Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২১)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২১)

২৬ স্বামীর অনুগত্য নফল ইবাদত অপেক্ষা বেশি গুরুত্বপূর্ণ

এ থেকে বুঝা যায়, আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বামীর আনুগত্যকে সকল নফল ইবাদতের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই রোযা রেখে এই মহিলা যেই সাওয়াব পেত এখন স্বামীর আনুগত্য করে তারচেয়ে বেশি সাওয়াব লাভ করবে। স্ত্রী এটা ভাববে না যে, আমি রোযা থেকে বঞ্চিত হলাম। কারণ সে রোযা কি জন্য রাখছিল? সাওয়াব লাভের জন্যই তো? আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তো? আর আল্লাহ তা’আলা বলেছেন—আমি ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তুষ্ট হব না, যতক্ষণ পর্যন্ত তোমার স্বামী তোমার উপর সন্তুষ্ট না হয়। তা যেই স্ত্রী রোযা রেখে লাভ করবে, সেই সাওয়াব খাওয়া দাওয়া করেও সে লাভ করতে পারবে ইনশাআল্লাহ।

২৭ ঘরের কাজ—কারবারে সাওয়াব

অনেক সময় আমরা মনে করি, স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক দুনিয়াবী ব্যাপার এতে শুধু মানবিক প্রবৃত্তি পূরণ হয়। কিন্তু প্রকৃত বিষয় তা নয় বরং এটা দ্বীনী বিষয়। কারণ স্ত্রী যদি এই নিয়ত করে যে, আল্লাহ তা’আলা আমার উপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছেন, স্বামীর সাথে আমার সম্পর্কের উদ্দেশ্য হল তাকে সন্তুষ্টি  করা এবং তাকে সন্তুষ্টি করার মাধ্যমে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করা। তাহলে স্ত্রীর যাবতীয় কাজ সাও্যাবে পরিণত হয়ে যাবে। গৃহস্থলীর যে সকল কাজ মহিলারা করে থাকে, তাতে যদি স্বামীকে সন্তুষ্ট করার নিয়তে হয়, তাহলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সে সৎ কাজ করে সবই আল্লাহর কাছে ইবাদত বলে গণ্য হবে। চাই তা খাবার রান্না হোক, ঘরের দেখাশুনা হোক, সন্তানদের শিক্ষাদান হোক, সব কিছুর উপর সাওয়াব লিখা হয়। শুধু শর্ত হল, নিয়ত শুদ্ধ হতে হবে।

২৮ মানবিক প্রবৃত্তি পূরণ করাও সাওয়াব

এ বিষয়ে সুস্পষ্ট হাদীস রয়েছে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, স্বামী ও স্ত্রীর দৈহিক মিলনেও আল্লাহ তা’আলা সাওয়াব দান করেন। সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.) প্রশ্ন করেন—হে আল্লাহর রাসূল মানুষ তো তাঁর প্রবৃত্তি পূরণের জন্য দৈহিক মিলন করে। এতে আবার সাওয়াব? নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—যদি সেই ব্যক্তি মানবিক প্রবৃত্তি অবৈধ স্থানে চরিতার্থ করত তাহলে গুনাহহুত কি না? সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.) বলেন—অবশ্যই হত, হে আল্লাহর রাসূল! নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—যদি অবৈধ স্থানে প্রবৃত্তি পূরণ করলে গুনাহ হয় তাহলে বৈধ স্থানে তা পুরণ করলে কেন সাওয়াব হবে না? (মুসনাদে আহমাদ খন্ড ৫, হাদীস নং—১৬৯১৬৭)

২৯ আল্লাহ তা’আলা উভয়কে রহমতের দৃষ্টিতে দেখবেন

এক হাদীসে আমি নিজে দেখেনি তবে হযরত থানভী (রহ.) এর উপদেশ গ্রন্থে পড়েছি এবং হাদীসটি তিনি একাধিক স্থানে উল্লেখ করেছে। হাদীসটি হল, স্বামী ঘরে এসেছেন এবং তিনি মুহাব্বতের দৃষ্টিতে স্ত্রীর প্রতি তাকালেন, আর স্ত্রীও মুহাব্বতের দৃষ্টিতে স্বামীর প্রতি তাকাল, তাহলে আল্লাহ তা’আলা উভয়ের প্রতি মুহাব্বতের দৃষ্টিতে তাকান। সুতরাং স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু দুনিয়াবী ব্যাপার নয়। এটি আখেরাতে, জান্নাত ও জাহান্নাম হাসিলেরও পথ।

৩০ কাযা রোযা আদায়ের ক্ষেত্রেও স্বামীর প্রতি লক্ষ্য রাখা

তিরমিযী শরীফে হযরত আয়েশা (রাযি;) থেকে বর্ণিত আছে। তিনি বলেন—রমযান মাসে মেয়েলি সমস্যার কারণে আমার যে সকল রোযা কাযা হয়ে যেত আমি সাধারণতঃ সামনের শা’বান মাসে সে রোযাগুলো রাখতাম। প্রায় এগার মাস পর এটা আমি এজন্য করতাম যে এ মাসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বেশি বেশি রোযা রাখতেন। এ অবস্থা অপেক্ষা উত্তম যে, আমি রোযাদার কিন্তু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রোযাদার নয়। দেখুন, হযরত আয়েশা (রাযি.)—এর এটা কোন নফল রোযা ছিল না। রমযানের কাযা রোযা ছিল। কাযা রোযার হুকুম হল, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আদায় করা। কিন্তু হযরত আয়েশা (রাযি.) শুধু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কষ্ট হবে এ আশঙ্কায় শা’বান মাস পর্যন্ত তা বিলম্ব করতেন। (সহীহ মুসলিম) আরো পড়ুন...

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE