Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ২৩)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব ২৩)

৩৬ চুক্তি ভঙ্গ

হুদাইবিয়ার সন্ধির প্রাক্কালে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও আবু সুফিয়ানের মাঝে একটি যুদ্ধবিরতী চুক্তি হয়েছিল। সীরাত গ্রন্থে এর বিস্তারিত বিবরণ রয়েছে। এক বছর পর্যন্ত আবু সুফিয়ান এবং তাঁর সাথী বর্গ এই চুক্তির শর্ত রক্ষা করেছে। এক বছর পর তারা চুক্তি ভঙ্গ করা শুরু করে। তাদের চুক্তি ভঙ্গের জবাবে হুজুর সালাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এই ঘোষণা প্রদান করেন যে, এখন থেকে আমরা এই চুক্তি রক্ষা করব না। তাই যখন ইচ্ছা আমরা মক্কা মুকাররমার উপর হামলা করতে পারি। কারণ আমাদের শত্রুগণ যখন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি তখন আমরা তা রক্ষা করতে বাধ্য নই। এই ঘোষণার পর আবু সুফিয়ানের আশঙ্কা জাগল যে, যে কোন সময় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মুক্কা মুকাররমায় হামলা করতে পারে।

৩৭ আপনি এ বিছানার উপযুক্ত নন

একবার হযরত আবু সুফিয়ান  সিরিয়া থেকে ফিরছিলেন। মুসলমানরা তাঁর কাফেলার সকলকে গ্রেফতার করে। হযরত আবু সুফিয়ান রাতের বেলায় গোপনে মদীনা মুনাওয়ারায় প্রবেশ করেন। তাঁর ধারণা ছিল, আমার মেয়ে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘরে আছে, আমি তাঁর সাথে কথা বলব। হয়ত আমার প্রাণ রক্ষা পাবে। তাই তিনি লুকিয়ে হয়রত উম্মে হাবীবা (রাযিঃ)—এর ঘরে প্রবেশ করলেন। মেয়ে তাকে সম্ভাষণ জানালেন। সে সময় ঘরে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানা বিছানো ছিল। আবু সুফিয়ান ঘরে প্রবেশ করে তাতে বসার ইচ্ছা করলেন।

এটা দেখে হযরত উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) দ্রুত অগ্রসর হলেন এবং হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানা গুটিয়ে এক পাশে রেখে দিলেন। আবু সুফিয়ান মেয়ের এই আচরণে অবাক ও বিস্মিত হলেন। তিনি বললেন—রমলা, এ বিছানা আমার উপযুক্ত নয়, না আমি এই বিছানার উপযুক্ত নই? হযরত উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) উত্তর দিলেন—আব্বাজান, আপনি এর উপযুক্ত নন। কারণ এটা হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিছানা। যে ব্যক্তি মুশরিক তাকে আমি আমার জীবন থাকতে এ বিছানা বসার অনুমতি দিতে পারি না।

এ কথা শুনে আবু সুফিয়ান বললেন—রমলা আমি ভাবতেও পারিনি যে, তুমি এত পরিবর্তন হয়ে গেছ যে, তোমার পিতাকেও এ বিছানায় বসার অনুমতি দিবে না। নিজের পিতাকেও হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বিছানায় বসতে না দেওয়া মূলতঃ হযরত উম্মে হাবীবা (রাযিঃ) এর হাদীসের উপর আমল ছিল যে,

আরবী………

অর্থঃ যাদেরকে তোমরা অপছন্দ কর তোমাদের স্ত্রীগণ তাদেরকে তোমাদের বিছানা ব্যবহারের অনুমতি দিবে না। (আল ইসাবা। ৪/২৯৮,)

৩৮ স্ত্রী তৎক্ষণাত এসে যাবে

হাদীস (আরবী)

হযরত তালক ইবনে আলী (রাযিঃ) বর্ণনা করেন।  হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন—যখন স্বামী তাঁর স্ত্রীকে চাহিদা পূরণের জন্য ডাকবে তখন স্ত্রীর উপর স্বামীর ডাকের সাড়া দেওয়া উচিত। যদিও সে রান্না—বান্নার কাজে ব্যস্ত থাকে অর্থাৎ স্ত্রী চুলায় খাবার রান্নায় ব্যস্ত থাকলেও তাঁর স্বামীর ডাক উপেক্ষা করতে পারবে না।

৩৮ বিবাহ মানবিক চাহিদা পূরণের হালাল পন্থা

এ সকল বিধানের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল, আল্লাহ তা’আলা নারী ও পুরুষের মাঝে স্বভাবগত ভাবে জৈবিক চাহিদা রেখেছেন এবং এই প্রবৃত্তি ও উত্তেজনা নিবৃত করার জন্য একটি হালাল পন্থা নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আর তা হল বিবাহ। স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্কের মাঝে এ প্রয়োজন ও চাহিদা পূরণ করা সর্ব প্রধান ও সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ । হালাল পন্থা এ জন্যই দিয়েছেন যে, কোন পুরুষ বা নারীর মাঝে যেন হারাম পদ্ধতিতে এ চাহিদা পূরনের খেয়াল সৃষ্টি না হয়। স্বামীর মাধ্যমে স্ত্রীর এবং স্ত্রীর মাধ্যমে স্বামীর প্রশান্তি হবে, উত্তেজনা প্রশমিত হবে। ফলে পরনারীর প্রতি কুদৃষ্টি থেকে স্বামী এবং পরপুরুষের দিকে দৃষ্টিপাত থেকে স্ত্রী নিবৃত হবে।

৩৯ বিবাহ করা সহজ

এই কারণে আল্লাহ তা’আলা বৈবাহিক সম্বন্ধকে অনেক সহজ করেছেন। পুরুষ ও মহিলা উপস্থিত থাকবে এবং দু’জন সাক্ষী থাকবে। দু’জন সাক্ষীর উপস্থিতিতে পুরুষ ও নারীর ইজাব (প্রস্তাব) ও কবুল করবে। ব্যাস, বিবাহ হয়ে গেল। বিবাহের খুৎবা পড়াও জরুরী নয়। তবে খুৎবা পড়া সুন্নত। কাজী বা অন্য কারও দ্বারা বিবাহ পড়ানোও জরুরী নয়। তবে অন্যের দ্বারা বিবাহ পড়ানো সুন্নাত। যুদি তা না করে পুরুষ ও মহিলা দু’জন সাক্ষীর সামনে ইজাব ও কবুল করে নেয় অর্থাৎ একজন বলল—আমি তোমাকে বিবাহ করলাম। অন্যজন বলল—আমি কবুল করলাম। ব্যাস, বিবাহ হয়ে গেল। বিবাহের জন্য মসজিদে যাওয়াও জরুরী নয়। মাঝে তৃতীয় ব্যক্তি রাখাও  জরুরী নয়। কারণ হালাল পন্থাকে সহজতর করাই শরী’আতের উদ্দেশ্য।

৪০ বরকতময় বিবাহ

হাদীসে বিবাহ অনুষ্ঠান ও বিবাহরীতিকে সাধারণ অনাড়ম্বড় ভাবে আনযাম দেওয়ার তাগিদ এসেছে। কোন রুসম রেওয়াজ বা কোন চুক্তিনামা কিংবা খুব জাকজমকের সাথে অনুষ্ঠান করার প্রয়োজন নেই। হাদীস শরীফে এসেছে, যখন সন্তান বালেগ হয়, তাঁর বিবাহের ফিকির কর। যাতে তাঁর হারামের প্রতি ধাবিত হওয়ার প্রবণতা বা প্রয়োজন দেখা না দেয় এবং হালাল পথ তাঁর জন্য সহজসাধ্য হয়। এক হাদীসে হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন,

আরবী………

সর্বাধিক বরকতময় বিবাহ তাই যা সবচেয়ে সহজ ও অনাড়ম্বর হয়। বিওবাহ অনুষ্ঠান যত বড় এবং যত বেশী ধুমধাম করা হবে তাতে বরকতও কম হবে। (মুসনাদে আহমদ, খ ৬ পৃঃ ৮৬) আরো পড়ুন

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE