Breaking News
Home / যৌন জীবন / যৌন জিজ্ঞাসা (প্রশ্ন ও উত্তর) / প্রশ্নঃ ওরাল সেক্স করা কি ইসলামে জায়েয?

প্রশ্নঃ ওরাল সেক্স করা কি ইসলামে জায়েয?

প্রশ্নঃ ওরাল সেক্স করা কি ইসলামে জায়েয?

সহবাসের সময় স্বামী যদি তাঁর স্ত্রীকে এবং স্ত্রী তাঁর স্বামীকে ওরাল সেক্সের (মুখমেহন বা যোনিলেহন) যৌনতা উপভোগ করে, তাহলে তা কি না জায়েয হবে?

উত্তরঃ ওরাল সেক্স নিয়ে ইতিপূর্বে বেশ কিছু পোস্ট দিয়েছি। ওরাল সেক্স করার সাম্ভাব্য ক্ষতিকর বিষয়গুলো ইতিমধ্যে আমার বাংলা পোস্ট.কম এ প্রকাশ করা হয়েছে। তবুও পাঠকদের মধ্যে থেকে প্রতিদিনই আমরা বেশ প্রশ্ন পাচ্ছি। তাই ওরাল সেক্স বিষয়ে আমরা আরো একটি আর্টিকেল লিখার প্রয়োজন বোধ করছি। ওরাল সেক্স নিয়ে আগের সব পোস্ট গুলো দেখুন এখানে।

প্রথমত্বঃ #ওরাল সেক্স বিষয়ে ইসলামিক যৌন গ্রন্থ গুলোতে কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আর সম্ভবত আলেম ওলামারা এবিষয়ে অবগত নয়। হয়তো তাঁরা অবগত হতে পারে কিন্তু আমি জানিনা। ইসলামিক যৌন গ্রন্থগুলি পড়লে দেখা যায় যৌন সুখ লাভের জন্য ইসলাম স্বামী স্ত্রীর যৌন অঙ্গকেই গুরুত্বারোপ করে। কৃত্রিম ভাবে যৌন সুখ লাভের অনুমতি দেয় না। যেমন ইসলামে স্ত্রীর মাসিক চলাকালে, নেফাস চলাকালে এবং তাঁর পায়ুপথে সহবাস করা হারাম করে দিয়েছেন। রাসূল (সাঃ) সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন সহবাসের সময় যেন স্ত্রীকে আলিঙ্গণের মাধ্যমে স্ত্রীকে উত্তেজিত করে সহবাস শুরু করার। এবং নিজের বীর্যপাত ঘটে গেলে সাথে সাথে স্ত্রীর উপর থেকে নেমে না যাওয়ার। যাতে স্ত্রী সহবাসের পূর্ণ তৃপ্তি লাভ করতে পারে।

যদি আল্লাহর রাসূল এরকমটি নির্দেশ দিতেন যে “স্ত্রীর মাসিক চলাকালে সে যেন তাঁর স্বামীকে মুখের মাধ্যমে আনন্দ দেয়” তাহলে বুঝা যেতে মুখ সঙ্গম ইসলামে জায়েজ। যেহেতু আল্লাহর রাসূল স্বামীর যৌন চাহিদা গুরুত্বারোপ করতে গিয়ে নারীদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বামী স্ত্রীকে বিছানার দিকে আহ্বান করলে সে যেন কোন অজুহাত পেশ না করে তাঁর কাছে ছুটে যায় এবং তাঁর প্রয়োজন পূরণ করে যদিও সে রান্না ঘরে থাকে।

তাহলে আমরা এখান থেকে জানতে পারছি ইসলাম কৃত্রিম যৌন আচরণকে সমর্থন করে না। এবং ইসলাম নারীর যোনিপথ ও পুরুষের পুরুষাঙ্গের মাধ্যমেই নারী পুরুষের যৌন সুখ লাভের স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছেন। নারীর পায়ুপথকে যৌন সুখের লাভের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায় বলে ইসলাম একে হারাম করে দিয়েছেন। এথেকে বুঝা যায় মুখের মাধ্যমে যোনি লেহন বা স্বামীর লিঙ্গ চোষণ প্রকৃত যৌন সুখের মাধ্যম নয়। হয়তো তাই এব্যাপারে ইসলামের কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু এটি যে বিকৃত আচরণ তাতে কোন সন্দেহ নেই। আর এই বিকৃত যৌন আচরণ পর্ণগ্রাফীর মাধ্যমে সমাজে প্রসার লাভ করছে। এই বিকৃত যৌনাচারের মাধ্যমে দেহে যৌন রোগের সংক্রমণ ঘটে পারে।

পড়ুন ঃ ওরাল সেক্সের মাধ্যমে যৌন রোগ সংক্রমণ

তবে আমি শুনেছি যে বাংলাদেশের আলেম ওলামারা একে মাহরূহ বলেছেন। সূত্র সঠিক বলে আমি মনে করিনা। যদিও এটি মাকরূহ হয় তাহলেও কোন মুসলিম নারী পুরুষ এটি করতে পারে না। কেননা মাকরূহ হচ্ছে আল্লাহর অপছন্দনীয় কাজ যা কেউ করলে আল্লাহ তা পছন্দ করেন না। আপনি যদি মানুষের চাওয়া-পাওয়া, পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দিতে পারেন তাহলে কেনো আল্লাহর পছন্দ-অপছন্দের গুরুত্ব দিবেন না? বস্তুত আল্লাহই তো সবচেয়ে বেশি হকদার। প্রকৃত মুসলিম তো সে ব্যক্তি যে নিজের ইচ্ছাকে আল্লাহর ইচ্ছার সাথে মিলিয়ে নেয়। তাই একজন মুসলিম হিসেবে পশ্চিমা বিকৃত যৌন সংস্কৃতি পরিহার করুণ। যৌনাবেগকে নিয়ন্ত্রণ করুণ।  আল্লাহ সবাইকে সঠিক বুঝা দান করুক। আমরা যেন পবিত্র জবানে তাঁর তাসবীহ ও তাহলীল পাঠ করতে পারি সে তাওফিক আমাদেরকে দান করুণ। আমীন।

উত্তর লিখেছেনঃ সৈয়দ রুবেল। (প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

যোনিতে বীর্যপাত

Q : যোনিতে বীর্যপাত ঘটলে নারী কোন আনন্দ পায় কি?

প্রশ্নঃ যোনিতে পুরুষের বীর্যপাত ঘটলে নারী কোন আনন্দ পায় কি? উত্তরঃ হ্যাঁ, নারীর যোনিতে বীর্যপাত …

2 comments

  1. এই রোগে আমাদের হিন্দু সমাজও আক্রান্ত হয়ে গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE