Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব৩)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব৩)

১১ কুরআনে কারীমে শুধু মূলনীতি বর্ণনা করে

আগেই একটি কথা বলে রাখি যে, আপনি লক্ষ্য করলে দেখেবন, কুরআনে কারীমে সাধারণত মৌলিক নীতিসমূহ বর্ণনা করে, ব্যাখ্যা—বিশ্লেষণের দিকে যায় না। শাখাগত মাসআলাসমূহ বর্ণনা করে না। নামাযের কথাই ভাবুন, কত গুরুত্বপূর্ণ রুকন, দ্বীনের স্তম্ভ, যার ব্যাপারে কুরআনুল কারীমে২র তিয়াত্তর স্থানে নির্দেশ এসেছে যে, নামায কায়েম কর, কিন্তু নামায কিভাবে পড়তে হবে? তার পদ্ধতি কি? তার রাকাত সংখ্যা কত? কী কী কারণে নামায ভেঙ্গে যায় এবং কোন কোন কারণে নামায ভঙ্গ হয় না? এ সব বিষয়ে কুরআনে কিছুই বর্ণনা করা হয় নি। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—এর শিক্ষার উপর এসব বিষয় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হাদীস তা বর্ণনা করেছেন। এমনিভাবে যাকাতের কার উপর নির্দেশও কুরআনে বহুবার এসেছে, কিন্তু যাকাতের নেসাব কী? যাকাত কার উপর ফরয? কুতটুকু ফরয? কোন কোন জিনিসে ফরয? এ সব বিষয়ে কুরআন শরীফে কিছুই বর্ণনা করেনি বরং নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম—এর শিক্ষার উপর ছেড়ে দিয়েছে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, কুরআনে কারীমে সাধারণতঃ মূলনীতি বর্ণনা করে, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণের দিকে যায় না।

১২ সভ্যতার ভিত্তি পারিবারিক জীবন

কিন্তু স্বামী ও স্ত্রীর সম্পর্ক ও পারিবারিক সম্পর্ক এমন একটি বিষয়, কুরআনে কারীমে যার ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র মাসআলা গুলোও সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। প্রতিটি বিষয় খুলে খুলে বর্ণনা করেছে। এখানেই শেষ নয়। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। প্রশ্ন হল, এর কারণ কী? কারণ হল, স্বামী ও স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্ক তথা পারিবারিক জীবন মানব সভ্যতার ভিত্তি এবং একে ঘিরেই জাতীয় সভ্যতা-সংস্কৃতির সৌধ রচিত হয়। যদি স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সুদৃঢ় হয়, আনন্দঘন হয়, একে অন্যের অধিকার সংরক্ষণ করে তাহলে ঘরের পরিবেশ সুষ্ঠু-সুন্দর ও সুশৃঙ্খল হয়।

আর ছেলে মেয়ে ভাল হলে সমাজও সুষ্ঠু-সুন্দর হয় এবং এর উপরই সমাজের পুরো কাঠামো গড়ে ওঠে। কিন্তু ঘরের পরিবেশ যদি খারাপ হয়, স্বামী-স্ত্রীর মাঝে দিন-রাত যদি মন কষাকষি হয়, ঝগড়াঝাটি চলে, এতে সন্তানদের উপর খারাপ পড়ে। আর এদের মাধ্যমেই যখন আগামী প্রজম্ম গড়ে ওঠবে, তখন তারা ভদ্র সমাজের সদস্য হতে পারবে কি পারবে না তা আপনিই অনুমান করতে পারেন। অতএব সংশ্লিষ্ট বিধি-নিষেধকে শরী’অতের পরিভাষায় ‘পারিবারিক আইন’ বলা হয়। কুরআনে কারীমে এ বিষয়ের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ব্যাপারগুলোও অত্যন্ত যত্ন সহকারে বর্ণনা করেছে।

১৩ “মহিলাদেরকে পাজরের বাঁকা হাড় থেকে”—সৃষ্টির মর্মার্থ

হাদীসের পরবর্তী অংশে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত চমৎকার দৃষ্টান্ত দিয়েছেন। এত চমৎকার, বিস্ময়কার ও প্রজ্ঞাপূর্ণ দৃষ্টান্ত সাধারণত খোঁজে পাওয়া দুষ্কর। তিনি বলেন—“মহিলাদেরকে পাঁজরের হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে’। কেউ কেউ এ বক্তব্যের ব্যাখ্যা এভাবে দিয়েছেন যে, আল্লাহ তা’আলা সর্বপ্রথম হযরত আদ্ম আলাইহিস সালামকে সৃষতি করেছেন। কোনও কোনও আলেম এর অন্য ব্যাখ্যা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের স্বভাব বুঝাতে এ দৃষ্টান্ত পেশ করেছেন। পাজরের হাড় বাঁকা কিন্তু পাজরের সৌন্দর্য এবং সুস্থতা তা বাঁকা হওয়ার মাঝে। সুতরাং কেউ যদি মনে করে পাজরের হাড় বাঁকা, তা সোজা করে দেই এবং সে সোজা করতে যায় তবে  সোজা তো হবে না বরং ভেঙ্গে যাবে। তা আর পাজর থাকবে। তখন পুনরায় তা আবার বাঁকা করে প্লাস্টার করে জোরা দিতে হবে। হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের সম্পর্কে এ কথাই বলেছেন—

আরবী……

অর্থঃ যদি তুমি পাজরের বাঁকা হাড় সোজা করতে চাও তাহলে তা ভেঙ্গে যাবে।

আরবী….

অর্থঃ আর যদি তা থেকে উপকৃত হতে চাও তবে বাঁকা রেখেই উপকৃত হবে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারী স্বভাবের বড় চমৎকার ও জ্ঞানগর্ভ উপমা দিয়েছেন যে, তার সুস্থতা তার বাঁকা হওয়ার মাঝেই যদি তা সোজা হয় তবে তা রোগ, সুস্থতা নয়।

১৪ এটা মহিলাদের দোষ নয়…

কেউ কেউ এ দৃষ্টান্ত মহিলাদের দোষ হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন। মহিলাদের বাক হাড় থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। এ কারণে তাদের স্বভাব—প্রকৃতিই বাঁকা। আমার কাছে প্রেরিত অনেক পত্রে আমি এ ধরণের বাক্য নারীদের নিন্দাবাদে ব্যবহৃত হতে দেখেছি। অথচ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর বক্তব্যে এটা বুঝাতে চাননি।

১৫ মহিলাদের বক্রতা জম্মগত…

আসল কথা হল, আল্লাহ তা’আলা পুরুষদেরকে এ ধরণের গুণাবলী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন আর নারীদেরকে অন্য ধরণের গুণাবলী দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। উভয়ের স্বভাব ও প্রকৃতি ভিন্ন। এই প্রকৃতিগত ভিন্নতার কারণে নারী সম্পর্কে পুরুষের ভাবনা এই যে, সে আমার স্বভাব বিরোধী। অথচ নারীর স্বভাব তোমার বিরোধী হওয়াতে কোন দোষ নেই। কারণ তাঁর বক্রতা সৃষ্টিগত স্বভাব। কেউ কি পাজর সম্পর্কে বলে যে, পাজরের বক্রতা পাজরের ক্রটি? স্পষ্টতই তা ক্রটি নয় বরং এ বক্রতা সৃষ্টিগত। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—যদি স্ত্রীর মাঝে এমন কোন বিষয় পরিলক্ষিত হয়, যা তোমার স্বভাব বিরোধী এবং এ কারণে তুমি তাকে গোঁয়ার মনে কর  তাহলে তুমি তাকে ঘৃণা কর না বরং মনে কর, এটা তাঁর সৃষ্টিগত। তুমি যদি তা সোজা করতে চাও, তা ভেঙ্গে যাবে। যদি তুমি উপকৃত হতে চাও তবে বাঁকা অবস্থাতেই উপকৃত হওয়া যেতে পারে। আরো পড়ুন…

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *