Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২৭)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব২৭)

৬৬ পুরুষ নিজ স্ত্রী সন্তানদের দায়িত্বশীল

অর্থাৎ পুরুষ স্বীয় ঘরবাসীদের রক্ষণাবেক্ষণকারী পরিবারের কর্তা হিসেবে পরিবারস্থ সকলের ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞাসা করা হবে যে, এ পরিবারের সদস্যদের তোমার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। স্ত্রী-সন্তান ছিল, তাদের সাথে তোমার ব্যবহার কিরূপ ছিল? তাদের রক্ষণাবেক্ষণ কিভাবে করেছ? তারা দ্বীন মোতাবেক চলল কি না তা কি তুমি দেখেছ? তারা জাহান্নামের দিকে তো যাচ্ছে না। কিয়ামতেরম দিন সকল বিষয়ে পুরুষদের জিজ্ঞাসা করা হবে। কুরআনে কারীমে ইরশাদ হচ্ছেঃ

আরবী………

হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেদেরকে এবং তোমাদের পরিবার পরিজনকে আগুন থেকে বাচাও। এমন করা উচিত নয়, শুধু নিজ আগুন থেকে বাঁচবে, তুমি নিজে তো নামায পড়ছ রোযা রাখছ, ফরয ওয়াজিব নফল ও অন্যান্য দৈনন্দিত আমলসমূহ সবই করছ কিন্তু অন্যদিকে সন্তান ভুল পথে যাচ্ছে, তাঁর কোন ফিকির নেই, তাঁর জন্য কোন চিন্তা নেই। তাহলে মনে রেখ, কিয়ামতের দিন তুমি প্রশ্ন এড়াতে পারবে না। তুমিও জিজ্ঞাসিত হবে এবং এ জন্য তোমার আযাব হবে যে, কেন তুমি তোমার দায়িত্ব পালন করনি? (সূরা তাহরীম, ৬)

৬৭ স্ত্রী স্বামীর সংসার এবং তাঁর সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক

স্ত্রী স্বামীর সংসার এবং তাঁর সন্তানের তত্ত্বাবধায়ক। এ হাদীসে স্ত্রীকে দুটি দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে। এক স্বামীর সংসার। দুই তাঁর সন্তান অর্থাৎ ঘরের হিফাযত করবে, সংসার দেখাশুনা করবে, সন্তানদের ঠিকমত প্রতিপালন করবে, দুনিয়াবী দেখাশুনা এবং দ্বীনী দীক্ষা দানও করবে। এগুলো নারীর দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত।

৬৮ নারীরা হযরত ফাতেমা (রাযি.) এর সুন্নত অবলম্বন করবে

হযরত ফাতেমা (রাযি.) জান্নাতের রমণীদের সর্দার। বিবাহের পর হযরত আলী (রাযি.) ঘরে যখন যান, হযরত আলী এবং তিনি পরস্পরে এটা স্থির করেছিলেন যে, হযরত আলী ঘরের বাইরের কাজ করবেন আর হযরত ফাতেমা ঘরের ভিতরে কাজ করবেন। সে মতে হযরত ফাতেমা প্রাণান্ত কষ্ট করে ঘরের কাজ আঞ্জাম দিতেন। সমস্ত কাজ বড় আগ্রহ নিয়ে করতেন এবং স্বামীর খেদমত করতেন। পরিশ্রমের কাজ খুব বেশি ছিল। সে যুগ তো আমাদের যুগের মত ছিল না। আজকে তো বৈদ্যুতিক সুইচ অন করে দিল আর খাবার রান্না হয়ে গেল। সে সময় খাবার তৈরির জন্য চাক্কির মাধ্যমে গম পিষতে হত, আগুন জালানর জন্য কাঠ কেটে আনতে হত, এরপর আগুন জালিয়ে রুটি তৈরি করতে হত। খাবার তৈরি করা ছিল বিরাট ঝামেলা ও কষ্টের কাজ। হযরত ফাতেমা (রাযি.) কে এ জন্য প্রচন্ড কষ্ট করতে হত। হযরত ফাতেমা (রাযি.) বড় আগ্রহ ও আনন্দের সাথেই এ কষ্ট সহ্য করতেন। কিন্তু খায়বর যুদ্ধের পর যখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আকছে প্রচুর গনীমতের মাল আসল, তাতে গোলাম, বাদীও ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবাদের মাঝে গোলাম বাঁদী বন্টন করতে শুরু করলেন। হযরত ফাতেমা (রাযি.) কে কেউ একজন বলল—আপনিও নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললেন—গম পিষতে পিষতে আমার হাতে দাগ পড়ে গেছে, পানির মশক বহন করে আমার পিঠে দাগ পড়ে গেছে,  এখন যেহেতু গনীমতের মালে অনেক গোলাম ও বাঁদী আছে, যদি কোন গোলাম বা বাঁদী আমি পেতাম, আমার সুবিধা হত। এই বলে হযরত ফাতেমা স্বগৃহে ফিরে গেলেন।

যখন নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘরে তাশরিফ আনলেন, হযরত আয়েশা (রাযি.) বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ আপনার মেয়ে হযরত ফাতেমা এসেছিলেন এবং এই কথা বলেছেন। পিতার মন তো! যখন একজন পিতার সামনে আদরের কন্যা এই কথা বলেন যে, চাক্কি ঘোরাতে ঘোরাতে হাতে ফস্কা পড়ড়ে যায়, পানির মশক টানতে টানতে বুকে পিঠে দাগ পড়ে গেছে, আপনি চিন্তা করে দেখুন, তখন পিতার আবেগ এ ব্যাথা কি রকম হয়। কিন্তু নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে নিজ ঘরে দাকলেন এবং বললেন ফাতেমা! তুমি আমার কাছে গোলাম বা বাঁদীর আবেদন করছ কিন্তু যতক্ষণ পর্যন্ত সকল মদীনাবাসী গোলাম বা বাঁদী না পায় ততক্ষণ পর্যন্ত তুমি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গোলাম বা বাদী নেওয়া পছন্দ করি না।

৬৯ নারীদের জন্য নুসখায়ে কিমিয়া “তাসবীয়ে ফাতেমী”

তবে আমি তোমাকে এমন এক ব্যবস্থাপত্র বলে দিচ্ছি, যা তোমার জন্য গোলাম ও বাঁদীর অপেক্ষাও উত্তম হবে। তা হল, যখন তুমি রাতে বিছানায় শোও তখন তেত্রিশ বার, “সুবহানাল্লাহ” তেত্রিশ বার “আলহামদুলিল্লাহ” এবং চৌত্রিশ বার “আল্লাহু আকবার” পড়ে নিবে। এটা তোমার জন্য গোলাম ও বাদির অপেক্ষা উত্তম। মেয়েও সরকারের দুআলম নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মেয়ে ছিলেন। পাল্টা কিছু বলেন নি বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন—তাতে সন্তুষ্ট হয়ে ঘরে ফিরে এসেছেন। এ কারণেই এ “তাসবীহে ফাতেমী” বলা হয়। (জামেউল উসূল, খ ৬ পৃঃ ৫০১)

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ কন্যাকে নারীদের জন্য একটি দৃষ্টান্ত বানিয়ে দিয়েছেন যে, স্ত্রী এমন হবেঃ আইনগতভাবে তাঁর হক যাই থাকুক না কেন? কিন্তু সুন্নত হল, স্ত্রী স্বামীর সংসারের তত্ত্বাব্ধায়নকারী এবং রক্ষণাবেক্ষণকারী হিসেবে সংসারের সকল কাজকে নিজের কাজ মনে করে আঞ্জাম দিবে।

৭০ সন্তানদের শিক্ষা—দীক্ষা মায়ের দায়িত্ব

নারী শুধু সংসারের রক্ষণাবেক্ষণই করবে না বরং সে তাঁর সন্তানদেরও রক্ষণাবেক্ষণকারী। সন্তানদের লালন পালন, সন্তানদের সেবা, সন্তানদের সঠিক শিক্ষা ও দীক্ষাদানের দায়িত্ব রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীর উপর ন্যস্ত করেছেন। যদি সন্তানকে সঠিক শিক্ষা দেওয়া না হয় এবং তাঁর মাঝে ইসলামী শিষ্টাচার স্থান করে নেয় তাহলে এই ব্যাপারে স্ররব প্রথম নারীকে জিজ্ঞাসা করা হবে এরপর পুরুষকে। কারণ এসকল বিষয়ের প্রথম দায়িত্ব মায়ের। তাই মাকে জিজ্ঞেসা করা হবে যে, তোমার কোলে লালিত—পালিত সন্তানের মাঝে দ্বীন ও ঈমান কেন জম্ম হয় নি? এজন্য নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—স্বামীদের সংসার ও সন্তানদের সম্পর্কে মহিলাজে জিজ্ঞেসা করা হবে। আলোচ্য হাদীসের শেষে পুনরায় নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকলকে দায়িতে সচেতন করার জন্য ইরশাদ করেন—

আরবী…..

তোমাদের মধ্যে প্রত্যেক ব্যক্তিত দায়িত্বশীল। তোমাদের প্রত্যেককে তোমাদের অধিনস্থ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হবে। আল্লাহ তা’আলা স্বীয় অনুগ্রহে এ সকল দায় দায়িতে সকলকে বুঝার এবং তাঁর উপর আমল করার তাওফীক দান করুন। আমীন।

সমাপ্ত। 

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *