Breaking News
Home / ইসলাম / শিক্ষামূলক গল্প / দরবেশ ও বাঘের ঘটনা

দরবেশ ও বাঘের ঘটনা

ইংরেজগণ পাক-ভারত উপমহাদেশের একটি অকৃতজ্ঞ জাতিকে অগ্রসর হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছিল। আর একটি কৃতজ্ঞ জাতিকে পিছনে ফেলে দিয়েছিল; কিন্তু এর ফল যা হয়েছিল তা দেখে পরবর্তী কালে এ ইংরেজগণ আফসোস আর দুঃখ প্রকাশ করেছে।

একজন উচ্চ পর্যায়ের ইংরেজ হাকিম গোরক্ষপুরে সফরে গিয়েছিলেন। সেখান কার জমিদারের ম্যানেজারের কাছে এ প্রসঙ্গে তিনি দুঃখ প্রকাশ একটি ঘটনা বর্ণনা করেছিল। ঘটনাটি নিম্নরূপঃ

একটি নির্জন কক্ষে একজন দরবেশ বাস করতেন। সে কক্ষে এক ইদুর এসে বাচ্ছা প্রসব করলো। পরে দরবেশকে দেখতে পেয়ে সব কয়টি বাচ্ছা পালিয়ে গেল। কিন্তু একটি ইঁদুরের বাচ্ছা রয়ে গেল। দরবেশের দয়া হলো। তিনি বাচ্ছাটিকে দুধ পান করাতে লাগলেন। একদিন দরবেশ দেখলেন বাচ্ছাটি মন ভার করে বসে আছে। তিনি তার দুঃখের কারণ জিজ্ঞেস করলেন।

ইঁদুরের বাচ্ছা বললো, “আজ একটা বিরাট ইঁদুর আমাকে ধাওয়া করেছিল, আজ কোন রকমে প্রাণ বাঁচিয়েছি; কিন্তু একদিন সে আমার উপর জয়ী হবে এবং আমাকে হত্যা করবে। তাই আমার মনে খুব দুঃখ।”

দরবেশ বললেন, “তাহলে আমি এখন তোর জন্যে কি করতে পারি?”

বাচ্ছাটি বললো, “আমাকে বিড়াল বানিয়ে দিন।”

দরবেশ তখন আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন এবং ইঁদুরের বাচ্ছার শরীরে হাত বুলালেন, সঙ্গে সঙ্গে একটি বিড়ালে পরিণত হয়ে গেল।

কয়েকদিন পর দরবেশ দেখলেন বিড়ালটি বিমর্ষ মনে বসে আছে।

তিনি বিড়ালের দুঃখের কারণ জিজ্ঞেস করলেন।

বিড়াল বললো, “আজ মহল্লার গলিতে ঘুরতে গিয়েছিলাম। একটি কুকুর আমাকে তাড়া করেছিল। বড় কষ্ট করে প্রাণ বাঁচিয়ে এসেছি। কিন্তু এভাবে কতদিন প্রাণ বাঁচতে পারবো; তাই আমি খুবই চিন্তিত।”

দরবেশ বললেন, “তাহলে তুই এখন কি করবি?” বিড়াল বললো, “আমাকে কুকুর বানিয়ে দিন।”

দরবেশ আল্লাহর দরবারে দোয়া করলেন এবং বিড়ালের গায়ে হাত বুলালেন অমনি বিড়াল কুকুর হয়ে গেল।

পাঁচ সাত দিন পর দরবেশ দেখলেন কুকুরটি বিষন্ন মনে বসে আছে।

তিনি কারন জিজ্ঞেস করলেন।

কুকুর বললো, “আজ আমি জঙ্গলে গিয়েছিলাম সেখানে একটি নেকড়ে বাঘ আমার উপর হামলা করেছিল।”

দরবেশ বললো, “তাহলে তুই এখন কী করতে চাস?”

কুকুর বললো, “আমাকে নেকড়ে বাঘ বানিয়ে দিন।”

দরবেশ দোয়া করে তার শরীরে হাত বুলালেন। আর অমনি কুকুরটি নেকড়ে বাঘ হয়ে গেল।

কয়েক দিন পর দরবেশ দেখলেন সে নেকড়ে বাঘটি মন খারাপ করে বসে আছে।

দরবেশ জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার মন খারাপ হওয়ার কারণ কি?”

নেকড়ে বাঘ বললো, “আমি জঙ্গলে গিয়েছিলাম সেখানে একটি বড় বাঘ আমাকে হত্যা করার জন্য তাড়া করেছিল।”

দরবেশ বললেন, “এখন তব্র কি করতে চাস?”

নেকড়ে বাঘ বললো, “আমাকে বড় বাঘ বানিয়ে  দিন।”

দরবেশ আল্লাহর দরবারে দোয়া করে তার গায়ে হাত বুলালেন তখন সে একটি বড় বাঘ হয়ে গেল। বাঘ হয়ে সে মনের আনন্দে জঙ্গলে গেল।

জঙ্গলে যেতেই আগের সে বাঘটি তাকে দেখে বলে উঠলো, “আরে বহুরূপী! খুব রূপ বদলিয়েছিস বটে, কিন্তু তোর মধ্যে আর আমার মধ্যে এখনও বিরাট পার্থক্য রয়েছে।

তুই হলি মানুষের তৈরি বাঘ, আর আমি হলাম্ আল্লাহর তৈরি বাঘ। (দরবেশের তাছাররূফের মাধ্যমে তৈরি বাঘ আর) আল্লাহর তৈরি আসল বাঘের ক্ষমতা এখনই পরীক্ষা হবে। এখনই গোমর ফাস হয়ে যাবে দাড়া।”

একথা শুনে সে ভয়ে কাপতে কাঁপতে বললো, “তাহলে আমার প্রাণে বাচার কি কোন পথ নেই?”

বাঘ বললো, “একটি মাত্র পথ আছে। আগে তুই তাকে হত্যা করে আয় যে আল্লাহর উপর তকাব্বরী করেছে, তোকে ইঁদুর থেকে বাঘ বানিয়েছে। আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে সে হস্তক্ষেপ করেছে তাকে হত্যা করলেই তোকে ছেড়ে দিব।”

নেকড়ে বাঘটি চললো। জঙ্গল থেকে দরবেশের কামরায় এসে হাজির হলো। দরবেশ দেখলেন সে নখ বের করে থাবা প্রস্তুত করে সামনে এসে ঘাড় করেছে।

দরবেশ বললেন, “আজ তোর এ কি অবস্থা হয়েছে?” নেকড়ে বাঘ বললো,

“আজ তোকে হত্যা করবো।”

দরবেশ বললেন, “আমার আগের সকল দয়া এবং উপকারের  কথা কি ভুলে গেছিস?”

নেকড়ে বললো, ধ্যাৎ তোর উপকার! এখন আমার জান যায়, উপকারের কথা ভেবে জান হারাতে পারি না। সে বাঘের আজ আবার দেখা হয়েছে। সে হলো আসল বাঘ। আর আমি ইঁদুর থেকে বাঘের রূপ ধরেছি সে জানতে পেরেছে। সে বাঘ আমাকে বলেছে,

“আল্লাহর সৃষ্টিতে যে হস্তক্ষেপ করে তোকে ইঁদুর থেকে বাঘ বানিয়েছে তাকে হত্যা করে আয় না হলে তোর রক্ষা নেই।

দরবেশ বললেন, “ও আচ্ছা এ কথা? ঠিক আছে তুমি স্থির হয়ে বস।

তোমার জান রক্ষা হবে। আমি ব্যবস্থা করছি।”

তখন বাঘ স্থির হয়ে বসলো। দরবেশ সুযোগ পেয়ে দোয়া করলেন এবং তার গায়ে হাত বুলালেন। অমনি বাঘ আবার ইঁদুর হয়ে গেল। সকল বিশৃঙ্খলা দূর হয়ে আবার শান্তি ফিরে আসলো।

এ ঘটনা বর্ণনা করে সে হাকিম সাহেব বললেন, “এটা আমাদেরই দোষ যে আমরা এ অকৃতজ্ঞ জাতিকে অগ্রসর করতে করতে এমন এক স্থানে নিয়ে পৌঁছিয়ে দিয়েছি যেখানে দাঁড়িয়ে আজ তারা আমাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে চলছে। এ জাতিটি বাস্তবিকই অকৃতজ্ঞ।

সুতরাং এ ঘটনা থেকে মুসলমানদের শিক্ষা গ্রহন করা উচিৎ।

(আল-এফাযাতুলইয়াউমিয়্যাহ-খন্ড-৫, পৃষ্ঠা-১৯৮)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

তিন যুবকের গল্প

গুহায় আঁটকে পড়া তিন যুবকের গল্প ও শিক্ষা

একবার তিনজন যুবক পথ চলছিল, এমন সময় তারা বৃষ্টিতে আক্রান্ত হ’ল। অতঃপর তারা এক পাহাড়ের …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE