Breaking News
Home / বই থেকে / স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব8)

স্বামী—স্ত্রীর সুন্দর জীবন (পর্ব8)

৩৬ নারীগণ তোমাদের কাছে বন্দী

হযরত আমর ইবনে আহওয়াস জুশমী (রাযিঃ) বলেন—আলোচ্য হাদীসের শুরুতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আল্লাহ তা’আলার হামদ ও ছানা পাঠ করেন—উপস্থিত লোকদের উদ্দেশ্যে ওয়ায ও নসীহত করেন। এরপর বলেন—মনোযোগ সহকারে শোন! আমি তোমাদেরকে নারীদের উপর সদ্ব্যবহারের উপদেশ দিচ্ছি, তোমরা এই উপদেশ গ্রহণ কর। পরের বাক্যে তিনি বলেন—

আরবী….

নারীগণ তোমাদের গৃহে তোমাদের কাছে বন্দী থাকে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নারীদের এমন এক গুণের কথা উল্লেখ করেছেন যে, যদি কোনও পুরুষ শুধুমাত্র এ গুণের কথা ভাবে, তবে তাঁর কখনও নারীদের সাথে অসদ্ব্যবহারের চিন্তাও মাথায় আসবে না।

৩৭  একজন অবলা মেয়ে থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর

হযরত হাকীমুল উম্মত শাহ আশরাফ আলী থানভী (রহঃ) বলতেন, একজন অবলা ও অশিক্ষিত মেয়ে থেকে শিক্ষা গ্রহণ কর। দুটি বাক্যের মাধ্যমে যখন স্বামীর তাঁর সম্পর্ক স্থাপিত হয়, একজন বলেন—আমি বিবাহ করেছি, অপরজন বলে, আমি কবুল করেছি, তখন এ মেয়ে এ দু’টি বাক্যের এমন মূল্যায়ন করে যে, সে মায়ের স্নেহ বন্ধন ছিন্ন করে, পিতার স্নেহবন্ধন ছিন্ন করে, ভাই—বোনদের মায়াবন্ধন ত্যাগ করে সম্পূর্ণ স্বামীর হয়ে যায়। স্বামীর ঘরে এসে বন্দী হয়ে যায়। একজন অবলা মেয়ে দুটি কথার কত মূল্যায়ন করে, এর জন্য কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করে! হযরত থানভী (রহঃ) বলতেন-একজন অবলা মেয়ে তো দুটি বাক্যের এতটুকু মূল্যায়ন করে যে সকল বাঁধন ছিন্ন করে তোমার ঘরে চলে আসে অথচ তুমি “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ” এ বাক্য দু’টি পড়ে আল্লাহর জন্য নিজেকে উৎসর্গ করতে পার না! তোমার থেকে তো সেই অবলা মেয়েই উত্তম।

৩৮ স্ত্রী তোমার জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করেন

আলোচ্য হাদীসে  রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন—দেখ! নারী তোমার জন্য কত ত্যাগ স্বীকার করে। যদি বিষয়টি বিপরীত হত, তোমাকে বলা হত, তোমার বিবাহ হয়ে গেছে, এখন তোমাকে তোমার খান্দান ছাড়তে হবে, পিতা—মাতাকে ছাড়তে হবে, তাহলে তোমার জন্য তা কত কঠিন হত। অপরিচিত পরিবেশ, অপরিচিত ঘর, অপরিচিত মানুষের সাথে পুরো জীবন অতিবাহিত করার জন্য সে বন্দী হয়ে গেছে। এ জন্যই নবী কারীম  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তুমি কি এ ত্যাগের মূল্যায়ন করবেনা? এ ত্যাগের মূল্যায়ন কর এবং তাঁর সাথে সদ্ব্যবহার কর।

৩৯ এটা ছাড়া তাঁর উপর তোমার কোন দাবী নেই

এরপর নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বড় কঠোর কথা বলেছেন। যখনই এ কথার ব্যাখ্যা করি, পুরুষরা অসন্তুষ্ট হয়। তিনি বলেন—

অর্থাৎ, তাঁর উপর তোমার এতটুকুক হক যে, সে তোমার ঘরে থাকবে। এছাড়া তাঁর উপর তোমার শরী’আত নির্দেশিত কোন দাবী নেই।

৪০ রান্না করা স্ত্রীর শরী’আত নির্দেশিত জিম্মাদারী নয়

হাদীসের এ অংশের উপর ভিত্তি করেই ফুকাহায়ে কিরাম নিম্মোক্ত মাসআলা বর্ণনা করেছেন। যা বড় সুক্ষ্য মাসআলা, যা বললে অনেকেই অসন্তুষ্ট হয়। মাসআলা হল, ঘরের খাবার রান্না করা স্ত্রীর শরঈ জিম্মাদারী নয়। অর্থাৎ শরঈভাবে তাঁর উপর এ দায়িত্ব বর্তায় না যে, তাঁর অবশ্যই খাবার রান্না করতে হবে বরং ফুকাহায়ে কিরাম এও লিখেছেন যে, নারী দু’ধরণের।

প্রথম প্রকারঃ যারা বিবাহের পূর্বে পিতার গৃহে খাবার রান্না করত এবং বাড়ি ঘরের কাজকর্মে অভ্যস্ত।

দ্বিতীয় প্রকারঃ যারা বিবাহের পূর্বে পিতার গৃহে খাবার রান্না করত না বরং কাজের লোকেরা খাবার রান্না করত এবং বাড়ী ঘরের কাজকর্ম নিজেরা করত না।

দ্বিতীয় প্রকার নারী বিবাহের পর স্বামীর গৃহে চলে আসে তাহলে তাঁর উপর খাবার রান্না করা কোন ভাবেই ওয়াজিব নয়, আইনানুগও নয়, নৈতিকভাবেও নয় এবং শরী’আত নির্দেশ হিসাবেও নয় বরং সেক্ষেত্রে স্ত্রী স্বামীকে বলতে পারে যে, আমার খোরপোষ তোমার দায়িত্বে, আমি খাবার রান্না করতে পারব না, তুমি খাবার রান্না করে আমার জন্য নিয়ে আস। ফুকাহায়ে কিরাম লিখেছেন,(আরবী) এমতাবস্থায় খাবার রান্না করে স্ত্রীকে খাওয়ানো স্বামির দায়িত্ব। স্ত্রীর কাছে আইনানুগভাবেও রান্না করার দাবী করা যাবে না, নৈতিক ভাবেও নয়। কারণ রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অত্যন্ত সুস্পষ্ট ও দৃঢ় ভাষায় ইরশাদ করেছেন—

আরবী…..

অর্থাৎ, তোমার এ অধিকার আছে যে, তুমি তাকে তোমার ঘরে রাখবে এবং তোমার অনুমতি ব্যতীত ঘর থেকে বাইরে যাওয়া তাঁর জন্য জায়েয নেই কিন্তু এছাড়া তাঁর উপর শরী’আত সম্মত কোন দায়িত্ব নেই।

যদি স্ত্রী প্রথম প্রকার ভূক্ত নারী হয় অর্থাৎ যে পিতার গৃহে থাকাকালীন রান্না—বান্না করত তবে তাঁর উপর আইনানুগতভাবে রান্না—বান্না করা ওয়াজিব নয় কিন্তু নৈতিকভাবে ওয়াজিব। অর্থাৎ আদালত তাঁর উপর খাবার রান্নার দায়িত্ব চাপিয়ে দিতে পারবে না, তবে নৈতিক দায়িত্ব এটা যে, সে তাঁর খাবার নিজে রান্না করবে। স্বামীর দায়িত্ব হল, সে তাঁর রান্নার সকল উপকরণের যোগান দিবে। এ ক্ষেত্রেও স্বামী এবং সন্তানদের খাবার রান্না করা তাঁর জিম্মাদারী নয়। এ ধরনের স্ত্রী স্বামীর কাছে এটা দাবী করতে পারবে না যে, তুমি আমার জন্য খাবার রান্না করে আন। তবে সে যদি স্বামী এবং সন্তানদের খাবার রান্না করতে অস্বীকার করে, তবে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোন এখতিয়ার নেই। ফুকাহায়ে কিরাম এত বিস্তারিতভাবে এ মাসআলা বর্ণনা করেছেন।

আরও একটি বিষয় ভালভাবে জানা দরকার, এতে বহু বাড়াবাড়ী পরিলক্ষিত হয়। তা হল, যখন স্ত্রীর জন্য স্বামী ও সন্তানদের খাবার রান্না করা ওয়াজিব নয়, তখন স্বামীর পিতা—মাতা ও ভাই—বোনদের খাবার রান্না করা তো আরও আগে ওয়াজিব নয়। আমাদের দেশে এই প্রচলন হয়ে গেছে যে, যখন ছেলে বিবাহ করে, ছেলের পিতা মাতা মনে করে, স্ত্রীর উপর ছেলের হক পরে, প্রথমে আমাদের হক। সুতরাং বউমা আমাদের খেদমত অবশ্যই করবে; ছেলের খেদমত করুক বা না করুক। এর ফলে শাশুড়ী—বউ এবং ননদ ভাবীর মাঝে ঝগড়া শুরু হয়। পরিণতিতে আজকের সমাজে কি হচ্ছে তা সকলেরই জানা। আরো পড়ুন…

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE