Breaking News
Home / ইসলাম / শিক্ষামূলক গল্প / মানুষকে সন্তুষ্ট করতে ঘোড়ার মালিকের বিপদ।

মানুষকে সন্তুষ্ট করতে ঘোড়ার মালিকের বিপদ।

আল্লাহকে সন্তুষ্টি লাভের জন্যে যা কিছু করার করতে থাক। লোকে কি বলবে সেদিকে তাকাবে না। কারণ এক সঙ্গে সবাইকে সন্তুষ্ট করা যাবে না।

তাহলে ঘোড়ার মালিকের অবস্থা হবে। 

এক ব্যক্তি ঘোড়ায় চড়ে সফরে বের হলো। সঙ্গে তার স্ত্রী এবং ছেলে হেঁটে যাচ্ছিল।

একটি গ্রাম অতিক্রম করার সময় লোকেরা বললো, ‘দেহ, দেখ।

কত বড় নিষ্ঠুর লোক! স্ত্রী-সন্তানকে হাঁটিয়ে নিচ্ছে আর নিজে ঘোড়ার সওয়ার হয়ে যাচ্ছে।

লোকটি ভাবলো লোকেরা ঠিকই তো বলছে। এ ভেবে নীচে নেমে আসলো এবং ছেলেকে ঘোড়ার চড়িয়ে নিজে হেঁটে যেতে লাগলো।

রাস্তায় ছেলেকে ঘোড়ার পিঠে দেখে গ্রামের লোকেরা বললো, “দেখ দেখ, ছেলেটা কত বড় বেয়াদব। নিজে ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছে আর বৃদ্ধ বাপকে হাঁটিয়ে নিচ্ছে।”

লোকটি ভাবলো, এরা ঠিকই বলছে। সুতরাং এবার স্ত্রীকে ঘোড়ায় বসিয়ে নিজেরা হেঁটে যেতে লাগলো।

অতঃপর একটি গ্রাম অতিক্রম করার সময় লোকেরা বলতে লাগলো, একেই বলে বউয়ের মুরিদ। মনে হচ্ছে স্ত্রীর কাছে একেবারে দাস-খত লিখে দিয়েছে।

লোকটি ভাবলো আরাও ঠিক বলছে। একথা চিন্তা করে স্ত্রী- সন্তান সবাইকে নিয়ে আবার ঘোড়ার পিঠে চড়ে বসলো।”

অতঃপর এক গ্রাম অতিক্রম করার সময় লোকেরা দেখে বললো,

“আরো! ঘোড়াটাকে কেন তিলে তিলে মারছ? একটা গুলি করে দিলেই তো হয়ে যায়। একটা ঘোড়ায় একসাথে কতজন মানুষ সওয়ার হয়েছে।”

লোকটি দেখলো সবই ঠিক আছে। তাড়াতাড়ি সবাই নেমে পড়লো এবং ঘোড়ার লাগাম ধরে হেঁটে চললো।

পথে লোকেরা তাদেরকে দেখে বলতে লাগলো, “দেখ, না-শোকের বান্দা একেই বলে। আল্লাহর নেয়ামতের কোন কদর নেই। ঘরে নিজের যান-বাহন রয়েছে, অথচ সবাই হেঁটে যাচ্ছে। আরে পালাক্রমে এক একজন করে চড়লেও তো পারে। সওয়ার  হওয়ার যদি ইচ্ছাই না থাকতো তবে সঙ্গে নিয়ে আসার কি প্রয়োজন ছিল? ঘরে বেঁধে রেখে আসলেই তো ভালো হতো।”

লোকটি দেখলো ঘোড়ায় চড়ার কোন পদ্ধতিই আর বাদ রাখা হয়নি।

সুতরাং ঘোড়ায় না চড়ে (এবং ঘোড়াকে হাঁটিয়ে না নিয়ে) অনস্য কোন পদ্ধতি আছে কিনা তাই করতে হবে।

হঠাৎ লোকটির মাথায় একটি বুদ্ধি খেললো। লোকটি একটি লম্বা বাঁশ নিয়ে আসলো। বাশে ঘোড়ার চার পা বেঁধে ঘোড়াকে ঝুলিয়ে বাঁশের দুই দিক থেকে দুই বাপ-বেটা ঘাড়ে করে চলতে লাগলো। ঘোড়ার মাথা নিচের দিকে থাকলো আর পা উপরের দিকে। একটি নদী পার হওয়ার জন্যে তারা যখন অউল পার হচ্ছিল এ অদ্ভুত দৃশ্য দেখে পাড়ার ছেলেরা সব চিৎকার দিয়ে উঠলো। এ চিৎকার শুনে ঘোড়ার ভয়ে এক ঝাকুনি মেরে ছিটকে নদীতে পড়ে গেল। বাঁশের বাড়ি খেয়ে দুই বাপ-বেটা উপুড় হয়ে পড়ে কারো মাথা ফাটলো কারো থুতলী ফেটে রক্ত ঝরতে লাগলো। লোকটি দেখলো মানুষকে সন্তুষ্ট করার বিপদ কত মারাত্মক।  এত চেষ্টা করেও মানুষকে সন্তুষ্ট করা গেল না। মানুষকে খুশী করতে গিয়ে ঘোড়াও হারালাম মাথাও ফাটালাম।

সুতরাং মানুষের মন্তব্যে কর্ণপাত করবে না। শরীয়ত মতে যা সঠিক হয় তাই করতে থাক।

মানুষকে সন্তুষ্ট এবং আল্লাহকেও সন্তুষ্ট এ দুটা এক সঙ্গে সম্ভব নয়।

বরং মানুষের উক্তির প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে একমাত্র আল্লাহ পাকের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দিলেই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

       ( আল-এফাযাতুল ইয়াউমিয়্যাহ, খন্ড-৪, পৃষ্ঠা-৩৪৪)   

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

তিন যুবকের গল্প

গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবকের গল্প ও শিক্ষা

একবার তিনজন যুবক পথ চলছিল, এমন সময় তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হ’ল। অতঃপর তারা এক পাহাড়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE