Breaking News
Home / ইসলাম / ইসলাম ও নারী / ইসলামে নারীর মর্যাদা

ইসলামে নারীর মর্যাদা

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর আবির্ভাবের পূর্বে  নারীদের অবস্থায় ছিল অত্যন্ত শোচনীয় যা বলতে গেলেও লজ্জায় মাথা নত হয়ে আসে। ইসলাম পূর্ব যুগে নারীদের কে শুধু ভোগের সামগ্রী হিসাবে ব্যবহার করা হত। তারা ছিল সমাজে: পরিবারে নিতান্ত নিকৃষ্ট। তাদের কোন অধিকার ছিলনা। এমন কি মেয়ের জন্ম হলে পিতা কন্যা সন্তানকে জীবন্ত মাটির নীচে পুতে দিত এ কলঙ্ক ঢাকার জন্য।

প্রাচীন হিন্দু শাস্ত্রে এমন বর্ণনা আছে, মৃত্যু, নরক, আগুন, বিষ, সর্প এর কোনটি নারীর অপেক্ষা মারান্তক নয়। যুবতী নারীকে প্রতিমার উদ্দেশ্যে বলি দেয়া হত দেবতার সন্তুষ্টির জন্য ,বৃষ্টি ধন -দৌলত লাভের জন্য। স্বামীর মৃত্যুর সাথে স্ত্রী সহ মৃত্যু বরণ বা সতীদাহ পালন হিন্দু সমাজের রীতি।
নারীকে সকল পাপ অন্যায় ও অপবিত্রতার কেন্দ্র বা উৎস বলে ঘৃণা করা হত। তারা বলতো" নারী হচ্ছে শয়তানের বাহন। নারীরা হচ্ছে এমন বিষধর সাপ যা পুরুষকে দংশন করতে কখনো কসুর করে না।

এথেন্স বাসিরা সভ্যতা ও সংস্কৃতির ইতিহাসে উল্লেখ্য যোগ্য প্রাচীনতম জাতী। সেখানেও নারীকে পরিত্যক্ত সামগ্রীর মতো মনে করা হতো। বাজারে প্রকাশ্য ভাবে নারীর বেচাকেনা হতো। সন্তান প্রসব লালন- পালন ছাড়া অন্য কোন মানবীয় অধিকারই তাদের ছিল না। আইনতঃ একাধিক স্ত্রী গ্রহন নিষিদ্ধ থাকলেও কার্যতঃ প্রায় পুরুষই একাধিক স্ত্রী রাখতো।

ইয়াহুদী সমাজে নারীদের অবস্থা ছিল আরো মারাত্নক ।কিতুব নামক এই ইয়াহুদী বাদশাহ আইন জারি করেছিল, যে মেয়েকেই বিয়ে দেয়া হবে স্বামীর দ্বারে যাওয়ার পূর্বে তাকে বাধ্যতামূলক ভাবে বাদশাহর সঙ্গে একরাত্রী যাপন করতে হবে। 

খৃষ্টানরা তো নারীকে চরম লাঞ্চনার নিম্নতম পংকে নিমজ্জত করে দিয়েছে। জনৈক পাদ্রীর মতে " নারীই হচ্ছে শয়তানের প্রবেশ স্থল। তারা আল্লাহর মান মর্যাদা প্রতিবন্ধক। আলাহর প্রতিরূপমানুষের পক্ষে তারা বিষজনক ।নারী সব অন্যায়ের মূল। তার থেকে দূরে থাকাই বঞ্চনীয়। 
নারী হচ্ছে পুরুষের মনে লালসা উদ্রেক কারিণী। ঘরে ও সমাজে যত অশান্তির সৃষ্টি হয় সব 
নারীরই কারণে। এমন কি নারী কেবল দেহ সর্বস্ব না তার প্রাণ বলতে কিছু আছে? এ প্রশ্নের মীমাংসার জন্য পঞ্চম খৃষ্টাব্দে বড়ো বড়ো খৃষ্টান পাদ্রীদের এক কনফারেস বসেছিল "মাকুন" নামের এক জায়গায়। সভ্যতার ধবজাধারী ইংরেজদের দেশে ১৮০৫ সন পর্যন্ত আইন ছিল যে পুরুষ তার স্ত্রীকে বিক্রয় করতে পারবে। অনেক ক্ষেত্রে একজন স্ত্রীর মূল্য অর্ধ শিলিংও ধরা হতো। যার মুল্য বর্তমান বাজার দর হিসাবে মাত্র কয়েক পয়সা। এক ইটালিয়ান তার স্ত্রীকে কিস্তি হিসাবে আদায়ব্য মূল্যে বিক্রয় করেছিল। পরে ক্রয়কারী কিস্তির টাকা পরিশোধে অস্বীকার করে। তখন বিক্রয়কারী স্বামী তাকে হত্যা করে। 

অষ্টাদশ খৃষ্টাব্দের শেষ ভাগে ফরাসী পার্লামেন্টে মানুষের দাম প্রথার বিরুদ্ধে যে আইন পাশ হয় তার মধ্যে নারীকে গণ্য করা হয়নি। কেননা , অবিবাহিতা নারী সম্পর্কে কোন কিছু করা যেতো না তাদের  অনুমতি ছাড়া। 

৫৮৬ খৃষ্টাব্দে ফ্রান্সে এক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। তাতের বহু চিন্তা- ভাবনা আলোচনা গবেষণা ও  তর্ক – বিতর্কের পর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে নারী জন্তু নয় মানুষ। তবে সে এমন যে পুরুষদের  কাজে নিরন্তর সেবিকা হয়ে থাকারই যোগ্য। এগুলো ছিল তাদের স্থির বিশ্বাস ও মজ্জাগত আকীদা।
গ্রীকদের দৃষ্টিতে নারীর কি মর্যাদা ছিল তাদের একটা কথা থেকেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়,
" আগুনে জ্বলে গেলে কিংবা দংশন করলে তার প্রতি বিধান সম্ভব কিন্তু নারীর দুষ্কৃতির প্রতি বিধান অসম্ভব। 
পারস্যবাসীদের মতে, দুনিয়ার সব অনিষ্টের মূল উৎস হচ্ছে, দুটি (১) নারী (২) ধন-সম্পদ।

প্রাচীন ভারতে নারীর অবস্থা অন্যান্য সমাজের তুলনায় অধিক নিকৃষ্ট ছিল। প্রাচীন ভারতের প্রখ্যাত আইন রচিয়তা মনুমহারাজ নারী সম্পর্কে বলেছেন: নারী না – বালগা হোক যুবতী হোক আর বৃদ্ধা হোক নিজ ঘরেও স্বাধীন ভাবে কাজ করতে পার বে না। মিথ্যা বলা নারীর স্বভাব ও বৈশিষ্ট্য।
চিন্তা না করে কাজ করা ধোকা – প্রতারণা নিরবুদ্ধিতা ,লোভ- পংকিলতা, নির্দমতা ইত্যাদি হচ্ছে নারীর স্বভাব গত দোষ। 

প্রাচীন আরব সমাজেও নারীর অবস্থা ছিল লজ্জাস্কর। কন্যা সন্তানের জন্মকে বড়ই লজ্জার কারন ভেবে 
তাকে জীবন্ত কবর দিয়ে দিত। আর জীবিত রাখলেও তাকে মানবোচিত কোন অধিকারই দেয়া হত না।
নারী যত দিন জীবিত থাকতো , স্বামীর দাসী হয়ে থাকত। স্বামী মারা গেলে তার উত্তরাধিকারীরাই
অন্যান্য বিষয়ের মত তারও একচ্ছত্র মালিক হয়ে বসত। সৎ মা বা পিতার স্ত্রীকে নিজের স্ত্রী বানানো
সে সমাজে কোন লজ্জা বা আপত্তির বিষয় ছিল না। বরং তার ব্যাপক প্রচলন ছিল। 
আলামা আবু বকর আল জাসাস লিখছেনঃ জাহিলিয়াতের যুগে পিতার স্ত্রী বা সৎমাকে বিয়ে করার 
ব্যাপক প্রচলন ছিল । ( আহকামুল কুরআন)

পাশ্চাত্য সভ্যতায় নারীকে শয়তানের দালাল বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। এভাবে নারী জাতির উপর 
চলছিল নির্যাতন ও অমানুষিক বর্বরোচিত অত্যাচার। ইসলামই একমাত্র গোটা বিশ্বের নির্যাতিতা 
নারীদেরকে এহেন করুন অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়ে প্রতিষ্ঠিত করেছে সমাজে, রাষ্ট্রে।ঘরেও ন্যায্য 
অধিকার এবং সমানের চরম শিখরে উঠিয়েছে। পিতার সম্পদের অধিকারী করেছে। যে নারীকে 
মাসিক ঋতুতে ঘরের বাহিরে ফেলে রাখা হতো , একত্রে থাকা – খাওয়ার অধিকার থেকে বঞ্চিত 
করা হতো, তাদের সেই অধিকার কে ফিরিয়ে দিয়েছে সম্যক রূপে। 
যে মহা মানবের আবির্ভাবের ফলে নারী জাতির এ সকল অধিকার সংরক্ষিত হয়েছে, তিনিই 
মানবতার মুক্তির দিশারী রাহমাতুল লিল আলামীন, নবীগণের সর্দার হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ধরায় আগমন করে মানবতার মুক্তি ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় যে বিপ্লবী বাণী 
শুনিয়েছেন , তাতে যুগান্তকালের পংকিলতা ও পাশবিকতা দূরীভূত হয়ে , জুলুম ও অমানুষিক 
নির্যাতনের প্রবণতা নিঃশেষ হয়ে, মানব সমাজে যথাযথ সম্মান বোধ ও যথাযোগ্য মর্যাদা বোধ প্রতিষ্ঠিত
হয়েছে। নারী মানবতা ও অধিকারের পর্যায়ে পুরুষদের  সমান বলে গণ্য হয়েছে। বরং অনেক 
ক্ষেত্রে নারীদেরকে পুরুষদের তুলনায় বেশী অধিকার দেয়া হয়েছে।

বলা বাহুল্য -কুরআন – হাদিসই একমাত্র কিতাব, যা কি নারীদেরকে যুগ যুগ কালের অপমান , 
লাঞ্চনা ও হীনতা – নিচতার পুঞ্জীবূত স্তুপের জঞ্জাল থেকে চির দিনের জন্য মুক্তি দান করেছে এবং
সঠিক ও যথোপযুক্ত মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। মুছে দিয়েছে তার ললাটস্থ দীর্ঘকালের অসহায়ত্বের
মলিন রেখা। ইসলামই নারীকে সঠিক মানবতার মূল্য দান করেছে। 
মাতৃ জাতি সম্পর্কে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, নারী জাতি সমাজের অর্ধাংশ এবং অর্ধাঙ্গিনী।
( আল হাদিস) 

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরো ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি দু, টি মাত্র মেয়েরও সুন্দর রূপে ভরণ-
পোষণ ও প্রতিপালন করবে, সে বেহেশ্তে আমার এত নিকটবর্তী হবে, যেরূপ হাতের আঙ্গুল সমূহ
পরস্পর নিকটবর্তী। ( মুসলিম শরীফ) 

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) ইরশাদ করেন; যে ব্যক্তি তিনটি মেয়ে বা তিনজন ভগ্নিএ প্রতিপালন ও শিক্ষাদান
( ইসলামী শিক্ষা) সুচারুরূপে আঞ্জাম দিবে যাবৎ না তাদের নিজ নিজ ব্যবস্থা হয়, তার জন্য বেহেস্ত
অবধারিত হয়ে যাবে। দু,জন সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হলে নবী (সাঃ) বললেন, দু,জনের প্রতিপালনেও এ
ছওয়াব পাবে। একজনের প্রতিপালন সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হিবে, নবীজী (সাঃ) তা-ই বললেন।(মিশকাত শরীফ)

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, যার নিকট কোন মেয়ে এবং সে মেয়েকে তুচ্ছ না করে বা ছেলেকে
অগ্রগণ্য না করে , আল্লাহ তাকে জান্নাত দান করবেন। ( আবু দাউদ শরীফ) 

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরো ইরশাদ করেন, তোমার কোন মেয়ে স্বামী কর্তৃত্ব পরিত্যক্তা হয়ে সহায়হীন
ভাবে তোমার আশ্রয়ে ফিরে আসলে , তার জন্য তুমি যা ব্যয় করবে, তা তোমার জন্য সর্বাধিক উত্তম
দান – খয়রাত হিসাবে গণ্য হবে। ( ইবনে মাজাহ শরীফ) 

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) আরো ইরশাদ করেন, নারীগণ নামাজ, রোজা , সতীত্ব রক্ষা ও স্বামীর আনুগত্য
এই সংক্ষিপ্ত আমল দ্বারা আল্লাহ তা,আলার নিকট এতবড় মর্যাদা লাভ করবে যে, জান্নাতের যে কোন
দরজা দিয়ে ইচ্ছে সে প্রবেশ করার অধিকার পাবে। ( মিশকাত শরীফ) 

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) বলেছেন, সহধর্মিণীর সহিত যে উত্তম জীবন যাপন কারী হয়, সে-ই মানুষ।
আমি আমার সহধর্মিণীদের সাথে উত্তম জীবন – যাপন কারী।( তিরমিজি শরিফ) 

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)তার সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিদায় হজ্জের ভাষনে নীতি নির্ধারণী ঐতিহাসিক ভক্তব্যে
নারীদের মর্যাদা দান সম্পর্কে বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন।সে ভাষণে তিনি সুস্পষ্ট ভাষায় বলেছেন,
স্ত্রীদের স্বামীদের যেরূপ হক ও দাবী আছে, তদ্রূপ স্বামীদের উপর স্ত্রীদের হক ও দাবী আছে। 
হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)আরো বলেন, নারীদের সম্পর্কে আমার কর ব্যবস্থা বিজায় রাখবে। 
তাদিগকে তোমরা লাভ করেছ আল্লাহর আমানত রূপে এবং তাদের সতীত্বকে ভোগ করতে পেরেছ 
আল্লাহর অধীনে। সেই আল্লাহর রাসূল (সাঃ০ আমি। এতএব, তাদের সম্পর্কে আমার নির্দেশ পালনে 
তৎপর থাকবে।

হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর বহু হাদীসে আছে নারীর মর্যাদা এবং তাদের প্রতি সদ্বব্যবহার সম্পর্কে। 
যে রাহমাতুললিল আলামীন (সাঃ) এর ওসীলায় নারী জাতি মুক্তি পেয়ে তাদের নারীত্বের মর্যাদা
পেয়েছিল, সত্যিকার ভাবে, আজ তার আদর্শ পরিত্যগ করে নারী সমাজ যুগের সাথে তাল মিলিয়ে 
আধুনিকতার মানে, প্রগতির নামে দুর্গতি ডেকে নিজেদের পায়ে নিজেরা কুঠারাঘাত করত; সমান 
অধিকারে নামে রাস্তায় নেমে যে চিৎকার করছে, তাতে কি লাভ হচ্ছে? অতীত ভুলে গেলে মানুষ
দিশেহারা হয়ে যায়। তাই আধুনিক সভ্যতা নারী মুক্তি নামে নারীদের কে নির্যাতন ও লালসা বৃত্তির
গভীর ফাঁদে নিক্ষেপ করছে। নারী স্বাধীনতার নামে আজ তাদেরকে লাগাম হীন ভাবে রাস্তায় নামিয়ে 
দিয়েছে। আজ সভ্যতা, সংস্কৃতি ও শিল্পের নামে নারীর লজ্জা, শরম – আবরু ও পবিত্রতার মহামূল্য 
সম্পদকে প্রকাশ্য বাজারে নগণ্য পণ্যের মত ক্রয় – বিক্রয় ও ভোগ করা হচ্ছে। স্বার্থ পূজারী পুরুষরা
আধুনিকতা , সংস্কৃতি ও শিল্পে অগ্রগতির মোহনীয় নামে নারী সমাজকে উদ্ধুদ্ধ করে ঘরের বাহিরে নিয়ে
এসেছে এবং ক্লাবে নাচ গানের আসরে বা অভিনয় মঞ্চে পৌছিয়ে দিয়ে তাদের কে নিজেদের পাশবিক 
লালসার ইন্ধন বানিয়ে নিয়েছে। এভাবে নারীর অমূল্য সম্পদ কে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে নির্মম ভাবে।


এজন্য ইসলাম নারীকে ঘরের বাইরে,মাঠে – ময়দানে, হাটে – বন্দরে, অফিসে – বাজারে, দোকানে-
কারখানায়, পরিষদে – সম্মেলনে,মঞ্চে- নৃত্যশালায় , নাট্য – অভিনয়ে টেনে নেয়ার পক্ষপাতি নয়। 
কারণ – এসব ক্ষেত্রে যোগ্যতা সহকারে পুরো মাত্রায় অংশ গ্রহনের জন্য যেসব স্বাভাবিক গুণ ও 
কর্মক্ষমতা প্রয়োজন ,তা নারীকে জন্মগত ভাবেই দেয়া হয়নি। নারীকে সম্পূর্ণ ভিন কাজের যোগ্যতা 
ও কর্মক্ষমতা দান করা হয়ছে। 

ইসলাম নারীর জন্য যে জীবন ও কাজের দায়িত্ব নির্ধারণ করেছে,তা সবই সুনির্দিষ্ট ও পরিমার্জিত।
ইসলাম নারীর স্বাভাবিক যোগ্যতার সঠিক মূল্য দিয়েছে। তা ব্যবহার করে তার উৎকর্ষ সাধনের 
জন্য প্রয়োজনীয় বিধান আরোপ করেছে। 

কিন্তু বর্তমান সভ্যতায় নারীদের দ্বারা যে সব কাজ করানো হচ্ছে, যে সব কাজ করতে তাদের কে 
নানা ভাবে বাধ্য করা হচ্ছে, তা সবই তাদের প্রকৃতি বিরুদ্ধ।তা প্রলোভন বা জোর জবরদস্তির ফল মাত্র।

নারী জাতির সৃষ্টি হয়নি সিনেমায়, ব্যানারে, পোষ্টারে শোভা পাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ জনতার সামনে
বিক্রিত হওয়ার জন্য, জোর গলায় চিৎকার করার জন্য। তাদের আন্দোলন করতে হলে, 
এসবের বিরুদ্ধে আগে করা উচিৎ। ভুলে গেলে চলবে না , হে নারীরা , তোমরা সেই মাতৃ জাতি,যার গর্ভে 
দুনিয়াতে এসেছিলেন নবী মুহাম্মাদুর রাসূল (সাঃ) । এ মাতৃ জাতিরই উপহার কমবেশি একলক্ষ চব্বিশ 
হাজার নবী বা রাসূলগণের আবির্ভাব। এ মাতৃ জাতি থেকেই প্রায় দেড়লক্ষের কাছাকাছি সাহাবায়ে 
কিরাম (রাঃ) , যারা কিয়ামত পর্যন্ত যতলোক আসবে , তাদের চেয়ে উত্তম। 

মুসলমান মা- বোনদের কাছে আবেদন ; হযরত ফাতিমা (রাঃ) এর সঙ্গে যদি জান্নাতে থাকতে চান,
তা হলে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সাঃ) যে ব্যবস্থা দিয়েছেন, সেভাবে নিজে চলুন, অন্যকে চলার
দাওয়াত দিন। তাহলে আপনাদের গর্ভেই জন্ম নিবে হযরত আব্দুল কাদিল জিলানী (রহঃ) , হযরত 
যুনাইদ বাগদাদী (রহঃ) প্রমুখগণের অলি। আর যদি আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল(সাঃ) -এর অবাধ্য 
হন, তাহলে আপ্নাদেরই গর্ভের ফসল হবে বড় মস্তান, হাইজ্যাকার , অপরের সম্পদ হরণকারী,চোর,
ডাকাত, নাস্তিক।আল্লাহপাক সকলকে শুভ বুদ্ধি দান করুন। 

ইসলাম বিদ্বেষী চক্র চতুর্দিকে প্রচারণা চালাচ্ছে, ইসলাম নারীকে কোন মর্যাদা প্রদান করেনি; বরং 
মর্যাদার পরিবর্তে ঘরের কোণে আবদ্ধ করে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক অধিকার হরণ করেছে।
এই প্রচারণায় প্রভাবিত হয়ে ইসলামী জ্ঞানশূন্য কিছু সরল প্রাণ মহিলা- মাঠে – ময়দানে অধিকার 
আদায়ের নামে মিছিল -মিটিংয়ে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে। কিন্তু মূলত ; ইসলাম নারীকে যে মর্যাদা
ও অধিকার প্রদান করেছে, পৃথিবীর কোন ধর্ম মা মতবাদ তার একটি অংশও প্রদান করতে পারেনি।
একমাত্র ইসলামই নারীকে সকল ক্ষেত্রে ন্যায্য অধিকার প্রদান করে সকল ধরণের নির্যাতন থেকে মুক্ত
করে মাতৃত্বের শ্রেষ্ঠ আসনে আসীন করেছে। প্রাক ইসলামী যুগে নারীকে পুরুষের দাসী মনে করা হত, 
মেয়ে সিন্তান জন্মকে অভিশাপ মনে করা হত এবং মেয়ে সন্তানকে জীবন্ত কবর দেয়া হত। রোমান
আইন অনুসারে নারী দীর্ঘদিন ছিল চরম অধ;পতিত। নারীর জীবন লক্ষ্য সেবা ও চাকরানীর কাজ বলে
মনে করা হত। নারীরা সাম্য গ্রহনযোগ্য ছিল না, এমনকি রোমান সাম্রাজ্যে নারীর কোন আইনগত 
অধিকারও স্বীকৃত ছিল না। 

ইহুদী ও খৃষ্টীয় ধর্ম যাজকদের মতে নারী ছিল সকল পাপের মূ; ও নরকের দ্বার স্বরূপ।
মানুষের দুঃখ – দুর্দশার জন্য একমাত্র নারীকেই দায়ী করা হত। জীবিকা অর্জনের ক্ষেত্রে নারী ছিল 
সম্পূর্ণ পুরুষের অধীন। 

এদিকে ভারত বর্ষে নারী ছিল অবহেলিত। হিন্দু ধর্মে নারী ছিল পুরুষের দাসী। এমনকি ভারতে 
নারীর স্বতন্ত্র সত্তার কথা স্বীকার করা হতো না। স্বামীর মৃত্যুর সাথে সাথে স্ত্রীর বেঁচে থাকার 
অধিকার হরণ করা হত। মৃত স্বামীর সাথে স্ত্রীকে স্বেচ্ছায় নিজের জীবন চিতায় বিসর্জন দিতে হতো।
একে সতীদাহ প্রথা বলা হত। 

এভাবে বিভিন্ন যুগে বিভিন্ন ভাবে ধর্মে নারীকে নির্যাতন করা হত। এমন কি আজ বিশ্বের বিভিন্ন 
দেশে নারী স্বাধীনতার নামে নারীদের কে নির্যাতন করা হচ্ছে। 

একমাত্র ইসলামই নারীকে মর্যাদার সুমহান আসনে আসীন করেছে।ইসলাম কি ভাবে নারীকে মর্যাদা
প্রদান করেছে মহান আল্লাহ পাকের ঘোষণাই তার প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ
করেন, তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক।(সূরা; বারারা-আয়াত; ১৮৭)
এক্ষত্রে আলাহ পাক নারী পুরুষকে সমমর্যাদায় ভূষিত করেছেন।কেউ কারো থেকে কম নয়। 
অন্যত্র আল্লাহ পাক বলেন, হে মানুষ জাতি। তোমাদের প্রতিপালককে ভয় কর; যিনি তোমাদেরকে 
এক ব্যক্তি থেকে সৃষ্টি করেছেন এবং তার থেকেই তার অর্ধাঙ্গিনী ( হাওয়া (আঃ) ) কে সৃষ্টি 
করেছেন। আর তাদের দু,জন থেকে অসংখ্য নর-নারী পৃথিবীতে ছড়িয়ে দিয়েছে।(সূরা-নিসা-আয়াত ১)

সূরাক আলে ইমরানের ১৯৫ নং আয়াতে আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ( হে নারী -পুরুষ)। 
তোমরা পরস্পর এক। অন্যত্র আল্লাহ পাক বলেন, ঈমানদার পুরুষ ঈমানদার রমণীগণ একে অপরের 
সহায়ক ও বন্ধু। তারা একে অপরকে সৎ কাজের আদেশ করবে এবং মন্দ কাজের নিষেধ করবে। 
(সূরাঃ ত্ওবাহ-আয়াত ৭১) 

অনুরূপ ভাবে রাসূল (সাঃ) বলেনঃ নিশ্চয়ই রমণীগণ নরদের অর্ধেক। কুরআন শরীফের উপরোক্ত
আয়াত গুলো ও রাসূল (সাঃ) – এর হাদীস সমুহের আলোকে এতা স্পষ্ট যে, মর্যাদা ও অধিকারের
দিক থেকে নারী ও পুরুষের মধ্যে কোন তারতম্য নেই।      

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

ইসলামে নারীর যৌন অধিকার

লেখাটিতে আমরা যা জানবো- ইসলামের দৃষ্টিতে নারী কি পুরুষের উপভোগের যৌন মেশিন? স্ত্রীরা তোমাদের শস্যক্ষেত্র – …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE