Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২৪)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২৪)

৪১ হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ)—এর বিবাহ

হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) অত্যন্ত উচু স্তরের সাহাবী ছিলেন। তিনি ঐ দশজনের একজন, যাদেরকে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দুনিয়াতেই জান্নাতের সুসংবাদ শুনিয়েছিলেন। একবার তিনি হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মজলিশে উপস্থিত হলেন। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম দেখলেন, তাঁর জামায় মেহেদীর রং লেগে আছে। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিজ্ঞেস করলেন—তোমার জামায় এই হলুদ দাগ কিভাবে লাগল? তিনি বললেন—ইয়া রাসূল্লাল্লাহ, আমি একজন রমনীকে বিবাহ করেছি। বিবাহের সময় যে সুগন্ধি লাগিয়েছিলাম, এটা তারই দাগ। হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন—

আরবী……..

আল্লাহ তা’আলা তাতে তোমার জন্য বরকত দান করুন। ওলীমা করে ফেল, একটি ছাগল যবাহ করে হলেও। (সহীহ বুখারী)

এ হাদীসের ভাবার বিষয় হল, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রাযিঃ) জান্নাতের সুসংবাদ প্রাপ্ত দশজনের একজন এবং হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অত্যন্ত কাছের সাহাবী। কিনতি বিবাহ অনুষ্ঠানে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দাওয়াত করেননি তাই নয় বরং তাকে জানান নাই।যখন হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রং সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করেছেন, তখন উত্তর দিতে গিয়ে জানিয়েছেন। আর বিবাহের সংবাদ শুনে হুযুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও এই অভিযোগ করেন নি যে, তুমি একা বিবাহ করে নিলে, আমাদেরকে জানালেও না। কারণ শরী’আত বিবাহ অনুষ্ঠানের উপর কোন শর্ত আরোপ করে নি।

৪২ বর্তমান বিবাহ একটি কঠিন জিনিস

হযরত জাবের (রাযিঃ) একবার নবী কারীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে এসে আরয করলেন—ইয়া রাসূল্লাল্লাহ! আমি এক রমণীকে বিবাহ করেছি। (সহীহ বুখারী)

হযরত জাবের (রাযিঃ) ছিলেন নবী কারীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বিশিষ্ট সাহাবীদের একজন। সর্বদা নবী কারীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছাকাছি থাকতেন। অথচ বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশ গ্রহণের জন্য দাওয়াত দেন নি কারণ এই ছিল যে, বিবাহর জন্য বিশেষ কোন ব্যবস্থা করা হত না। এমন ছিল না যে, বিবাহ মানে একটি তুফান শুরু হয়ে যাওয়া। কয়েক মাস পূর্ব থেকেই প্রস্তুতি, এ নিয়ে পরোগোষ্ঠী মিলে ধুমধাম, হৈ—হুল্লুড় করা। এ ছাড়া যেন বিবাহ হতে পারে না।  শরী;আত বিবাহকে যত সহজ বানিয়েছে আমরা আমাদের ভুল রুসম রেওয়ায়েজের মাধ্যমে তা তত কঠিন করে ফেলেছি।

এর ফলাফল দেখুন, আজ অসংখ্য মেয়ে অবিবাহিত অবস্থায় ঘরে পড়ে আছে। তারা ঘরে এজন্য পড়ে আছে যে, যৌতুক যোগান দেওয়ার মত পয়সা নেই। অথবা বিবাহ অনুষ্ঠান করার মত পয়সা নেই। তাই এ সকল কাজের জন্য হালাল ও হারাম পয়সা জমা করা হচ্ছে। বিবাহর সকল রুসম ও রেওয়াজ আমরা হিন্দু ও খৃষ্টানদের থেকে গ্রহণ করেছি। আর নবী কারীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদের জন্য যে পদ্ধতি নির্দেশ করেছেন, আমরা তা পরিত্যাগ করছি। ফলে আজ হালালের পথ বন্ধ, হালাল পদ্ধতিতে প্রবৃত্তি পূরণ করার জন্য অনেক সম্পদশালী ও ধনী হওয়া জরুরী। লাখ টাকা হোক, তারপর বিবাহ করব। এর আগে নয়। অন্যদিকে হারামের উপকরনাদি তাদেরকে আহবান করছে। যখন ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা প্রবৃত্তি পূরণ করছে। দিন রাতে ঘরে টিভি চলছে, পর্ণ ফ্লিম দেখা হচ্ছে। আর এর দ্বারা মানবিক প্রবৃত্তি ও জৈবিক চাহিদাকে উত্তেজিত করা হচ্ছে, জৈবিক ক্ষুধা চাঙ্গা করা হচ্ছে। যদি রাস্তায় বের হন, চোখ হেফাযত করা মুশকিল হয়ে পড়ে।এভাবে উলঙ্গপনা, নির্লজ্জতা ও বেপর্দার অভিসম্পাতকে টেনে আনা হচ্ছে। এ সকল রুসম ও রেওয়াজ আমাদের সুষ্ঠু সমাজ ব্যবস্থা ধ্বংস তড়ান্বিত করছে।

৪৩ যৌতুক একটি সামাজিক অভিশাপ

এ ব্যাপারে সবচেয়ে গুরুদায়িত্ব ন্যাস্ত হয় ঐ সকল লোকের উপর যারা সচ্ছল ও সম্পদশালী। এ আযাব থেকে ততক্ষণ পর্যন্ত  মুক্তি পাওয়া যাবে না, যতক্ষণ না ধনবান ও বিত্তশালী পরিবার গুলো এ উদ্যোগ গ্রহণ সাধারণভাবে করব এবং এই অর্থহীন রুসম ও রেওয়াজকে বিলুপ্ত করব। তাদের আন্তরিক উদ্যোগের ফলেই সমাজে পরিবর্তন আসতে পারে। কারণ একজন গরীব ব্যক্তি ভাবে, আমার সম্মান বজায় রাখতে হলে এবং জাত রক্ষা করতে হলে আমাকে এই কাজ করতেই হবে। এছাড়া আমার চলবে না। যদি মেয়ের বিবাহে যৌতুক না দেই তবে শশুর পক্ষ দোষ ধরবে যে, কি মেয়ে এসেছে। আজকে যৌতুককে বিবাহের অবিচ্ছদ্যে অঙ্গ মনে করা হচ্ছে। গৃহস্থলী যে সকল সামগ্রী যোগাড় করা স্বামীর উপর ওয়াজিব তা আজকাল স্ত্রীর পিতার উপর ওয়াজিব।

ব্যাপারটা এই রকম যে, পিতা নিজের কলিজার টুকরা মেয়েকেও দিবে এবং এর সাথে লক্ষ টাকাও দিবে। ঘরের ফার্নিচারের ব্যবস্থা করবে। অন্যের ঘর মেয়ের পিতা সাজিয়ে দিবে। শরী’আতের এর কোন দৃষ্টান্ত নেই। হ্যাঁ কোন পিতা যদি মেয়েকে দিতে চায় তবে তা সাদাসিধেভাবে দিবে। মোটকথা, বিত্তবান ও শনী শ্রেণীর এটা দায়িত্ব যে, তারা পর্যন্ত বিবাহ শাদীতে সাদাসিধে ও অনাড়ম্বর পদ্ধতি অবলম্বন করবে এবং এতাকে একটি আন্দোলন রূপ দিবে। তা না হলে এ আযাব থেকে মুক্তি পাওয়া অসম্ভব। আল্লাহ তা’আলা নিজ অনুগ্রহে আমাদের মনে এসব কথা বসিয়ে দিন। আমীন।

৪৪ নারীদেরকে স্বামীদের সিজদা করার নির্দেশ দিতাম

হাদীস (আরবী).

হযরত আবু হুরাইরা (রাযিঃ) নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, যদি আমার জন্য কাউকে এই হুকুম দেওয়া জায়েয হত যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে সিজদা করবে তবে আমি প্রত্যেক মহিলাকে এই নির্দেশ দিতাম যে, সে যেন তাঁর স্বামীকে সিজদা করে।  কিন্তুই যেহেতু আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা জায়েয নেই তাই আমি এ সিজদা করার নির্দেশ দেই  না। (তিরমিযী শরীফ)

৪৫ হৃদয়ের বন্ধন

জীবন সফরে পুরুষ ও নারী এক সাথে জীবন অতিবাহিত করবে। আল্লাহ তা’আলা এতে পুরুষকে আমীর ও দায়িত্বশীল বানিয়েছেন। এ নেতৃত্ব ছাড়া যত নেতৃত্ব রয়েছে সবই সাময়িক।  আজকে একজন শাসক ও নেতা হয়ে গেছ অথবা রাষ্ট্র প্রধান হয়ে গেছে কিন্তু তাঁর নেতৃত্ব, শাসন ও কর্তৃত্ব একটি একটি নিদৃষ্ট মেয়াদের জন্য।  গতকাল পর্যন্ত নেতা শাসক ছিলেন কিন্তু আজ জেল খানায়। গতকাল পর্যন্ত বাদশাহ ছিল কিন্তু আজ ভালমন্দ জিজ্ঞেস করার মত কেউ নেই। সুতরাং এ সকল নেতৃত্ব ও শাসন ক্ষমতা মামুলি ব্যাপার। আজ যা  আছে কাল নেই। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী সম্পর্ক পুরো জীবনের সম্পর্ক। একে অন্যের প্রতিটি নিঃশ্বাসের সঙ্গী, প্রতিটি মুহুর্তের সঙ্গী বন্ধু। এ বন্ধনের কারনে পুরুষের যে নেতৃত্বের যোগ্যতা অর্জিত  হয়, তা মৃত্যু পর্যন্ত বহাল থাকে অথবা বিবাহর সম্মন্ধ যতদিন বহাল থাকে।

তাই এ নেতৃত্ব অন্য সব থেকে আলাদা। অন্য সব নেতৃত্বের মাঝে শাসক শাসিতের সাথে, রাজা প্রজার সাথে একটি প্রথাগত ও আইন গত সম্পর্ক স্থাপিত হয়। কিন্তু স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক শুধু প্রথাগত বা আইনগত কিংবা খাওয়া  পরার সম্পর্ক নয় বরং এটা হৃদয়ের সম্পর্ক। দু’টি আত্মার সুদৃঢ় বন্ধন যার প্রভাব জীবনের সর্ব ক্ষেত্রে বিস্তৃত। এ কারনেই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন। আমি যদি কাউকে সিজদা করার নির্দেশ দিতাম তাহলে আমি স্বামীদেরকে সিজদা করার জন্য নারীদের নির্দেশ দিতাম। কারণ স্বামী তাঁর জীবনের নেতা। আরো পড়ুন…

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE