্যেক মহিলা বলবে যে, তাঁর স্বামী কেমন, তাঁর গুণাগুণ কি? সেই এগারজন মহিলা স্ব স্ব স্বামীদের গুণাগুণ যেই প্রাঞ্জল ভাষায় বিশ্লেষণ করেছেন তা আরবী সাহিত্যের একটি উৎকৃষ্ট নমুনা, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এই পুরা ঘটনা হযরত আয়েশা (রাযি.) কে শুনিয়েছেন। (শামায়েল তিরমিযী, হাদিসে উম্মে যারা)

১৯ স্ত্রীর সাথে হাসি কৌতক করা সুন্নত

একবার নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত সাওদা (রাযি.) এর ঘরে ছিলেন এবং সেদিন তারই পালা ছিল। হযরত আয়েশা (রাযি.) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জন্য হালুয়া তৈরী করেছিলেন এবং তা নিয়ে হযরত সাওদার ঘরে আসলেন। হালুয়া নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সামনে রাখলেন। হযরত সাওদা (রাযি.) সামনে বসা ছিলেন। হযরত আয়েশা (রাযি.) তাকে বললেন—আপনিও নিন। হযরত সাওদা (রাযি.) এর কাছে বিষয়টি অপছন্দ লাগল যে, নবী  কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার ঘরে আছেন এবং আজকে আমার পালা তাহলে এই হালুয়া রান্না করে কেন আনা হল? তাই হযরত সাওদা (রাযি.) তা খেতে অস্বীকার করলেন।

হযরত আয়েশা (রাযি.) বললেন হালুয়া নিন, তা নাহলে এই হালুয়া আপনার মুখে মেখে দিব। হযরত সাওদা (রাযি.) বললেন—আমি তো খাব না। ফলে হযরত আয়েশা (রাযি.) সাকান্য হালুয়া নিয়ে তাঁর মুখে মেখে দিলেন এবং হযরত সাওদা (রাযি.)নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকছে অভিযোগ করলেন, হে আল্লাহর রাসূল  দেখুন তিনি কি করেছেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন—কুরআনে ইরশাদ হয়েছেঃ

আরবী…….

অর্থঃ কেউ যদি তোমার সাথে খারাপ আচরণ করে তবে বদলা হিসেবে তুমিও তাঁর সাথে খারাপ আচরণ করতে পার।

যখন সে তোমার মুখে হালুয়া মেখেছে তুমিও তাঁর চেহারায় হালুয়া মেখে দাও। এরপর হযরত সাওদা (রাযি.) সামান্য হালুয়া নিয়ে হযরত আয়েশা (রাযি.) এর মুখে মেখে দিলেন। এখন দুজনের চেহারাই হালুয়ামাখা। আর এসব ঘটেছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সামনেই। ঠিক এ সময় দরজায় আওয়াজ হল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন—কে? জবাব আসল, উমর ইবনুল খাত্তাব এসেছেন। তিনি বললেন—তোমরা দুজন জলদি করে ধুয়ে নাও এরপর তারা দুজন চেহারা ধুয়ে নিল। (মাজমা ৪, পৃষ্ঠা_৩১৬)

সেই সত্ত্বা যার প্রতিটি মুহুর্তে আল্লাহ জাল্লাজালালুহর সাথে সম্পর্ক, আল্লাহ সাথে সর্বদা যার কথপোকথন হয়, যার দরবারে প্রতিনিয়ত ওহীর আনাগোনা এবং সর্বত্র উপস্থিত এ বিশ্বাসে যিনি পৃথিবীর অন্য সকলের চেয়ে বহুগুণ উর্ধ্বে। সেই তিনিও পবিত্র সহধর্মিণীদের সাথে এ ধরণের হাসি কৌতুক করেছেন এবং তাদের মনোতুষ্টির প্রতি সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন।

২০ অনুভবে অনুক্ষণ

আমরা মুখে বলে থাকি, আল্লাহ সবর্ত্র বিরাজমান, সর্বত্র আল্লাহ উপস্থিত আছেন। কিন্তু এর তাত্ত্বিক বিষয় সম্পর্কে আমাদের ধারণা নেই। যদি কেউ একবার এ স্বাদ আস্বাদান করে তবে সেই বুঝতে পারবে যে, এটি কি জিনিস। জনাব ডাক্তার আব্দুল হাই (রহ.) বলতেন—কোন কোন সময় “আল্লাহ সর্বত্র উপস্থিত” এ বিশ্বাস এত দৃঢ়তা লাভ করে যে, তাঁর কারনে আল্লাহর অনেক বান্দাগণ পা ছড়িয়ে শুতে পারেন না, বসতে পারেন না। কারণ আল্লাহ তো তাঁর সামনেই। আর কোন বড় শক্তি সামনে থাকলে কি কেউ ছড়িয়ে শুতে বা বসতে পারে? কখনও পারে না। এমনিভাবে কখনও কখনও আল্লাহ তা’আলা উপস্থিত—এ বিশ্বাস ও অনুভূতি এত প্রবল হয় যে, মানুষ পা ছড়িয়ে শুতে পারে না। সুতরাং যে সত্ত্বা আল্লাহর উপস্থিতির বিশ্বাসে এত উর্ধ্বস্তরে ছিলেন যে, দুনিয়ার অন্য কারও এ স্তর লাভ করা সম্ভব নয়। দেখুন! তিনিও তাঁর স্ত্রীদের সাথে কেমন  সন্তুষ্টকর আচরণ করেছেন। আরো পড়ুন…

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE