Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব৪)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব৪)

১৬ সরলতা নারীর সৌন্দর্য

যুগ পাল্টে গেছে। মানুষের রুচি পাল্টে গেছে। চিন্তাধারায় পরিবর্তন এসেছে। নতুবা প্রকৃতপক্ষে যে জিনিস পুরুষের জন্য ক্রটি, কখনও তা নারীর গুণ ও সৌন্দর্য। যদি আমরা গভীরভাবে কুরআনে কারীম অধ্যয়ন করি তাহলে দেখব, কুরআনে পুরুষের জন্য যে বিষয়কে ক্রটি সাব্যস্ত করেছে, তাকেই নারীর গুণ ও সৌন্দর্য স্থির করেছে। উদাহরণতঃ পুরুষের জন্য মূর্খতা ও উদাসীনতা এবং জাগতিক বিষয়ে বেখবর হওয়া দোষণীয়। কারণ পুরুষের উপর আল্লাহ তা’আলা পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কাজের দায়িত্ব অর্পন করেছেন। এজন্য এ সম্পর্কে জ্ঞান থাকা চাই এবং বৈষয়িক তৎপর সচেতন হওয়া চাই। যদি সে সচেতন ও তৎপর না হয় বরং নির্বোধ হয় এবং অজ্ঞতা ও উদাসীনতার ঘোর তমাসাচ্ছন্ন থাকে তবে তা তাঁর ক্রটি। কিন্তু কুরআনে কারীমে সরলতাকে নারীর সৌন্দর্য সাব্যস্ত করেছে। সূরা নূরে ইরশাদ হয়েছে,

আরবী….

অর্থঃ যে সকল লোক এই ধরণের মহিলাদের উপর অপবাদ আরোপণ করএ যারা পূত-পবিত্র, সরলমনা মুমিন নারী অর্থাৎ দুনিয়া সম্পর্কে উদাসীন তারা দুনিয়া ও আখেরাতে অভিশাপগ্রস্থ হবে।

কুরআনে কারীমে দুনিয়া সম্পর্কে উদাসীনতা নারীর গুণ হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েহচে তাই নারী যদি জাগতিক বিষয়ে সম্পর্কে অজ্ঞ হয় এবং নিজ দায়িত্বের পরিধি সম্পকে অজ্ঞ হয়,  দুনিয়ার ঝুট—ঝামেলা বেশি কিছু না বুঝে, তবে তা তাঁর ক্ষেত্রে দোষণীয় নয় বরং তা তাঁর গুণ ও বৈশিষ্ট্য। কুরআনে কারীমে গুণ হিসেবেই উল্লেখ করেছে।

১৭ জোরপূর্বক সোজা করার চেষ্টা কর না…

উপরোক্ত আলোচনা থেকে বুঝা গেল যে, যা পুরুষের ক্ষেত্রে দোষণীয় তা নারীর ক্ষেত্রে দোষণীয় নয়। তাই তাদের মাঝে যদি তুমি এমন কোন  বিষয় দেখ, যা তোমার জন্য দোষণীয় কিন্তু নারীর জন্য তা দোষণীয় নয়, তজ্জন্য তুমি তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার কর না। কারণ পাঁজরের হাড় হওয়ার অর্থই হল, নারী নিওজের স্বভাব—প্রকৃতিতে তোমার থেকে ভিন্ন। সুতরাং তা জোরপূর্বক সোজা করার চেষ্টা কর না।

১৮ সকল বিবাদের উৎস..

এটা নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বাণী। তাঁর চেয়ে নারী-পুরুষের প্রকৃতি সম্পর্কে কে অধিক অবগত। এ কারণেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সকল বিবাদের উৎস চিহ্নিত করতে পেরেছেন। সকল বিবাদ এ কারণেই হয়ে থাকে যে, পুরুষ চায়, আমি যে রকম সেও রকম হোক। আরে ভাই, তাকে নিজ অবস্থাতে থাকতে দিন। যদি জোর পূর্বক তাকে আপনার মত বানাতে চান তবে ভেঙ্গে যাবে। সুতরাং এ ধরণের চিন্তা পরিহার করুণ। হ্যাঁ, যে জিনিস তাঁর জন্য তাঁর অবস্থা হিসেবে তাঁর স্বভাব—প্রকৃতি হিসেবে দোষণীয় তা সংশোধনের চিন্তা করুণ। তাদের সংশোধনের চিন্তাও পুরুষের দায়িত্ব। কিন্তু আপনি যদি চান যে, সে আপনার মেজাজ ও মর্জি মাফিক হোক, তা আদৌ হতে পারে না।

১৯ তাঁর বহু আভ্যাস মননশীলও হতে পারে…

এ অধ্যায়ের দ্বিতীয় হাদীসও হযরত আবু হুরায়রা (রাযিঃ) থেকে বর্ণিতঃ

আরবী…..

অর্থঃ হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহ আলাইহি ওয়াসাল্লাম বড় চমৎকার ও তাৎপর্যপূর্ণ একটি মূলনীতি বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন—কোনও মুমিন পুরুষ কোন মমিন নারীকে সর্বদিক থেকে অকেজো মনে করবে না। অর্থাৎ এটা মনে করবে না যে, তাঁর মাঝে কোন ভাল গুণ নেই। যদি তাঁর কোন বিষয় অপছন্দ হয়, হতে পারে তার অন্য বিষয়ও নিশ্চয় পছন্দনীয়ও আছে। (সহীহ মুসলিম)

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রথম মূলনীতি বলেছেন যে, যখন দু’জন এক সাথে থাক তখন একজনের কোন বিষয় আরেক জনের কাছে ভাল লাগবে, আবার কোন বিষয় খারাপ লাগবে, এটা স্বাভাবিক। যদি কোন বিষয় খারাপ লাগে তবে এর কারণে তাকে একদম খারাপ মনে করবে না বরং তখন তাঁর ভাল গুণাবলীর কথা স্মরণ কর, তাঁর মাঝে কিছু ভাল গুণও তো আছে। এই ভাল গুণ গুণাবলীর কথা স্মরণ করে আল্লাহ তা’আলার শুকরিয়া আদায় করে যে, এই ভাল গুণগুলো তো তাঁর মাঝে আছে। যদি এই মানসিকতা গ্রহণ কর তাহলে হতে পারে, তাঁর খারাপ বিষয়গুলোর গুরুত্ব তোমার কাছে বহাল থাকবে না।  

আসল কথা হল মানুষ অকৃতজ্ঞ। যদি দু’তিনটি বিষয় অপছন্দ হয়, খারাপ লাগে, ব্যাস, তা নিয়েই দিন রাত বকাবকি শুরু হয়ে যায় যে, তাঁর মাঝে এই দোষ আছে, এই ক্রটি আছে। ভাল গুণাবলী দৃষ্টির আড়ালে চলে যায়। আর তখনইও তাঁর সাথে দুর্ব্যবহার শুরু হয়।   

২০ প্রতিটি জিনিসের ভাল-মন্দ আছে

পৃথিবীতে এমন কোনও জিনিস নেই যাতে মন্দ এবং কোনও ভালও নেই। আল্লাহ তা’আলা দুনিয়া সৃষ্টি করেছেন, এখানে প্রত্যেক জিনিসে ভাল-মন্দ, মঙ্গল—অমঙ্গল উভয়ই আছে। কোন জিনিস এমন নেই যাতে শুধু মঙ্গলই আর মঙ্গল  ভাল বা শুধু মন্দই আর মন্দ। ভাল-মন্দ উভয়ের সংমিশ্রনেই সকল জিনিস। কাফের, মুশরিক বা যে কোন নিকৃষ্ট মানুষই হোক, খোঁজলে তাঁর মাঝেও কোন না কোন ভাল বিষয় পাওয়া যাবে। আরো পড়ুন…..

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *