Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ২২)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ২২)

৩১ স্ত্রী স্বামীর ঘরে অন্য কাউকে আসার অনুমতি দিবে না

পূর্বেউল্লেখিত হাদীসের সামনের অংশ হল, (আরবী) অর্থাৎ স্ত্রীর উপর এটাও ফরয যে, সে স্বামীর ঘরে স্বামীর অনুমতি ছাড়া অন্য কাউকে প্রবেশের অনুমতি দিবে না। অথবা এমন কোন  ব্যক্তিকে ঘরে আসার অনুমতি দিবে না। যাকে স্বামী অপছন্দ করে। এটা স্ত্রীর জন্য পুরোপুরি না জায়েয এবং হারাম। অন্য এক হাদীসে এ বিষয়ে আরও বিস্তারিতভাবে ইরশাদ হয়েছে—

আরবী………

স্মরণ রেখো! তোমাদের স্ত্রীদের উপর তোমাদের কিছু হক রয়েছে এবং তোমাদের উপর তোমাদের স্ত্রীদের হক রয়েছে। অর্থাৎ উভয়ের উপরই পরস্পরের কিছু অধিকার রয়েছে। পারস্পরিক এই অধিকারের প্রতি যত্মবান হওয়া এবং তা রক্ষা করা প্রত্যেকের জন্য আবশ্যক। অধিকার গুলো কি? পুরুষগণ! তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীর উপর অধিকার হল, স্ত্রীগণ তোমাদের বিছানাসমূহ এমন ব্যক্তিদের ব্যবহার করতে দিবেনা, যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর এবং তোমাদের ঘরে এমন ব্যক্তিদের আসতে নিষেধ করবে, যাদের আসা তোমরা পছন্দ কর না।

এখানে দুটি অধিকারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এক. স্ত্রী এমন লোককে ঘরে প্রবেশের অনুমতি দিবে না যাদের ঘরে প্রবেশকে স্বামী অপছন্দ করে। এমনকি যদি স্ত্রীর কোন প্রিয় ব্যক্তি বা নিকটাত্মীয়র ঘরে আসাকে স্বামী অপছন্দ করে তাহলে স্ত্রী নিজের প্রিয় ব্যক্তি বা নিকটআত্মীয়কেও ঘরে আসতে দিবে না। পিতা—মাতাকে শুধু এটুকু অনুমতি দিবে যে, তারা সপ্তাহে একবার এসে মেয়ের অবস্থা দেখে যাবে। স্বামী এ থেকে নিষেধ করতে পারবে না। তবে পিতা—মাতাকেও স্বামীর অনুমতি ব্যতীত ঘরে বসানো এবং তাদের মেহমান বানানো  জায়েয নেই। কারণ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সুস্পষ্ট শব্দে বলেছেন—যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কুর, তাদেরকে স্ত্রী  ঘরে আসতে দিবে না। চাই সে যে কেউ হোক। দুই. স্ত্রীগণ তোমাদের বিছানা এমন কাউকে ব্যবহারের অনুমতি দিবে না, যাকে তোমরা অপছন্দ কর। বিছানা ব্যবহারের মাঝে সবকিছু অন্তর্ভূক্ত। বিছানায় বসা, বিছানায় শোয়া, বিছানায় ঘুমানো সবই এর অন্তর্ভূক্ত।

৩২ উম্মুল মুমিনীন হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.)—এর ইসলাম গ্রহণ

হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পবিত্র স্ত্রী। সাহাবায়ে কিরাম (রাযি.)—এর ঘটনা সমূহ নূর ও বরকতে পরিপূর্ণ। উম্মে হাবীবা (রাযি.) হযরত আবু সুফিয়ান (রাযি.)—এর কন্যা। যিনি নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুওয়াত লাভের পর দীর্ঘ একুশ বছর পর্যন্ত তাঁর বিরোধিতায় কাটিয়েছেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তিনি মক্কা মুকাররাম অন্যতম সর্দার ছিলেন।

অবশেষে আল্লাহ তা’আলার মহান কুদরতের অপূর্ব নির্দশন যে, কাফিরদের এত বড় সর্দারের মেয়ে হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.) এবং তাঁর স্বামী পিতার আগেই পিতার আগেই মুসলমান হয়ে গেলেন। পিতা মুসলমানদের বিরোধিতা ও শত্রুতা করছেন অথচ মেয়ে ও জামাই মুসলমান হয়ে গেল। এ দুজন মুসলমান হওয়ায় যেন আবু সুফিয়ানের কলিজায় ছুরি মারা হল। আবু সুফিয়ান এদের ইসলাম গ্রহণ কোন ভাবেই মেনে নিতে পারছিলেন না। তাই সর্দার এদের ক্ষতি সাধনের সুযোগ খুঁজতেন। সে সময়ে অনেক মুসলমানই কাফিদের জুলুম নির্যাতন অতিষ্ট হয়ে ইথুওপিয়ায় হিজরত করেছিলেন। ইথুওপিয়ায় হিজরতকারী মুসলনামদের সাথে হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.) এবং তাঁর স্বামী ছিলেন। তারা দুজন সেখানে বসবাস করতে লাগলেন। কিন্তু আল্লাহর ইচ্ছা ছিল অন্যরকম। ইথুওপিয়ায় থাকাকালীন একদিন হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.) স্বপ্নে দেখলেন, তাঁর স্বামীর চেহারা সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে এবং তা বিকৃত হয়ে গেছে।

ঘুম থেকে জেগে তাঁর মনে হল, তাঁর স্বামীর ঈমান ও দ্বীনের মাঝে কোন পরিবর্তন ঘটবে। কিছুদিন পরই তাঁর স্বপ্নের ব্যাখ্যা বাস্তবরূপ লাভ করল। তাঁর স্বামী একজন খ্রিষ্টান পাদ্রীর কাছে আসা যাওয়া করত। ফলে তাঁর হৃদয় থেকে ঈমানের আলোচ্য বিদূরীত হয়ে যায় এবং সে খ্রিস্টান হয়ে যায়। এতে হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.)—এর মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ে। ইসলামের খাতিরে তিনি পিতা—মাতাকে ছেড়েছেন, ঘর বাড়ি ও স্বদেশ ছেড়েছেন, আত্মীয় স্বজন ও বন্ধ বান্ধবদের মায়াবন্ধন ছিন্ন করেছেন এবং একমাত্র স্বামীকে এবং একমাত্র স্বামীকে এবং বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন ছিল স্বামী। এখন সেও কাফির হয়ে গেল। তাঁর উপর নেমে এল যেন কেয়ামতের বিভিষীকা। এর কিছুদিন পর খৃষ্টান অবস্থাতেই স্বামীর মৃত্যু হয়ে গেল। তিনি ইথুওপিয়ায় সম্পূর্ণ একাকী হয়ে গেলেন। খবর নেওয়ার মতও কেউ থাকল না।

৩৩ নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—এর সাথে বিবাহ

এদিকে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদিনায় বসে শুনলেন, তাঁর স্বামী খৃষ্টান হয়ে গেছে এবং মৃত্যু বরণ করেছে। আর হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.) পরদেশে একাকী ও নিরাশ্রয়ে রয়েছেন। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইথুওপিয়ার বাদশাহ নাজ্জাসীর কাছে পয়গাম পাঠালেন যেহেতু হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.) ভিনদেশে একাকী ও নিরাশ্রয়ে, তাই তাকে আমার পক্ষে থেকে বিবাহর পয়গাম দাও। নাজ্জাসীর মারফতে তাকে বিবাহের পয়গাম দেওয়া হল।

হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.) নিজেই তাঁর ঘটনার বিবরণ দিয়েছেন যে, সেই দুঃসহ বিষাদের দিনগুলোতে একদিন আমি আমার ঘরে বসে আছি। হঠাৎ দরজায় আওয়াজ হল। দরজা খুলে দেখি, বাইরে একটি দাসী দাঁড়িয়ে আছে। আমি তাকে জিজ্ঞেস করলাম—তুমি কোথা থেকে এসেছ? সে বলল—ইথুওপিয়ার বাদশাহ নাজ্জাসী আমাকে আপনার কাছে পাঠিয়েছেন, এ নাজ্জাসী ঐ ব্যক্তিই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উপর ঈমান এনেছিলেন।

আমি জিজ্ঞেস করলাম। কেন পাঠিয়েছেন? সে বলল—বাদশাহ নাজ্জাসী আমাকে বিবাহর পয়গাম দিয়ে পাঠিয়েছেন। তাঁর মাধ্যমে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আপনার কাছে বিবাহের পয়গাম দিয়েছেন। হযরত উম্মে হাবীবা (রাযি.) বলেন—এ বাক্য আমার কানে যেতেই আমি এত আনন্দিত হলাম যে, আনন্দের আতিশয্যে আমার কাছে সে মুহুর্তে যা কিছু ছিল, তা সব আমি দাসীটিকে দিয়ে দিলাম এবং বললাম—তুমি আমার জন্য অত্যন্ত মুবারক সংবাদ নিয়ে এসেছ। নাও এগুলো তোমার বখশিশ। এরপর তাদের দুজনের মাঝে সেই অবস্থাতেই বিবাহ হল, হযরত উন্মমে হাবীবা (রাযি.) ইথুওপিয়ার আর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায়। এর কিছুদিন পর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে মদীনায় নেওয়ার ব্যবস্থা করলেন। (আল ইসাব, খন্ড৪—পৃঠাঃ ২৯৮)

৩৪ একাধিক বিবাহের কারণ

হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে একাধিক বিবাহ করেছেন, এ সম্বন্ধে বিরুদ্ধবাদিরা কত কথাই বলে। কিন্তু বাস্তবতা হল, প্রত্যেক বিবাহের পিছনে বিরাট হেকমত রয়েছে। এ বিবাহে দেখুন, হযরত উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) ইওথুওপিয়ার নিরাশ্রয়ে ও হত—দরিদ্র জীবন যাপন করেছিলেন। তাকে কিছু জিজ্ঞেস করার মত কেউ ছিল না। যদি হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর প্রতি এভাবে আন্তরিকতা প্রদর্শন না করতেন, তাহলে তাঁর কি অবস্থা হত? হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বিবাহ করে মদিনায় নিয়ে এলেন।

৩৫ অমুসলিমদের মুখে প্রশংসা

এটাও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মু’জেযা ও বরকত যে, যে সময় হযরত উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে বিবাহ হল, মক্কা মুকাররমায় এ সংবাদ আবু সুফিয়ানের নিকট পৌঁছে গেল। তখন আবু সুফিয়ান কাফির এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের দুশমন ছিলেন। যখন তিনি এ সংবাদ পেলেন যে, তখন স্বাগতভাবে তাঁর মুখ থেকে যে কথা বের হয়েছিল তা ছিল, এ সংবাদ তো খুশির সংবাদ। মুহাম্মদ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তো এমন ব্যক্তি নন যার প্রস্তাবকে ফিরিয়ে দেওয়া যায়। এটাতো সৌভাগ্যের বিষয় যে, উম্মে হাবীবা (রাযি.) তাঁর সান্নিধ্যে আশ্রয় পেয়েছে। আরো পড়ুন…

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE