Breaking News
Home / স্বাস্থ্য / স্বাস্থ্য সমস্যা / কিডনি রোগ বাড়ে নীরবে

কিডনি রোগ বাড়ে নীরবে

কয়েক বছর আগে চট্রগ্রামে ল্যাব প্রাকটিস করি, একজন রোগীর মূত্রের নমুনা অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নিচে পরীক্ষা করে আতঙ্কে –উঠলাম, এর পর কিডনি ফাংশনের অন্যান্য টেস্টও করলাম, বুঝলাম কিডনি রোগ অনেক দূরে এগিয়েছে, চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরী প্রয়োজন। ।

পরে সেই বয়স্কা মহিলার সঙ্গে দেয়া হলঃ    চিকিৎসককে দেখিয়েছেন, তিনি অবাক হয়ে জেনেছিলেন যা তার ছিলো অটল উচ্চরক্তচাপ যাতে তার কিডনির গুরুতর ক্ষতি হয়েছিল, তার রক্ত থেকে বর্জ্য পরিশ্রুত করার ক্ষমতা অনেকটাই হারিয়েছিলো। এরপর হাসপাতালে ভর্তি এবং ডায়ালিসিস শুরু।

কেবল উন্নয়নশীল দেশই নয় উন্নতদেশের লোকদের অনেকেই বুঝতে পারেন না যে, তারা ক্রনিক কিডনি রোগে ভুগছেন। আমেরিকার মত উন্নত প্রযুক্তির দেশেও লক্ষ লক্ষ লোক এমনি অনবহিত থাকেন এ সম্বন্ধে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ক্রনিক কিডনি রোগের কারণ হলো অনিয়ন্ত্রিত উচ্চরক্তচাপ ও শায়াবেটিস, শেষ ধাপ পর্যন্ত কোনও লক্ষণ উপসর্গও থাকে না তেমন। এ রোগকে সংক্ষেপে বলা হচ্ছে সি,কে,ডি(CKD-Chronic Kidney) এ বাড়ছে তাৎপর্যপূর্ণ হারে-মেদস্থূলতা পৃথিবী জুড়ে বাড়ার জন্য জনগোষ্ঠীর প্রত্যাশিত আয়ু বাড়ার জন্য সমস্যা আরো বাড়ছে। আমাদের দেশে লাখ লাখ লোক কিডনি রোগে ভুগছেন এমন উপাত্ত পাওয়া গেলেও দেশব্যাপী ক্রনিক কিডনি রোগের প্রকোপ এবং এপিডেমিওলজিক্যাল সমীক্ষার কোনও ফলাফল আমার জানা নেই। ২০০৮ সালের নভেম্বর মাসে জরনাল অব আমেরিকান মেডিক্যাল এসোসিয়েশনে প্রকাশিত ফেডারেল হেলথ ডাটার অনুযায়ী আমেরিকার পূর্ণ বয়স্ক লোকের ১৩%-২ কোটি ৬০ লক্ষ লোক ক্রনিক রোগে ভুগছেন।

এরকম সমস্যায় দেশে দেশে স্বাস্থ্য পরিচর্যা বুবস্থার উপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে এসব লোকদের ডায়ালোসিস করার জন্যও পর্যাপ্ত ইউনিট পাওয়া যাচ্ছে না।

এধরণের পরিস্থিতি মুখোমুখি হয়ে স্বাস্থ্য বিজ্ঞানীরা এ-ব্যাপারে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, এপিডেমেওলজিক নজরদারি বাড়ানো, যাদের ঝুঁকি রয়েছে যেমন যাদের উচ্চরক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা যাদের কিডনি রোগের পারিবারিক ইতিহাস রয়েছে এদেরকে স্ক্রিনিং কর্মসূচীর আওতায় আনার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। এসব লোক এবং যাদের ইতিমধ্যে এ রোগ হয়েছে , এদের উভয় দলকে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে গৃহীত জীবনযাপন পরিবর্তন ও চিকিৎসা পরামর্শ দিলেও উপকার হবে।      

ধূমপান করে থাকলে বর্জন করা। ওজন বেশি থাকলে কমানো, নিয়মিত ব্যায়াম, খাদ্য বিধি অনুসরণ করা, প্রয়োজনে রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস ওষুধের সাহায্যও নিয়ন্ত্রণ করা। তবে এসব প্রচেষ্টা করলেও কিডনির কাজকর্ম যতটুকু নষ্ট হয়েছে একে পুনরুদ্ধার করা যায় না। সমস্যা হলো, বেশির ভাগ মানুষই ক্রনিক কিডনি রোগ সম্বন্ধে জানেন খুব কম এবং কিডনির কাজকর্ম সম্বন্ধে চিকিৎসককেও জিজ্ঞেস করেন কদাচিৎ। এবং অনেকে অসুখের শেষ পর্যায় পর্যন্ত তুলনা মূলক ভাবে সুস্থ বোধ করলেও, কিছু কিছু অনির্দিষ্ট উপসর্গ যেমন পেশি খিচুনি, দুর্বলতা এবং অমনোযোগ এসব উপসর্গের অভিজ্ঞতা হয় অনেকের। আমেরিকার ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশনের চীফ মেডিক্যাল অফিসার ডাঃ জোসেফ এ, ডাসালোটি বলেন।

ক্রনিক কিডনি রোগ বছরের পর বছর অতিক্রম করে অগ্রসর হয়, এর ধাপগুলো নির্ধারিত হয় দুটো শর্তের উপরঃ

>(Proteinuria)

রোগীরা যখন কেবল রোগের শেষ পর্যায়ে পৌঁছায়, যেমন কিডনি  নিস্ক্রিয় হওয়া বা প্রান্তিক স্তর কিডনি রোগ (ESRD) তখনই কেবল ডায়ালোসিস বা ক্ষেত্রে বিশেষে কিডনি ট্রান্সপ্লান্টের প্রয়োজন হয়। তবে কিডনি নিষ্ক্রিয় হবার পথ অবশ্য দীর্ঘ। হুসটনের নেফ্রোলজিস্ট এবং আমেরিকান এসোসিয়েশন অব কিডনি পেশেন্টেস এর সহ-সভাপতি ডাঃ স্টিফেন ফাদেম বলেন, রোগীদের একটি ক্ষুদ্র শতাংশের প্রয়োজন হয় ডায়ালিসিস।

ক্রনিক কিডনি রোগ নিজেই হৃদযন্ত্ররক্তনালী ব্যবস্থার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করতে পারে এবং গুরুতর চিকিৎসা সমস্যা যেমন রক্তস্বল্পতা , ভিটামিন ডি ঘাটতি এবং হাড়ের রোগ ঘটাতে পারে। এসব রোগীরা কিডনি নিষ্ক্রিয় হয়ে মরার আগে হৃদরোগে মৃত্যু বরণ করতে পারেন।

পরিসংখ্যান আছে যে আফ্রিকান-আমেরিকান, ল্যাটিনোস এবং অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মধ্যে আনুপাতিকহারে বেশি উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস হওয়াতে এদের কিডনি রোগও নিস্ক্রিয়ার বেশি অভিজ্ঞতা হয়। অন্যান্য ক্ষেত্রে অন্তনিরহিত থাকতে পারে জীনগত বৈকল্য, অট্যোইম্যুন অসুখ, কিছু কিছু ওষুধ যেমন প্রদাহ রোধী ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার এবং কিডনি প্রদাহ বা গ্লুমেরুলো নেফ্রাইটস।

অন্যান্য দেশের মত আমাদের দেশেও রয়েছে ন্যাশনাল কিডনি ফাউন্ডেশন, আছেন নামকরা কিডনি বিশেষজ্ঞরা- কিডনি রোগ সম্বন্ধে জনসচেতনতা সৃষ্টি, গবেষণা, চিকিৎসা, স্ক্রিনিং প্রোগ্রাম, জার্নাল প্রকাশনা এসব অনেক কাজ করে যাচ্ছেন এই ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা। আমেরিকার মত দেশে ফাউন্ডেশনের প্রাকটিস গাইডলাইন অনেকটা ওষুধ শিল্প দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় যা আমাদের দেশে এখনও ঘটেনি বলে স্বস্তি।

ফাউন্ডেশনের গবেষকরা দেখেছেন, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চরক্তচাপ ও ডায়াবেটিস সম্বন্ধে ধারণা থাকলেও অনেকে এসব রোগের সঙ্গে কিডনি রোগের সম্পর্ক অবহিত নন। লোকজনের ধারণা  নেই যে দিনে এক চা চামচ নুনের বেশি গ্রহণ গ্রহণ করা ঠিক নয়। খাদ্যের গায়ে যে লেবেল তা পড়ে জানতে হয়। ডাক্তারকে প্রশ্ন করে জেনে নিতে হয় রোগ সম্বন্ধে। রোগীরা জানাবেন কিডনি রোগের ঝুঁকি সম্বন্ধে এবং রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস থাকলে একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্বন্ধে।                  

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

পেটের ক্যান্সার

প্রাথমিক ভাবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন উপসর্গ চলতে থাকলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ। রোগ নির্ণয়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE