Breaking News
Home / সাহিত্য / কিছু গল্প / একটি মিষ্টি রাতের গল্প (পর্ব ৬-১০)

একটি মিষ্টি রাতের গল্প (পর্ব ৬-১০)

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, একটি মিষ্টি রাতের গল্প পর্ব ৬ থেকে ১০ পর্বে আপনাকে স্বাগতম।

আপনি যদি প্রথম থেকে পঞ্চম পর্ব টি মিস করে থাকেন তাহলে এখানে ক্লিক করুন।

পর্ব ৬

রাতের গল্পগল্আপের বারো নাফিসের ফোন বেজে উঠলো।
এবার ওর ভার্সিটির ফ্রেন্ড সাবিত ফোন করেছে।
–হ্যালো।
–হ্যালো দোস্ত।কি শুনতেছি এইসব?
–কি শুনেছিস?
–তুই নাকি বাল্যবিবাহ করেছিস?
এত তাড়াতাড়ি বিয়ে?
–আমি বুঝতেছি না এসব কে ছড়াচ্ছে?
–আগে বল ঘটনা সত্যি কিনা।
–সত্যি আবার সত্যি না।
–তুই তো দোস্ত আমাদের সাথে চিটিং করলি।
ফ্রেন্ডদের কোন খবর না দিয়ে হুট করে বিয়ে! বুঝলাম না।
–আরে একটু প্রবলেম আছে।
তোকে পরে সব খুলে বলবো।
বিয়েটা আমার ইচ্ছার বিরুদ্ধে হয়েছে।
–বি সিরিয়াস মাই ফ্রেন্ড! বিয়ে নিয়ে কেন ফাজলামো করছিস?
তুই কি কোলের খোকা যে তোকে জোর করে বিয়ে দেয়া হয়েছে?
–অনেকটা ঐ রকমই।
–আগে বল তোর বউ কে?
পাভেলের সেই বোনটা নাকি?
–না,অন্য কেউ।
–কথাটা শুনে আরাম পাইতেছি রে দোস্ত। তুই যে ওই নানিটাকে বিয়ে করিস নি এটা জেনে সত্যিই ভালো লাগতেছে। যা,এজন্য তোকে ক্ষমা করে দিলাম।আমাদেরকে না জানিয়ে বিয়ে করার অপরাধ মাফ।
চিন্তা কর,বন্ধুর বড় বোনকে ভাবী ডাকতে কতটা অস্বস্তি লাগতো আমাদের!
তাছাড়া তোর সাথে ওই মহিলাটার ঠিক যায় না,মানে ম্যাচ হয় না।
–শোন ব্যাপারটা নিয়ে এখনি কারো সাথে কথা বলিস না।
–তুই আজ ফেসবুকে ঢুকিস নি?
–না।
–তোর বিয়ে নিয়ে ফেসবুকে ঝড় বয়ে যাচ্ছে।
রেলমন্ত্রীর বিয়ে নিয়েও এ হৈ চৈ হয়নি। মোট কথা বন্ধুরা সবাই কঠিন শক পাইছে।
সামিয়া তো রীতিমত কান্নাকাটি শুরু করে দিছে।
মেয়েটার কত শখ ছিল,ফ্রেন্ডের বিয়েতে সে পারসোনা থেকে সাজবে। মেয়েটার মন একেবারে ভেঙ্গে চুরমার….
–মজা নিচ্ছিস?
–এখানে মজা নেয়ার কি আছে?সে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিছে “নাফিসের বিয়েতে আমি এত্তগুলা কষ্ট পাইছি।”আচ্ছা এই ফেসবুকীয় ভাষা আমি ঠিক বুঝিনা।
সে বলতে পারতো “আমি অনেক কষ্ট পাইছি”, তা না বলে সে বলতেছে আমি এত্তগুলা কষ্ট পাইছি। আজব!!
নাফিস কোন কথা না বলে ফোন কেটে দিল। তারপর ফেসবুকে ঢুকলো। আজ সারাদিন এত ঝামেলায় ছিল যে এক মিনিটের জন্যও সে ফেসবুকে ঢুকতে পারে নি।
নাবিলা রাত বারোটায় স্ট্যাটাস দিয়েছে ” বন্ধুরা তোরা কি জানিস আজ আমাদের নাফিস ইন্তেকাল করছে, মানে আজ ও বিয়ে করছ।”
শ্রেয়া কমেন্ট করেছে ” ও.এম.জি! নাফিস বিয়ে করে ফেলেছে?
এখন আমার কি হবে?
ভেবেছিলাম বন্ধুদের মধ্যে আমিই সবার আগে বিয়ে করে সবাইকে অবাক করে দেব।”
আহাদ লিখেছে “নাফিসরে পাইলে ওর বাম্পে আমি দুইটা লাথি মারমু। একলাই বিয়া করল,আমাগো গণায় ধরল না,জানানোর প্রয়োজন মনে করল না!ও বন্ধু নামের কলঙ্ক।”
আবীর লিখেছে “মাইয়াডা কেডা? বড়ই চিন্তার বিষয়! ”
নাফিসের আর ধৈর্য হলো না এসব কমেন্ট পড়ার।
সবাই এখন ওকে পেয়ে বসেছে।
নাফিস গুম হয়ে বসে রইল।

পর্ব ৭

স্বপ্নে অরণী তার মায়ের কাছে ফিরে গেল। মাকে সে কতটা ভালোবাসে বা চায় তা সে আজও বোঝে না। জ্ঞান হবার আগে থেকেই তার জীবনে মা নামের স্থানটা শূন্য।তারপরও কারণে অকারণে তার মায়ের কথা মনে পরে যায়।মা অরণীর কানের পাশের চুলগুলো সরিয়ে দিতে দিতে বললেন –তুই তো আমারই একটা অংশ অথচ তুই আমার মতো হসনি। কি লজ্জাকর তোর জীবন যাপন!
অরণী মায়ের গায়ে কাগজি লেবুর ঘ্রাণ পাচ্ছে। সে আহ্লাদী গলায় বলল–মা,আমি আবার কি করলাম?
–কি করিসনি তুই বল?লেখাপড়া বাদ দিয়ে ঢ্যাং ঢ্যাং করতে করতে বিয়ের পিঁড়িতে বসে গেলি।
–এছাড়া আর উপায় কি বল? লোকটাকে তুমি চেন না? একেবারে ইতর। তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে যাবার ক্ষমতা কারো আছে?
–ছিঃ! বাবা সম্পর্কে ওভাবে বলতে নেই।
–ওকে বাবা বলে স্বীকার করলে তো!
–বিয়ে যখন করেছিসই, তাহলে আবার পালাতে চাচ্ছিস কেন? নাফিস ছেলেটা তো ভালোই।
–তুমি ওকে ভালো বলছো? ওর সাথে আমার কম্বিনেশন টা মোটেও ভালো হয় নি।
–কেন,সে আবার কি করেছে?
–ও হচ্ছে নাম্বার ওয়ান কাপুরুষ। আমি কোন কাপুরুষের সাথে থাকতে পারবো না।
–ও যে কাপুরুষ তা তুই জানলি কি করে?
–সে একটা মেয়ের সাথে রিলেশন কন্টিনিউ করছে আবার এদিকে আমাকেও বিয়ে করেছে। কাপুরুষ না হলে কেউ এমন কাজ করে?
–কাপুরুষই ভালো,অত সুপুরুষ হওয়া ভালো না।
–আমার সুপুরুষ কাউকেই দরকার।
–এত তর্ক করছিস কেন? তর্কবাজ মেয়ে মানুষের কপালে অনেক দুঃখ হয়।
–তুমি তো তর্ক করতে না,নীরিহ ধরনের ছিলে। তাহলে তোমার কপালে এত দুঃখ কেন?
নাফিসের ডাকে অরণীর তন্দ্রা কেটে গেল।
নাফিস বলল–কি ব্যাপার, বারান্দায় বসে বসে মশার কামড় খাচ্ছ?
–হু।
–তুমি কি কারো সাথে কথা বলছিলে?
–হু।
–হু হু এটা কেমন ধরণের রেসপন্স হলো?
অরণী চুপ হয়ে আছে।সে একটু অবাক হয়েছে। স্বপ্নে মায়ের গা থেকে লেবুর যে ঘ্রাণ আসছিল সে ঘ্রাণটা এখনো সে পাচ্ছে। কিন্তু স্বপ্ন তো বর্ণহীন,গন্ধহীন। তবে কি সে স্বপ্ন,কল্পনা আর বাস্তবতার মিশ্র এক ইলিউশনের জগতে ঢুকে পরেছিল? শুধু মাকে নিয়েই কেন তার প্রায়ই এরকম বিভ্রাট ঘটে?
–আপনি কি লেবুর ঘ্রাণ পাচ্ছেন?
–আমি রুমে এয়ার ফ্রেশনার স্প্রে করেছি,তুমি সেটার ঘ্রাণ পাচ্ছ।
অরণী একটু অপ্রস্তুত হলো।উঠে দাঁড়ালো।আজকের আবহাওয়াটা কেমন যেন গুমোট হয়ে আছে।আকাশে কিছুক্ষণ পর পর বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।যে কোন সময় বৃষ্টি নামবে।
অরণী গোসল করার জন্য বাথরুমে ঢুকলো। অনেক অনেক পানি ঢেলে গোসল না করা পর্যন্ত তার তন্দ্রাভাব কাটবে না। তাছাড়া এভাবে ভারী শাড়ি,গয়না,সাজ নিয়ে স্ট্যাচু হয়ে বসে থাকারও কোন অর্থ নেই। বাবার দেয়া গয়নাগুলো সে যত্ন করে তার হ্যান্ডব্যাগে রাখলো। এই গয়নাগুলো তার মায়ের স্মৃতি।মায়ের স্মৃতি সে কিছুতেই নষ্ট হতে দেবে না।আর নাফিসের বাবার দেয়া গয়নাগুলো সে নাফিসের বিছানার বালিশের পাশে রেখে দিল। যাবার সময় এগুলো সে নাফিসকে বুঝিয়ে দিয়ে যাবে। অন্যের জিনিস নিয়ে পালানোর কোন মানে হয় না।
অনেক সময় নিয়ে সে তার ভারী সাজগুলো তুলল,গোসল করল।শাড়ি পাল্টে সালোয়ার -কামিজ পরে নিল।এতক্ষণে সে যেন একটু সুস্থবোধ করছে। বেসিনের আয়নায় অরণী নিজেকে কিছুক্ষণ দেখলো। সাজ তুলে ফেলার পর হাল্কা সাজের যেটুকু আবরণ চোখে মুখে রয়ে যায়,তাতে মেয়েদেরকে দেখতে আরো সুন্দর লাগে।অরণীকেও মোহনীয় লাগছে। অরণীর ভালো লাগছে নিজেকে দেখতে। থুতনির কোণের তিলটা ওর চেহারায় বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করেছে।
মাকে সে কখনো দেখে নি। মায়ের কোন ছবিও এ বাড়িতে রাখা হয় নি। তবে দিদা, ফুপ্পিদের মুখে সে শুনেছে, সে নাকি দেখতে অবিকল তার মায়ের মত হয়েছে। কোন এক অজানা কারণে মায়ের দেয়া “অরণী” নামটা বাবা পরিবর্তন করে নি।
মাকে তার ঘৃণা করা উচিত কিনা সে বুঝে উঠতে পারে না।মাকে সে ঘৃণা করতেও পারেনা।কেন মা তাকে নিজের কাছে নিয়ে গেলেন না? প্রয়োজনে যুদ্ধ ঘোষনা করে হলেও তাকে বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত ছিল।
তবে বাবাকে সে নিশ্চিত ঘৃণা করে,ভয়ঙ্কর ঘৃণা যাকে বলে।এই মানুষটার জন্য পৃথিবীর সমস্ত পুরুষের ওপর তার অবিশ্বাস। সে বোধহয় মন থেকে কোনদিন কোন পুরুষকেই ভালোবাসতে পারবে না।মাঝে মাঝে ঘৃণা নামক তীব্র একটা অনুভূতি তার সমস্ত শরীর আর মনে ছড়িয়ে পরে।

পর্ব ৮

–শোন সামিয়া তোদেরকে বন্ধু ভাবতেও আমার ঘৃনা হচ্ছে।
তোরা এখন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় শত্রু।
না জেনে,না বুঝে কেন তোরা এভাবে ঢোল পেটাচ্ছিস?
আমাকে একটা ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলেও পারতিস।
দিস ইজ টু মাচ।
–তোর ফোনে অনেকবার ট্রাই করেছি।কিন্তু বিজি টোন আসছিল।
–তাই বলে তোরা ওরকম লুজ কমেন্ট করে ফেসবুক ভরে ফেলবি?
–সরি দোস্ত।
–ইট’স অলরাইট।
–তুই যে ঐ লবঙ্গলতিকাকে বিয়ে করিসনি এতে আমিই ভীষণ খুশি। তোকে এত্তগুলা থ্যাঙ্কস।
তোর বউ কি খুব বেশি সুন্দরি?
–জানি না।
–তুই ওরকম ছেলে মানুষি করছিস কেন? বউয়ের কথা আমাদের সাথে শেয়ার করলে কি হয়?
আমার কিন্তু ভীষণ কৌতুহল হচ্ছে।
–দেখ,এই টপিকে কথা বলতে আর ভালো লাগছে না। আমি এখন ফোন রাখছি।
–এই শোন শোন……
নাফিসের ফোনের চার্জ আবার শেষ হয়ে গেল।
অরণী তোয়ালে দিয়ে চুল মুছতে মুছতে মুচকি হেসে বলল–চার্জ শেষ!
নাফিস বিরক্তি নিয়ে বলল–এই ফোনটা হচ্ছে মরার উপর খাঁড়ার ঘা।
কথাটা বলেই নাফিস ঘাড় ঘুরিয়ে অরণীর দিকে তাকাল এবং থমকে গেল। কয়েক মূহুর্ত সে অরণীকে দেখলো।
সে দেখায় কোন ঘোর ছিল কি ছিল না তা নাফিস জানে না।
তবে স্নিগ্ধ সৌন্দর্যের মেয়েটাকে দেখে সে চমকালো।
নাফিস অনুভব করলো এই মেয়ের মধ্যে কিছু একটা আছে কিন্তু সেটা কি?
অরণী চেয়ারে পা উঠিয়ে আয়েশ করে বসে বলল–শুনুন মি.নাফিস,একটা সিগারেট যোগাড় করে দেবেন প্লিজ!
–সিগারেট আমি কোথায় পাবো?
–আপনার বাবার ঘরে ঢুকলেই পেয়ে যাবেন। আচ্ছা,আমাকে কি আপনি নির্লজ্জ ভাবছেন? ভাবলে ভাবতে পারেন,আমি কষ্ট পাবো না।
–এত রাতে আমি বাবার ঘরে ঢুকব তোমার জন্য সিগারেট চুরি করতে?
অরণী নির্বিকার গলায় বলল–চুরি করবেন কেন?
না বলে নিয়ে আসবেন।
–দেখ খুকি,রাত দুপুরে আমার সাথে ফাজলামো করতে এসো না।ফাজলামোর একটা লিমিট থাকা চাই।
–প্লিজ একটু বোঝার চেষ্টা করুন।এখন যদি একটা না খেতে পারি স্ট্রেইট মারা যাবো।
–সিগারেট না খেলে কেউ মরে না।
–আমি মরে যাব।
–বসে আছো কেন?
মর,মরে যাও।
তাহলে অন্ততপক্ষে একটা ঝামেলা থেকে মুক্তি পাই।
–আপনি আমার কথা বিশ্বাস করছেন না?
সিগারেটের নেশায় আমার রক্ত উন্মাদ হয়ে গেছে।
রক্তের এই উন্মাদনা সহ্য করতে না পেরে সত্যিই আমি মরে যাব।
নাফিস হতভম্ব চোখে অরণীর দিকে তাকালো।
নাফিসের হতভম্ব চেহারা দেখে অরণী হাসতে হাসতে মেঝেতে বসে পরলো।অনেক কষ্টে সে হাসি থামিয়ে বলল–ভয় পেয়েছেন?
আই ওয়াজ জাস্ট কিডিং।
নাফিস ভ্রু কুচকে বলল–তারমানে তুমি বলতে চাচ্ছো,তুমি সিগারেট খাও না,তাই তো!
অরণীর ঠোঁটে রহস্যময় হাসি ফুটে উঠলো।
–যদি বলি খাই,তাহলে কি কষ্ট পাবেন?
–ব্যাপারটা ঠিক তা না।একটা খুকি আমার সামনে বসে আরাম করে সিগারেট টানলে ব্যাপারটা আমার জন্য যথেষ্ট অপমানজনক হতো।
–ডোন্ট কল মি খুকি।আই এম ইয়াং লেডি।
আন্ডারস্ট্যান্ড নটি গুডি বয়?
–নটি গুডি বয়?
বুঝলাম না।
–বোঝার কথাও না।
–এতক্ষণ এত গুছিয়ে মিথ্যা বলছিলে কেন?
–আশ্চর্য! মানুষ যখন মিথ্যা বলে তখন তো গুছিয়েই বলে।
গুছিয়ে না বললে মিথ্যাটাকে সত্য বলে মনে হবে না।
গুছিয়ে মিথ্যা বলার এই আর্টটা কিন্তু আমি ভালই আয়ত্ব করেছি,কি বলেন?
–কিন্তু অকারণে কেন মিথ্যা বললে?
–আপনি আমার সাথে মামদোবাজি করেছেন।আই মিন আপনি আমাকে অপমান করেছেন।
তাই একটু শোধ নিলাম।
–কখন অপমান করলাম?
–আমাকে গ্রাম্য বলেছেন। হোয়াট ডু য়্যু মিন বাই গ্রাম্য? গ্রাম না থাকলে আপনাদের পেটে ভাত জুটতো নাকি? এই যে এত এত ধান,চাল,ডাল,মাছ,সবজি,ফল খেয়ে সাবাড় করেন,এগুলো কোত্থেকে আসে?
গ্রাম আছে বলেই আপনারা এসব পাচ্ছেন।
–কিন্তু আমি কখন তোমাকে গ্রাম্য বললাম?
–ভেবে দেখুন। আমার কান খুব পরিস্কার।
কেউ বিড় বিড় করে কিছু বললেও আমার শুনতে সমস্যা হয় না।
আর আমাকে কেউ অপমান করলে আমার ভীষণ রাগ হয়।
শরীরে জমিদারের রক্ত কিনা……
নাফিস এবার সত্যি সত্যিই ভীষণ মজা পেল।বলল–তুমি কি জানো যে তুমি একটা পাগল?
–মাইন্ড ইয়োর ল্যাংগুয়েজ।
নাফিস অবাক হবার ভাণ করে বলল–তুমি যে পাগল এটা তুমি জানো না?
–হ্যাঁ জানি।ছোটবেলা থেকে অসংখ্যবার সবার মুখে একথাটা শুনেছি।
–তার মানে আমি ভুল কিছু বলিনি।

পর্ব ৯

–একটা কথা বলি,বিশ্বাস করবেন?
–করব।
–আসলে তখন সিগারেট নিয়ে এত ড্রামা করলাম আপনার অস্থিরভাবটা কমানোর জন্য।
আপনাকে অনেক টেনশন করতে দেখে আমার একটু খারাপ লেগেছিল।
তাই আপনার মনটা কিছুক্ষণের জন্য অন্যদিকে ডাইভার্ট করে রেখেছিলাম।
–হুম বুঝলাম।
তখন যে ড্রিংক করার কথা বলছিলে, এসবই তাহলে মিথ্যা?
–একেবারে নির্ভেজাল মিথ্যা।
তবে বাবার ওপর প্রতিশোধ নেবার জন্য ওসব আমি ট্রাই করেছি দু’একবার।কিন্তু আমার শরীরে মায়ের রক্তও আছে কিনা। আদর্শবাদিতার বীজ আমার শরীরে।তাই চাইলেও আমি খারাপ কিছু করতে পারবো না।
শুনেছি,আমার মা ভীষণ সৎ আর আদর্শবাদী।
–শুনেছি মানে?
তোমার মা নেই?
–আমার দেড় বছর বয়সে মা আমাকে ফেলে চলে যান।
–ওহ মাই গড!আই এম রিয়েলি সরি।
–তুচ্ছ ব্যাপারে সরি হবার কি আছে?
–আশ্চর্য মেয়ে তো তুমি!তোমার মায়ের তোমাকে ফেলে চলে যাবার ব্যাপারটা তোমার কাছে তুচ্ছ মনে হচ্ছে?
–আরে আরে আপনি সেন্টিমেন্টাল হয়ে যাচ্ছেন কিন্তু!
আসলে মা আমাকে ঠিক ফেলে যান নি। চলে যাওয়াটা তার জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছিল।অনেক চেষ্টা করেও আমাকে তিনি সাথে নিয়ে যেতে পারেননি। বাবা হয়ত ভেবেছিলেন, আমাকে আটকালে মা এই সংসারে ফিরে আসবেন।কিন্তু অন্যায়ের সাথে নো কম্প্রোমাইজ। মানে,আমার ভীষণ নীতিবান মা ফিরে আসেননি।
নাফিস কি বলবে ভেবে পাচ্ছে না।
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে অরণী বলল–দু’জন মানুষের ভালোবাসার ফসল আমি।আবার সেই দু’জন মানুষের জেদের বলিও আমি।আসলে আমি এখন কার বলতে পারেন?
নাফিস চুপ করে রইলো।
আবার নাফিসের ফোন বেজে উঠলো। নাফিসের ফ্রেন্ড নাবিলা ফোন করেছে।
–হোয়াটস রং উইথ ইউ নাফিস?তুই ঠিক আছিস তো!
–মরি নাই।বল কি বলবি?
–সেই সন্ধ্যা থেকে তোকে ট্রাই করছি।একবার বিজি টোন আসছে আর একবার তোর ফোন বন্ধ পাচ্ছি। কাহিনী কি, একটু বলবি?
–কাহিনী শোনার জন্য ফোন দিয়েছিস?
–তুই রেগে যাচ্ছিস কেন?আসলে হয়েছে কি, ঐ সাবিত হাদারামটা না এত ডিস্টার্বিং!! কোনদিনও সে মানুষকে সঠিক ইনফরমেশন টা দেবে না।মানুষকে বিভ্রান্ত করাই যেন ওর হবি।
–সাবিত তো তোর বয়ফ্রেন্ড।রাত দুপুরে অন্য ছেলের কাছে নিজের বয়ফ্রেন্ড এর নামে ব্যাকবাইটিং করতে তোর লজ্জা করছে না?
–এখানে ব্যাকবাইটিং এর কি দেখলি? যা সত্যি তাই তো বললাম।
শুনলাম তুই বিয়ে করেছিস।
কথাটা কি সত্যি?
–হ্যাঁ,সত্যি।
–তুই বিয়ে করেছিস, ঘটনাটা অকল্পনীয়।
–তোর কি মনে হয়েছিল?
সালমান খানের মত আমি সারাজীবন চিরকুমার হয়ে বসে থাকবো?
–কিন্তু তোর রোমিও জীবনের অবসান ঘটে গেল বলে আমার খুব দুঃখ হচ্ছে রে!
–এক কাজ কর,আমার বিয়ের খবরটা চ্যানেল আইয়ের নিউজ স্ক্রলে দিয়ে দে।
–কিন্তু সেটা কি করে সম্ভব জামাইরাজা?আপনার বিয়েতে দাওয়াত দিলেন না কেন?
–সব কেনর উওর আমি তোদেরকে দেব,একটু ধৈর্য ধর।
আমার খুব টায়ার্ড লাগছে, ফোন রাখছি।এখন ঘুমাবো।
–আরে আজব!বাসররাতে কেউ ঘুমায় নাকি?
–তুই তোর বাসররাতে সারারাত জেগে থাকিস,আমি কিচ্ছু বলবো না।
এবার আমাকে মুক্তি দে মা,তুই আমার মা।
–বুঝেছি,নতুন বউ পেয়ে তোর মাথার সব কয়টা তার ছিঁড়ে গেছে।
এখন সব মেয়েকেই তোর মা মনে হচ্ছে। দেখবো,কয়দিন থাকে তোর এই সন্ন্যাসগিরি।
–গেট লস্ট।
নাফিস ফোন রেখে দিল।
মনে মনে ভাবলো,এই এক আজব প্রজাতির মেয়ে। এর মধ্যে কচ্ছপভাব প্রবল।একটা কিছু ধরলে এর হাত থেকে ছাড়ানো মুসকিল। সাবিতের সাথে দেখা হলে জিজ্ঞেস করতে হবে, এই গাধীটাকে সে সহ্য করে কিভাবে?
অরণী,জেনি,বিয়ে সবকিছুর চেয়ে এখন বড় পেইন হয়ে দাঁড়িয়েছে নাফিসের বন্ধুরা মাথা থেকে চিন্তা ঝেড়ে ফেলার জন্য নাফিস অরণীর সাথে গল্প করতে বসে গেল।

পর্ব ১০

–কি ব্যাপার নাফিস!
ফোন চার্জ হতে এত সময় লাগে?
নাফিস বিরক্তি নিয়ে বলল –সময় লাগলে আমি কি করবো?
–তুমি আমার সাথে এভাবে কথা বলছো কেন?
–তাহলে কি শান্তিপুরি ভাষায় কথা বলব?
–এতক্ষণ কি করছিলে,
সত্যি করে বলো তো! ডিড ইউ স্লিপ টুগেদার?
–আর ইউ ড্রাঙ্ক?
কেন আজেবাজে চিন্তা করছো?
–এরকম কিছু ঘটা অসম্ভব না।
–কেন মেয়েটাকে এত এভেলেবল ভাবছ? আমার সম্পর্কে সব জেনেও সে আমার সাথে বিছানায় যাবে?
–আমার সত্যিই মাথা ঠিক নেই। ইচ্ছে করছে,ঐ গেঁয়ো ভূতটার গলা টিপে ধরি।
–দেখ,এরকম এলিট পরিবারের একটা মেয়েকে আন্ডার এস্টিমেট করা তোমার একদম ঠিক হচ্ছে না।
জেনি দাঁতে দাঁত চেপে স্বর্পরানীর মত হিস হিস করতে করতে বলল–আমার আর কি কি করা ঠিক হচ্ছে না একটু বলবে প্লিজ?
–মেয়েটার তো কোন দোষ নেই।
তুমি অকারণে ওর ওপর রেগে যাচ্ছো কেন? বরং আমরাই ওর ওপর অবিচার করেছি।
–সে তোমার রুমে বউ সেজে বসে আছে,আই জাস্ট কান্ট টলারেট দিস।
–সে এখন আর বউ সেজে বসে নেই।
–তাহলে কি জন্মদিনের পোষাকে আছে?
–জন্মদিনের পোষাকে বসে থাকার মত মেয়ে সে না,যথেষ্ট ভদ্র। সে সালোয়ার-কামিজ পরে আছে।
সো তোমার হাইপার টেনশনের কোন কারণ নেই।
–ও যে ড্রেস পাল্টেছে তা তুমি জানলে কি করে? তার মানে তুমি ওর দিকে তাকিয়েছ। তুমি প্রমিজ করেছিলে যে ওর দিকে তাকাবে না। ইউ ব্রোক দ্য প্রমিজ।
এই বলে জেনি পনেরো ষোলো বছরের ন্যাকা খুঁকির মত কাঁদতে আরম্ভ করে দিল।
নাফিস নিজের মাথার চুল টেনে ধরে বলল–আল্লাহ, বাঁচাও আমাকে।
ফর গড সেক জেনি! এবার একটু শান্ত হও। তুমি নিজে ঘুমাও আর আমাকেও একটু ঘুমাতে দাও।
সকালে তো সমস্যার সমাধান হয়েই যাচ্ছে। আই লাভ লাভ লাভ ইউ……
–আমি ঘুমাবো আর সেই সুযোগে তুমি অরণী না ফরণী ওকে…….
নাফিসের ধৈর্য এখানেই শেষ। এই কাসুন্দি তার আর ভালো লাগছে না।
নাফিস ফোন কেটে দিল।ভাইবারে মেসেজ এসেছে।
সে মেসেজ ওপেন করে পড়লো।
তার বন্ধু রাতুল লিখেছে– দোস্ত বিয়া করলা, জানলামও না!
নাফিস তার বন্ধুদের আচরণে খুব বিরক্ত। সে উত্তর দিল–কেন তোদের পারমিশন নিয়ে,ট্যাক্স দিয়ে আমার বিয়ে করার কথা ছিল নাকি?
রাতুল ঝটপট উত্তর দিল–ইনভাইট করলেও পারতা। দুইটা রোস্ট না হয় বেশিই খাইতাম। তাতে কি,আমি তোমার ছোটবেলার বন্ধু না!
নাফিস লিখলো–বল বল,যত পারিস বলে যা। তোদেরই তো দিন।
–রাতুল লিখলো–যা হওয়ার তাতো হইছেই। কিন্তু বউরে একলা বসাইয়া রাইখা তুমি ভাইবারে ক্যান?
তোমার নাইট ডিউটি নাই?
–তোর সাথে গ্যাঁজাইতে ভালো লাগতেছে না। বাই।
বন্ধুদের কথা না হয় বাদ।
কিন্তু জেনি তার সাথে এটা কেমন আচরণ দেখাচ্ছে?
জেনিকে সামনে পেলে সে হয়তো চড় টড় মেরে বসত।
মেয়েটা তার ওপর এতটুকু বিশ্বাস রাখতে পারছে না!
এমনিতেই সারাটাদিন শরীর আর মনের ওপর যথেষ্ট ধকল গেছে তার ওপর একটা মেয়েকে ম্যানিকিনের মত সামনে বসিয়ে রেখে তাকে ঘন্টার পর ঘন্টা ফোনে প্রেমালাপ করে যেতে হচ্ছে যেটা তার ব্যক্তিত্বের সাথে একেবারে বেমানান। তবুও সে অপছন্দের কাজটা করে যাচ্ছিল জেনিকে খুশি রাখার জন্য। কিন্তু কিছু মেয়ে আছে যাদেরকে কিছুতেই সন্তুষ্ট করা যায় না।
নাফিসের ভাবনায় ছেদ পরলো অরণীর কথায়।
–আপনার কি রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম আছে?
–সেটা আবার কি?
–এই যে বসে বসে অনবরত পা নাড়াচ্ছেন,একেই বলে রেস্টলেস লেগ সিন্ড্রোম।
–ব্যাপারটা আসলে মুদ্রাদোষের পর্যায়ে চলে গেছে।
–এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রতিদিন আপনাকে ত্রিশ মিনিট করে যোগ ব্যায়াম করতে হবে। আসলে এই পা নাড়ানো,দাঁত দিয়ে নখ কাটা টাইপ অভ্যাসগুলো মানসিক চাপ থেকে তৈরি হয়।
–একটু তো মানসিক চাপে আছিই।
–মানসিক চাপ কমানোর একটা কার্যকর উপায় আমি আপনাকে বলতে পারি।
–জি,বলুন মিস সবজান্তা।
অরণী বলল–এত সুন্দর উপাধি দেবার জন্য ধন্যবাদ। এবার শুনুন,চোখ বন্ধ করে লম্বা শ্বাস নিন নাক দিয়ে। কয়েক সেকেন্ড শ্বাস ধরে রাখুন তারপর মুখ দিয়ে শ্বাস ছাড়ুন। অনেকটা স্বস্তি পাবেন,দুশ্চিন্তামুক্ত হবেন। জানেন,আমার ক্লাসের এক মেয়ের কুমপুনোফোবিয়া ছিল।
–এটা আবার কেমন ফোবিয়া?
–এই রোগ যাদের আছে তারা বোতাম দেখে ভীষণ ভয় পায়।আমার ক্লাসের সেই মেয়েটাও ভয় পেত।
–অদ্ভুত তো!
–পৃথিবীতে কতরকমের ফোবিয়া যে আছে! আপনি টিউরোফোবিয়ার নাম শুনেছেন?
–না তো!
–এ ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা পনির দেখলে ভয় পায়।
–রিয়েলি?
–হ্যাঁ,আর নক্সেকোটালেও ফোবিয়ায় আক্রান্ত ব্যক্তি চপস্টিক দেখলে আতঙ্কিত হয়ে পরে।
–আরে বাহ!আমি তো দেখছি এক জীবন্ত এনসাইক্লোপিডিয়ারর সামনে বসে আছি।
অরণী লাজুক হাসি দিয়ে বলল–আমার সারাদিন বই ম্যাগাজিন পড়ে এসব মজার মজার তথ্য জানতে অনেক ভালো লাগে। আমি বোধহয় আপনাকে বিরক্ত করছি।
–মোটেই না।
নাফিস লক্ষ্য করলো,অরণী নামের এই সহজ ধরনের মেয়েটার সাথে গল্প করতে তার ভালো লাগছে। মেয়েটা একটু পাগলাটে তবে মজার। ওর চারপাশের মেয়েদের চেয়ে এ মেয়ে আলাদা। জেনির সাথে মন খুলে কথা বলা যায় না। কথা বলতে গেলেই সে এক ধরনের মানসিক চাপ অনুভব করে। কিন্ত এ মেয়েটার সাথে কথা বললে তার মন অনেক হাল্কা হয়ে যায়। চাপ টাপ সব কোথায় উড়ে যায়!
অরণী বলল–আপনার কিন্তু একটা ফোবিয়া আছে।
নাফিস কৌতুহলী চোখে তাকালো অরণীর দিকে।
অরণী বলল–আপনার ফোবিয়ার নাম হচ্ছে “বসো ফোবিয়া। “বসকে দেখলে আপনি ভয়ে কুঁকড়ে যান।
–আমার আবার বস কে?আমি নিজেই আমার বস।
–উঁহু,মিস জেনি আপনার বস। খুবই ন্যাঁকা টাইপ একজন বস। যে আপনাকে ভয়ানক সন্দেহ করে এবং সারাক্ষণ জেরার মুখে রাখে।
নাফিস হেসে মাথা চুলকে বলল–তা কিছুটা ঠিক। কিন্ত একটা ব্যাপার কিছুতেই আমার মাথায় ঢুকছে না।
–কি?
–আমাকে ওভাবে গার্লফ্রেন্ড এর সাথে কথা বলতে দেখে তোমার রাগ হচ্ছে না?
অরণী দুষ্টুমির হাসি দিয়ে বলল–রাগ হলে খুশি হতেন?
–না,মানে……
–জেনি যেমন আপনার অপেক্ষায় বসে আছে, তেমনি আমার অপেক্ষাতেও একজন কেউ বসে আছে। কাল সকালে আমরা পালাবো।
নাফিস উত্তেজিত হয়ে বলল–হোয়াট আ কো-ইনসিডেন্স!! পালিয়ে কোথায় যাবে বলে ঠিক করেছ?
–এখনো ফাইনাল ডিসিশন নেয়া হয়নি। তবে সিলেটে ওর এক আত্নীয়ের বাসায় প্রথমে উঠবো।
–ছেলেটা দেখতে কেমন?
অরণী নাফিসের দিকে এমনভাবে তাকালো যেন নাফিস খুব বোকার মত একটা প্রশ্ন করে ফেলেছে।
অরণী বলল–সে দেখতে কেমন তা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। চেহারার ওপর কারো হাত থাকে না।
মেয়েটার পরিচ্ছন্ন চিন্তাধারা দেখে ওর প্রতি নাফিসের শ্রদ্ধা হলো।
অরণী বলল–তবে সে মানুষ হিসেবে অনেক ভালো।
–কিভাবে বুঝলে? মানুষ চেনা কি এত সহজ?
–আমার বাবার সাথে তুলনা করতে গেলে পৃথিবীর সব পুরুষকেই আমার মহাপুরুষ মনে হয়। কোন ধরণের নেশার মধ্যেই সে নেই। চা,পান,সিগারেট কিছুই সে খায় না।
–তারপর?
–সে আমাকে সম্মান করে। আমাকে শুধু সেক্স সিম্বল হিসেবে সে দেখে না। ‘আমি হাত দেখতে জানি’ -এ অজুহাতে কখনো আমার হাতটা পর্যন্ত সে ধরতে চেষ্টা করেনি। একেবারে রিয়েল হিরো সে।
–হুম বুঝেছি,প্লেটোনিক লাভ।
–তাছাড়া ও খুবই নিরীহ,ভোলাভালা আর বেচারা টাইপ।আমি তাকে যখন যেই অর্ডার করেছি সে শুনেছে।
–ভীষণ পোষা প্রেমিক!!
–আসলে ওকে আমি মাঝে মাঝে ব্ল্যাকমেল করতাম। আমার কথা শুনতে না চাইলে আমি ওকে বাবার ভয় দেখাতাম।
–তুমি তো ভীষণ বিপজ্জনক মেয়ে!! তা প্রেমিক বেচারার নাম কি?
–আমাদের পাড়ার সবাই ওকে গিট্টু নামে ডাকে। ও অনেক খাটো তো। টেনেটুনে পাঁচ ফুট হবে। কিন্ত আমি ওকে মি. রোবট বলে ডাকি। ওর আচরণ, হাঁটা,কথাবার্তা অনেকটা রোবটের মত।
কথাটা শুনে নাফিসের বিরক্তি চরমে উঠলো। সে মনে মনে ভাবলো, এমন বুদ্ধিমতী আর ব্যক্তিত্বসম্পন্ন একটা মেয়ে কিনা কোনো এক গিট্টুর হাত ধরে পালাবে! এবসার্ড!!
নাফিস কথাটা বলেই ফেলল–শুনুন মিস জ্ঞানের আঁধার!
কোথাকার কোন এক গিট্টুকে বিয়ে করাটা বোকামি হয়ে যাচ্ছে না?
–বোকার ভান
সিস্টার! আমরা কত ধরনের ছেলেদের সাথে ওঠাবসা করি। এতটুকু বুঝি যে জানের মায়া সবারই আছে। তাছাড়া ওরকম স্ট্যাটাসহীন একটা ছেলে কেন এত দুঃসাহস দেখাচ্ছে বোঝো না? সে তোমাকে ধরে উপরে উঠতে চাইছে। সে তোমার না; তোমার নামে থাকা হিউজ প্রপার্টির প্রেমে পরেছে।
–উঁহু,এ ছেলে বোকা। সে আমার মোহে পরে গেছে। যাকে বলে কঠিন মোহ। জানের মায়া এখন ওর কাছে তুচ্ছ। বোকা ছেলেরা হাসবেন্ড হিসেবে অনেক ভালো হয়।
নাফিস একটু রেগে বলল–আশ্চর্য!এ ছেলে বোকা বলে তুমি তাকে বিয়ে করবে? একটা সত্যি কথা বলবে?
–হুম বলবো।
–তুমি ওকে ভালোবাসো তো?
প্রশ্নটা শুনে অরণী একটু থমকে গেল। ঝটপট নিজেকে সামলে বলল–তাকে আমমি শ্রদ্ধা করি।
–ব্যস এইটুকু? এইটুকুতে জীবন চলবে?
–আসলে ওকে আমি ভালোবাসি কিনা তা কখনো ভেবে দেখিনি।
–তার মানে সম্পর্কটা কম্পলিকেটেড।
–টেনশনে পরে গেলেন?
নাফিস হেসে বলল–কিছুটা……
–এক কাজ করুন। চোখ বন্ধ করে নাক দিয়ে জোরে শ্বাস টানুন। তারপর……
নাফিস হাসতে হাসতে বলে–তুমি পারোও।

আরও পড়ুন >> একটি মিষ্টি রাতের গল্প-পর্ব ১১-১৫

রেটিং দিন

User Rating: 2.85 ( 2 votes)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

স্ত্রীর পরশে

স্ত্রীর পরশে বদলে গেলো স্বামী (ছোট্ট গল্প)

এক স্ত্রী গভীর রাতে প্রতিদিন স্বামীর পাশ থেকে ঘুম থেকে উঠে আধা ঘন্টা এক ঘন্টার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE