Breaking News
Home / বই থেকে / [চতুর্থ পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ সহজ সরল হওয়ার দলিলসমূহ

[চতুর্থ পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ সহজ সরল হওয়ার দলিলসমূহ

প্রথমত: আল-কুরআনুল কারীম থেকে দলিল:

﴿ لَا يُكَلِّفُ ٱللَّهُ نَفۡسًا إِلَّا وُسۡعَهَاۚ لَهَا مَا كَسَبَتۡ وَعَلَيۡهَا مَا ٱكۡتَسَبَتۡۗ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذۡنَآ إِن نَّسِينَآ أَوۡ أَخۡطَأۡنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تَحۡمِلۡ عَلَيۡنَآ إِصۡرٗا كَمَا حَمَلۡتَهُۥ عَلَى ٱلَّذِينَ مِن قَبۡلِنَاۚ رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلۡنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِۦۖ ٢٨٦ ﴾ [البقرة: ٢٨٦] 

“আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না। হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন। হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই”। [সূরা আল-বাকারাহ: ২৮৬]

হ্যাঁ, আল্লাহ তা‘আলা কাউকে তার সামর্থ্যের বাইরে কোনো দায়িত্ব চাপিয়ে দেন না। এটা সৃষ্টির উপর মহান আল্লাহর দয়া ও তাদের প্রতি তাঁর উদারতা। তিনি তাঁর দয়া ও অনুগ্রহের কারণে আমাদের উপর এমন কোনো বোঝা চাপিয়ে দেন নি যা পালন করা আমাদের জন্য কষ্টকর, যেমনি ভাবে তিনি পূর্ববর্তীদের উপর তাদের নিজেরা নিজেদেরকে হত্যা ও ও কাপড় বা শরীরের কোনো স্থানে অপবিত্র লাগলে সে স্থান কেটে ফেলা ইত্যাদি কষ্টকর দায়িত্ব দিয়েছেন। বরং তিনি আমাদেরকে সহজ করেছেন, আমাদের উপর থেকে বোঝা সরিয়ে দিয়েছেন, যা তিনি পূর্ববর্তীদের উপর তাদের সীমালঙ্ঘনের কারণে চাপিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি বলেছেন,

﴿ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلۡيُسۡرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلۡعُسۡرَ ١٨٥ ﴾ [البقرة: ١٨٥]

“আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না”। [সূরা আল-বাকারাহ: ১৮৫]

ইমাম সুয়ূতী রহ. বলেন, এ আয়াতটি একটি মূল বড় কায়েদা যার উপর ভিত্তি করে ইসলামী শরী‘য়াহ এর আদেশ নিষেধ তথা বান্দাহর দায়-দায়িত্ব বর্তায়। এটি হলো সহজতা, এতে কোনো কঠোরতা নেই, ক্ষমা ও মার্জনা আছে, নিষ্ঠুরতা নেই, সহজতা আছে, জটিলতা নেই। এটি একটি অনেক বড় কায়েদা যার উপর ভিত্তি করে অনেক নীতিমালা নির্ণয় করা হয়। সেগুলো হলো:

«أن المشقة تجلب التيسير» ‘কষ্ট সহজী করণ কামনা করে’। এটি ফিকহের প্রসিদ্ধ পাঁচটি কায়েদার একটি।

আরেকটি কায়েদা হলো:

«الضرورات تبيح المحظورات» ‘প্রয়োজন নিষিদ্ধ জিনিসকে (প্রয়োজন অনুসারে) বৈধ করে’।

আরেকটি কায়েদা হলো: «إذا ضاق الأمر اتسع» ‘যখন বিষয়টি সংকীর্ণ হয়ে যায়, তখন তা (সহজতা আরোপের জন্য) বিস্তৃত হয়’। [1]

ইবন কাসীর রহ. বলেছেন,

﴿ وَمَا جَعَلَ عَلَيۡكُمۡ فِي ٱلدِّينِ مِنۡ حَرَجٖۚ ٧٨ ﴾ [الحج: ٧٨] 

“দ্বীনের ব্যাপারে তিনি তোমাদের উপর কোনো কঠোরতা আরোপ করেননি”। [সূরা আল-হাজ্ব: ৭৮] এ বাণীর অর্থ – তোমাদের সাধ্যের বাইরে তিনি কোনো বিধান আরোপ করেননি, তোমাদেরকে উত্তরণের পথ দেখানো ব্যতীত তিনি কোনো কষ্টকর আদেশ তোমাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় করেন নি।[2]

উদাহরণ স্বরূপ সালাতের কথা বলা যায়, যা শাহাদাতান তথা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সাক্ষ্য দানের পরে ইসলামে সবচেয়ে বড় রোকন। মুকিম অবস্থায় তা চার রাকা‘আত আদায় করতে হয়,  মুসাফির অবস্থায় তা কসর করে দুই রাকা‘আত পড়তে হয়, আর ভয় ভীতির সময় কোনো কোনো ইমামের মতে কিবলা-মুখী হয়ে বা সম্ভব না হলে কিবলা-মুখী না হয়ে এক রাকা‘আত আদায় করতে হয়। এটাই ইসলামী শরী‘য়াহ এর সহজ ও উদার হওয়ার উৎকৃষ্ট প্রমাণ।

দ্বিতীয়ত: সুন্নাহ থেকে ইসলামী শরী‘য়াহ সহজ সরল হওয়ার দলিল:

১- ইমাম আহমদ রহ. তার মুসনাদে উল্লেখ করেন,

عَنْ أَبِي أُمَامَةَ قَالَ: خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِي سَرِيَّةٍ مِنْ سَرَايَاه، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «إِنِّي لَمْ أُبْعَثْ بِالْيَهُودِيَّةِ وَلَا بِالنَّصْرَانِيَّةِ، وَلَكِنِّي بُعِثْتُ بِالْحَنِيفِيَّةِ السَّمْحَةِ »

আবু উমামা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমরা একবার এক সারিয়া (ছোট অভিযান) এ বের  হলাম। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি ইহুদি ও নাসারাদের আদর্শ (তাদের মত বাড়াবাড়ি) নিয়ে প্রেরিত হই নি, বরং আমি সরল সঠিক ও উদারপন্থী হয়ে প্রেরিত হয়েছি”। [3]

২- বুখারীতে বর্ণিত আছে,

عَنْ عَائِشَةَ رَضِيَ اللَّهُ عَنْهَا، أَنَّهَا قَالَتْ: «مَا خُيِّرَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بَيْنَ أَمْرَيْنِ إِلَّا أَخَذَ أَيْسَرَهُمَا، مَا لَمْ يَكُنْ إِثْمًا، فَإِنْ كَانَ إِثْمًا كَانَ أَبْعَدَ النَّاسِ مِنْهُ، وَمَا انْتَقَمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِنَفْسِهِ إِلَّا أَنْ تُنْتَهَكَ حُرْمَةُ اللَّهِ، فَيَنْتَقِمَ لِلَّهِ بِهَا»

“আয়েশা রাদিয়াল্লাহু ‘আনহা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে যখনই দু’টি জিনিসের একটি গ্রহণের ইখতিয়ার দেওয়া হতো, তখন তিনি সহজ সরলটিই গ্রহণ করতেন যদি তা গোনাহ না হতো। যদি গোনাহ হতো তবে তা থেকে তিনি সবচেয়ে বেশী দূরে সরে থাকতেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ব্যক্তিগত কারণে কারো থেকে কখনো প্রতিশোধ গ্রহণ করেন নি। তবে আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা লঙ্ঘন করা হলে আল্লাহকে রাযী ও সন্তুষ্ট করার জন্য তিনি প্রতিশোধ নিতেন”। [4]

হাফেয ইবন হাজার রহ. বলেছেন, “ইসলাম একটি সহজ সরল দ্বীন। পূর্ববর্তী দ্বীনসমূহের তুলনায় এ দ্বীনকে সহজ বলা হয়েছে। কেননা আল্লাহ এ উম্মত থেকে বোঝা উঠিয়ে নিয়েছেন যা তিনি পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছিলেন।

এর উৎকৃষ্ট উদাহরণ হলো, তাদের তওবার বিধান ছিল নিজেকে নিজে হত্যা করা, আর এ উম্মতের তওবা হলো পাপ থেকে বিরত থাকা, দৃঢ় প্রত্যয়ী হওয়া ও অনুশোচনা করা”। [5] আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ইসলামী শরী‘য়াহর বাস্তবায়ন ও উম্মাহর উপর এর প্রভাব-থেকে

 


[1] আল-ইকলীল ফি ইসতিম্বাতিত তানযীল, লেখক ইমাম সুয়ূতী, পৃষ্ঠা: ১৪।

[2] তাফসীরে ইবন কাসীর: ৩/২৩৬।

[3]  মুসনাদে আহমদ: হাদীস নং ২২২৯১।

[4]  বুখারী, হাদীস নং ৩৫৬০, মুসলিম, হাদীস নং ২৩২৭।

[5] ফাতহুল বারী: ৭/১০১। 

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE