Home / ইসলাম / ইসলাম ও সমাজ / সমকাম-ইসলামে সমলিঙ্গ সঙ্গম করার বিধান ও শাস্তি

সমকাম-ইসলামে সমলিঙ্গ সঙ্গম করার বিধান ও শাস্তি

সমকাম বা সমলিঙ্গ যৌনতার দিকে দিনে দিনে মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। কোন কোন দেশ আবার এই প্রকৃতি বিরোধী বিকৃত যৌনতাকে বৈধতা দিচ্ছে। একটি বিশেষ গোষ্ঠী বাংলাদেশে নাটক-চলচিত্র-ম্যাগাজিন, ব্লগ ও সোশ্যাল মিডিয়ার দ্বারা সমাজ বিধ্বংসকারী সমলিঙ্গ সঙ্গমকে প্রমোট করে যাচ্ছে। এমনতা অবস্থায় ঈমান-আমল রক্ষায় মুসলিম সম্প্রদায়ের সমকামিতা বা সমলিঙ্গ সঙ্গম সম্পর্কে ইসলামের বিধান ও ভয়াবহ শাস্তির সম্পর্কে অবগত হওয়ার প্রয়োজন। পাশাপাশি সমলিঙ্গ যৌনতার প্রতি কেউ যাতে আগ্রহী না হয় সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখার প্রয়োজন। আজকের সমকাম বা সমলিঙ্গ সঙ্গম সম্পর্কের বিশদ আলোচনার দ্বারা ইসলামে সমলিঙ্গ যৌনাচারের বিধান, সমলিঙ্গের সঙ্গমের ক্ষতি ও সমাজের উপর বিরূপ প্রভাব সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করতে পারবেন বলে আমরা মনে করি। –সৈয়দ রুবেল (সম্পাদক-আমার বাংলা পোস্ট.কম)

সমকাম বা সমলিঙ্গ সঙ্গম বলতে যা বোঝায়!

সমকাম বা পায়ুগমন বলতে পুরুষে পুরুষে একে অপরের মলদ্বার ব্যবহারের মাধ্যমে নিজ যৌন উত্তেজনা নিবারণ করাকেই বুঝানো হয়।
সমকাম একটি মারাত্মক গুনাহ’র কাজ। যার ভয়াবহতা কুফরের পরই। হত্যার চাইতেও মারাত্মক। বিশ্বে সর্বপ্রথম লূত্ব (আঃ) এর সম্প্রদায় এ কাজে লিপ্ত হয় এবং আল্লাহ তা’আলা তাদেরকে এমন শাস্তি প্রদান করেন যা ইতিপূর্বে কাউকে প্রদান করেননি। তিনি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। তাদের ঘরবাড়ী তাদের উপরই উল্টিয়ে দিয়ে ভূমিতে তলিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করেছেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“আর আমি লূত্ব (আঃ) কে নবুওয়াত দিয়ে পাঠিয়েছি। যিনি তাঁর সম্প্রদায়কে বললেনঃ তোমরা কি এমন মারাত্মক অশ্লীল কাজ করছো যা ইতিপূর্বে বিশ্বের আর কেউ করেনি। তোমরা স্ত্রীলোকদেরকে বাদ দিয়ে পুরুষ ইতিপূর্বে বিশ্বের আর কেউ করেনি। তোমরা স্ত্রীলোকদেরকে বাদ দিয়ে পুরুষ কর্তৃক যৌন উত্তেজনা নিবারণ করছো। প্রকৃতপক্ষে তোমরা হচ্ছো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়। (আ’রাফ : ৮০-৮১)
আল্লাহ তা’আলা উক্ত কাজকে অত্যন্ত নোংরা কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেনঃ
“আর আমি লূত্ব (আ) কে জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দিয়েছি এবং তাঁকে উদ্ধার করেছি এমন জনপদ থেকে যারা নোংরা কাজ করতো। মূলতঃ তারা ছিলো নিকৃষ্ট প্রকৃতির ফাসিক সম্প্রদায়। (আম্বিয়া : ৭৪)
আল্লাহ তা’আলা অন্য আয়াতে সমকামীদেরকে যালিম বলে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি বলেনঃ
“ফেরেশতারা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) কে বললেনঃ আমরা এ জনপদবাসীদেরকে ধ্বংস করে দেবো। এর অধিবাসীরা নিশ্চয়ই জালিম। ( আনকাবূত : ৩১)
হযরত লূত্ব (আঃ) এদেরকে বিশৃঙ্খল জাতি হিসেবে উল্লেখ করেন। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“হযরত লূত্ব (আঃ) বললেনঃ হে আমার প্রভু! আপনি আমাকে এ বিপর্যয় সৃষ্টিকারী সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সাহায্য করুণ। (আনকাবূত : ৩০)
হযরত ইব্রাহীম (আঃ) তাদের ক্ষমার জন্য জোর সুপারিশ করলেও তা শুনা হয়নি। বরং তাঁকে বলা হয়েছেঃ
“হে ইব্রাহীম! এ ব্যাপারে আর একটি কথাও বলো না। (তাদের ধ্বংসের ব্যাপারে) তোমার প্রভুর ফরমান এসে গেছে এবং তাদের উপর এমন এক শাস্তি আসছে যা কিছুতেই টলবার মতো নয়। ( হুদ : ৭৬)
যখন তাদের শাস্তি নিশ্চিত হয়ে গেলো এবং তা ভোরে ভোরেই আসবে বলে লূত্ব (আঃ) কে জানিয়ে দেয়া হলো তখন তিনি তা দেরী হয়ে যাচ্ছে বলে আপত্তি জানালে তাঁকে বলা হলোঃ
“সকাল কি অতি নিকটেই নয়?! কিংবা সকাল হতে কি এতই দেরী?! ( হুদ : ৮১)
আল্লাহ তা’আলা লূত্ব (আঃ) এর সম্প্রদায়ের শাস্তির ব্যাপারে বলেনঃ
“অতঃপর যখন আমার ফরমান জারি হলো তখন ভূ-খন্ডটির উপরিভাগকে নিচু করে দিলাম এবং ওর উপর ঝামা পাথর বর্ষণ করতে লাগলাম, যা ছিল একাধারে এবং যা বিশেষভাবে চিহ্নিত ছিলো তোমার প্রভুর ভাণ্ডারে। আর উক্ত জনপদটি এ যালিমদের থেকে বেশি দূরে নয়। (হুদ : ৮২-৮৩)
আল্লাহ তা’আলা অন্য আয়াতে বলেনঃ
“অতঃপর তাদেরকে সূর্যোদয়ের সকয়ই এক বিকট আওয়াজ পাকড়াও করলো। এরপরই আমি জনপদটিকে উল্টিয়ে উপর—নীচ করে দিলাম এবং তাদের উপর ঝামা পাথর বর্ষণ করলাম। অবশ্যই এতে নিদর্শন রয়েছে পর্যবেক্ষণশক্তি সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য। আর উক্ত জনপদটি (উহার ধ্বংস স্তুপ) স্থায়ী (বহু প্রাচীন) লোক চলাচলের পথি পার্শ্বেই এখনও বিদ্যমান। অবশ্যই এতে রয়েছে মু’মিনদের জন্য নিশ্চিত নিদর্শন। (হুদ : ৭৩-৭৭)
হযরত ‘আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
“আল্লাহ তা’আলা সমকামীকে লা’নত করেন। আল্লাহ তা’আলা সমকামীকে লা’নত করেন। আল্লাহ তা’আলা সমকামীকে লা’নত করেন। (আহমাদ—হাদিস নং ২৯১৫, ইবনু হিব্বান-হাদীস নং ৪৪১৭, বায়হাক্বী—হাদীস ৭৩৩৭,১৬৭৯৪ ত্বাবারানী/কাবীর, হাদীস ১১৫৪৬ আবু ইয়া’লা, হাদীস ২৫৩৯ ‘আব্দুবনু’ হুমাইদ, হাদীস ৫৮৯ হা’কিম ৪/৩৫৬)
হযরত আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
“সমকামীরাই অভিশপ্ত। সমকামীরাই অভিশপ্ত।সমকামীরাই অভিশপ্ত।( সহীহুত—তারগীবি ওয়াত—তারহীব, হাদীস ২৪২০)
বর্তমান যুগে সমকামের বহুল প্রচার ও প্রসারের কথা কানে আসতেই রাসূল (সাঃ) এর সে ভবিষ্যদ্বাণীর কথা স্মরণ এসে যায় যাতে তিনি বলেনঃ
“আমার উম্মতের উপর সমকামেরই বেশি আশঙ্কা করছি। (তিরমিযী, হাদীস ১৪৫৭ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৬১১ আহমাদ ২/৩৮২, সহীহুত তারগীবি ওয়াত-তারহীর, হাদীস ২৪১৭)
হযরত ফুযাইল ইবনু ইয়ায (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ
“কোন সমকামী ব্যক্তি আকাশের সমস্ত পানি দিয়ে গোসল করলেও সে আল্লাহ তা’আলার সাথে অপবিত্রাবস্থায় সাক্ষাৎ করবে।( দূরী/যম্মুললিওয়াত্ব : ১৪২)

সমকামের অপকারিতা ও তাঁর ভয়াবহতাঃ

সমককামের মধ্যে এতো বেশি ক্ষতি ও অপকার নিহিত রয়েছে যার সঠিক গণনা সত্যিই দুষ্কর। যা ব্যক্তি ও সমষ্টি পর্যায়ের এবং দুনিয়া ও আখিরাত সম্পর্কীয়। যার কিয়দংশ নিম্নরূপঃ

ধর্মীয় অপকার সমূহঃ
প্রথমতঃ তা কবীরা গুনাহ সমূহের একটি। তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অনেক অনেক নেক আমল থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। এমনকি তা যে কারোর তাওহীদ বিনষ্টে বিশেষ ভূমিকা রাখে। আর তা এভাবে যে, এ নেশায় পড়ে শ্মশ্রুবিহীন ছেলেদের সাথে ধীরে ধীরে ভালোবাসা জন্ম নেয়। আর তা একদা তাকে শির্ক পর্যন্ত পৌঁছিয়ে দেয়। কখনো ব্যাপারটি এমন পর্যায়ে দাঁড়ায় যে, সে ধীরে ধীরে অশ্লীলতাকে ভালোবেসে ফেলে এবং সাধুতাকে ঘৃণা করে। তখন সে হালাল মনে করেই সহজভাবে উক্ত কর্মতৎপরতা চালিয়ে যায়। তখন সে কাফির ও মুরতাদ হতে বাধ্য হয়। এ কারণেই বাস্তবে দেখা যায় যে, যে যত বেশি শিরকের দিকে ধাবিত সে তত বেশি এ কাজে লিপ্ত। তাই লুত্ব সম্প্রদায়ের মুশরিকরাই এ কাজে সর্ব প্রথম লিপ্ত হয়।
এ কথা সবারই জানা উচিৎ যে, শিরক ও ইশক্ব পরস্পর অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। আর ব্যভিচার ও সমকামের পূর্ণ মজা তখনই অনুভূত হয় যখন এর সাথে ইশক্ব জড়িত হয়। তবে এ চরিত্রের লোকদের ভালোবাসা এক জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং তা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে পরিবর্তনশীল। আর তা একমাত্র শিকারের পরিবর্তনের কারণেই হয়ে থাকে।

চারিত্রিক অপকার সমূহঃ
প্রথমতঃ সমকামই হচ্ছে চারিত্রিক এক অধঃপতন। স্বাভাবিকতা বিরুদ্ধ। এরই কারণে লজ্জা কমে যায়, মুখ হয় অশ্লীল এবং অন্তর হয় কঠিন, অন্যদের প্রতি দয়া—মায়া সম্পূর্ণ রূপে নিঃশেষ হয়ে একেবারেই তা এককেন্দ্রিক হয়ে যায়, পুরুষত্ব ও মানবতা বিলুপ্ত হয়, সাহসিকতা, সম্মান ও আত্মমর্যাদাবোধ বিনষ্ট হয়। নির্যাতন ও অঘটন ঘটাতে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে সাহসী করে তোলে। উচ্চ মানসিকতা বিনষ্ট করে দেয় এবং তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে বেকুব বানিয়ে তোলে। তাঁর উপর থেকে মানুষের আস্থা কমে যায়। তাঁর দিকে মানুষ খিয়ানতের সন্দিহান দৃষ্টিতে তাকায়। উক্ত ব্যক্তি ধর্মীয় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত হয় এবং উত্তরোত্তর সার্বিক উন্নতি থেকে ক্রমান্বয়ে পিছে পড়ে যায়।

মানসিক অপকার সমূহঃ
উক্ত কর্মের অনেকগুলো মানসিক অপকার রয়েছে যা নিম্নরূপঃ
১. অস্থিরতা ও ভয়—ভীতি অধিক হারে বেড়ে যায়। কারণ, আল্লাহ তা’আলার আনুগত্যের মধ্যেই রয়েছে সার্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা। যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ তা’আলাকেই ভয় করবে আল্লাহ তা’আলা তাকে অন্য সকল ভয় থেকে মুক্ত রাখবেন। আর যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করবে না তাকে সকল ভয় এমনিতেই ঘিরে রাখবে। কারণ, শাস্তি কাজ্জের অনুরূপ হওয়াই শ্রেয়।
২. মানসিক বিশৃঙ্খলতা ও মনের অশান্তি তাঁর নিকট প্রকট হয়ে দেখা দেয়। এ হচ্ছে আল্লাহ তা’আলার পক্ষ থেকে সে ব্যক্তির জন্য নগদ শাস্তি যে ব্যক্তি একমাত্র আল্লাহ তা’আলা ছাড়া অন্যকে ভালোবাসবে। আর এ সম্পর্ক যতই ঘনিষ্ট হবে মনের অশান্তি ততই বেড়ে যাবে।
আল্লামাহ ইবনু তাইমিয়্যাহ (রাহিমাহুল্লাহ) বলেনঃ এ কথা সবারই জানা উচিৎ যে, কেউ কাউকে ভালোবাসলে (যে ভালোবাসা একমাত্র আল্লাহ তা’আলার জন্য নয়) সে প্রিয়্য ব্যক্তি অবশ্যই তাঁর অরেমিকের ক্ষতি সাধন করবে এবং এ ভালোবাসা অবশ্যই প্রেমিকের যে কোন ধরনের শাস্তির কারণ হবে।
৩. এ ছাড়াও উতক অবৈধ সম্পর্ক অনেক ধরনের মানসিক রোগের জন্ম দেয় যা বর্ণনাতীত । যার দরুন তাদের জীবনের স্বাদ একেবারেই নিঃশেষ হয়ে যায়।
৪. এ জাতীয় লোকেরা একাকী থাকাকেই বেশি ভালোবাসে এবং তাদের একান্ত শিকার অথবা উক্ত কাজের সহযোগী ছাড়া অন্য কারোর সাথে এরা একেবারেই মিশতে চায় না।
৫. স্বকীয়াতা ও ব্যক্তিত্বহীনতা জন্ম নেয়। মেযাজ পরিবর্তন হয়ে যায়। যে কোন কাজে এরা স্থির সিদ্ধান্ত নিতে পারে না।
৬. নিজের মধ্যে পরাজয় ভাব জন্ম নেয়। নিজের উপর এরা কোন ব্যাপারেই আস্থাশীল হতে পারে না।
৭. নিজের মধ্যে এক জাতীয় পাপ বোধ জন্ম নেয়। যার দরুন সে মনে করে সবাই আমার ব্যাপারটা জেনে ফেলেছে। সুতরাং মানুষের ব্যাপারে তাঁর একটা খারাপ ধারণা জন্ম নেয়।
৮. এ জাতীয় লোকদের মাঝে হরেক রকমের ওয়াসওয়াসা ও অমূলক চিন্তা জন্ম নেয়। এমনকি ধীরে ধীরে সে পাগলের রূপ ধারণ করে।
৯. এ জাতীয় লোক ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণহীন যৌন তাড়নায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে। সদা সর্বদা সে যৌন চেতনা নিয়েই ব্যস্ত থাকে।
১০. মানসিক টানাপড়েন ও বেপরোয়াভাব এদের মধ্যে এজন্ম নেয়।
১১. বিরক্তি ভাব, নিরাশা, কুলক্ষুণে ভাব, আহাস্মকি জযবাও এদের মধ্যে জন্ম নেয়।
১২. এদের দেহের কোষ সমূহের উপরও এর বিরাট একটা প্রভাব রয়েছে। যার দরুন এ ধরণের লোকেরা নিজকে পুরুষ বলে মনে করে না। এ কারণেই এদের কাউ কাউকে মহিলাদের সাজ—সজ্জা গ্রহণ করতেও দেখা যায়।

শারীরিক অপকার সমূহঃ
শারীরিক ক্ষতির কথা তো বলাই বাহুল্য। কারণ, আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞান কিছু দিন পর পরই এ সংক্রান্ত নতুন নতুন রোগ আবিস্কার করে। চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা কোন একটি রোগের উপযুক্ত ওষুধ খুঁজতে খুঁজতেই দেখা যায় নতুন আরেকটা রোগ আবিস্কৃত হয়ে গেছে। এই হচ্ছে রাসূল (সাঃ) এর ভবিষ্যদ্বাণীর সত্যিকার ফলাফল।
হযরত আব্দুল্লাহ বিন উমর (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেনঃ
“কোন সম্প্রদায়ের মাঝে ব্যভিচার তথা অশ্লীলতা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে পড়লে তাদের মধ্যে অবশ্যই মহামারি ও বহু প্রকারের রোগ—ব্যাধি ছড়িয়ে পড়বে যা তাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে ছিলো না। সুতরাং ব্যাধিগুলো নিম্নরূপঃ
১. নিজ স্ত্রীর প্রতি ধীরে ধীরে অনীহা জন্ম নেয়।
২. লিঙ্গের কোষগুলো একেবারেই ঢিলে হয়ে যায়। যদ্দরুন পেশাব ও বীর্যপাতের উপর কোন নিয়ন্ত্রণই থাকে না।
৩. এ জাতীয় লোকেরা টাইফয়েড এবং ডিসেন্ট্রিয়া রোগেও আক্রান্ত হয়।
৪. এরই ফলে সিফিলিস রোগেরও বিশেষ প্রাদুর্ভাব ঘটে। লিঙ্গ অথবা রোগীর হৃদপিণ্ড, আতঁ, পাকস্থলী, ফুসফুস ও অণ্ডকোষের ঘা এর মাধ্যমেই এ রোগের শুরু। এমনকি পরিশেষে তা অনগ বিকৃতি, অন্ধত্ব, জিহ্বা’র ক্যান্সার এবং অঙ্গহানীর বিশেষ কারণও হয়ে দাঁড়ায়। এটি ডাক্তারদের ধারণায় একটি দ্রুত সংক্রামক ব্যাধি।
৫. কখনো কখনো এরা গনোরিয়ায়ও আক্রান্ত হয় এবং এ রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সাধারণতঃ একটু বেশি। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়, ১৯৭৫ সালে উক্ত রোগে প্রায় পঁচিশ কোটি মানুষ আক্রান্ত হয়। বর্তমানে ধারণা করা হয়, এ জাতীয় রোগীর হার বছরে বিশ থেকে পঞ্চাশ কোটি। যার অধিকাংশই যুবক।
এজাতীয় রোগে প্রথমত লিঙ্গে এক ধরনের জ্বলন সৃষ্টি হয়। এরই পাশাপাশি তাতে বিশ্রী পুঁজও জন্ম নেয়। এটি বন্ধ্যত্বের একটি বিশেষ কারণও বটে। এরই কারণে ধীরে ধীরে প্রস্রাবের রাস্তাও বন্ধ হয়ে যায়। প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। উক্ত জ্বলনের কারণে ধীরে ধীরে লিঙ্গাগ্রের ছিদ্রের আশপাশে লাল হয়ে যায়। পরিশেষে সে জ্বলন মুত্রথলী পর্যন্ত পৌঁছোয়। তখন মাথা ব্যথা, জ্বর ইত্যাদি শুরু হয়ে যায়। এমনকি এর প্রতিক্রিয়া শরীরের রক্তে পৌঁছুলে তখন হৃদপণ্ডে জ্বলন সৃষ্টি হয়। আরো কত্তো কী?
৬. হেরপেস রোগও এ সংক্রান্ত একটি অন্যতম ব্যাধি। আমেরিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের একটি রিপোর্টে বলা হয়, হেরপেসের এখনো কোন চিকিৎসা উদ্ভাবিত হয়নি এবং এটি ক্যান্সার চাইতেও মারাত্মক। শুধু আমেরিকাতেই এ রোগীর হার বছরে দু’কোটি এবং ব্রিটিনে এক লক্ষ।
এরোগ হলে প্রথমে লিঙ্গাগ্রে চুলকানি অনুভূত হয়। অতঃপর চুলকানির জায়গায় লা ধরনের ফোসকা জাতীয় কিছু দেখা দেয় যা দ্রুত বড় হয়ে পুরো লিঙ্গে এবং যার সাথে সমকাম করা হয় তাঁর গুহ্যদ্বারে ছড়িয়ে পড়ে। এগুলোর ব্যথা খুবই চরম এবং এগুলো ফেটে গিয়ে পরিশেষে সেস্থানে জ্বলন ও পুঁজ সৃষ্টি হয়। কিছু দিন পর রান ও নাভির নীচের অংশও ভীষণভাবে জ্বলতে থাকে। এমনকি তা পুরো শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে এবং তাঁর মগজ পর্যন্তও পৌঁছোয়। এ রোগের শারীরিক ক্ষতির চাইতেও মানসিক ক্ষতি অনেক বেশী।
৭. এইডসও এ সংক্রান্ত একটি অন্যতম রোগ। এ রোগের ভয়ঙ্করতা নিম্নের ব্যাপার গুলো থেকে একেবারেই সুস্পষ্ট হয়ে যায়ঃ
ক. এ রোগে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি।
খ. এ রোগ খুবই অস্পষ্ট। যার দরুন এ সংক্রান্ত প্রশ্ন অনেক বেশি। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সেগুলোর তেমন আশানুরূপ উত্তর দিতে পারছেন না।
গ. এ রোগের চিকিৎসা একাবারেই নেই অথবা থাকলেও তা অতি স্বল্প মাত্রা।
ঘ. এ রোগ দ্রুত বিস্তার লাভ করে।
এইডসের কারণে মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়ে। যার দরুন যে কোন ছোট রোগও তাকে সহজে কাবু করে ফেলে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এ রোগে আক্রান্ত শতকরা ৯৫ জনই সমকামী এবং এ রোগে আক্রান্তদের শতকরা ৯০ জনই তিন বছরের মধ্যে মৃত্যু বরণ করে।
৮. এ জাতীয় লোকেরা “ভালোবাসার ভাইরাস” অথবা “ভালোবাসার রোগ” নামক নতুন ব্যাধিতেও কখনো কখনো আক্রান্ত হয়। তবে এটি এইডস চাইতেও অনেক ভয়ানক। এ রোগের তুলনায় এইডস একটি খেলনা মাত্র।
এ রোগে কেউ আক্রান্ত হলে ছয় মাস যেতে না যেতেই তাঁর পুরো শরীর ফোসকা ও পুঁজে ভরে যায় এবং ক্ষরণ হতে হতেই সে পরিশেষে মারা যায়। সমস্যার ব্যাপার হলো এই যে, এরোগটি একেবারেই লুক্কায়িত থাকে ততক্ষণ না যৌন উত্তেজনা প্রশমনের সময় এ সংক্রান্ত হরমোনগুলো উত্তেজিত হয়। আর তখনই উক্ত ভাইরাসগুলো নব জীবন পায়। তবে এ রোগ যে কোন পন্থায় সংক্রমণ করতে সক্ষম। এমনকি বাতাসের সাথেও।

সমকামের শাস্তিঃ
কারোর ব্যাপারে সমকাম প্রমাণিত হয়ে গেল তাকে ও তাঁর সমকামী সঙ্গীকে শাস্তি স্বরূপ হত্যা কর‍তে হয়।
হযরত “আব্দুল্লাহ বিন” আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেনঃ
“কাউকে সমকাম করতে দেখলে তোমরা উভয় সমকামীকেই হত্যা করবে। (আবু দাউদ, হাদীস ৪৪৬২ তিরমিযী, হাদীস ১৪৫৬ ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৬০৯ বায়হাক্কী, হাদীস ১৬৭৯৬ হা’কিম, হাদীস ৮০৪৯)
উক্ত হত্যার ব্যাপারে সাহাবাদের ঐকমত্য রয়েছে। তবে হত্যার ধরনের ব্যাপারে তাদের পরস্পরের মধ্যে মতানৈক্য রয়েছে।
হযরত আবু হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সা) ইরশাদ করেনঃ
“উপর—নীচের উভয়কেই রজম করে হত্যা করো।(ইবনু মাজাহ, হাদীস ২৬১০)
হযরত আবু বকর, ‘আলী, ‘আব্দুল্লাহ বিন যুবাইর (রা) এবং হিশাম বিন আব্দুল মালিক (রাহিমাহুল্লাহ) সমকামীদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করেছেন।
হযরত মুহাম্মাদ বিন মুনকাদির (রাহিমাহুল্লাহ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
“হযরত খালিদ বিন ওয়ালীদ (রা) হযরত আবু বকর (রা) এর নিকট এ মর্মে একটি চিঠি পাঠালেন যে, তিনি আরবের কোন এক মহল্লায় এমন এক ব্যক্তিকে পেয়েছেন যাকে যৌন উত্তেজনা নিবারণ করা হয় যেমনিভাবে নিবারণ করা মহিলা দিয়ে। তখন হযরত আবু বকর (রা) সকল সাহাবাদেরকে একত্রিত করে এ ব্যাপারে তাদের পরামর্শ চেয়েছেন। তাদের মধ্যে ‘আলী (রা)ও উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেনঃ এ এমন একটি গুনাহ যা বিশ্বে শুধুমাত্র একটি উম্মতই সংঘটন করেছে। আল্লাহ তা’আলা ওদের সঙ্গে যে ব্যবহার করেছেন তা সম্পর্কে আপনারা অবশ্যই অবগত। অতএব আমার মত হচ্ছে, তাকে আগুনে জ্বালিয়ে দেয়া হবে। উপস্থিত সকল সাহাবারাও উক্ত মতের সমর্থন করেন। তখন হযরত আবু বকর (রা) তাকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়ার ফরমান জারি করেন। (বায়হাক্কী/শু’আবুল ঈমান, হাদীস ৫৩৮৯)
হযরত ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুম) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ
“সমকামীকে মহল্লার সর্বোচ্চ প্রাসাদের ছাদ থেকে উপুড় করে নিক্ষেপ করা হবে। অতঃপর তাঁর উপর পাথর মারা হবে। (ইবনু আবী শাইবাহ, হাদীস ২৮৩২৮ বায়হাক্কী ৮/২৩২)
সমকামীর জন্য পরকালের শাস্তি হচ্ছে আল্লাহ তা’আলা তাঁর প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে কখনো তাকাবেন না।
হযরত ‘আব্দুল্লাহ বিন ‘আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণিত তিনি বলেনঃ রাসূল (সা) ইরশাদ করেনঃ
“আল্লাহ তা’আলা এমন ব্যক্তির প্রতি রহমতের দৃষ্টিতে কখনো তাকাবেন না যে সমকামে লিপ্ত হয় অথবা কোন মহিলার মলদ্বারে গমন করে। (ইবনু আবী শায়বাহ, হাদীস ১৬৮০৩ তিরমিযী, হাদীস ১১৬৫)

সমকামের চিকিৎসাঃ
উক্ত রোগ তথা সমকামের নেশা থেকে বাঁচার উপায় অবশ্যই রয়েছে। তবে তা এ জাতীয় রোগীর পক্ষ থেকে সাদরে গ্রহণ করার অপেক্ষায়। আর তা হচ্ছে দু’প্রকারঃ
রোগাক্রান্ত হওয়ার আগের চিকিৎসাঃ
তা আবার দু’ ধরনেরঃ
1 দৃষ্টিশিক্তি হিফাযতের মাধ্যমে।
কারণ, দৃষ্টিই হচ্ছে শয়তানের বিষাক্ত একটি তীর যা শুধু মানুষের আফসোসই বাড়িয়ে দেয়। সুতরাং শ্মশ্রুবিহীন ছেলেদের প্রতি দৃষ্টিপাত করা থেকে একেবারেই বিরত থাকতে হবে। তা হলেই সমকামের প্রতি অন্তরে আর উৎসাহ জন্ম নিবে না। এ ছাড়াও দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণের অনেকগুলো ফায়দা রয়েছে যা নিম্নরূপঃ
১. তাতে আল্লাহ তা’আলার আদেশ মানা হয়। যা ইবাদতেরই একাংশ এবং ইবাদাতের মধ্যেই সমূহ মানব কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
২. বিষাক্ত তীরের অরভাব থেকে অন্তর বিমুক্ত থাকে। কারণ, দৃষ্টিই হচ্ছে শয়তানের একটি বিষাক্ত তীর।
৩. মন সর্বদা আল্লাহ অভিমুখী থাকে।
৪. মন সর্বদা সন্তুষ্ট ও শক্তিশালী থাকে।
৫. অন্তরে এক ধরনের নূর তথা আলো জন্ম নেয় যার দরুন সে উত্তরোত্তর ভালোর দিকেই ধাবিত হয়।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“(হে রাসূল!) তুমি মু’মিনদেরকে বলে দাওঃ তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং নিজ লজ্জাস্থান হিফাযত করে।” (নূর : ৩০)
এর কয়েক আয়াত পরই আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“আল্লাহ তা’আলাই আকাশ ও পৃথিবীর জ্যোতি। (সত্যিকার ঈমানদারের অন্তরে) তাঁর জ্যোতির উপমা যেন একটি দীপাধার। যার মধ্যে রয়েছে একটি প্রদীপ।
৬. হক্ব ও বাতিল এবং সত্য ও মিথ্যার মাঝে বিশেষ প্রভেদজ্ঞান সৃষ্টি হয় যার দরুন দৃষ্টি সংযতকারীর যে কোন ধারণা অধিকাংশই সঠিক প্রমাণিত হয়। ঠিক এরই বিপরীতে আল্লাহ তা’আলা পূত্ব সম্প্রদায়ের সমকামীদেরকে অন্তরদৃষ্টিশূন্য বলে আখ্যায়িত করেছেন।
আল্লাহ বলেনঃ
“আপনার জীবনের কসম! ওরা তো মত্ততায় বিমূঢ় হয়েছে তথা হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।(হিজর : ৭২)
৭. অন্তরে দৃঢ়তা, সাহসিকতা ও শক্তি জন্ম নেয় এবং মানুষ তাকে সম্মান করে।
আল্লাহ তা’আল বলেনঃ
“সম্মান ও ক্ষমতা তো আল্লাহ তা’আলা, তদীয় রাসূল (সা) এ (সত্যিকার) ঈমানদারদের জন্য। কিন্তু মুনাফিকরা তো তা জানে না।” (মুনা’ফিকুন : ৮)
আল্লাহ তা’আলা আরো বলেনঃ
“কেউ ইযযত ও স্মমান চাইলে সেও যেন জেনে রাখে, সকল সম্মানই তো আল্লাহ তা’আলার। (অতএব তাঁর কাছেই তা কামনা করতে হবে। অন্যের কাছে নয়) তারই দিকে পবিত্র বাণীসমূহ তথা যিকির ইত্যাদি আরোহণ করে এবং নেক আমলই তা উন্নীত করে। (ফা’ত্বির : ১০)
সুতরাং আল্লাহ’র আনুগত্য, যিকির ও মেক আমলের মাধ্যমেই তাঁরই নিকট সম্মান কামনা করতে হবে।
৮. তাতে মানব অন্তরে শয়তানের ঢুকার সুগম পথ বন্ধ হয়ে যায়। কারণ, সে দৃষ্টি পথেই মানব অন্তরে প্রবেশ করে খালিস্থানে বাতাস প্রবেশের চাইতেও অতি দেউত গতিতে। অতঃপর সে দেখা বস্তুটির সুদৃশ্য দৃষ্টি ক্ষেপণকারীর মানসপটে স্থাপন করে। সে দৃষ্ট বস্তুটির মূর্তি এমনভাবে তৈরি করে যে, অন্তর তখন তাকে নিয়েই ব্যস্ত হতে বাধ্য হয়। এরপর সে অন্তরকে অনেক ধরনের আশা ও অঙ্গীকার দিতে থাকে। অন্তরে উত্তরোত্তর কুপ্রবৃত্তির তাড়না জাগিয়ে তোলে। সে মনের মাঝে উত্তেজনার আগুন জ্বালিয়ে দিয়ে তাতে বহু প্রকারের গুনাহ’র জ্বালানি ব্যবহার করে আরো উত্তপ্ত করতে থাকে। অতঃপর হৃদয়টি সে উত্তপ্ত আগুনে লাগাতার পুড়তে থাকে। সে অন্তর্দাহ থেকেই বিরহের উত্তপ্ত ঊর্ধ্ব শ্বাসের সৃষ্টি।
৯. অন্তর সর্বদা মঙ্গলজনক কর্ম সম্পর্কে চিন্তা করার সুযোগ পায়। অবৈধ দৃষ্টি ক্ষেপণে মানুষ সে সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। অন্তর গাফিল হয়ে যায়। প্রবৃত্তি পূজায় ধাবিত হয় এবং সকল ব্যাপারে এক ধরনের গোলযোগ সৃষ্টি হয়।
একারণেই আল্লাহ তা’আলা রাসূল (সা) কে এদের আনুগত্য করতে নিষেধ করেন।
আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ
“যার অন্তরকে আমি আমার স্মরণে অমনোযোগী করে দিয়েছি এবং যে তাঁর খেয়াল—খুশির অনুসরণ করে এমনকি যার কার্যকলাপ সীমাতিক্রম করেছে আপনি তাঁর আনুগত্য করবেন না। (কাহফ : ২৮)
১০. অন্তর ও দৃষ্টির মাঝে এমন এক সুগভীর সম্পর্ক রয়েছে যে, একটি খারাপ হলে অন্যটি খারাপ হতে বাধ্য। তেমনিভাবে একটি সুস্থ থাকলে অন্যটিও সুস্থ থাকতে বাধ্য। সুতরাং যে দৃষ্টিকে নিয়ন্ত্রণ করবে তাঁর অন্তরও তারই নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
1 তা থেকে দূরে রাখে এমন বস্তু নিয়ে ব্যস্ততার মাধ্যমে।
আর তা হচ্ছে আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে অধিক ভয় বা অধিক ভালোবাসা। অর্থাৎ অন্যকে ভালোবাসার কারনে আল্লাহ তা’আলার ভালোবাসা না

সমাপ্ত।

আপনি পড়ছেনঃ হারাম ও কবীরা গোনাহ (প্রথমাংশ)

সম্পাদনায়ঃ মোস্তাফিজুর রহমান বিন আব্দুল আজিজ।     

আরও পড়ুন >> ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, আমাদের সমকাম আর্টিকেলটি পড়ে আপনার কাছে পড়ে ভালো লেগে থাকলে এটি অবশ্যই শেয়ার করে সমকাম সম্পর্কে মুসলিম সম্প্রদায়কে সতর্ক করার অবদান রাখুন। আর্টিকেল সম্পর্কে আপনার মতামত জানাতে অবশ্যই কমেন্ট করুন।

রেটিং দিন

User Rating: 4.6 ( 2 votes)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

কেউ কারও দাস নয়, সবাই আল্লাহর দাস

কেউ কারও দাস নয়, সবাই আল্লাহর দাস সম্প্রতি থাইল্যান্ডে ১৩০ বাংলাদেশী দাস শ্রমিক উদ্ধার হয়েছে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE