Home / বই থেকে / [ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ] আল্লাহর নাযিল কৃত বিধান ছাড়া অন্য বিধান অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করার কারণসমূহ ও এর ফলাফল

[ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ] আল্লাহর নাযিল কৃত বিধান ছাড়া অন্য বিধান অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করার কারণসমূহ ও এর ফলাফল

প্রথমত: আল্লাহর নাযিল কৃত বিধান ছাড়া অন্য বিধান অনুযায়ী শাসন ব্যবস্থা পরিচালনা করার কারণসমূহ:

 

প্রথম কারণ: ঈমান হীনতা বা ঈমানের দুর্বলতা:

অনেক মুসলমানের অন্তরে ঈমানের দুর্বলতাই সব ধরনের পথভ্রষ্টতা ও বিপথগামীতার মূল কারণ। এটা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয় যে, আল্লাহর উপর ঈমান আনা ও ঈমানের দাবীর কেন্দ্রবিন্দুই হলো মুসলিম সে অনুযায়ী চলবে। বরং এটা তাকে আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মান্য করা ও তার শরী‘য়াহ জীবনে বাস্তবায়ন করতে সক্রিয় কাজ করবে। [1]  

ব্যক্তির ঈমান যদি শুধু দাবী বা মুখে উচ্চরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে তাহলে বাস্তবে এতে কি লাভ। যেমন এ ধরনের ঈমান কোনো ফলাফল দিতে পারে না। ব্যক্তিকে ঈমানের স্বাদ আস্বাদন করাতে পারে না। এটা এক ধরনের মৃত্যু ঈমান যা তার অনুসারী শুধুই অনুসরণ করে থাকে। আল্লাহর কাছে এ ধরনের ঈমান থেকে পানাহ চাই। এটা তার অন্তরের ব্যধি যা ব্যক্তিকে আল্লাহর বিধান থেকে বিরত রাখে এবং সে মানব রচিত ব্যর্থ ও অসাড় বিধান মানে।[2]  আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ وَيَقُولُونَ ءَامَنَّا بِٱللَّهِ وَبِٱلرَّسُولِ وَأَطَعۡنَا ثُمَّ يَتَوَلَّىٰ فَرِيقٞ مِّنۡهُم مِّنۢ بَعۡدِ ذَٰلِكَۚ وَمَآ أُوْلَٰٓئِكَ بِٱلۡمُؤۡمِنِينَ ٤٧ وَإِذَا دُعُوٓاْ إِلَى ٱللَّهِ وَرَسُولِهِۦ لِيَحۡكُمَ بَيۡنَهُمۡ إِذَا فَرِيقٞ مِّنۡهُم مُّعۡرِضُونَ ٤٨ ﴾ [النور: ٤٧،  ٤٨] 

“তারা বলে, ‘আমরা আল্লাহ ও রাসূলের প্রতি ঈমান এনেছি এবং আমরা আনুগত্য করেছি’, তারপর তাদের একটি দল এর পরে মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর তারা মুমিন নয়। আর যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি এ মর্মে আহবান করা হয় যে, তিনি তাদের মধ্যে বিচারমীমাংসা করবেন, তখন তাদের একটি দল মুখ ফিরিয়ে নেয়”। [সূরা আন-নূর: ৪৭-৪৮]

দ্বিতীয় কারণ: কাফেরদের চাটুকারিতা ও তাদের উপর নির্ভরশীলতা:

ইসলাম তার দুষ্কৃতি ও হিংসুক শত্রুদের সর্বদা মোকাবিলা করেছে, চাই তারা সমাজতান্ত্রিক কাফির হোক বা আল্লাহর লা‘আনতপ্রাপ্ত ইয়াহূদী। এরা সবাই ইসলাম ও মুসলমানের বিরুদ্ধে সর্বশক্তি দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, কতিপয় লোক তাদের সাথে মিশে কাজ করে আর নিজেকে ইসলামের দিকে সম্পৃক্ত করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো মানব রচিত আইনের অনুসারীদের অনুসরণ করা। তারা ঐ শ্রেণির লোক যারা পশ্চাত্যে শিক্ষা গ্রহণ করে তাদের চিন্তা চেতনা ও মতবাদ লালন পালন করে। তাদের ধর্ম নিরপেক্ষতা সমাজতন্ত্র, পুঁজিবাদ, ইয়াহূদীবাদ ইত্যাদি মতবাদে রূপান্তরিত হয়। তারা তাদের শ্লোগানে কণ্ঠ উঁচু করে, তাদের মূলধারার দিকে আহ্বান করে এবং লোকজনকে তাদের মতের উপর চলতে বলে। এ সব লোক অমুসলিমদের কাছেই বেশী নিকটবর্তী। কেননা তারা কাফিরদের কাজ করে আর এরা মুসলমান নয়। যদিও তারা মুখে লক্ষবার মুসলমান দাবী করে। আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন,

﴿ لَّا يَتَّخِذِ ٱلۡمُؤۡمِنُونَ ٱلۡكَٰفِرِينَ أَوۡلِيَآءَ مِن دُونِ ٱلۡمُؤۡمِنِينَۖ وَمَن يَفۡعَلۡ ذَٰلِكَ فَلَيۡسَ مِنَ ٱللَّهِ فِي شَيۡءٍ إِلَّآ أَن تَتَّقُواْ مِنۡهُمۡ تُقَىٰةٗۗ وَيُحَذِّرُكُمُ ٱللَّهُ نَفۡسَهُۥۗ وَإِلَى ٱللَّهِ ٱلۡمَصِيرُ ٢٨ ﴾ [ال عمران: ٢٨] 

“মুমিনরা যেন মুমিনদের ছাড়া কাফিরদেরকে বন্ধু না বানায়। আর যে কেউ এরূপ করবে, আল্লাহর সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবে যদি তাদের পক্ষ থেকে তোমাদের কোনো ভয়ের আশঙ্কা থাকে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর নিজের ব্যাপারে সতর্ক করছেন এবং আল্লাহর নিকটই প্রত্যাবর্তন”। [সূরা আলে-‘ইমরান: ২৮]

তাদেরকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ না করার ব্যাপারে এটি একটি সার্বজনীন নিষেধাজ্ঞা। তাদেরকে সাহায্যকারী, বন্ধু ও অভিভাবক গ্রহণ করা ও তাদের ধর্মে দীক্ষিত হওয়া সব কিছুই এ নিষেধাজ্ঞার শামিল।

শাইখ সুলাইমান ইবন আব্দুল্লাহ আলে আশ-শাইখ রহ. মুশরিকদের সাথে বন্ধুত্বের হুকুম বর্ণনায় বলেন, বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম, জেনে রাখো – আল্লাহ তোমার উপর রহমত করুন- মানুষ যখন মুশরিকদের দ্বীনের সাথে একমত পোষণ করে, তাদের ভয়ে তাদেরকে বন্ধু হিসেবে মানে, তাদের অনিষ্ট থেকে বাঁচার জন্য তাদেরকে তোষামোদ ও চাটুকারিতা করে তাহলে নিঃসন্দেহে সে তাদের মতই কাফির, যদিও সে তাদেরকে ও তাদের ধর্মকে অপছন্দ করে এবং ইসলাম ও মুসলমানকে ভালবাসে। আর এটা হলো যখন তাদের (মুশরিকদের) পক্ষ থেকে কোনো ধরনের চাপ না থাকবে। আর যদি মুসলমানরা তাদের প্রতিরক্ষায় থাকে, তারা (মুশরিকরা) তাদের আনুগত্য করতে বাধ্য করে, মুসলমানরা তাদের বাতিল ধর্মের সাথে ঐকমত পোষণ করে, তাদেরকে সাহায্য ও বন্ধুত্বের মাধ্যমে সহযোগিতা করে, মুসলমানদের সাথে বন্ধুত্ব ছিন্ন করে, তাহলে তারা ইখলাস ও তাওহীদের সৈনিকের পরিবর্তে কাফির মুশরিকদের দলে অন্তর্ভুক্ত হলো। কারো অবস্থা এরূপ হলে সে নিঃসন্দেহে কাফির, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের চরম শত্রু। [3]

অধিকাংশ ইসলামী দেশে কাফিরদেরকে অভিভাবক ও তাদের চাটুকারিতার স্পষ্ট আলামত হচ্ছে:

মানব রচিত সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করা। এটা দুর্বল ঈমান বা ঈমান হীনতার ফলাফল।

তৃতীয় কারণ: ইসলামী শরী‘য়াহ সম্পর্কে অজ্ঞতা:

বর্তমানে অধিকাংশ মুসলমান ইসলামকে জন্মসূত্রে পেয়েছে। তাদের বাপ দাদাকে এ ধর্মে পেয়েছে। যার ফলে মুসলিম উম্মাহর নেতা হোক বা সাধারণ অনুসারী হোক অনেকের কাছেই ইসলামী শরী‘য়াহর বিধিবিধান অজানা। এমনকি তাদের অনেকেই নিজেদের ধর্মের নাম ছাড়া কিছুই জানে না। তারা তাদের ধর্মের আহকাম, ‘আকাইদ, আখলাক ও আদাব সম্পর্কে তেমন কিছুই জানে না। এতে করে অতি সহজেই আল্লাহর শত্রুরা তাদেরকে পথভ্রষ্ট ও তাদের বিষাক্ত ছোবল ছড়াতে সক্ষম হয়। 

এখানে মুসলিম উম্মাহর সন্তানদের প্রচলিত কিছু অজ্ঞতার নমুনা পেশ করলাম। তাদের একদলকে মানবরূপী শয়তান এমনভাবে ভ্রষ্ট করেছে যে, তারা বলে ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়ন যোগ্য। এ ধরনের লোক বার দুইভাগে বিভক্ত:

-একদল ইসলামী শরী‘য়াহ ও এর বিধিবিধান সম্পর্কে কিছু জানে না, কিন্তু তারা কিছু সুবিধাবাদী খবিশদের কাছে শিক্ষা পেয়েছে যে, ধর্ম হলো পশ্চাদগামীতা, অধঃপতন, সীমাবদ্ধতা ও পশ্চাদমুখিতা। সভ্য-সংস্কৃতি, উন্নতি ও অগ্রসর হওয়ার একমাত্র উপায় হলো সম্পূর্ণরূপে ধর্মহীন হওয়া।

– আরেক দল আছে যারা ইসলামী শরী‘য়াহর কিছুই পড়ে নি, তবে তারা শুধু সাধারণ আইন পড়েছে। মুসলমানদের সন্তানদেরকে শিক্ষা দীক্ষার জন্য এমন লোকদেরকে নিয়োগ দেয়া হয় যারা ইসলামের হাক্বিকত সম্পর্কে কিছুই জানে না। বরং তারা এ ধর্ম সম্পর্কে কিছু অপবাদ ও সন্দেহ সংশয় জানে যা তাদের অন্তরে সর্বদা ঘুরপাক খায়। [4]

-আরেকটি দল আছে যাদেরকে মুসলমানদের ধ্বংস করার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে। সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র ইত্যাদির নামে তাদেরকে রাস্তাঘাটে বের করা হয়েছে। এগুলো ইসলামী সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কৌশল হিসেবে কাজ করছে। ফলে ইসলামী সমাজের ভিত্তি নড়বড় ও ধ্বংস হয়ে যায়। [5] 

বর্তমানে কিছু সাধারণ লোকের সরলতা ও অজ্ঞতার কারণে এমনকি কিছু আলিমেরও সরলতা ও অজ্ঞতার কারণে তারা শির্কে পতিত হয়ে যায়। প্রমাণস্বরূপ বলা যায় কিছু আরবী ও ইসলামী দেশে দেখা যায় যে, তারা কবর ও দর্শনীয় স্থানে গিয়ে মাথা পেতে থাকে (সিজদা করে), মৃত্যু ব্যক্তির কাছে প্রার্থনা করে, তাদের কাছে কল্যাণ কামনা করে ও অকল্যাণ থেকে মুক্তি চায় ইত্যাদি। [6]

 

দ্বিতীয়ত: আল্লাহর শরী‘য়াহ বাস্তবায়ন না করার বিরূপ প্রতিক্রিয়াসমূহ:

 

প্রথম প্রতিক্রিয়া: আক্বিদার ক্ষেত্রে:

আল্লাহর শরী‘য়াহ থেকে দূরে থাকা ও এর বিধিবিধান যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না করার সবচেয়ে মারাত্মক বিপদ হলো ব্যক্তির আক্বিদা নষ্ট হওয়া ও তার আক্বিদার সাথে পার্থিব নোংরামি যুক্ত হওয়া যা তার অন্তরে সন্দেহ ও কুফুরীর সৃষ্টি করে। [7] 

দ্বিতীয় প্রতিক্রিয়া: ইবাদতের ক্ষেত্রে:

অনেক মুসলমানের কাছে ইবাদতের মধ্যে নানা কুসংস্কার ও ভুল বুঝা বুঝির সৃষ্টি হয়। যেমন:

– ইবাদত আদায়ের ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি ও কমতি করা, ইবন ‘উকাইল রহ. এটিকে খুব সুন্দরভাবে বর্ণনা করেছেন, “তোমাদের বিষয়গুলো কতই না আশ্চর্যের, হয়ত তোমরা কামনার অনুসরণ করো, নতুবা নিজেদের আবিষ্কৃত (বিদ‘আত) বৈরাগ্যবাদের অনুসরণ করো”।[8]

তৃতীয় প্রতিক্রিয়া: সামাজিক ক্ষেত্রে:

বহিরাগত ডান বা বামপন্থী সব ধরণের আমদানিকৃত ব্যবস্থা মানুষকে সুখ শান্তি ও নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। বরং এগুলো মানব জাতির দুর্ভোগ ও দুশ্চিন্তার কারণ। ফলে পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন ও দুর্বল হয়ে যাচ্ছে, পারিবারিক সম্পর্ক বিনষ্ট হচ্ছে, মূল্যবোধ ও উত্তম আখলাক বিলুপ্ত হচ্ছে। আল্লাহর শরী‘য়াহ অস্বীকারকারী সমাজের সদস্যরা অস্থিরতা, পেরেশানি ও নিরাশায় ভুগছে। এ সবের ফলে সমাজে মানসিক রোগ, আত্মহত্যার হার বৃদ্ধি, মদ্যপান, মাতলামি, অতিরিক্ত ধূমপান, নিষিদ্ধ কাজে জড়ানো, যৌন হয়রানি ও অসামাজিক কাজে লিপ্ত হওয়া ইত্যাদি  বাড়ছে। [9]  

চতুর্থ প্রতিক্রিয়া: রাজনৈতিক ও বিচার ব্যবস্থায় এর প্রভাব:

ইসলামে ন্যায় বিচার সার্বজনীন, বড় ছোট, অভিজাত অনভিজাত, শাসক প্রজা ও মুসলিম অমুসলিম সকলের জন্যই সমান। এতে কোনো শর্ত ও ব্যতিক্রম নেই। প্রত্যেক ব্যক্তি ও শ্রেণির জন্যই সমধিকর। শাসক ও জনগণ সবার জন্য সমান অধিকার। অধিকার ও দায়িত্ব কর্তব্যের ক্ষেত্রেও সবার মাঝে সমঅধিকার।

 ইসলামী শরী‘য়ায় জ্ঞানী, বুদ্ধিমান, অভিজ্ঞ ও দক্ষ লোকদের সমন্বয়ে গঠিত শূরা ব্যবস্থা একটি অনন্য ব্যবস্থাপনা। এটা ইসলামী সমাজ ব্যবস্থার মূল ভিত্তি, কিন্তু এ ব্যবস্থা কতিপয় শাসকগোষ্ঠীর খামখেয়ালী, স্বৈরতন্ত্র ও তাদের রচিত আইনের কারণে বিনষ্ট হয়েছে। এ কারণে মুসলিম জাতি অনেক দুর্ভোগ ও কষ্ট সহ্য করেছে। [10]

শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়াহ রহ. বলেছেন,

“যখন শাসকেরা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন সে বিধান থেকে সরে যাবে তখন তাদের মাঝে দুঃখ দুর্দশা নেমে আসবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,

قال r: «وما حكم قوم بغير ما أنزل الله إلا وقع بأسهم بينهم».

“কোনো জাতির মধ্যে আল্লাহর নাযিল কৃত বিধান ছাড়া ফয়সালা করলে তাদের মাঝে দুঃখ দুর্দশা নেমে আসবে”।

আল্লাহর নাযিলকৃত বিধান ছাড়া ফয়সালা করা রাষ্ট্রের ভাগ্য পরিবর্তনের কারণ, যা অতীত ও বর্তমানে অনেক বারই ঘটেছে। যে শান্তি চায় সে যেন অন্যের থেকে শিক্ষা নেয়, আল্লাহ যাকে সাহায্য করেছে তার পথে যেন চলে, তিনি যাকে অপমান ও অপদস্থ করেছে তার পথ থেকে যেন বিরত থাকে। কেননা আল্লাহ তা‘আলা মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে  বলেছেন,

﴿ وَلَيَنصُرَنَّ ٱللَّهُ مَن يَنصُرُهُۥٓۚ إِنَّ ٱللَّهَ لَقَوِيٌّ عَزِيزٌ ٤٠ ٱلَّذِينَ إِن مَّكَّنَّٰهُمۡ فِي ٱلۡأَرۡضِ أَقَامُواْ ٱلصَّلَوٰةَ وَءَاتَوُاْ ٱلزَّكَوٰةَ وَأَمَرُواْ بِٱلۡمَعۡرُوفِ وَنَهَوۡاْ عَنِ ٱلۡمُنكَرِۗ وَلِلَّهِ عَٰقِبَةُ ٱلۡأُمُورِ ٤١ ﴾ [الحج: ٤٠،  ٤١] 

“আর আল্লাহ অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাকে সাহায্য করে। নিশ্চয় আল্লাহ শক্তিমান, পরাক্রমশালী। তারা এমন যাদেরকে আমি যমীনে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, যাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজ থেকে নিষেধ করবে; আর সব কাজের পরিণাম আল্লাহরই অধিকারে”।  [সূরা আল-হাজ্জ: ৪০-৪১]

আল্লাহ ওয়াদা করেছেন তিনি অবশ্যই তাকে সাহায্য করেন, যে তাকে সাহায্য করে। তিনি তাঁর কিতাব, দ্বীন, ও রাসূলকে সাহায্য করেছেন। যে আল্লাহর নাযিল কৃত বিধান ছাড়া ফয়সালা করে ও না জেনে কথা বলে তাকে আল্লাহ সাহায্য করেন না। [11]

মূলকথা হলো, যে সব দেশে আল্লাহর বিধান ছাড়া মানব রচিত বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করে সেখানে সর্বত্রই ফিতনা ফাসাদ ও বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে। তখন শাসকেরা অস্ত্রের জোরে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে। তাদের ক্ষমতার মসনদ টিকে থাকে গোলা বারুদ, অগ্নি আর দুষ্কৃতি রাজনৈতিক লোকদের দ্বারা, চাই তারা সরকারী দলের হোক বা বিরোধী দলের, তারা সকলেই ধর্মনিরপেক্ষ।

পঞ্চম প্রতিক্রিয়া: অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে: 

আল্লাহর বিধান ছাড়া মানব রচিত বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করায় জাতি ও শ্রেণির মাঝে ভেদাভেদ, সমাজে যুলুম অত্যাচার, যুদ্ধাপরাধ, মজুতদারিতা, দরিদ্রতা ও বেকারত্ব ইত্যাদি সমস্যা দিন দিন বেড়েই চলছে। জাতির নেতৃস্থানীয় ও ছোট বড় সবাই দুশ্চরিত্র হচ্ছে। ফলে তাদের মধ্যে নিফাক ও সুদ বেড়ে চলছে, আখলাক ও সম্মানবোধ হারিয়ে যাচ্ছে। তাদের মাঝে দায়িত্ববোধ, মূল্যবোধ ও আখলাক বলতে সামান্য বাকি থাকে। [12] আরো পড়ুন

আপনি পড়ছেনঃ ইসলামী শরী‘য়াহর বাস্তবায়ন ও উম্মাহর উপর এর প্রভাব-থেকে

 


[1]  আসবাবুল হুকম বিগাইরি মা আনঝালাল্লাহু, লেখক ডঃ সালেহ আস-সাদলান: পৃষ্ঠা ৭।

[2] পূর্বসূত্র, পৃষ্ঠা: ৭।

[3]  পূর্বসূত্র, পৃষ্ঠা নং ১৪-১৫।

[4]  জাহেলিয়াতুল কারনিল ‘ঈশরীন, লেখক মুহাম্মদ কুতুব, পৃষ্ঠা ২৭৪।

[5]  ওয়াকি‘উনাল মু‘আসির, লেখক মুহাম্মদ কুতুব, পৃষ্ঠা ২৫০।

[6] মাসরা‘উশ শিরক ওয়াল খারাফাহ, লেখক খালিদ আলী আল-হাজ্ব, পৃষ্ঠা: ৩৪-৩৫।

[7]  আসবাবুল হুকম বিগাইরি মা আনঝালাল্লাহু, পৃষ্ঠা: ৫৭।

[8]  তালবিস ইবলিস, লেখক ইবনুল জাওঝী, পৃষ্ঠা: ২০৬।

[9] আসবাবুল হুকম বিগাইরি মা আনঝালাল্লাহু, পৃষ্ঠা: ৫৮।

[10] পূর্বসূত্র, পৃষ্ঠা: ৬০।

[11]  মাজমু‘উ ফাতাওয়া শাইখুল ইসলাম ইবন তাইমিয়াহ: ৩৫/৩৮৮।

[12]  পূর্বসূত্র, পৃষ্ঠা নং ৬১। 

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *