Home / যৌন জীবন / অন্যান্য / বয়ঃসন্ধি ও ঋতুদর্শন

বয়ঃসন্ধি ও ঋতুদর্শন

Photo

বয়স বাড়তে বাড়তে বয়ঃসন্ধির কালটি একদিন হঠাৎ এসে হাজির হয়। এই সময় থেকেই স্ত্রী আর পুরুষের মধ্যে যে প্রভেদ তার লক্ষণ গুলি একে একে দেখা দিতে শুরু করে। এই সময় থেকে ছেলেরা হয়ে যায় পুরুষ, আর মেয়েরা হয়ে যায় নারী। এর প্রধান লক্ষণরূপে ছেলেদের শুরু হয় শুক্রপাত, আর মেয়েদের শুরু হয় ঋতুস্রাব। এই বয়ঃসন্ধির কাল উপস্থিত না হলে ছেলেদের শুক্রও দেখা দেয় না, মেয়েদের ঋতুও নয়।

অবশ্য শুক্রের সৃষ্টি যে কোন দিন থেকে ঘটলো টা কেঊ টের পায় না। কোনোদিন দৈবক্রমে সেটা আবিস্কার হয়ে যায়। কারো কারো পক্ষে হয়তো অনেক বয়স পর্যন্ত সেটা আবিস্কার না হতেও পারে। কিন্তু ঋতুদর্শন মেয়েদের জীবনের একটা প্রত্যক্ষ ঘটনা । যখন উপস্থিত হয় তখন সকলেই সেটা অভ্রান্ত রকমে জানতে পারে।

আমাদের দেশে এই ঘটনা নিয়ে সমাজে রীতিমতো চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অন্তরপক্ষে আগেকার কালে তাই হতো। একে বলে পুস্পদর্শন, চলিত কথায় বলে থাকে “ফল দেখা”। তখনকার কালে এই ফল দেখার আগেই মেয়েদের বিবাহ দেবার রীতি ছিল। যে বাপ মেয়ের আট বছর বয়সের আগেই বিয়ে দিয়ে ফেলতে পারতো সে গৌরীদানের পুণ্য লাভ করতো। নয় বছর বয়স পার হলেই মেয়ে হলো অরক্ষণীয়া। তখন যত শীগ্র সম্ভব তাকে পাত্রস্থ করা চাই। তখনকার ধারণা ছিল, যার মেয়ে বিয়ে হবার আগেই ঋতুমতী হয়ে ফল দেখে ফেলবে তার চৌদ্দ পুরুষ নরকস্থ হবে। বিবাহের পরে মেয়ে প্রথম ঋতুমতী হলে সেটা হতো একটা উৎসবের আয়োজনের ব্যাপার। তখন হতো পুনর্বিবাহ অথবা দ্বিতীয় বিয়ের অনুষ্ঠান। এই অনুষ্ঠানে বরের সঙ্গে বধূর আবার নতুন করে গাঁটছাড়া বাঁধা হতো, তাছাড়া মেয়েমহলে ভূরিভোজনেরও ব্যবস্থা ছিল। আজকাল অবশ্য এ সব কিছুই হয় না।

আমাদের দেশে মেয়েদের খুব অল্প বয়স থেকেই ঋতু হতে শুরু হয়। যারা শহরে থাকে আর ভালো খাওয়াপরার দরুণ দেহের ভালোরকম বাড় হয়, তাদের ঋতু খুব শীঘ্রই আরম্ভ হয়ে যায়। এগারো বছর বয়সে ঋতু হওয়া এ দেশে খুবই স্বাভাবিক, কারো কারো তার আগেও হয়। কিন্তু নরওয়ে সুইডেন প্রভৃতি দরুণ শীতপ্রধান দেশে কারো কারো কুড়ি বছর বয়সেও ঋতু হয় না। সুতরাং কত বয়সে ঋতু হবে তা দেশের আবহাওয়ার উপর অনেকখানি নির্ভর করে।

ঋতু হলেই যে বালিকা অমনি যুবতীর কোঠায় উঠে  গেল, তা নয়। বালিকা যে, সে তখনও বালিকাই থাকে। তবে তখন থেকেই যে তার দেহে

পৃঃ ১৬
এবং মনে সকল দিক দিয়ে একটা বিশেষ রকম পরিবর্তন ঘটতে শুরু করে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তার দেহেও যেমন যৌবনের নতুন নতুন চিহ্নগুলি ফুটে উঠতে থাকে, তেমনি নতুন নতুন ভাবের উদয় হতে থাকে। তার অন্তরের যে দৃষ্টি এতকাল নিজের মধ্যেই নিহিত ছিল, সেই দৃষ্টি খুলে যায় আইরের দিকে। তার মন যেন কোনো নতুন জিনিসের সন্ধান পাচ্ছে।

কিন্তু তবু সদ্য-ঋতুমতী বালিকার সঙ্গে পরিপূর্ণ যুবতীর অনেক প্রভেদ আছে। পূর্ণ যুবতী হয়ে ওঠবার আগে তাকে আরো কয়েকটা ধাপ পার হয়ে যেতে হবে। ঋতু দেখা দেওয়া মাত্রই সে যে জননী হবার উপযুক্ত হলো তাও ঠিক নয়। ওর থেকে তারই একটা সূচনা মাত্র। তখনও তার দেহের পরিপূর্ণ গড়ন হয়নি, হাত-পা গুলো অস্বাভাবিক রকমের লম্বা ও লালিত্যশূণ্য, চঞ্চল গতিভঙ্গির মধ্যে তখনো কোনো ছন্দ দেখা দেয়নি। তারপর ধীরে ধীরে প্রথমে তার বুকের স্তন দুটি সুপুষ্ট ও সুডৌল হয়ে উঠবে, গলার স্বর কিছু ভারী হবে, বগল ও কামাদ্রির কাছে লোম জম্মাবে, মাহার চুল আরো সমৃদ্ধ হবে, নিতম্ব –দেশে মেদমাংস জমে চলার ভঙ্গি মন্থর ও ছন্দশীল হবে, চোখের দৃষ্টি হয়ে আসবে লাজনম্র, সর্বাঙ্গে যৌবনের একটা বিশিষ্ট ধরনের হিল্লোল ছাপা-ছাপি হয়ে উঠবে, আর তার উদ্দামতা সংবৃত করতে গিয়ে গায়ের কাপড়চোপড় আপনা থেকেই হবে সংবৃত, তবেই হবে প্রকৃত যৌবনের উদগম। এই সমস্ত ঘটতে কিছুকাল সময় লাগে।

এরই সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদের মনোভাবেরও অনেক রকমের বদল হয়ে যেতে থাকে। সারা অঙ্গে যেমন নতুন নতুন যৌবন লক্ষণ গজিয়ে ওঠে যা আগে কখনো ছিল না, মনেও তেমনি নতুন প্রত্যাশা নতুন ভয় ভাবনা গজিয়ে ওঠে যা আগে কখনো ছিল না।

প্রথমে ভয়ভাবনটাই হয় বেশি। সহপাঠী ও সখীদের আকর্ষণ তখন তার কাছে তুচ্ছ হয়ে গেছে, বাপ মা প্রভৃতিকে মনে হচ্ছে নিতান্ত সোজা ও সেকেলে, মন চাইছে কিছু রহস্যময় যাত্রাপথের সন্ধান। কিন্তু সেইখানেই জাগছে আবার একটা অপ্রত্যাশিতের আবির্ভাবের নতুন ধরনের আতঙ্ক।

এ পরিবর্তন গুলি সমস্তই ঘটে থাকে বিবিধ রকম গ্ল্যান্ডের অভ্যন্তরীণ রস বা হরমোনের ক্রিয়ার দ্বারা, সে কথা ইতোপূর্বে বলা হয়েছে। তলপেটের ভিতরে তখন ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বকোষ অর্থাৎ স্ত্রী-বীজ জম্মাচ্ছে, সেই বীজকে ঘিরে আবরণের সৃষ্টি হচ্ছে, সেই আবরণ ফেটে গিয়ে সঙ্গমোপযোগী পাকা বীজকে মাঝে মাঝে মুক্ত করে দিচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাশয় থেকে অন্যান্য অভ্যন্তরীণ রসও জম্মাচ্ছে। এইগুলি সমস্তই যথারীতি আপন ক্রিয়াসকল করে যাচ্ছে। তারই ফলে ধীরে ধীরে বালিকা হয়ে উঠছে কিশোরী। কিন্তু তখনও ডাঁসা অবস্থা, ভালো করে পাক ধরেনি। বিবাহ হয়ে গিয়ে থাকলে এই সময়টাই হলো উভয় পক্ষ থেকে বিশেষ বিবেচনা করে চলবার সময়। এ সময় মেয়েদেরও যেমনি সাহস করে নতুন ভবিষ্যৎ জীবনের জন্য প্রস্তুত হয়ে নিতে হবে, পুরুষদেরও তেমনি সহিষ্ণু হয়ে তাদের সেই প্রস্তুতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

ঋতুস্রাব একবার আরম্ভ হয়ে গেলে তখন থেকে নিয়মিত দেখা দিতে থাকে আটাশ

পৃঃ ১৭
দিন অন্তর। যে তারিখে একটি ঋতু দেখা দিল, সাধারণোত তার আটাশ দিন পরে আবার পরবর্তী ঋতু নিশ্চয় দেখা দেবে। এই হলো নিয়ম।

কিন্তু আগামী ঋতুর তারিখ সম্বন্ধে নিয়ম সকলের পক্ষে সমান নয়। কারো কারো হতে পারে এক মাস অন্তর, কারো বা পাঁচ সপ্তাহ অন্তর, কারো বা হয়তো তিন সপ্তাহ অন্তর। ঋতু নিয়মের এমনি পার্থক্য থাকলেও তাতে কোনো ক্ষতি হয় না। এর ঘটনাচক্র অনেকটা ব্যক্তিগত, এবং প্রত্যেকের বংশানুক্রমিক ধারার উপরেও এর বিবর্তন অনেকটা নির্ভর করে। যার ক্ষেত্রে যেমন গোড়া থেকে হয় তার পক্ষে তেমনিই স্বাভাবিক।

কয়দিন পর্যন্ত ঋতুস্রাব চলতে থাকবে সে সম্বন্ধেও অনেক বৈচিত্র্য আছে। সাধারণত এই স্রাব তিন দিন থেকে ছয় দিন পর্যন্ত বজায় থাকে। কিন্তু কারো বা প্রতি ক্ষেপে মাত্র দুদিন পরেই থেমে গেল, কারো বা দশ দিনও রয়ে গেল। আবার প্রত্যেক বারেই যে নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত স্থায়ী হবে তাও বলা যায় না। একই জনের পক্ষে হয়তো কোনো বারে রইল চার দিন, কোনো বারে রইল সাত আট দিন, এমনও হয়। হঠাৎ কোনো একটা শোক পেয়ে কিংবা কোনো অসুস্থতা হয়ে ঋতুটা সবে হতে হতেই থেমে গেল, তাও হয়। নিয়মিত মধ্যে এমন ধরনের অনিয়ম ঘটলেও তাতে বিশেষ কিছু যায় আসে না। প্রত্যেক বারে ঋতুস্রাবের মোট পরিমাণ হয়ে থাকে সাধারণত ত্রিশ আউন্স থেকে আশি আউন্স পর্যন্ত। তবে এ বিষয়েও কোনো স্থিরতা নেই। স্বাস্থ্য ভাল হলে অরায়ই কম ঋতুস্রাব হয়, শরীর দুর্বল থাকলে স্রাব হয় একটু বেশি।

ঋতুস্রাবের রক্তটি দেখা দেবার দু’একদিন আগের থেকে অনেকেরই একটু জলীয় রসস্রাব হতে দেখা যায়। জরায়ুর এবং যোনিগাত্রের এই রসটি অম্লগুণযুক্ত । সেইজন্য তাজা রক্তের সঙ্গে মিশে এটি সহজে জমাট বাঁধতে দেয় না, এবং ঋতুস্রাব সেইজন্য সম্পূর্ণ তরলভাবেই অল্প অল্প ঝরতে থাকে। তবে রক্তের মাত্রা খুব বেশি হলে তখন মাঝে মাঝে চাপ বাঁধে। ঋতুস্রাবের একরকম নিজস্ব বিশেষ গন্ধ আছে, ঐ রসের দরুণই তা হয়।

ঋতু ক্রিয়ার দ্বারাই জরায়ু প্রতি মাসে গর্ভধারণের জন্য প্রস্তুত হয়। দুই ঋতুস্রাবের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বকোষ পরিপক্ক হয়ে আবরণ ফেটে বেরিয়ে পড়ে। এই ডিম্বকোষ শুক্রকীটের চেয়ে অনেক বড়। এমন কি এক একটি গোল বালুকণার মতো সাদা চোখেই দেখা যায়। টিউবের মুখের কাছাকাছি এসে সঙ্গমের জন্য এই পাকা ডিম্বকোষ কিছুকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে থাকে। ততক্ষণে জরায়ুর ভিতরকার ঝিল্লীও তাড়াতাড়ি পুরু হয়ে উহে, সেখানকার গ্ল্যান্ডগুলিও পুষ্ট হয়ে ওঠে, এবং সেখানে বেশি পরিমাণে রক্তও এসে জমে। এ সমস্তই গর্ভের মধ্যে ভ্রূণ ধারণের জন্য। যদি কোন শুক্রকীট ডিম্বকোষের সাক্ষাৎ পেয়ে তার মধ্যে ঢুকে দুটিতে মিশে যায়, তাহলে তার থেকে নবসৃষ্ট ভ্রূণটি ঐ জরায়ু-ঝিল্লীর গায়ে গিয়ে সনহযুক্ত হবে, আর তখন থেকে শুরু হয়ে যাবে গর্ভাধান। ঐ পুরু হয়ে ওঠা ঝিল্লী আর গ্ল্যান্ডগুলি আর বেশি পরিমাণে আমদানি রক্ত, সমস্তই তখন সেই ভ্রূণকে ধারণ ও লালন

পৃঃ ১৮
করার কাজে লেগে যাবে। কিন্তু যদি ঐ সকল আয়োজন ব্যর্থ হয়ে যায়, তাহলে নির্দিষ্ট কয়েকদিন অপেক্ষা করার পরে ঐ পুরু ঝিল্লী ও তার উপকরণ গুলি ছিন্নভিন্ন হয়ে অনাবশ্যক ডিম্বকোষটি সমেত জরায়ুগহরের ভিতর থেকে আবর্জনারূপে বাইরে নিক্ষিপ্ত হতে থাকে। সূক্ষ্ম রক্ত-শিরাগুলি ছিঁড়ে যাওয়াতে তাজা রক্তও তার সঙ্গে নির্গত হতে থাকে। যতক্ষণ পর্যন্ত সেই সব আবর্জনা দূর হয়ে না যায়, ততক্ষণ পর্যন্ত এই স্রাব চলতে থাকে। যখন সব কিছু আবর্জনা দূর হয়ে গেল, তখন স্রাব থামিয়ে জরায়ু আবার নতুন ঝিল্লী নিয়ে গর্ভাধানের জন্য নতুন আয়োজন করতে শুরু করে।

যদিও কেবল জরায়ুর ভিতর থেকেই ঋতুস্রাবের প্রক্রিয়াটি ঘটে, কিন্তু এর সঙ্গে সারা দেহেরই একটা অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক আছে। সেইজন্য ঐ সময় চারিদিক থেকেই কিছু কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা যেতে থাকে। স্তন দুটি জরায়ু থেকে অনেক দূরে থাকলেও এই দুটি স্ত্রীলোকের যৌন অঙ্গেরই পর্যায়ভুক্ত । জরায়ুর সঙ্গে রীতিমতো যোগাযোগ আছে। সেইজন্য দেখা যায় যে ঋতু উপস্থিত হবার দু’একদিন আগের থেকে স্তন দুটিও স্পষ্টভাবে স্ফীত হয়, এবং তার মধ্যে রক্ত জমে আড়ষ্ট হয়ে টনটন করার মতো ব্যথা বোধ হতে থাকে। তখন হাত  দিয়ে অনুভব করলেও বোঝা যায় যে স্তন দুটি আগের চেয়ে কিছু বেশি শক্ত হয়ে উঠেছে। হয়তো সকলেই এটা ঠিক বুঝতে পারে না, কিন্তু অনেকে এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবেই টের পায়।

এই সঙ্গে শরীরে নানারকমের অসুস্থতা বোধ হতে থাকে। শরীরটা ম্যাজম্যাজ করে, কখনো বা মাথা ধরে, জ্বরভাব হয়, এমন কি টেম্পারেচারও সময় সময় একটু বাড়তে দেখা যায়। কারো বা গা বমি বমি করে, ক্ষুধা কমে যায়। কেউ কেউ খেতেই পারে না, সঙ্গে সঙ্গে কোষ্ঠকাঠিন্য হয়। অনেকের রক্তের চাপ বেড়ে যায়, আর মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। নার্ভের নানারূপ গন্ডগোলের লক্ষণও এই সময় প্রকাশ পায়। দেহ অল্পেই অবসন্ন হয়ে পড়ে, কাজেশৈথিল্য আসে। আর সব চেয়ে প্রধান কথা, তলপেটে ক্ষণে ক্ষণে একটা মোচড় দেওয়ার মতো ব্যাথা উঠতে থাকে। সেই ব্যথার তাড়সে সোজা হয়ে দাঁড়ানো যায় না, এবং কারো কারো জানু দুটি পর্যন্ত কনকন করতে থাকে। এই সব ব্যথা হয় জরায়ুর আকস্মিক অনভ্যস্ত সংকোচন ক্রিয়ার জন্য। অল্প অল্প ব্যথা অনেকেরই হয়ে থাকে, সেটুকু সহ্য করা যায়। কিন্তুকারো কারো এমন ব্যথা উপস্থিত হয় যা সহ্যের অতিরিক্ত, এবং চিকিৎসারও দরকার হয়। একে চলিত কথায় বলে বাধকের ব্যথা। ঋতু হবার আগের থেকে প্রথম দুই এক দিন পর্যন্ত এই ব্যথার জোর থাকে, কিন্তু ঋতুটা কতক নির্গত হয়ে গেলেই ক্রমে ক্রমে ব্যথা কমে যায়, সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থতার অন্যান্য লক্ষণগুলিও দূর হয়ে যায়।

কার ঋতুর কেমন প্রকৃতি, কতদিন অন্তর সেটা দেখা দেবে, এবং কতদিন পর্যন্ত থাকবে, এসব কথা মেয়েদের প্রত্যেকেরই বিলক্ষণ জানা আছে। যার যেমন হবার নিয়ম তার সচরাচর বিশেষ ব্যতিক্রম হয় না। কিন্তু এই নিয়মের মধ্যে যদি অনিয়ম ঘটে যায় এবং একটা ক্ষেপ একেবারে বাদ পড়ে যায়, তাহলে সম্ভবত গর্ভসঞ্চার হয়েছে বলেই

পৃঃ ১৯
অনুমান করতে হয়। অবশ্য অল্পবয়স্কাদের মধ্যে প্রথম কিছুকাল প্রায়ই এমন অনিয়ম হয়ে থাকে, কারণ তখনো ঋতুচক্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয় নি। আবার এমনও হতে দেখা যায় যে নির্দিষ্ট তারিখের হিসাব করতে ভুল হয়েছে, কিংবা মনে হলো দিনটা পার হয়ে গেছে, অথবা রিতুস্রাবটা এতই সামান্য হলো যে তা নজর পর্যন্ত এড়িয়ে গেল।

ঋতুর কয়েকটা দিন, অন্তরপক্ষে প্রথম রিন দিন, কঠিন পরিশ্রমের কাজ থেকে বিশ্রাম নেওয়াই বিধি। আমাদের দেশে পূর্বকালে রজঃস্বলা মেয়েকে স্বতন্ত্র ঘরে পৃথক করে রাখা হতো। তাকে ঘরসংসারের বিশেষ কোনো কাজে হাত দিতে দেওয়া হতো না, এবং তখন পুরুষের মুখ পর্যন্ত দেখতে দেওয়া হতো না। সেই সব প্রথা যদিও এখন উঠে গেছে, কিন্তু তবু ঋতুকালের দরুণ বিশেষ স্বাস্থ্যবিধিটুকু সকলেরই পালন করা উচিত। এ সময় অল্পবয়স্কাদের যাতে কোনো মানসিক উত্তেজনা আসে এমনভাবে পুরুষের সংসর্গ না করাই ভালো। শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রম বেশি কিছু না করা এবং পথে ঘাটে না বেরুনোই যুক্তিযুক্ত। যথেষ্ট ঠান্ডা লাগানো এবং বৃষ্টিতে ভেজাও এ সময় নিষিদ্ধ। ঢিলা কাপড় জামা ব্যতীত আটসাট করে কিছুপঋধান করে বেপরোয়া লাফালাফি করতে থাকা খুবই অন্যায়।

আমাদের দেশে ঋতুকালে গোসলও নিষিদ্ধ ছিল এবং স্বতন্ত্র একপ্রস্ত মলিন কাপড়চোপড় পরে থাকবার ব্যবস্থা ছিল। যেহেতু মেয়েরা ঋতুকালে অস্পৃশ্য, সুতরাং তাদের সমস্ত দেহটাই নোংরা হয়েছে। হয়তো তখনকার দিনে এমন ব্যবস্থার কিছু প্রয়োজন ছিল। অবশ্য তিন দিন গোসল না করলে বিশেষ ক্ষতি নেই, কিন্তু ময়লা কাপড় পরে নোংরা হয়ে থাকা খুবই অন্যায়। ওতে রোগের আক্রমণকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়। বিশেষত রিতুস্রাব ধারণের জন্য ময়লা ন্যাকড়া ব্যবহার করা বা বস্থায় গুঁজে রাখা বাতিল ময়লা কাপড়ের কাছা নেওয়া যে কতদূর অনিষ্টকর তা বলবার নয়। আমাদের দেশের মেয়েদের এই সব বদ অভ্যাস থেকেই বেশির ভাগ স্ত্রীরোগের সৃষ্টি হয়। অনেক দেখেশুনে প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকেই এই কথা আমরা বলছি। ঠিক ঋতু গোসলের পর থেকেই তলপেটের দারুণ রোগ জম্মালো, এ কথা বহু বহু রোগীর মুখে শুনেছি। ঋতুর সময় যোনির মুখে ময়লা কাপড় গুঁজে রাখলেই তার থেকে বিষাক্ত নানরূপ জীবাণুর সংক্রমণ সেখানে ঢুকে পড়ে। সেই সংক্রমণ যোনি ও জরায়ু ভেদ করে এবং কালক্রমে ভিতরের টিউবগুলি পর্যন্ত ভেদ করে তলপেটের মধ্যে এমন প্রদাহের সৃষ্টি করে যাতে জীবননাশের অবস্থা ঘটে। এতটা সচরাচর না হলেও রক্ত ও রক্তস্রাব  মাখানো যোনিদ্বার না পরিস্কার করে শুধু একটু কাপড় গুঁজে রাখলে সেগুলি আবদ্ধ থেকে পচে উঠে তার থেকে একটা বিশ্রী দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়। সে দুর্গন্ধ অনেক সময় বাইরের থেকেও টের পাওয়া যায়।

ঋতুর সময় স্বাস্থ্যকর ব্যবস্থাগুলিপালন করা সম্বন্ধে মেয়েদের রীতিমতো সতর্ক হওয়া ন্দরকার। ডাক্তার খানায় যে সকল নিরাপদ ধরনের ডায়েপার ও জিবাণুশূন্য স্যানিটারি তোয়ালে কিনতে পাওয়া যায়, সম্ভব হলে তাই ব্যবহার করা উচিত। অথবা

পৃঃ ২০
পরিস্কার ছেঁড়া কাপড় ফুটন্ত সাবান জলে কেচে নিয়ে এবং শুকিয়ে যত্ম করে ভালো জায়গাতে রেখে দেওয়া, এবং দরকারের সময় শুধু সেই বিশুদ্ধ কাপড়ই ব্যবহার করা উচিত। এছাড়া প্রতিবার মূত্রত্যাগের পরে জল দিয়ে সমস্ত বহিরঙ্গটি পরিস্কার করে ধুয়ে ফেলা, এবং ন্যাকড়া প্রভৃতি ঋতুস্রাবে ভিজে গেলেও অধিকক্ষণ পর্যন্ত সেগুলি তেমনি অবস্থায় না রেখে পুনঃপুনঃ বদলে ফেলা, সকল দিক দিয়ে সাবধান হয়ে আপন অঙ্গাদি সম্বদ্ধে পরিচ্ছন্নভাবে থাকা, এই রীতিগুলি নিজের থেকে অভ্যাস করে নেওয়া মেয়েদের পক্ষে নিতান্তই দরকার। সামাজিক রীতির দিক দিয়ে অস্পৃশ্য হয়ে একটু তফাতে থাকা বরং ভালোই, কিন্তু স্বাস্থ্যের দিক দিয়ে নোংরা জিনিস ব্যবহার করে সর্বশরীরে নোংরা হয়ে থাকা খুবই অন্যায়।   পৃঃ ২১

আপনি পড়ছেনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড থেকে>>বয়ঃসন্ধি ও ঋতুদর্শন

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাঃ আমাদের সাইটের পোস্ট পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো তাহলে শেয়ার করুণ। এবং আপনার বন্ধুদের কে আমন্ত্রণ জানান আমাদের সাইটে যোগ দেওয়ার জন্য।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

বীর্যের পরিমাণ

ইতিপূর্বে এ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে যে, বীর্য নামক উপাদান, যার রঙ সাদা ও গাঢ়, …

No comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *