Home / বই থেকে / [তৃতীয় পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহর বৈশিষ্ট্যাবলী

[তৃতীয় পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহর বৈশিষ্ট্যাবলী

প্রথমত: এটি আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান:

ইসলামী শরী‘য়াহর মূল বৈশিষ্ট্য হলো এটি আল্লাহ প্রদত্ত জীবন বিধান যা মহান আল্লাহর তরফ থেকে নাযিল কৃত। এতে যা কিছু আছে সবই আল্লাহর তরফ থেকে। চাই সংক্ষিপ্ত নস হোক বা বিস্তারিত বিবরণ, সরাসরি নসের থেকে মাস’আলা উদ্ভাবন হোক বা নসের উপর কিয়াস করে মাস’আলা উদ্ভাবন। ইজতিহাদ ও কিয়াসের পদ্ধতিসমূহ কুরআন ও সুন্নাহর নসের উপর ভিত্তি করেই হয়ে থাকে, এমনিভাবে ফুকাহায়ে কিরামদের মতামতও কুরআন সুন্নাহ এর উপর ভিত্তি করেই করে থাকেন। [1]

দ্বিতীয়ত: এটি ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ ও স্বার্থ বাস্তবায়ন করে:

ইসলামী শরী‘য়াহ ব্যক্তি ও সমাজের কল্যাণ ও স্বার্থ বাস্তবায়ন করে। কেননা ইসলামী শরী‘য়াহ যেহেতু মহান আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে নাযিল কৃত, যিনি সব কিছুই জ্ঞাত, তিনি সর্বকালে ও স্থানে ব্যক্তির অন্তরের গোপনীয়তা ও সৃষ্টির স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে সর্বজ্ঞ। তিনি তাদের অতীত ও বর্তমান সব কিছুই জানেন। সেহেতু এটি মানব জাতির শান্তি বাস্তবায়ন করে যখন তারা এ অনুযায়ী জীবন যাপন করবে। কেননা এটা মানব জীবন পরিচালনার সব নিয়ম কানুন অন্তর্ভুক্ত করেছে। তাদের শান্তি ও কল্যাণ বাস্তবায়ন করে, এমনকি তাদের জন্মের পূর্বেও তাদের কল্যাণের প্রতি খেয়াল রাখে। যেমন, পিতাকে বিয়ের আগে উত্তম মা নির্বাচন করতে নির্দেশ দিয়েছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 

قال r: «حق الولد على والده أن يحسن موضعه وأن يحسن اسمه وأدبه».

“পিতার উপর সন্তানের অধিকার হলো তিনি তার জন্মের উত্তম স্থান (উত্তম মা) নির্ধারণ করবেন এবং জন্মের পরে তার ভাল নাম রাখবে ও আদব শিক্ষা দিবে”।

অন্যদিকে ইসলামী শরী‘য়াহ সন্তানের উপর পিতার আনুগত্য ও তাদের প্রতি ইহসানের মাধ্যমে তাদের অধিকার নিশ্চিত করেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ وَٱعۡبُدُواْ ٱللَّهَ وَلَا تُشۡرِكُواْ بِهِۦ شَيۡ‍ٔٗاۖ وَبِٱلۡوَٰلِدَيۡنِ إِحۡسَٰنٗا ٣٦ ﴾ [النساء: ٣٦] 

“তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তাঁর সাথে কিছু শরীক করো না ও পিতামাতার সাথে সদাচরণ করো”। [সূরা আন-নিসা: ৩৬]

তৃতীয়ত: ইসলামী শরী‘য়াহ বিশ্বব্যাপী ও সার্বজনীন:

 ইসলামী শরী‘য়াহ কোনো নির্দিষ্ট স্থানের জন্য আসেনি যে সেখানকার রাষ্ট্র শুধু উক্ত ভূখণ্ডে তা বাস্তবায়ন করবে, কোনো মিশনের সাথেও নির্ভরশীল নয় যে মিশনটি শেষ হলে এটিও শেষ হয়ে যাবে। জমিনে যে স্থানে ও যে কালেই মানুষ পাওয়া যাবে ইসলামী শরী‘য়াহ তাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক, আক্বায়ীদ ও আইন কানুন ইত্যাদি সব ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। এ বৈশিষ্ট্য শুধু মাত্র ইসলামী শরী‘য়াহ এর জন্যই খাস, কেননা এটা সৃষ্টিকুলের স্রষ্টা মহান আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে এসেছে। [2]

চতুর্থত: ইসলামী শরী‘য়াহ এর বিধানসমূহ আক্বীদার সাথে সম্পৃক্ত: 

ইসলামী শরী‘য়াহর বিধানগুলো অনুসন্ধান করলে দেখা যায় যে, এর কতিপয় বিধান অর্থনীতি, কিছু সামাজিক, কিছু আখলাকী, কিছু লেনদেন যেমন, বেচাকেনা ও ভাড়া এবং কিছু অপরাধ ইত্যাদির সাথে সম্পৃক্ত। নানা ধরনের এ বিধানগুলোর সব কিছুই আক্বীদার সাথে গভীরভাবে সম্পর্ক রয়েছে। যেমন, যাকাত ইসলামের একটি রোকন, এ সম্পর্কে আল্লাহ বলেছেন,

﴿ قَدۡ أَفۡلَحَ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ١ ٱلَّذِينَ هُمۡ فِي صَلَاتِهِمۡ خَٰشِعُونَ ٢ وَٱلَّذِينَ هُمۡ عَنِ ٱللَّغۡوِ مُعۡرِضُونَ ٣ وَٱلَّذِينَ هُمۡ لِلزَّكَوٰةِ فَٰعِلُونَ ٤ ﴾ [المؤمنون: ١،  ٤] 

“অবশ্যই মুমিনগণ সফল হয়েছে, যারা নিজদের সালাতে বিনয়াবনত। আর যারা অনর্থক কথাকর্ম থেকে বিমুখ। আর যারা যাকাতের ক্ষেত্রে সক্রিয়”। [সূরা আল-মু’মিনূন: ১-৪]

এছাড়াও অন্যান্য আহকামের ক্ষেত্রেও একই কথা। যেমন, সুদের ব্যাপারে আমরা দেখি এর সাথে ইসলামী আক্বীদার এক সুদূর প্রসারী প্রভাব রয়েছে, লেনদেনের ক্ষেত্রে সুদকে হারাম করেছে। আক্বীদার সাথে এর রয়েছে গভীর সম্পর্ক। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

 قال r: «ومن غش فليس منا»

“যে ধোঁকাবাজি করবে সে আমাদের দলভুক্ত নয়”।

চুরির শাস্তির আখলাকী ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার একটি, এর সাথেও রয়েছে আক্বীদার সম্পর্ক। যেমন আল্লাহ বলেছেন,

﴿ وَٱلسَّارِقُ وَٱلسَّارِقَةُ فَٱقۡطَعُوٓاْ أَيۡدِيَهُمَا جَزَآءَۢ بِمَا كَسَبَا نَكَٰلٗا مِّنَ ٱللَّهِۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٞ ٣٨ ﴾ [المائ‍دة: ٣٨] 

“আর পুরুষ চোর ও নারী চোর তাদের উভয়ের হাত কেটে দাও তাদের অর্জনের প্রতিদান ও আল্লাহর পক্ষ থেকে শিক্ষণীয় আযাবস্বরূপ”। [সূরা আল-মায়েদা: ৩৮]

এভাবেই ইসলামী শরী‘য়াহর আহকামগুলো মানুষের অন্তরের গভীরে শক্তি, কর্ম-প্রেরণা যোগায়।

পঞ্চমত: ইসলামী শরী‘য়াহ মানুষের অন্তরকে লালন পালন করে:

ইসলামী শরী‘য়াহর আহকাম আক্বীদার সাথে সম্পৃক্ত থাকা সত্ত্বেও ইসলাম মুসলমানের অন্তরে আল্লাহর ভয়-ভীতি বীজ বপন করে, যা মুসলিমকে বলপ্রয়োগ বা জোর ছাড়াই আল্লাহর বিধানসমূহ সন্তুষ্টচিত্তে ও নিজের পছন্দে মানতে সাহায্য করে। কেননা সে একথা উপলব্ধি করে যে, ইসলামী আইন মানা হচ্ছে দ্বীন ও আল্লাহর আনুগত্য পোষণ, পক্ষান্তরে মানব রচিত আইন মানতে মানুষ জালিয়াতি ও ছলচাতুরীর আশ্রয় নেয়। তারা মনে করেন যে, এ আইন মেনে চলা কোনো আনুগত্য করা নয় এবং এর থেকে ভেগে যাওয়া কোনো দোষ নয়। [3]

ইসলামী শরী‘য়াহ মানুষের অন্তর গঠন ও একে পরিশোধন করতে অতুলনীয় ভাবে সফল হয়েছে। এটা আমরা দেখতে পাই মা‘য়েয রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর ঘটনায়, যখন তিনি যিনায় পতিত হলে তার অন্তর তাকে আল্লাহর ভয় সম্পর্কে সতর্ক করে। ফলে তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট গেলেন, তিনি তাঁর কাছে তাকে পরিশুদ্ধ করতে বললেন। ফলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাকে রজমের নির্দেশ দেন এবং তাকে রজম দেয়া হয়। তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

فَقَالَ: «اسْتَغْفِرُوا لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ»، قَالَ: فَقَالُوا: غَفَرَ اللهُ لِمَاعِزِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ، فَقَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَقَدْ تَابَ تَوْبَةً لَوْ قُسِمَتْ بَيْنَ أُمَّةٍ لَوَسِعَتْهُمْ»

“তোমরা মা‘য়েয ইবন মালিকের জন্য ইসতিগফার করো, তারা বললেন, আল্লাহ মা‘য়েয ইবন মালিককে ক্ষমা করে দিন। অতঃপর  রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, সে এমন তওবা করেছে যে, যদি আমি তা আমার উম্মতের মধ্যে বণ্টন করি তবে তা যথেষ্ট হবে”।

লেনদেনের মধ্যে ইসলামী সুউচ্চ জীবন ও জাগ্রত অন্তর পাওয়া যায়। যা ইমাম আবু হানিফা রহ. এর ব্যবসায় প্রভাব ফেলে। তিনি তার ব্যবসায়িক অংশীদার হাফস ইবন আব্দুর রহমানকে কিছু কাপড় দিয়েছিলেন। তাকে জানিয়ে দেন যে, কাপড়গুলোতে কিছু ত্রুটি আছে। ফলে হাফস সেগুলো কিনে নেয় কিন্তু বিক্রি করার সময় ত্রুটি উল্লেখ করতে ভুলে যায়। তিনি ত্রুটিপূর্ণ কাপড়ে পূর্ণ মূল্য প্রদান করেন। বলা হয়ে থাকে যে, সে কাপড়ের মূল্য ত্রিশ হাজার বা পঁয়ত্রিশ হাজার দিরহাম ছিল। কিন্তু আবু হানিফা রহ. সে অর্থ নিতে অস্বীকার করলেন। তিনি তার সাথীকে উক্ত ব্যক্তিকে খুঁজে বের করতে বলেন, কিন্তু অনেক খোঁজার পরেও তাকে পাওয়া গেল না। তখন আবু হানিফা রহ. তার অংশীদারের সাথে ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করেন। তিনি উক্ত সম্পদ তার মালের সাথে মিলাতে অস্বীকার করেন এবং তা দান করে দেন। [4]

ইসলামী শরী‘য়াহয় এ ধরণের জীবন্ত অনুভূতি ইসলাম তার অনুসারীদেরকে শিক্ষা দিয়েছে, যা অন্যান্য আইনের চেয়ে অনেক শক্তিশালী, আসমানী শরী‘য়াহ যেমন মানুষের অন্তরে প্রভাব ফেলে মানব রচিত আইনে এরূপ কোনো প্রভাব নেই।

ইসলাম থেকে বিচ্যুত সমাজে যা কিছু ঘটছে এবং তাদের আইন কানুন সমাজে নিরাপত্তা, শান্তি, স্থিতিশীলতা ও অপরাধ দমনে ব্যর্থতাই প্রমাণ করে ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়ন কতোটা প্রয়োজন। আল্লাহ তা‘আলা যথার্থই বলেছেন,

﴿ وَمَنۡ أَحۡسَنُ مِنَ ٱللَّهِ حُكۡمٗا لِّقَوۡمٖ يُوقِنُونَ ٥٠ ﴾ [المائ‍دة: ٥٠] 

“আর নিশ্চিত বিশ্বাসী কওমের জন্য বিধান প্রদানে আল্লাহর চেয়ে কে অধিক উত্তম? [সূরা আল-মায়েদা: ৫০]

ষষ্ঠত: ইসলামী শরী‘য়াহ সমতার ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত:

মানব রচিত আইন মানুষের মাঝে সমতা নিশ্চিত করতে সক্ষম হয় না। ফলে রাষ্ট্রে প্রধান বা প্রধান মন্ত্রীকে জাতির অন্যান্য লোকদের উপর উচ্চ মর্যাদা দিয়ে থাকে। সংবিধানে রাষ্ট্রের প্রধানকে তার কৃত অপরাধের জবাবদিহিতা কাউকে দিতে হয় না। মানব রচিত আইন বিদেশী রাষ্ট্র প্রধান ও তাদের সফরসঙ্গীদের কৃত অপরাধের শাস্তি ক্ষমা করে দেয়। সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক এ ভেদাভেদ  খুব করতেন। বিশাল কৃশাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মাঝে শ্বেতাঙ্গরাই বহু বছর শাসন করেছিলেন।

পক্ষান্তরে, ইসলামী শরী‘য়াহ চৌদ্দ শত বছর পূর্ব থেকেই সমতার বিচারে মানব রচিত অন্যান্য সব আইনের থেকে আলাদা বৈশিষ্ট্য মন্ডিত। ইসলামী শরী‘য়াহর দৃষ্টিতে দায়িত্ব, কর্তব্য ও অধিকারের ক্ষেত্রে সকলেই সমান। শাসক ও জনগণের মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ فَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٍ خَيۡرٗا يَرَهُۥ ٧ وَمَن يَعۡمَلۡ مِثۡقَالَ ذَرَّةٖ شَرّٗا يَرَهُۥ ٨ ﴾ [الزلزلة: ٧،  ٨] 

“অতএব, কেউ অণু পরিমাণ ভালকাজ করলে তা  সে দেখবে, আর কেউ অণু পরিমাণ খারাপ কাজ করলে তাও সে দেখবে”। [সূরা আয্-যিলযাল: ৭-৮]

عَنِ المَعْرُورِ بْنِ سُوَيْدٍ، قَالَ: لَقِيتُ أَبَا ذَرٍّ بِالرَّبَذَةِ، وَعَلَيْهِ حُلَّةٌ، وَعَلَى غُلاَمِهِ حُلَّةٌ، فَسَأَلْتُهُ عَنْ ذَلِكَ، فَقَالَ: إِنِّي سَابَبْتُ رَجُلًا فَعَيَّرْتُهُ بِأُمِّهِ، فَقَالَ لِي النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَا أَبَا ذَرٍّ أَعَيَّرْتَهُ بِأُمِّهِ؟ إِنَّكَ امْرُؤٌ فِيكَ جَاهِلِيَّةٌ»

“মা‘রূর রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি একবার রাবাযা নামক স্থানে আবু যর রাদিয়াল্লাহু আনহুর সাথে সাক্ষাত করলাম। তখন তার পরনে ছিল এক জোড়া কাপড় (লুঙ্গি ও চাদর) আর তার চাকরের পরনেও ছিল ঠিক একই ধরনের এক জোড়া কাপড়। আমি তাকে এর (সমতার) কারণ জিজ্ঞাস করলাম। তিনি বললেন, একবার আমি এক ব্যক্তিকে গালি দিয়েছিলাম এবং আমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছিলাম। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘আবু যর! তুমি তাকে তার মা সম্পর্কে লজ্জা দিয়েছ? তুমি তো এমন ব্যক্তি, তোমার মধ্যে জাহেলী যুগের স্বভাব রয়েছে”। [5]

এক ইয়াহূদী ‘উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর দরবারে আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ করল। তখন ‘উমর রাদিয়াল্লাহু আলী রাদিয়াল্লাহুকে বললেন, হে আবুল হাসান দাঁড়াও, তোমার প্রতিপক্ষের সামনে গিয়ে বসো। তিনি তাই করলেন ও তাঁর চেহারায় অনুসরণের প্রভাব পরিলক্ষিত হচ্ছিল। বিচার কাজ শেষ হলে ‘উমর রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু আলী রাদিয়াল্লাহু ‘আনহুকে বললেন, হে আলী তুমি কি তোমার বিবাদীর সামনে বসতে অপছন্দ করেছ? তিনি উত্তরে বললেন, না, কখনো না। তবে আমি অপছন্দ করেছি এটা যে, আপনি নাম ডাকার ক্ষেত্রে দু’জনের মাঝে সমতা বজায় রাখেন নি, আমাকে আমার উপনাম আবুল হাসান বলেছেন; যেহেতু উপনামে ডাকা সম্মানের দিকে ইঙ্গিত করে।

ইসলামে উঁচু-নিচু ও শক্তিশালী-দুর্বল সকলের মাঝেই সমানভাবে শাস্তির বিধান বাস্তবায়ন করা হয়। এর চমৎকার উদাহরণ হলো আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত আল-মাখযুমিয়া এর হাদীস:

عَنْ عَائِشَةَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا: أَنَّ قُرَيْشًا أَهَمَّتْهُمُ المَرْأَةُ المَخْزُومِيَّةُ الَّتِي سَرَقَتْ، فَقَالُوا: مَنْ يُكَلِّمُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، وَمَنْ يَجْتَرِئُ عَلَيْهِ إِلَّا أُسَامَةُ بْنُ زَيْدٍ، حِبُّ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَكَلَّمَ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَ: «أَتَشْفَعُ فِي حَدٍّ مِنْ حُدُودِ اللَّهِ» ثُمَّ قَامَ فَخَطَبَ، قَالَ: «يَا أَيُّهَا النَّاسُ، إِنَّمَا ضَلَّ مَنْ قَبْلَكُمْ، أَنَّهُمْ كَانُوا إِذَا سَرَقَ الشَّرِيفُ تَرَكُوهُ، وَإِذَا سَرَقَ الضَّعِيفُ فِيهِمْ أَقَامُوا عَلَيْهِ الحَدَّ، وَايْمُ اللَّهِ، لَوْ أَنَّ فَاطِمَةَ بِنْتَ مُحَمَّدٍ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، سَرَقَتْ لَقَطَعَ مُحَمَّدٌ يَدَهَا»

“আয়িশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, আল-মাখযুমী সম্প্রদায়ের জনৈকা মহিলার ব্যাপারে কুরাইশ বংশের লোকদের খুব দুশ্চিন্তায় ফেলে দিয়েছিল যে কিনা চুরি করেছিল। সাহাবা কিরামগণ বললেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কে কথা বলতে পারবে? আর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় পাত্র উসামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু ছাড়া কেউ এ সাহস পাবেন না। তখন উসামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে কথা বললেন: এতে তিনি বললেন, তুমি আল্লাহ তা‘য়াআলার দেওয়া শাস্তির বিধানের ক্ষেত্রে সুপারিশ করছ? এরপর তিনি দাঁড়িয়ে খুতবা প্রদান করলেন এবং বললেন, হে মানব মণ্ডলী! নিশ্চয়ই তোমাদের পূর্ববর্তী সম্প্রদায়ের লোকেরা পথভ্রষ্ট হয়ে গিয়েছে। কেননা কোনো সম্মানিত লোক যখন চুরি করত তখন তারা তাকে রেহাই দিয়ে দিত। আর যখন কোনো দুর্বল লোক চুরি করত তখন তার উপর শরী‘য়তের শাস্তি প্রয়োগ করত। আল্লাহর কসম! মুহাম্মদ এর কন্যা ফাতিমাও যদি চুরি করে তবে অবশ্যই মুহাম্মদ তার হাত কেটে দেবে”।[6] আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ইসলামী শরী‘য়াহর বাস্তবায়ন ও উম্মাহর উপর এর প্রভাব-থেকে


[1]  তারিখুশ শারা’য়ে‘, লেখক ড: মুখতার কাদী, পৃষ্ঠা: ১৭৬।

[2] ফি ওজহিল মু’আমারাতি ‘আলা তাত্ববীকেশ শরী‘য়াহ আল-ইসলামীয়াহ, লেখক, মুস্তফা ফারগিলী আশ-শুক্বাইরী: পৃষ্ঠা ৬৬। 

[3] ফি মুয়াজিহাহিল মু’আমারাতি ‘আলা তাত্ববীকেশ শরী‘য়াহ আল-ইসলামীয়াহ, লেখক, মুস্তফা ফারগিলী আশ-শুক্বাইরী: পৃষ্ঠা ৬৮।

[4]  ফি ওজহিল মু’আমারাতি ‘আলা তাত্ববীকেশ শরী‘য়াহ আল-ইসলামীয়াহ, পৃষ্ঠা ৭০।

[5]  বুখারী, হাদীস নং ৩০।

[6]  বুখারী, হাদীস নং ৬৭৮৮, মুসলিম, হাদীস নং ১৬৮৮। 

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE