Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২০)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২০)

২১ তা না হলে ঘর ধ্বংস হয়ে যাবে

 

যেহেতু আল্লাহ তা’আলা পুরুষদের অভিভাবক বানিয়েছেন, তাই সিন্ধান্ত তারই। তবে নারীগণ তাদের মতামত ব্যক্ত করতে পারে। পরামর্শ দিতে পারে। পুরুষদেরকে এই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে যে, তারা সাম্ভাব্য সকল উপায়ে নারীদের মনোতুষ্টির খেয়াল রাখবেন। তবে সিন্ধান্ত তাঁর হবে। যদি একথা মাথায় না থাকে আর বেগম সাহেবা চায় সকল বিষয়ে আমার সিন্ধান্তই চলবে, আমার স্বামী অভিভাবক হবে না। আমি অভিভাবক হব, তাহলে এ হবে স্বভাব শরী’আত বিরোধী, বিবেক বর্জিত এবং ইনসাফ বহির্ভূত। এর ফলাফল ঘর ও পরিবার ধ্বংস ছাড়া কিছু নয়।

২২ নারীদের দায়িত্ব

ইমাম নববী (রহ.) (আরবী) এ আয়াতের আলোচনা প্রসঙ্গে বলেন—নেক স্ত্রীদের কাজ কি? নেক স্ত্রীদের কাজ হল, তারা আল্লাহ আনুগত্যকারিণী, আল্লাহ স্বামীর যে সকল হক তাকে অপর্ণ করেছেন তা সুষ্ঠুভাবে আদায়কারিণী এবং স্বামীর অনুপস্থিতিতেই স্বামীর ঘর হেফাযত কারিনী। আল্লাহ তা’আলা মহিলাদের জন্য এগুলোকে আবশ্যকীয় গুণাবলী স্থির করেছেন এবং তাঁর জিম্মায় এ দায়িত্ব অর্পন করেছেন যে, সে স্বামির অনুপস্থিতিতে তাঁর ঘর হেফাযত করবে। ঘর হেফাযত করার অর্থ হল, প্রথমত স্ত্রী কোন গুনাহে লিপ্ত হওয়া থেকে নিজেকে হেফাযত করবে। এবং স্বামীর ধন—সম্পদ ও আসবাবের হেফাযত করবে। তাই তো হাদীসে শরীফে এসেছেঃ

আরবী…………….

নারী তাঁর ঘরের সংরক্ষক, স্বামীর ধন—সম্পদ ও আসবাবের হেফাযত করা তাঁর দায়িত্ব। (সহীহ বুখারী)

পূর্বে আমি উল্লেখ্য করেছি, স্ত্রীর দায়িত্বে খাবার রান্না করা ওয়াজিব নয়। কিন্তু স্বামীর সম্পদ যাতে অনর্থক খরচ না হয় তা দেখা স্ত্রীর দায়িত্ব। কুরআনে কারীমে এটাকে স্ত্রীর জিম্মাদারী সাব্যস্ত করেছে। শুধু আইনের বাধনে জীবন চলতে পারে না। পূর্বে আমি যেই কথা বলেছি, এতো আইনের কথা কিন্তু শুধু আইনের বাধনে জীবন চলতে পারে না। নারীর উপর আইনগতভাবে খাবার রান্না করার জিম্মাদারী নেই, আবার স্ত্রী অসুস্থ হলে আইনগতভাবে তাঁর চিকিৎসা করা বা তাঁর চিকিৎসার জন্য খরচ করা স্বামীর জন্য জরুরী নয়। আইনগতভাবে স্বামী স্ত্রীকে তাঁর পিতা মাতার সাথে সাক্ষাতের জন্য নিয়ে যাবে এটাও স্বামীর উপর জরুরী নয়।

এটাও জরুরী নয় যে, স্ত্রী পিতা মাতা মেয়ের সাথে সাক্ষাৎ করতে এলে ত্যাদেরকে ঘরে বসতে দিবে। ফুকাহায়ে কেরাম এতটুকু পর্যন্ত লিখেছেন যে, সপ্তাহে একবার পিতামাতা মেয়েকে দেখার জন্য আসবেন এবং দূর থেকে দেখা সাক্ষাৎ করে চলে যাবেন। ঘরে বসিয়ে দেখা করানো স্বামীর উপর জরুরী নয়। সুতরাং শুধু আইনের বাঁধনে জীবনযাপন করা যদি শুরু হয় তাহলে উভয় ধ্বংস হয়ে যাবে। আসল কথা হল, স্বামী ও স্ত্রী উভয়ই আইনের কড়াকড়ি থেকে মুক্ত হয়ে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সুন্নত অনুসরণ করবে, স্ত্রী নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রীদের সুন্নতের অনুসরণ করবে।

২৩ স্ত্রীর হৃদয়ে স্বামীর পয়সার মায়া থাকা চাই

হযরত থানভী (রহ.) উপদেশ গ্রন্থে লিখেছেন, স্ত্রীর দায়িত্বের মাঝে এটাও অন্তর্ভুক্ত যে, তাঁর হৃদয়ে স্বামীর পয়সার মায়া থাকবে। স্বামীর পয়সা যেন অহেতুক ব্যয় না হয় এবং অপব্যয় অতিরিক্ত খরচে তাঁর পয়সা যেন নষ্ট না হয় এদিকে দৃষ্টি রাখা তাঁর দায়িত্ব। স্বামীর পয়সা খেয়াল খুশিমত খরচ করা অথবা ঘরকে চাকর বাকরদের উপর ছেড়ে দেওয়া তারা যেভাবে যা ইচ্ছা করবে এটা কখনই জায়েয নেই। যদি স্ত্রী এসব করে তাহলে সে আইনগত জিম্মাদারী লঙ্ঘন করল।

২৪। এমন নারীদের উপর ফিরিশতাদের লা’নত

আরবী……………..

হযরত আবু হুরাইরা (রাযি.) বর্ণনা করেন–নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যখন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে বিছানায় ডাকে, এটা স্বামী স্ত্রীর বিশেষ সম্পর্কের প্রতি ইঙ্গিত অর্থাৎ স্বামী যদি তাঁর স্ত্রীকে সেই বিশেষ সম্পর্ক স্থাপনের জন্য ডাকে আর স্ত্রী না সে অথবা এমন পদ্ধতি অবলম্বন করে, যার ফলে স্বামীর ইচ্ছা পূরণ হয় না। আর এ কারণে স্বামী অসন্তুষ্ট হয় তাহলে সকাল পর্যন্ত ফিরিশতাগণ তাঁর উপর লা’নত করতে থাকে। লা’নতের অর্থ আল্লাহর রহমত তাঁর উপর বর্ষিত হবে না। কারণ নারীকে যত অধিকার প্রদান করা হয়েছে, স্বামীকে নারীর প্রতি যত্নবান হওয়ার যত উপদেশ দেওয়া হয়েছে। এতসব কিছু শুধু এ জন্যই যে, স্বামী ও স্ত্রীর মাঝে যে বিশেষ সম্পর্ক তা যেন সুষ্ঠুভাবে পালিত হয় এবং পরনারীর প্রতি দৃষতিপাত থেকে স্বামী বাঁচতে পারে। পবিত্রতা অর্জিনই বিবাহর মূল উদ্দেশ্য। এ কারনে স্ত্রীর দায়িত্ব হল, এ ব্যাপারে স্ত্রীর পক্ষ থেকে যাতে কোন ধরণের ক্রটি না হয় সে দিকে সজাগ দৃষ্টি রাখা। যদি ক্রটি হয় তাহলে তাদের উপর ফিরিশতাদের অভিসম্পাত বর্ষিত হবে। অন্য রিওয়ায়েতে এই শব্দ এসেছে যে,

আরবী………

অর্থঃ যদি কোন স্ত্রী স্বীয় স্বামীর বিছানা ছেড়ে অন্যত্র রাত কাটায় তবে সকাল পর্যন্ত ফিরিশতাগণ তাঁর প্রতি অভিসম্পাত করতে থাকে। (বুখারী)

আপনি ভেবে দেখুন! হাদীস শরীফে অত্যন্ত ছোট একটি বিষয় ইরশাদ হয়েছে যে, স্বামী তাঁর স্ত্রীকে চাহিদা পুরণের কাজে আহবান করল কিন্তু স্ত্রী তা অস্বীকার করে অথবা এমন কোন বাহানা বের করে যার ফলে স্বামীর ইচ্ছা পূরণ হয় না। তাই সারা রাত অভিসম্পাত চলতে থাকে। যদি স্বামীর অনুমতি ও সন্তুষ্টি ছাড়া স্ত্রী ঘরের বাইরে কোথাও যায়, সে যতক্ষণ পর্যন্ত ঘরের বাইরে থাকবে, ফিরিশতাগণ অভিসম্পাত করতে থাকবেন। এ সকল বিষয় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিস্তারিতভাবে এক একটি করে বর্ণনা করে গেছেন। কারণ এ সব বিষয়ই ঝগরা ফাসাদের কারণ হয়ে থাকে।

২৫ হযরত আবু হুরাইরা (রাযি.) থেকে বর্ণিত নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ইরশাদ করেছেন—কোন স্ত্রীর জন্য স্বামীর উপস্থিতিতে স্বামীর অনুমতি ছাড়া রোযা রাখা হালাল নয়। অর্থাৎ স্বামীর অনুমতি ছাড়া নফল রাখা বৈধ নয়। নফল ইবাদতের বহু ফযীলত হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। কিন্তু স্ত্রী স্বামীর অনুমতি ছাড়া তা করতে পারবে  না। কারণ হতে পারে রোযার দরূন দিবসে স্বামীর কষ্ট হতে পারে। তাই প্রথমে স্বামীর অনুমতি নিবে। তবে স্বামীর উচিত যে সে অকারণে স্ত্রীকে নফল রোযা রাখতে বারণ করবে না বরং রোযা রাখার অনুমতি দিবে। অনেক সময় স্বামী স্ত্রীতে এজন্য ঝগড়া হয়ে যায় যে, স্ত্রী বলে আমি রোযা রাখতে চাই আর স্বামী বলে, আমি অনুমতি দিব না। কিন্তু স্ত্রীর জন্য অনুমতি ছাড়া রোযা রাখা জায়েজ নেই।  যদি স্বামী অনুমতি না দেয় তবে স্ত্রী নফল রোযা ভেঙ্গে ফেলবে। কারুণ স্বামীর অনুগত্য অগ্রগণ্য। আরো পড়ুন…

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE