Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২)

০৬ যে মহিলা জান্নাতে যাবে

এরপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অন্য এক মহিলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল, যিনি নফল ইবাদত বেশী করতেন না, শুধু ফরয ও ওয়াজিবসমূহ আদায় করতেন। বেশীর বেশী সুন্নাতে মুআক্কাদা আদায় করতেন। এর বাইরে নফল নামায, যিকর ও তিলাওয়াত তেমন কিছুই করতেন না। তবে প্রতিবেশী এবং অন্যান্যদের সাথে তার ব্যবহার ও আচরণ ভাল ছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন এ মহিলা জান্নাতে যাবে। ( আল আদাবুল মুফরাদ পৃঃ৪৮)

০৭ দরিদ্র কে?

উল্লেখিত হাদীসদ্বয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ বিষয়টি স্পষ্ট ভাবে ব্যক্ত করেছেন যে, যদি কোন ব্যক্তি নফল ইবাদত করে তবে তা ভাল জিনিস। তবে নফল না করলে আখেরাতে এই প্রশ্ন করা হবে না যে, তুমি অমুক নফল ইবাদত কেন করনি? কারণ নফলের অর্থ হল, যদি কেউ করে তবে সাওয়াব পাবে, না করলে কোণ গুনাহ নেই। কিন্তু হুকূকুল ইবাদ এমন এক বিষয়, যা সম্পর্কে কেয়ামতের দিন প্রশ্ন করা হবে এবং যার উপর জান্নাত ও জাহান্নামের ফায়সালা নির্ভলশীল। সুতরাং এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, দরিদ্র ঐ ব্যক্তি যে কেয়ামতের দিন প্রচুর পরিমাণে নামায, রোযা ইত্যাদি ইবাদত নিয়ে হাযির হবে। কিন্তু দুনিয়াতে সে কারও হক নষ্ট করেছিল, তাই যে নেক আমল নিয়ে সে হাযির হবে তার পরেই অন্যদের (বদলা হিসাবে) দিয়ে দিতে হবে। বদলা দিতে গিয়ে যদি তার নেক আমল শেষ হয়ে গেল অথচ এখনও দাবীদার রয়ে গেছে তাহলে তাদের গুনাহসমূহ তার উপর চাপিয়ে দেওয়া হবে। তাই হুকূকল ইবাদতের বিষয় শরী’আতের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ । (তিরমিযী হাদীস-২৫৩৩)

০৮ “হুকূকুল ইবাদ” দ্বীনের চার ভাগের তিন ভাগ

আমি এ কথা পূর্বেও বলেছি যে, “ইসলামী ফিকাহ” (যাতে শরী’আতের আহকামসমূহ বর্ণনা করা হয়,) যদি তাকে সমান চার ভাগে ভাগ করা হয়, তবে দেখা যাবে এক ভাগ ইবাদত সম্পর্কে, অবশিষ্ট তিন ভাগ হুকূকুওল ইবাদ সম্পর্কে। অর্থাৎ  এ তিন ভাগে রাষ্ট্রীয় আইন-কানুন, সামাজিক শিষ্ঠাচার, রীচি-নীতি, পারস্পরিক লেনদেন ও আচার ব্যবহার বর্ণিত হয়েছে। হানাফী ফিকহর প্রসিদ্ধ গ্রন্থ “হেদায়া’এর নাম আপনারা হয়ত শুনে থাকবেন, এ গ্রন্থ চার খন্ডে। এর প্রথম খন্ডে ইবাদতের আলোচনা। এতে পবিত্রতা, নামায, রোযা, হজ্জ্ব  যাকাতের বিধানাবলী বর্ণিত হয়েছে। অবশিষ্ট তিন ভাগ মুআমালাত ও মুআশারাত তথা পারস্পরিক  লেনদেন, সামাজিক শিষ্টচার এবং হুকূকুল ইবাদ সম্পর্কিত। এ থেকে ধারণা করা যেতে পারে যে, হুকূকুল ইবাদত দ্বীনের চার ভাগের তিন ভাগ।  তাই তা শরী’আতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আল্লাহ তাআলা স্বেচ্ছায় ও স্বাগ্রহে এ সম্পর্কিত অধায় গুলো পড়ার ও শোনার তাওফীক দান করুন এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অনুযায়ী জুকূকুল ইবাদ আদায় করার তাওফীক আমাদের দান করুন, আমীন।

 

০৯ ইসলাম পূর্বে যুগে মহিলাদের অবস্থা

 

আল্লামা নববী (রহঃ) রিয়াযুস সালেহীন গ্রন্থে অছিয়ত অধ্যায় সর্ব প্রথম অনুচ্ছেদের শিরোনাম দিয়েছেন “মহিলাদের জন্য অছিয়তের আলোচনা” অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—এর এমন সব নসিহতসমূহ যা তিনি মহিলাদের হক ও সত্ত্বাধিকার সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন। ইমাম নববী (রহঃ) এ অধ্যায়কে সর্ব প্রথম এ কারণে উল্লেখ করেছেন যে, ইসলাম পূর্ব যুগে সত্ত্বাধিকারের ক্ষেত্রে মহিলাদেরকে এমন সৃষ্টিজীব মনে করা হত। (আল্লাহ না করুন) যেন তারা কোন মানুষই নয়। তাদের সাথে পৈশাচিক আচরণ করা হত, তাদের নায্য মানবাধিকার রক্ষা করতে মানুষ অস্বীকৃতি জানাত, কোন ব্যাপারে তাদের সত্ত্বাধিকারের তুওয়াক্কা করা হত না। এমন মনে করা হত যেন তারা কারও গৃহপালিত ভেড়া-বকরী। আচার ব্যবহারে নারী আর পশু এতদুভয়য়ের মধ্যে কোনও তফাৎ ছিল না। 

১০ মহিলাদের সাথে সদাচরণ

 

আসমানী কিতাব সম্বন্ধে অজ্ঞ, বেখবর ও জগত বাসীদের মাঝে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামই সর্বপ্রথম মহিলাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করেন যে, তোমরা মহিলাদের সাথে সদাচারণ কর।

আল্লামা নববী (রহঃ) সর্বপ্রথম কুরআনে কারীমের এক আয়াত পেশ করেছেন, যা এ বিষয়ে সবচেয়ে ব্যাপক অর্থ জ্ঞাপক। ইরশাদ হয়েছে,

আরবী…..

অর্থঃ তোমরা নারীদের সাথে সদাচরণ কর।

এ আয়াতে সকল মুসলমানকে সম্বোধন করা হয়েছে যে, তোমরা মহিলাদের সাথে ইনসাফ তথা সদাচরণ কর, উত্তম ব্যবহারের সাথে জীবন যাপন কর তাদের সাথে মননশীল ও উন্নত আচরণ কর, তাদেরকে কষ্ট দিও না। এটা সাধারণ নির্দেশ। এ আয়াত যেন এ ব্যাপারে একটি মূলনীতি, প্রারম্ভ। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও কাজে এ আয়াতের বাস্তব প্রমাণ দিয়েছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নারীদের সাথে সদ্ব্যবহারের গুরুত্ব এই পরিমাণ ছিল যে, তিনি ঘোষণা দেন,

আরবী……..

অর্থঃ সেই সর্বোত্তম ব্যক্তি স্বীয় স্ত্রীদের সাথে ভাল আচরণ করে।(তিরমিযী)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে নারী অধিকার সংরক্ষণ এবং তাদের সাথে সদাচারণের গুরুত্ব এত বেশী ছিল যে, এ ব্যাপারে তিনি অসংখ্য হাদীস বিষদ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিত এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—

আরবী……..

অর্থঃ আমি তোমাদেরকে নারীদের সাথে সদাচারণের উপদেশ দেই। তোমরা আমার এই উপদেশ গ্রহণ কর। আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE