Home / যৌন জীবন / যৌন বিষয়ক নিবন্ধন / যৌনাচারে সতর্কতা-পশ্চিমাদের যেসব যৌন বিকৃতি গ্রাস করেছে

যৌনাচারে সতর্কতা-পশ্চিমাদের যেসব যৌন বিকৃতি গ্রাস করেছে

চিকিৎসা সাময়িক গ্রন্থে নিন্মোক্ত বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

১। আধুনিক জড়বাদিরা আল্লাহকে মানে না। আল্লাহর আইন ও মানে না। তারা বলেঃ একজন সংবাদ পাঠিকারো বেশ আকর্ষণীয় একটা দেহ আছে। সুতরাং তার উচিত টিভি পর্দায় তার যে ছবি মানুষ দেখে সে ছবিটিকে মানুষ তার যৌবন সহ দেখুক। সে যখন পড়বে তখন তার পরনে একটা হাফপ্যান্ট থাকতে পারে। হাফপ্যান্টটি বিশেষভাবে তৈরী হতে হবে, যাতে করে তার উরু সন্ধির দিকে একটা ইংগিতবহ যৌনবোধ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তার শরীর যেন টি,ভি দর্শকদের একথাই বলেঃ আমার শরীরটা বেশ না?

২। পত্রিকায় প্রকাশিত টিভি বিজ্ঞাপন। তাতে তিনজন নারী। তাদের শরীরে ব্যায়ামের পোশাক। ব্যায়াম সেরে এসেই তারা তাদের পছন্দের টি,ভি সেট নিয়ে খুশি প্রকাশ করছে। তাদের একজনের একটি স্তনের অনেকটাই লোভনীয়ভাবে দেখা যাচ্ছে। এ বিজ্ঞাপন নারীকে তার স্বামী, শ্বশুর, আত্মীয়-আপনজন, বাব, ভাই সবার সামনেই যৌনতার প্রতীক হিসেবে এনেছে। প্রকৃত সম্মান ও স্নেহবোধকে এ নারীর যৌনতা আড়াল করে দিচ্ছে। তার সন্তান ও পরবর্তী প্রজন্ম ও তার এ যৌনতার ভিত্তিতেই তাকে দেখবে। এর ফলে তার পক্ষে স্বাভাবিক মানব মর্যাদার ভাগী হবার অবশ্যই বন্ধ হয়ে গেল। কেননা যৌনতা আর মাতৃত্ব এক সাথে একই ব্যক্তিত্বের সাওমুপস্থিতি প্রকাশ করে না।

৩। বন্ধুরা নিজেদের স্ত্রীদের নিয়ে রাতের আড্ডায় যায়। আড্ডায় স্ত্রীরা এ রাতের জন্য স্বামীর যে কোন বন্ধুকে গ্রহণ করে। স্বামীরাও যে কোন বন্ধুর স্ত্রীর পছন্দের ভিত্তিতে এ রাতের জন্য জুড়ি হিসেবে চলে যায়।

এ অনাভারকে স্ত্রী বিনিময় বা স্বামী বিনিময় বলা হয়। এর মাধ্যমে স্ত্রীরা অন্য পুরুষ থেকে নতুন নতুন টেকনিক বা শিক্ষা হাসিল করে। এতে নাকি মনের মুক্তিও ঘটে।

আরও পড়ুন >> ইসলামে ব্যভিচারের শাস্তি

৪। পাশ্চাত্যে নীল ছবি তৈরী হয়। যৌনক্রিয়ার পারদর্শী শ্রেষ্ঠ পুরুষ বা নারীর প্রতি ক্যাসেটের বিনিময়ে প্রাপ্য টাকার পরিমাণ অনেক। আবার অনেক তরুণ-তরুণী এ লাইনে পয়সা রোজগার করতে এসে ভীষণ ঠকে। শারীরিকভাবেও ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাদের মধ্যে চার থেকে দশ বারোজনেরো  গ্রুপ সেক্স হয়। তাতে একইক রুমের মধ্যে এক সময় কয়েক জোড়া নারী-পুরুষকে দেখা যায়। কেহ সোফায়, কেহ খাটে, কেহ দাঁড়িয়ে, কেহ চেয়ারে পা তুলে, অর্থাৎ বিচিত্র যৌন লীলায় সমাবেশ ঘটতে দেখা যায়। আবার একক যৌন জুটিরো নানা রকম যৌনলীলা দেখানো হয়। অপর একজন নারী এ দৃশ্য দেখে আত্মরতিতে অস্থির হয়ে উঠেছে। নারী পুরুষ দু’জনের সঙ্গম শেষে নারীটি এসে বঞ্চিত উত্তেজিইত নারীটির লজ্জাস্থান মর্দন করে বা চেটে দেয়।

এসব অনাচারের সংবাদ সম্বলিত গোপন পত্র বেশি সময়ে যুবকরাই বেশি কিনে, কিনে বিভ্রান্ত হয়, অস্থির কামনায় কষ্ট পায়। এছাড়া উপায় কি?

৫। উপরোক্ত নীল ছবি যৌন পত্রে এবং ভিডিও ক্যাসেটে ধারণ করে বাজারজাত করার জন্য পাশ্চাত্যে সরকার অনুমোদিত কোম্পানি রয়েছে। এসব ক্যাসেটের প্রতি গ্রাহক চাহিদা কমে যাওয়াতে বর্ণিত অনাচারের পর চরম বিকৃতির চিত্র গ্রহণ শুরু করেছে। তাতে নাকি একজন নারীর পায়ুপথ আরেকজন নারী দু’আঙ্গুলের সাহায্যে একজন সমকামী পুরুষের জন্য উন্নুক্ত করে ধরে। এ বিষয়ে বর্ণনা অনাবশ্যক। এর মাধ্যমে নারীর যৌনবোধ কোথায় নেমেছে সেটাই আতঙ্কের বিষয়।

৬। এসবেরও শেষ হল না। শেষ পর্যন্ত অল ফ্যামিলী সেক্স ভিডিও। স্বামী-স্ত্রী নিজেদের যৌনক্রিয়া অটোমেটিক ভিডিও রেকোর্ডারে রেকর্ড করে। সে চিত্র তাদের বন্ধুদের দেখায়। এটা জানতে পেরে সে জাতীয় ভিডিও বাজারজাতকারী প্রতিষ্ঠান ইন্ডেন্ট দিল, যেসব পরিবারে এ জাতীয় রেকর্ড আছে তাদের থেকে এ রেকর্ড গুলো কেনা হবে। কোম্পানির কেনা এ রেকর্ড এসব দেশে বিশেষভাবে বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

৭। বিয়ে করতে চরম নারাজ অনেক নারী রয়েছে তাদের পোষা পশু আছে। ঐসব পশুকে দিয়ে তারা নিজেদের যৌন চাহিদা মেটায়।

৮। নিজ স্ত্রীকে দু/একজন সবল সুঠাম পুরুষের সাথে মিলনের জন্য আয়োজন করা হয়। বলাবাহুল্য দর্শনেচ্ছু স্বামী গোপন কোন স্থানে দাঁড়িয়ে অথবা সাক্ষাৎ সাহায্যকারী হিসেবে তৃপ্তি অর্জন করে।

৯। বাইরের নারী সঙ্গী, বান্ধবী প্রেমিকাতে ভাল লাগে না। যৌনক্রিয়াকে মানুষের আদিম চাহিদা বলে নিজের বোনকে পর্যন্ত বিভ্রান্ত করা হয়। তারপর বোনকে যৌন সঙ্গীনী করে নেয়া হয়।

উপরোক্ত যৌন বিকৃতি গুলোর মধ্যে পাশাপাশি আনন্দভোগ অবশ্যই আছে। আছে বলেই এসব নারী পুরুষ এতে অপরাধ বোধে আক্রান্ত হয় না। বরং তারা তাদের কর্মকান্ডকে স্বাভাবিক মনে করে। কিন্তু এ যে স্বাভাবিক মনে করা এটাই বোকামী এবং বোধবুদ্ধির বিসর্জন বিশেষ। কেননা এসব নর-নারী কোন মতেই আর স্বাভাবিক দাম্পত্য জীবনে শান্তি ও পরিতৃপ্তি পায় না। শান্তি ও পরিতৃপ্তি গ্রহণের স্বাভাবিক যোগ্যতা ক্ষমতা সবই এদের জীবন থেকে হারিয়ে যায়। এর ফলেই শিশু ধর্ষণ, নারী ধর্ষণ ও বলৎকারের প্রতি আসক্তি ছড়িয়ে পড়ে। ফলে এসব অপকর্মের আসক্তি গণ-আশক্তি বা মাস-মেনিয়ায় পরিণত হতে পারে। যে সমাজে অনাচারই আচার হয়, সে সমাজের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ ভোগে দরিদ্র শ্রেণী। আবার দরিদ্র শ্রেণীতেই জনসংখ্যা (সব দেশেই) বেশি। আবার এ দরিদ্র শ্রেণী একদিকে ধনিক শ্রেণীর বলয় বন্ধনে আবদ্ধ অপরদিকে এরাই ধর্মকর্মে বেশি আগ্রহী। এমতাবস্থায়ম সযতনে যৌন অনাচার নিরপক্ষে চারিত্র ছাড়া উপায় নেই। প্রিভারশানে মৌলিক প্রতিক্রিয়া হল এর দর্শক ও ভোক্তা এতে চরম এক আনন্দ পায়। কিন্তু এ আনন্দই তাকে ধ্বংস করে ছাড়ে। আল্লাহ বলেনঃ শয়তান তাদের অপকর্মকে তাদের নিকট মোহনীয় করে তোলে।

সেক্স ডল আধুনিক যৌন অনাচারের সর্বশেষ উৎপাদন। এটা নারীর পুতুল বেলুন। এর মধ্যে হাওয়া ভর্তি করে নেয়ার ব্যবস্থা আছে। হাওয়া ভর্তি করলে একজন পূর্নাঙ্গ নারীর আকৃতি পায়। একজন পূর্ণ যৌবনা সুন্দরী রমনীর চেহারায় বিকশিত হয়। এর রয়েছে উন্নত স্তনদ্বয় আর যৌনাঙ্গ। আধুনিক বিকারগ্রস্থরা সেক্স মনে ব্যবহার করে। আর পৃথিবীর সব দেশে এ পুতুল পাওয়া যাচ্ছে। প্রবাসী পুরুষরা এটার দ্বারা যৌন কামনা মেটায়। (তথ্যসূত্রঃ বিচিত্র যৌন বিজ্ঞান)

এরপর পড়ুন >> যৌন কেশ পরিস্কার করার সম্পর্কে ইসলামের বিধান

আপনি পড়ছেনঃ পরিপূর্ণ স্বামী স্ত্রীর মধুর মিলন-বই থেকে।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

যৌন ধ্যান

যৌনতার আনন্দ বাড়াতে যৌন ধ্যান (ব্যায়াম) করুন

যৌন ধ্যান হল যৌনতার সময় আনন্দ বৃদ্ধির জন্য শরীরের সচেতনতা বৃদ্ধি করার একটি উপায়। নিয়মিত …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *