Home / যৌন জীবন / অন্যান্য / পূর্বরাগ ও প্রস্তুতি

পূর্বরাগ ও প্রস্তুতি

মূলগত পছন্দের সঙ্গে মিল থাকা ছাড়াও মানুষের মনকে আকর্ষণ করবার আরো অনেক উপকরণ আছে। সেগুলি হলো রূপ রস শব্দ গন্ধ স্পর্শ। যে প্রেম প্রথম দৃষ্টিতে জেগে উঠা আকস্মিক প্রেম নয়, তাকে এই গুলির সাহায্য নিয়ে জাগতে হয়। এইগুলির দ্বারা প্রেমাস্পদের পাঁচ রকম চেতনাকে আকর্ষণ করতে হয়, তখন মিলনের সম্পর্ক ঘটে গেছে বলেই যে আর আকর্ষণের উদ্ভাবনা নিতান্তই দরকার। বলা বাহুল্য এটুকু হলো বিশেষ করে নারী পক্ষের কাজ। নারী আগে জাগাবে, পুরুষ তাতে জাগবে। নারী আগে মুগ্ধ করবে, আর পুরুষ হবে তাতে মুগ্ধ। এর জন্য প্রকৃতি নারীকে বিশেষ করেই অনেক রকমের অমোঘ অস্ত্র দিয়েছে।

 

প্রথমেই চোখের কথা। কারণ আমরা হলুম প্রধানত চক্ষুম্মান প্রাণী। আগে চোখে দেখতে ভালো লাগবে, তবে ভালোবাসতে ইচ্ছে হবে। রূপের বাহার মানুষকে খুব জোরের সঙ্গেই আকর্ষণ করে। যার রূপ আছে তার প্রথম সাক্ষাতেই কাউকে আকর্ষণ করতে কৃতিত্বের দরকার হয় না। কিন্তু রূপজ্যোতি কেবল প্রথম ঝলকেই চমৎকৃত করে। চোখ যখন দুদিন পরে অভ্যস্থ হয়ে যায় তখন আর রূপের তেমন আকর্ষণী নেই। রূপ কেবল চোখ ধাঁধাতে পারে, লোভ লাগাতে পারে, কিন্তু আরো কিছু গুণ না থাকলে শুধুই রূপে প্রেম জাহাতে পারে না। যারা রূপেরই গৌরব করে তারা যেন এ কথাটি মনে রাখে। রূপের কিছু বৈচিত্র্য থাকলে সত্যিই মনকে বিশেষ করে টানে। মুখের ভাবের কিছু নূতনত্ব, দেহের গঠনের কিছু বৈশিষ্ট্য, যা সাধারণত পথে ঘাটে সহসা চোখে পড়ে না, এমন কোনো আল্গাশ্রী দেখলেই মনে হয়, বাঃ এই বুঝি অনির্বচনীয়। এমন কি মোটামুটি চলনসই চেহারার মধ্যেও যদি তেমন অসাধারণ একটা কিছু থাকে যা প্রথমেই নজরে লাগে, তবে অনেকের পক্ষে সেতাই নিতান্ত আকর্ষণের বস্তু হয়ে পড়ে। আবার কোনো বিশেষ রকমের বৈচিত্র্য পূর্ণ খুঁতও সামান্য মানুষকে অসামান্য করে তোলে। কারো বা সামনের দাঁতটা একটু উঁচু, একজনের তাকেই খুব ভালো  লেগে গেল। কারো বা দুই গালে দুই মস্ত তিল, একজনের তাকেই হলো ভারী পছন্দ। সুতরাং লোকে যাকে খারাপ চেহারা বলেই সাব্যস্ত করে, তাকে যে কারোই খুব বেশি পছন্দ হবে না এমন কোনো কথা নেই। নিখুঁত রূপের চেয়ে খুঁতওয়ালা রূপই অনেকের কাছে কাম্য। আসল কথা এই যে, খঁতযুক্তই হোক অথবা নিখুঁতই হোক, কেবল রূপটাই প্রেমকে ফোটায় না। দ্রষ্টার মনের ভিতরকার প্রেমই দৃশ্যমান রূপকে নতুন রূপে ফুটিয়ে তোলে। প্রেমের আলোতে চেয়ে দেখবার চোখই হয়ে থাকে আলাদা। সেই চোখ যে কার মধ্যে রূপ দেখবে আর কার মধ্যে দেখবে না, তার কোনো ঠিকানা নেই। সুতরাং রূপের কোনো নির্দিষ্ট মাপকাঠি নেই। ভালো লাগাই হলো প্রত্যেকের নিজের নিজের মাপকাঠি।

পৃঃ ৪০

মেয়ে পুরুষের দিকে, অথবা পুরুষ মেয়ের দিকে যখন বিশেষ ভাবে চেয়ে দেখে, তখন সেই প্রথম দৃষ্টিতেই প্রত্যেকে জেনে নেয় যে ঐ মানুষটিকে তার ভালো লাগলো কি না। তবে কে কোন সময় কোন চোখে দেখবে তা বলা যায় না। ভালো লাগা বা মন্দ লাগা অনেকটা দ্রষ্টার মনের অবস্থার উপরেই নির্ভর করে। সেইজন্যও রূপ সম্বন্ধে জনে জনে যথেষ্ট মতভেদ হয়। কিন্তু যেমনই হোক, তবু শুধু ভোখের ভালো লাগা বেশিদিন টেঁকেনা। রূপের সঙ্গে আরো কি বস্তু আছে তাই আমরা তার পরে দেখতে  চাই। অবশ্য এখানে স্ত্রী এবং পুরুষ দুই তরফের কথাই বলছি। প্রসাধনাদি চর্চার দ্বারা দেহের রূপকে রুচিকর করে ফুটিয়ে তোলা খুবই ভালো, এবং সেও একটা শিল্পকলা, কিন্তু সেটাই একমার লক্ষ্যের বিষয় নয়। রূপের সঙ্গে কিছু গুণের সৌরভ থাকুক এইটেই সকলে প্রত্যাশা করে। রূপবান ও রূপসীদেরেই কথা স্মরণ রাখা দরকার যে রূপের অভাব বরং গুণের দ্বারা পুষিয়ে যায়, কিন্তু গুণের অভাব কখনো রূপের দ্বারা পুষিয়ে দেওয়া যায় না। রূপের মধ্যে যে খানিকটা গর্ব আর গুণসম্পদের বিষয়ে অবহেলা প্রেমকেও নষ্ট করে, সংসারকেও নষ্ট করে।

সৌন্দর্যের অতিরিক্ত তাহলে আরো কি জিনিস থাকা চাই? এখানে ভঙ্গীর কথাটাও বলে রাখা দরকার। রূপ যেমনই হোক, তার একটি মানানসই ভঙ্গী থাকবে। সে ভঙ্গী হবে প্রাণবন্ত, সুরুচিপূর্ণ, ছন্দোময়।  ভঙ্গীর নানারকমের বিকাশ আছে, তার দ্বারা মানুষের চরিত্রের অনেকটা প্রকাশ পায়। যখন কোনো পরিচয় নেই কিংবা বাক্যালাপও নেই, তখন কেবল ভঙ্গীর দ্বারাই প্রথম পরিচয়ের একটা ছাপ পড়ে। কোনো একটি মেয়ে আমার সামনে দিয়ে শুধু চলে গেল,আমি কেবল তার চালচলনের ধাঁচটা দেখেই বুঝতে পারি যে মেয়েটির স্বভাব কেমন। ভালো লাগার প্রশ্ন থাকুক অথবা নাই থাকুক, ভঙ্গীটুকু ভদ্র এবং সুরুচিপূর্ণ হলে তাতে লাভ ছাড়া ক্ষতি নেই। সুষ্ঠু ভঙ্গীতে অভ্যস্ত হয়ে থাকাই সবচেয়ে ভাল। প্রশংসনীয় চলনভঙ্গী অভ্যাস করাবার জন্য আগে ছোট বয়সের মেয়েদের পায়ে মল পরিয়ে রাখবার ব্যবস্থা ছিল, সেটা কেবল পায়ে গয়না পরাবার জন্যই নয়। মল পরা থাকলে চলবার ভঙ্গী আপনা থেকেই ধীর এবং ছন্দযুক্ত হতো। আজকাল মলের বদলে হয়েছে জুতো। রাস্তায় চলাচলের পক্ষে সেটা আজকাল নিরাপদ তাতে সন্দেহ নেই, কিন্তু তবু এই দেশের মেয়েদের পক্ষে হাল্কা চটির ধরনে কিছু পরাই ভালো। তাতেও একটা দেশওয়ালী ছন্দ বজায় থাকে।

কিন্তু শুধু চলবার ভঙ্গীর কথাই আমরা বলছি না, বলতে চাই শরীরের সকল রকম ভঙ্গীর কথা। বসে থাকবার ভঙ্গী, দাঁড়াবার ভঙ্গী, শুয়ে থাকার ভঙ্গী, এমন কি ঘুমোবার ভঙ্গীও মেয়েদের এমন হবে যাতে দেখতে কখনো অশোভন না হয়। এ সকল অনেকটাই অভ্যাসে সাপেক্ষ। অনেক মেয়ে এমন আছে যারা বসা থেকে উঠে দাঁড়াবার সময় অন্যের চোখে অশোভন লাগে। নিজের চেষ্টাতে এই সব সংশোধন করে নেওয়া উচিত।

পৃঃ ৪২

মানুষ সব চেয়ে সহজে মুগ্ধ হয় আপন চোখ দিয়ে অপরের চোখের চাউনি দেখে। চোখের মধ্যে এমন আকর্ষণ থাকতে পারে যা কোনো দেহবিন্যাসের মধ্যে নেই। চোখের দৃষ্টির মধ্যে এমনি ভাষা আছে যা কোনো বাক্যবিন্যাসের মধ্যে নেই। সকলের চোখ বাইরের থেকে দেখতে প্রায় একই প্রকারের, কিন্তু তবু সেই চোখেরই দৃষ্টিপাত দিয়ে মানুষকে মোহিত ও অভিভূত করে ফেলা যায়। চোখের চাউনির মধ্যে অনেক রকম ইতর বিশেষ আছে। করুণ দৃষ্টিতে চাইলে তার অর্থ হয় একরকম, নিম্পলক নিবিড় ভাবে চাইলে তার অর্থ হয় আরো অন্য রকম। এগুলি মেয়েদের শেখাতে হয় না, তারা সচরাচর আপনা থেকেই জানে। 

চোখের দ্বারা অনেক রকম মনের কথা জানানোও যায়, আবার জানাও যায়। প্রেমের  প্রথম নিবেদন তো চোখ দিয়েই জানাতে হবে, তখন মুখে বাক্যের মোটে স্ফুরণই হবে না। এমন কি তখন কে যে কি চাইছে তাই জানতে পারবার সময় হয়নি। দুজনে সবে মাত্র আলাপ হয়েছে, কেবল চোখাচোখি হওয়াটাই উত্তরোত্তর বেশি করে ভালো লাগছে। সংকোচ ও সংযমের বাঁধা অতিক্রম করে দুজনের দুজোড়া চোখে এমনি নিতান্ত নিজেদের মধ্যে এক অদ্ভুত ভাষায় খবরাখবর চলতে শুরু করেছে। কবির কথায় “চোখ হতে চোখে খেলে কালো বিদ্যুৎ, হৃদয় পাঠায় আপন গোপন দূত।” সে তো আসলে প্রেমেরই বৈদ্যুতিক দূত। যে চোখের এতখনি অন্তর্নিহিত শক্তি সেই চোখই যদি হয়ে থাকে নির্বোধ, নিস্প্রভ, অকরুণ, অন্যমন্সক,তাহলে তার সার্থক ভাবে সদ্ব্যবহার করা হলো কোথায়?

লোকের দৃষ্টিকে আকর্ষণ করবার আরো এক উপায় বেশের এবং কেশের সমূচিত বিন্যাসের দ্বারা। প্রসাধনের এই অংশটা রীতিমতো কলাবিদ্যা, বহু আয়াসে বহু অভিজ্ঞতার ভিতর দিয়ে এটিকে আয়ত্ত করতে হয়। বেশবাসের প্রয়োজন যে শরীরের গোপনীয় স্থানকে আচ্ছাদন করেই রাখবার জন্য তা ঠিক নয়। ওর প্রয়োজন খানিকটা ঢাকা দিয়ে খানিকটা ফুটিয়ে তোলবার জন্য। এমনি কৃতিত্বের সঙ্গে জামা কাপড় শাড়ি প্রভৃতি, দেহগঠন ও দেহবর্ণের সঙ্গে সুকৌশলে মানিয়ে নিয়ে পরতে জানাই হলো প্রসাধনের আর্ট। যেখানে যেমনটি মানাবে সেখানে তেমনটি করা চাই। যেমন ভাবে প্রসাধন করলে প্রকৃতিদত্ত দেহসৌন্দর্য আরো বেশি সুন্দর দেখায় তেমনটি করা দরকার। প্রত্যেকেরই দেহের কোনো কোনো অংশ নির্দোষ এবং নিটোল, আর কোনো কোনো অংশ খুঁতযুক্ত। প্রসাধন এমন নিপুণ ভাবেই সারতে হবে যাতে নিন্দনীয় অংশগুলি ঢাকা পড়ে থাকে, আর প্রশংসনীয় অংশগুলি স্পষ্টভাবে ব্যক্ত হয়ে ওঠে। প্রসাধনের উদ্দেশ্যি তাই, সুন্দরটুকু গুটিয়ে তুলে অসুন্দরটুকু ঢেকে রাখা। মেয়েদের পক্ষে চুলই হলো প্রকৃতির মহাদান। সুন্দর দেখাতে চুলের খুব বেশি প্রয়োজন বলেই প্রকৃতির এমন ব্যবস্থা করা আছে যাতে মেয়েদের কখনো টাক হতে না পারে, ওদের মাথায় চুলের কখনো অভাব না হয়।

পৃঃ ৪৩

প্রসাধনের সময় এই চুলগুলিকেই বিশেষভাবে কাজে লাগাতে হবে। মেয়েদের চুল এমন ভাবে বাঁধতে হবে যাতে মুখখানি তার আবেষ্টনের মধ্যে সব চেয়ে মানায় ভালো। কারো বা চুল টেনে বাঁধলেই ভালো দেখায় কারো বা লগা খোঁপায় ভালো দেখায়। এইসব বৈচিত্র্য থেকেই রকম রকম চুল বাঁধবার পদ্ধতি আবিস্কার হয়েছে। কিন্তু  শুধু চুল নিয়ে মেতে থাকলেই চলবে না। কাপড়খানিও এমন ভাবে পরতে হবে যাতে আলুথালু অগোছালো না দেখায়, গলার ও বুকের কিছু কিছু অংশ তার অন্তরাল থেকে আভাসে মাত্র দেখা যায়।

সৌন্দর্যকে এমনি শিল্পকলার সাহয্যে আবরণের আড়াল দিয়ে দেখানোর একটা উদ্দেশ্য আছে। খানিক পরিমাণে দৃশ্য আর খানিক পরিমাণে অদৃশ্য থাকলে সুন্দর অঙ্গাদির সৌন্দর্যের আরো খোলাতাই হয়, আর মানুষের কল্পনা তারই চমৎকারিত্ব নিয়ে দেখা-না দেখার নানা রকম জাল বুনতে থাকে।

যে সুন্দরের কোন আবরণের ব্যঞ্জনা নেই, তা অতি সুন্দর হলেও কল্পনার সেখানে কিছু রচনা করবার অবকাশ নেই। যা স্থুল চোখে সবই স্পষ্ট দেখাটুকু যাচ্ছে, কল্পনা তাকে এক তিলও  বেশি করে বাড়িয়ে খুশি হতে পারবে না। এই সব কারণেই বোধ হয় মুসলিম মেয়েদের মুখে বোরখা আর হিন্দু মেয়েদের মুখে ঘোমটা ঢাকা দেবার রীতি প্রচলিত হয়েছিল, আর মেয়েদের তরফ থেকে তা সমর্থিত হয়েছিল।

পৃঃ ৪৪

মাথায় কাপড় দেওয়া এখনও আছে। কাপড়ের এই একটু বেষ্টনী নারীর মুখকে যে শালীনতা ও শ্রীতে মন্ডিত করে তাতে সন্দেহ নেই। এদেশে আগে নাকে নলক এবং নাকছাবির ব্যবহার ছিল। তার কারন নলক ঝুলিয়ে দিলে খাঁদা বোঁচা নাকও দেখতে অনেকটা মানিয়ে যেতো, আর নাকছাবিতে হয়তো মানাতো একটু লম্বা ধরনের নাক। ফাঁদি নথে মানাতো ভারিক্কি গিন্নিবান্নিদের ঘোরালো মুখ। মুখকে একটু আড়ালের বাহার দেবার ঐ সমস্ত গহনা উঠে গিয়ে এখন চশমার প্রচলন হয়েছে। তারও উদ্দেশ্য ঐরকম, ছোট চোখকে আরাল করে হয়তো হয়তো কিছু বড় করে দেখানো, চশমাপরা সকল মেয়েরই যে চোখের দোষ আছে তা না হতেও পারে। কিন্তু তবুও চশমা পরা যে তাদের পক্ষে অন্যায় এ কথা বলা চলে না। যাতে সুন্দর দেখাবে তা করতে কিছুই দোষ নেই। আসলে অপরের চোখে সুন্দর দেখানোটাই প্রয়োজন, কোন উপায়ে হলো তা ধর্তব্যের বিষয় নয়।

কাপড় জামার রং কেমন হবে তাও খানিকটা বাছাই করে নেওয়া দরকার। বর্ণ বৈচিত্র্য মানুষের চোখকে বেশিরকম আকর্ষণ করে। তরুণ-বয়সী মেয়েদের পক্ষে সাদা কাপড়ের বদলে রঙিন পরাই ভালো। কিন্তু যা-তা রং ব্যবহার করলে চলবে না। গায়ের রং –এর সঙ্গে কোন রংটি ভালোরকম খাপ খেতে পারে তা নিপুণ শিল্পীদ্র মতোই জেনে নিতে হবে। কাউকে বা নীলাম্বরীতে মানায় ভালো, কাউকে মানায় লালে, কাউকে মানায় ধূপছায়াতে। সেটা পুনঃপুনঃ পরীক্ষার দ্বারা নিশ্চিতভাবে বুঝে নিতে হবে। কাপড়ের রং পছন্দ করাও একটা আর্ট, সবাই তা জানে না।

যাই হোক মোতের উপর চলা-বসার ভঙ্গী দিয়ে, চোখের দৃষ্টিলালিত্য দিয়ে, কশের পারিপাট্য আর বেশের বিন্যাস দিয়ে সৌন্দর্যকে ভালো করে ফুটিয়ে তুলে মেয়েরা যখন সহজেই পুরুষকে আকর্ষণ করতে পারে, তখন তাদের মধ্যে রীতিমতো নিষ্ঠার সঙ্গে এই সকল বিষয়ে উৎকর্ষ সাধন করা অবশ্যই দরকার। পোষাকী এবং আটপৌরে চাল-চলনের মধ্যে খানিকটা তফাৎ থাকবেই। কিন্তু তাই বলে বাইরে কোথাও যেতে হলে প্রসাধনকলার চরম বিকাশ করব আর বাড়িতে তাচ্ছিল্য সহকারে একখানা তেলচিটে ময়লা কাপড় জড়িয়ে থাকব, আমাদের দেশের মেয়েদের এই ব্দ অভ্যসটিকে কোনোমতে সমর্থন করা যায় না। যের দেহ পরের কাছে আদরণীয় হবে সেটা নিজের কাছেও আদরণীয় হোক, এবং ঘরে বাইরে সর্বত্র তাকে পরিচ্ছদ প্রসাধন দেওয়া হোক। পয়সার অসচ্ছলতা থাকতেই পারে, কিন্তু তাই বলে দেহশোভার দিকে অসচ্ছলতা থাকবে কেন? প্রেমকে আবাহন করতে হলে সর্বদা দেহ মনে কতক পরিমাণে শোভাযুক্ত যে হতেই হবে।

চোখের পরে কান। কান দিয়ে আময়া অনেক রকমের দাক শুনি। এই কান দিয়ে প্রেমের ডাক, প্রিয়ের ডাক, এবং প্রিয়মিলনের আহ্বান শুনতে পাওয়া যায়। বৈঞ্চব কবি বলেন যে প্রিয়জনের নাম কানের ভিতর দিয়ে মরমে গিয়ে পৌছায়। প্রিয় ব্যক্তির গলার স্বর বহুদূর থেকে কানে এলেও অন্তরকে ব্যাকুল করে তোলে। তার প্রমাণ এখনকার

পৃঃ ৪৫

দিনেও টেলিফোনের ভিতর দিয়ে অনেকেই পেয়ে থাকবে। প্রেম যেখানে জমেছে সেখানে বহু দূর থেকে প্রিয়ব্যক্তির কন্ঠস্বর শোনার যে আনন্দ তাও অতুলনীয়। অবশ্য কন্ঠস্বরটা সেখানে একতু শ্রুতিমধুর হলেই ভালো হয়। অপরপক্ষে মেয়েদের কন্ঠস্বর কখনো চড়া কিংবা কর্কশ হওয়া উচিত নয়। যে মেয়েরা অল্পভাষী, মিষ্টভাষী এবং মৃদুভাষী, তাদের সেই গুণটাই এক বিশেষ আকর্ষণ। ঝগড়ায় কিংবা তিরস্কারে যাদের গলা সীমা ছাড়িয়ে পাড়ার লোকের কানে গিয়ে পৌছয়, তাদের সেই কন্ঠ্বর প্রিয়ব্যক্তির কানেও তখন নিশ্চয় একতু শ্রুতিকতু লাগে।

মানুষকে আরো আকৃষ্ট করে কন্ঠের সঙ্গীত। পুরুষের গান শুনে নারী, আর নারীর গান শুনে পুরুষ মুগ্ধ হয়ে প্রেমে পরেছে এমন নজির বিস্তর ছে। অপএর কানকে তৃপ করবার জন্যই লোকে গান শেখে। আমরা আমাদের মেয়েদের গান শেখায় তাদের স্বামীদের খুশি করবার জন্য। অনেক সময় তার দ্বারা যথেষ্ট কাজও হয়। আর প্রিয়ার কন্ঠের গান শুনে কোন প্রিয় না খুশি হবে? সেক্সপিয়ার বলছেন যে গান হলো প্রেমের পরমান্ন, অর্থাৎ যার দ্বারা প্রেমের তুষ্টি ও পুষ্টি হয়। কিন্তু কানকে আকর্ষণ যে করে সে গানের সুরটি নয়, সে হলো গলার স্বরটি। মেয়েদের গলা স্বভাবতই কমল, ভালো শিক্ষা নিলে সে গলা খুবই মধুর শোনায়। প্রেম জাগাবার এবং বিস্মৃত প্রেমকে উদ্দীপিত করে তোলবার পক্ষে এই একটি সুন্দর উপায়। গানে যেমন হৃদয়কে বিগলিত কএ এমন  আর কিছুতে নয়। আবার স্বামী এবং স্ত্রী অথবা সখা এবং সখী যদি একসঙ্গে গলা মিলিয়ে গান গায়, তবে তারা দুজনেই অতি সহজে অপা আনন্দে মগ্ন হয়ে যায়। অপর পাঁচজনে শুনলে তারাও সে আনন্দের ভাগ পায়।

তবে চোখ এবং কানের আকর্ষণ অনেকটা সীমাবদ্ধ, পরিচয় যখন খুব বেশি ঘনিষ্ট হয়নি তখনকার জিনিস। তার পরে নরনারী দুজনে যখন আকৃষ্ট হয়ে পরস্পরে খুব কাছাকাছি এসেছে, তখন অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের ক্রিয়া শুরু হয়। চোখে দেখে এবং কানে শুনেই খুশি থাকার কাল তখন কেটে গেছে। আরো বেশি ব্যাকুলতায় তখন পরস্পরের অঙ্গের আঘ্রাণ পাবার কামনা জাগতে শুরু করেছে। নারী-পুরুষের বিভিন্ন দেহআঘ্রাণের দ্বারা যে পস্পরের যৌনচেতনা আরো বেশি সজাগ হয়ে উঠে তাতে সন্দেহ নেই। জীবজন্তুদের মধ্যে নারী-পুরুষ্ব সাক্ষাৎ হলে আগে নাক শোঁকাশুকি করেই পরস্পরের প্রথম যৌন পরিচয় লাভ করে, এবং তার থেকেই তাদে যৌন মিলনের জন্য উত্তেজনা আসে। বহু পুরাকালে গুহায় বাস করার আদিম যুগে আমরাও নিশ্চয়ই ঐ রকম কিছু একটা করতাম। ভারত মহাসাগরের দ্বীপপঞ্জের কোনো-কোনো আদিম জাতি এখনও স্ত্রী-পুরুষের মধ্যে প্রণয় জানাতে নাক শোঁকাশুকি করে। তারা আদৌ চুম্বনের ব্যবহার জানে না, কিংবা অন্য কোনো উপায়ে প্রণয় নিবেদন করতে জানে না। বৈজ্ঞানিকরা বলেন যে এক কালে আমরাও অমনি করেছি। তারপরে চোখ এবং কান যখন আমাদের সজ্ঞান হয়ে উঠলো তখন ওই রীতি পরিত্যাগ করে দৃষ্টির ভাষা ও শব্দের ভাষার দ্বারা নিজেদের মনোভাব প্রকাশ করতে শিখেছি। তারপর থেকেই পরস্পরের আঘ্রাণ লাভের

পৃঃ ৪৬

প্রেরণাও অনেক কমে গেছে। এখন ঐ আ দিক দিয়ে তেমন আগ্রহ জাগে না, কিন্তু অনেকে আছে যারা ঘ্রাণের দিক দিয়ে এখনও সজাগ। তারা আঘ্রাণের দ্বারা পছন্দ অপছন্দের বিচার করে এবং  মনের মতো দেহগন্ধের দ্বারাই সবচেয়ে বেশি মোহিত হয়। একজনের মুখে গল্প শুনেছি, সে যৌবনকালে কোনো বন্ধুর বাড়ি বেড়াতে যেতো। একদিন জৈষ্ঠ মাসের দুপুর রোদে ঘর্মাক্ত হয়ে তাদের ঘরে ঢুকে মুখের ঘাম মুছে ফেলবার উদ্দেশ্যে চারিদিকে গামছা বা তোয়ালে গোছের কিছু খুঁজতে থাকে। অকস্মাৎ দেখে দরজার পাশে পেরেকের গায়ে খুব পাতলা কাপড়ের কি একটা বস্তু টাঙ্গানো রয়েছে। তাই দিয়েই অন্যমনস্কে মুখখানা সে মুছে ফেলে। কিন্তু নাকের কাছে নতেই ঐ বস্তটির মধ্যে সে এক অপূর্ব মেয়েলী দেহগন্ধের আঘ্রাণ পায়। তখন সে দেখে সেটি মেয়েদের কাঁচুলি। কার কাঁচুলির অমন অপূর্ব  আঘ্রাণ সে কথা জানতে তার বিলম্ব হয় না। গন্ধমুগ্ধ হয়ে ঐ মেয়েটিকে পাবার জন্য সে বদ্ধপরিকর হয় এবং শেষ পর্যন্ত তাকেই বিবাহ করে। তারপর অনেক কাল কেটে গেছে, কিন্তু আজও পর্যন্ত তাদের মধ্যে গভীর প্রণয়, এবং আজও সে তার স্ত্রীর দেহে সেই আঘ্রাণটি পেয়ে আনন্দবোধ করে।

প্রত্যেক মানুষেরই দেহের একটা নিজস্ব গন্ধ আছে। কার দেহের গন্ধ যে কার নাকে ভালো ঠেকবে অথবা কার খারাপ থেকবে তা বলা যায় না। একজন হয়তো যেমন ধরনের গন্ধকে খুবই পছন্দ করে, আর তেমনি গন্ধেই ঘৃণায় নাক ফিরিয়ে নেয়। তবে সাধারণত  প্রিয়ব্যক্তির ও নিকট আত্মীয়ের দেহের গন্ধে সবাই অভুস্ত থাকে, সে গন্ধ কারো নাকে কখনো খারাপ লাগে না।

ঘাম থেকে এবং শরীরের নানারকম গ্ল্যান্ডের দৃশ্য ও অদৃশ্য রস থেকে প্রত্যেকের দেহেই তার আপন গন্ধের সৃষ্টি হয়। বগলের কাছে এবং কুঁচকির কাছে যে ঘাম জমে তার গন্ধ সব চেয়ে বেশি স্পষ্ট। সদ্য সদ্য যে ঘাম এ রসাদি নির্গত হয়েছে তার গন্ধ মিষ্ট ও মৃদু। কিন্তু কিছুক্ষণ পর্যন্ত স্থায়ী থাকলেই তা তীব্র ও ঝাঁঝালো হয়ে ওঠে। সেইজন্য নিত্য অঙ্গাদি পরিস্কার করে ধুয়ে ফেলা দরকার, বিশেশত গ্রীম্মকালে। যাদের নিত্য গোসল করা ও সাবান ব্যবহার করা অভ্যাস আছে তাদের গায়ের গন্ধ কখনো বেশি ঝাঁঝালো হয় না। মেয়েদের মাহায় প্রচুর চুল থাকে এবং সেই চুলে তারা প্রত্যেহই একটা কিছু সুগন্ধী তেল ব্যবহার করে। তদের কাছে গেলে চুলের সেই সুবাসটাই আগে পাওয়া যায়, এবং তার সঙ্গেই গায়ের অন্যান্য গন্ধ  মিশে পুরুষের মনকে বিমোহিত করে। এই কথাটা মেয়েরা ভালো ভাবেই জানে, তাই অসভ্য বন্যজাতির মেয়েরা এহকে সুরভিত করবার প্র্যাস করে।

পৃঃ ৪৭

দেহের খারাপ গন্ধকে চাপা দেবার জন্যই সুগন্ধি দ্রব্যের আবিস্কার হয়েছে। নানারকম সুগন্ধির ব্যবহার বহু পুরক্ল থেকেই মেয়েদের মধ্যে চলে আসছে। আগে ছিল ফুলের রেণু ও চন্দন প্রভৃতি স্বাভাবিক জিনিস, এখন হয়েছে সেন্ট ও পাউডার। দেহের স্বাভাবিক গন্ধের সঙ্গে ঐ সব কৃত্রিম গন্ধ তা আরো অপরূপ হ্যে ওঠে। কোন গন্ধের সঙ্গে কোন গন্ধ মেশালে চিত্তকে বিমোহিত করে তুলবে কলাকুশলী মেয়েরা অনেকেই তার হদিস জানে। কিন্তু স্থুল  ভাবাপন্ন অনেক পুরুষের গন্ধ সম্বন্ধে সে চৈতন্যই নেই। তারা দেহে কিংবা মুখে বিকট দুর্গন্ধ নিয়ে অম্নানবদনে স্ত্রীর কাছে যৌন অধিকার দাবী করে। কোরাণে তাই স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া আছে যে, কোনো স্বামীর যদি দাতে পোকা পড়ে মুখ থেকে দুর্গন্ধ ছোটে, যদি ত্র নাক দিয়ে পোঁটা ঝরতে থাকে আর গলা দিয়ে অনবরত গয়ার উঠতে থাকে, আর যদি নোংরামির দরুণ তা গায়ের গন্ধ অসহ্য হয়ে ওঠে, তাহলে তেমন স্বামীর স্ত্রী ইচ্ছা করলেই তাকে তালাক দিয়ে পরিত্যাগ করতে পারে।

মেয়েদের যৌন অঙ্গের দুই বিশিষ্ট রকমের গন্ধ আছে যা পুরুষদের বেলা নেই। তার মধ্যে একটি জম্মায় দের যৌনস্থানে ছোটখাটো গ্ল্যান্ডগুলির রসস্রাব থেকে, যার কথা আগেই বলা হয়েছে। আর এক আলাদা রকমের গন্ধ পাওয়া যায় মেয়েরা ঋতুমতী হলে। যাদের ঘ্রাণশক্তি খুব সূক্ষ্ম তারা ঐ বিশেষ গন্ধটি টে পায় এবং তৎক্ষণাৎ জানতে পারে যে নির্দিষ্ট মেয়েটি ঋতুমতী হয়েছে। মেয়েরা এই গন্ধটিকে লুকোবা জন্য সাধ্যমত চেশ্তা করে। যৌন স্থানের অন্য রকম দুর্গন্ধকেও তারা নানা উপায়ে ঢাকা দিয়ে রাখবার চেষ্টা করে। অথচ নিত্য পরিস্কার ও পরিচ্ছন্ন থাকলে যে সে দুর্গন্ধ মোতে জম্মাতেই পারে না, এই সহজ কথাটি জানা নেই। চিন জাপান প্রভৃতি দেশের শৌখীন মেয়েয়া নিজেদের যৌনস্থানকে সর্বদা সুরভিত করে রাখবার জন্য একরকম উগন্ধযুক্ত ছোট ছোট কাপড়ের প্যাড নিজেদের যোনি ভিতরে গুঁজে রাখে। বলা বাহুল্য পরিচ্ছন্নতার সহজ নিয়মগুলি জানা থাকলে এ সমস্ত কৃত্রিম উপায়ের কোনোটারই দরকার হয় না।

পুরুষেরা মেয়দের দেহে কোনো তীব্র বা কটু গন্ধ পছন্দ করেনা। কিন্তু মেয়েরা অনেকে পুরুষ্পদের অঙ্গের তীব্র ও উৎকট গন্ধই এন একটু অতিরিক্ত উত্তেজনার অঙ্গে পছন্দ করে। কথাচ্ছলে কারো গন্ধের বিরুদ্ধে বিতৃঞ্চা প্রকাশ করলেও এটা হলো ওদেরনের গুহ্য খবর। কড়া চুরুটের বা সিগারেটের গন্ধ, বিড়ির গন্ধ, নস্যের গন্ধ, পেঁয়াজ রসুনের গন্ধ, এমন কি মদের গন্ধেও কারো কাছে ভালো লাগে। তবে অবশ্য সকলের কাছে নয়।  ঐ সমস্ত তীব্র গন্ধে যেন পুরুষের পৌরুষটাই তাদের কাছে আরোবেশি করে প্রকটিত হয়। পুরুষরাও এ কহা জানে, নিজেদের ঐ সব বিকট গন্ধ সম্বন্ধে নিন্দা শুনলেও তারা ততটা গ্রাহ্য করে না।

আঘ্রাণের পরেই আসে আস্বাদের কথা। যখন একটু করে প্রেমের জানাজানি হয়েছে তখন কিছু আস্বাদ পাওয়া প্রয়োজন। প্রথম আস্বাদটি প্রত্যক্ষ ভাবে পাওয়া যায় মুখ চুম্বনে। প্রথম চুম্বনের প্রথম আস্বাদটি স্বামী ও স্ত্রীর অথবা প্রেমিক ও প্রেমিকার চিরকাল মনে থাকে। চুম্বনের প্রত্যক্ষ আস্বাদ নেবার উপযুক্ত কালটি হলো প্রেমের শুভযাত্রায় ঠিক মাঝামাঝি রাস্তা পর্যন্ত না অগ্রসর হলে চুম্বনের পিপাসা জাগেনা। যখন অনেকতা পর্যন্ত এগিয়ে যাওয়া গেছে, অবশ্য দুজনেই দুদিক থেকে , তখন চুম্বনের অদম্য বাসনা আপনা থেকেই জেগে ওঠে।  

পৃঃ ৪৮

চুম্বনের দ্বারা বিশিষ্ট আস্বাদলাভ করা জীবজন্তদের মধ্যেও দেখা যায়। কপোত কপোতী এবং অন্যান্য পাখিতাও চঞ্চুর সঙ্গে চিন্তু মিলিয়ে নিত্যই এ কাজ করে থাকে। অন্যান্য জন্তুরা চুম্বনের বদলে নাক মুখ ঘষে, কিংবা ভিজ দিয়ে গা চাটে। কিন্তু চুম্বন প্রবৃতি মানুষের বেলা আসে কোথা থেকে? এ বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত আছে। কেউ বলেন শিশুকালে মাতৃস্তন আস্বাদ করার অভ্যাস থেকেই এই প্রবৃতি এসে গেছে, তাই চুম্বন গ্রহণের প্রক্রিয়াটিও অনেকটা সেই স্তনপানের অনুকরণেই তৃপ্তিদায়ক হয়। আবার কেউ কেউ বলেন যে তা নয়, নিম্মশ্রেণীর জন্তুদের মতো আমাদের মধ্যেও আদিম যুগের সেই শোঁকাশুকির অভ্যাস থেকে এই প্রবৃত্তিটা এসেছে। বস্তুত চুম্বনের দ্বারা আমরা একসঙ্গে কিছু আস্বাদও করি এবং আঘ্রাণও করি। তা ছাড়া আমাদের ওষ্ঠগুলি হলো অতি সুনিপুন স্পর্শেন্দ্রিয়, সুতরাং চুম্বনের দ্বারা এমন একটি বিশেষ স্পর্শসুখ পাওয়া যায় যা আর কিছুতে পাবার উপায় নেই।

চুম্বন হতে পারে দুই রকমের, সকাম আর নিষ্কাম। একই মানুষকে দুই বিভিন্ন অবস্থায় দুই রকমের মন নিয়ে চুম্বন করা যায়। যখন মনটি আছে স্নিগ্ধ আর প্রিয়জনকে কাছে পেয়ে স্নেহের দিকটাই উঠেছে উদ্বেল হয়ে, তখনকার যে চুম্বন তার দ্বারা অন্তরের স্নেহকেই পরিতৃপ্ত করা ছাড়া অন্য কোনো কামনা নেই।  পাশ্চাত্ত্য দেশে অপর পাঁচজনের সামনে স্বামী-স্ত্রীর প্রকাশ্য চুম্বনে তাই কোনো দোষ নেই। আর মন যখন যৌন কামনার ভারে ব্যাকুল হয়ে উঠেছে, যখন চুম্বন সেই কামনাকেই আরো বেশি করে উত্তেজিত করছে, তখনকার চুম্বন হলো সকাম। তার পিছনে রয়েছে  পরস্পরের একটি গভীরতর মিলনের উদ্দেশ্য। তবে প্রকৃত নিষ্কাম চুম্বন বলে কোনো কথাই নেই। এমন কি মা যে ছেলেকে চুম্বন করে তাও সম্পূর্ণরূপে নিষ্কাম নয়, তার মধ্যেও মায়ের অন্তরকে তৃপ্ত করে নেবার একটা কামনা থাকে। যদিও সে কামনা স্বতন্ত্র ধরনের কিন্তু তবুও তাকে ‘নিষ্কাম’ বলা যায় না।

পৃঃ ৪৯

চুম্বনের অনেক রকমারি রীতি  পদ্ধতি আছে। কোন ধরনের চুম্বনে কতখানি তৃপ্তি আনে আর কতটা পর্যন্ত উত্তেজনা জাগায় তারও অনেক ইতরবিশেষ আছে। ঠোঁট দুটি হয়তো খুব ঈষৎ মাত্রই ফাঁক হলো কিংবা তাও হলো না, প্রিয় কিংবা প্রিয়ার ঠোঁটের সঙ্গে আলগাভাবে একটু ঠেকে তাতেই চরিতার্থ হয়ে সরে এলো, এই হলো মিলনের প্রথম দিকের লাজুক প্রকৃতির চুম্বন। কিন্তু তার পরে উত্তরোত্তর যেমন উত্তেজনা বাড়তে থাকে, চুম্বনও তেমনি ঘনিষ্ঠ থেকে ঘনিষ্ঠতর হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত এমনও তা নিবিড় হতে পারে যাতে দুজনের সম্বিত হারিয়ে যায়, দেহ থরথর করে কাঁপতে থাকে, নিঃশ্বাস রুদ্ধ হয়ে আসে, তবুও মুখ থেকে ছাড়িয়ে আনবার চেষ্টা থাকে না। কত রকমের চুম্বন আছে আর কোনটার কি পদ্ধতি, কামসূত্রে বাৎস্যায়ন তার অনেক নিখুঁত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এখানে সেগুলির বিশদ উল্লেখের কোনো প্রয়োজন নেই। চুম্বনের যা উদ্দেশ্য তা মোটের উপর সকল রকম চুম্বনেই সফল হতে পারে। এর প্রকারভেদে যদি কারো কাছে কোনো ইতরবিশেষ , সেটা বই পড়ে জানার চেয়ে আপন প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে জেনে নেওয়াই ভালো। কারো হয়তো ঠোঁটের চেয়ে চোখের উপর উপর চুম্বনটাই বেশি ভালো লাগে, কারো বা কানের উপর কিংবা ঘাড়ের পিছনে চুম্বন করলেই সব চেয়ে বেশি পুলক জাগে। অর্থাৎ যার যেমন ধাত বা রুচি। আবার এমন অনেক স্বামী-স্ত্রী আছে যারা জীবনে কখনো চুম্বনই করতে শেখেনি। জিবনের এমন একটা উৎকৃষ্ট আস্বাদ থেকে তারা কেবল অজ্ঞতাহেতু বঞ্চিত। চুম্বন করাও অভিজ্ঞতার দ্বারা শেখা দরকার।

কিন্তু চুম্বন যে কেবল মুখেই সীমাবদ্ধ হয়ে থাকে তা নয়। শরীরের সর্বস্থানেই চুম্বন করা চলতে পারে, এবং প্রকৃতিপক্ষে চলেও তাই। চুম্বনের বৈচিত্র্য বাড়তে বাড়তে ক্রমশ মুখ থেকে নেমে আসে গলায়, গলা থেকে নেমে বুকে, সেখান থেকে স্তনে, সেখান থেকে নামতে থাকে আরো নিচে । একবার যখন সাহস প্রকাশ পেতে শুরু হয়েছে তখন আর সে সাহসের সীমা নেই। যৌন উত্তেজনা তখন দুটি নর-নারীকে সংকোচ কাটিয়ে ধাপের পর ধাপ দ্রুতগতিতে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকে।

তারপরে আর শুধু চুম্বনের দ্বারাই নয়, ঘনিষ্ঠভাবে পরস্পরকে সর্বাঙ্গে দিয়ে উপভোগ করবার আকাঙ্ক্ষাও সঙ্গে সঙ্গে সুতীব্র হয়ে উঠে। বৈঞ্চব কবি এই অবস্থাকেই বলেন, ‘প্রতি অঙ্গ তরে কাদে প্রতি অঙ্গ মোর’। ঘন ঘন আলিঙ্গনে আবদ্ধ করা, বুকের মধ্যে মাথা গুজে দেওয়া অত্যাদি, অনেক কিছুই তখন চলতে থাকে। বলা বাহুল্য এগুলো প্রধানত পুরুষেই করে, নারী তখন অনেকটাই থাকে নিষ্ক্রিয়। প্রেমের প্রথম দিকের সূচনায় সেই নারীই হয়তো প্রথম ইন্ধনটি জ্বালিয়েছে, হয়তো তারই রূপে যৌবনে চলনে বলনে নানা আকর্ষণের দ্বারা ঘটনা এতটা পর্যন্ত এসে দাঁড়িয়েছে, কিন্তু এর পরে নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকা ছাড়া নারীর কিছুই করবার নেই। এরপর থেকে দুজনের যৌন নাট্যাভিনয়টির চরম অবস্থা পর্যন্ত সে থেকে যাবে নীরবে।

পৃঃ ৫০

পুরুষের সাহস তখন ক্রমশ আরো বেড়ে যেতে থাকে। সে নারীর বুকে হাত দেয়, স্তনে হাত দেয়, স্তন দুটিকে চেপে ধরে, এমন কি সুযোগ পেলে তার বোঁটা দুটিকেও আক্রমণ করে। একেই বলে শৃঙ্গার অর্থাৎ প্রেমলীলা । সঙ্গমের আগে সকলেই এই শৃঙ্গারলীলা অল্প বিস্তর কপ্রে থাকে। এটা নিতান্তই দরকার, এতে সংকুচিত হবার বা অন্যায় মনে করার কিছু নেই। অন্য সময় এ সব কথা মনে ভাবলে লজ্জা আসতে পারে, কিন্তু ঐ সময়টিতে লজ্জা সংকোচ আপনা থেকেই লোপ পায়। এটা যে কেবল অসচ্চরিত্র অথবা কামুকেরাই করে থাকে তাও মনে করা উচিত নয়, কারণ এ সময় সকলেই অল্প বিস্তর কামুক হয়ে উঠে। এই কামুকাতে ঠেকানো যায় না। ভারী পাথর উপর থেকে গড়াতে শুরু করলে যেমন তাকে তখন ঠেকানো যায় না, এও ঠিক তেমনি। প্রেমের উত্তেজনায় তখন যা কিছু করা হয়, সমস্তই নির্দোষ। পার্থিব জগতের সীমানা ছাড়িয়ে সেই দুজন নর-নারী প্রেমেরই রাজ্যের সীমানার মধ্যে গিয়ে পড়েছে। সেই অপার্থিব রাজ্যে দোষের কাজ বলতে কিছুই নেই, খারাপ জিনিস বলতে কিছুই নেই।

এই সমস্ত শৃঙ্গারলীলাতে মেয়েদের দিক থেকে সংকোচ করা কিংবা খুব বেশি বাধা দেওয়া উচিত না। যদি দুজনের মধ্যে প্রেম ও যৌন মিলনের অধিকার জম্মে থাকে, তাহলে প্রকাশ্যভাবে না হোক, অন্ততপক্ষে আভাসে ইঙ্গিতে নারীকেও পুরুষের সঙ্গে কিছু সহযোগিতা করতে হবে। যাকে বলে বেহায়াপনা, তেমন ভাবের আগ্রহ দেখালেই হয়তো তার দাম কমে যেতে পারে। মেয়েদের দিক থেকে সেই জন্য কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত করা সম্ভব না হলেও অন্তত নীরব অনুমোদন থাকা চাই। আর তাদেরও মনে মনে খানিকটা উত্তেজনা গাজা চাই। শৃঙ্গারলীলার উদ্দেশ্য এই উত্তেজনাকে জাগানো, সেটা শুধু এক পক্ষের চেষ্টায় হয় না।

চুম্বনেও উত্তেজনা জাগে, আর আলিঙ্গনেও জাগে। কিন্তু কার পক্ষে ঠিক কোন ধরনের ব্যবহার সেই  উত্তেজনা জাগবে, অথবা কোন রকমের আলিঙ্গন ও কোথায় চুম্বনদান করা প্রয়োজন সেটাও বিবেচ্য। সকলের দেহযন্ত্রে উত্তেজনার স্থানগুলিও সমান নয়, আর উত্তেজনা অনুভবের নার্ভগুলিও সমান নয়। মেয়েদের শরীরের প্রায় সর্বত্রই যৌন উত্তেজনা ছোট বড় নানারকমের বিভিন্ন কেন্দ্র আছে। কোন জায়গায় স্পর্শ অথবা চুম্বন করলে প্রিয়া সব চেয়ে বেশি উত্তেজিত হয়, প্রিয়কে সেটি খুঁজে বের করতে হবে। কার হয়তো মুখে চুম্বন করলে বিরক্ত লাগে, কারো হয়তো সজোরে নিপীড়ন করাটাই ভালো লাগে। সেটা আবিস্কার হওয়া দরকার এবং প্রেমাস্পদ ব্যক্তিকে সেটা কোনো সময় কোনো উপায়ে জানতে দেওয়া দরকার। উত্তেজনার সময় যোনির উপরকার শিশ্নিকাতে হাত দেওয়া মেয়েদের পক্ষে খারাপ লাগবার কথা নয়, কিন্তু লজ্জার খাতিরে তাঁরা এতে বাধাই দিয়ে থাকে। শ্লীলতার দিক দিয়ে খুব রুচি-বিরুদ্ধ মনে হলেও যৌন অঙ্গের ঐ বিশেষ স্থানটিতে হাত দিলে অথবা নাড়াচাড়া করলে তবেই অনেক মেয়ের রীতিমতো যৌন উত্তেজনা জাগে, নতুবা সহজে কোনো আকাঙ্খাই জাগে না।

পৃঃ ৫১

তাদের পক্ষে শৃঙ্গার কালে ওত্ব হাত দিতে অনর্থক বাঁধা দেওয়া উচিত নয়। আর যৌন অঙ্গের কোনো স্থানে মুখ প্রয়োগ করাতেই বা এমন দোষের কি আছে? মুখ দিতে যাবার আগ্রহ উত্তেজনার কালে পুরুষের পক্ষে একটা সরল জৈব ভাবের প্রবৃত্তি। জীবজন্তুদের মধ্যে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যা তারা স্ত্রী-পুরুষে পরিচয় করে নিয়ে সঙ্গমের আগেই পরস্পরের যৌন স্থানে মুখ দিয়ে চাটতে শুরু করে দেয়। স্বয়ং প্রকৃতি তাদের এমনি করতে শিখিয়েছে। মানুষের পক্ষেও সেই আদিম প্রকৃতিদত্ত প্রেরণাটাই ক্রিয়া করতে থাকে। এতে বিসদৃশ্য মনে করবার অথবা ঘৃণা করবার কিছুই নেই। স্বামী ও স্ত্রী পরস্পরে যদি দেহের দিক দিয়ে সুস্থ পরিচ্ছন্ন ও দুর্গন্ধবিহীন থাকে, আর যদি দুজনের মধ্যে কারো মুখে অথবা যৌনস্থানে কোনো সংক্রামক রোগ না থাকে ,তবে যৌনস্থানে মুখ দিয়ে একটু শৃঙ্গারলীলা করলে কারোই কিছু ক্ষতি হবে না। বরং তাতে সঙ্গমের পক্ষে খুব সাহায্যই হবে। সঙ্গমকালে কৃত্রিম স্নো অথবা ক্রীম দিয়ে নরম করার চেয়ে সঙ্গমস্থানে মুখের থুতু দিয়ে নরম করে নেওয়া সহজ এবং স্বাভাবিক। আর সেই থুতু হাতে নিয়ে মাখিয়ে দেওয়ার চেয়ে একেবারে মুখ দিয়েই লেপন করে দেওয়া সব চেয়ে সহজ।(১)

অবশ্য স্বামী অথবা প্রেমের পাত্রটি যখন খুবই অন্তরঙ্গ হয়ে গেছে তখনই তাকে এমন ধরনের প্রশ্রয় দেওয়া চলে। অন্তরঙ্গতা গভীরতর না হওয়া পর্যন্ত নিজেকে নির্লজ্জভাবে বিলিয়ে দেওয়া কোনো কালেরই মেয়েদের পক্ষে সম্ভব হয় না। তাদের সংস্কারে এবং স্বভাবে বাধে। সেই জন্য স্বামী মনোমতো এবং সর্বাংশে স্বীকৃত হলেও তার প্রথম কয়েকবারের যৌন প্র্যাস ব্যর্থ হয়, মেয়েরা তাদের স্বভাবসুলভ আড়ষ্টতা অল্পদিনে কিছুতে কাটিয়ে উঠতে পারে না। এই সংকোচ আর আড়ষ্টতার যুগটুকুর ভিতর দিয়ে সকলকেই অতিক্রম করতে হয়। কিন্তু ক্রমে ক্রমে একটা অন্তরঙ্গতা ও সংকোচমুক্ত খোলাখুলি ভাব পরস্পরের মধ্যে দাঁড়িয়ে যাবার কথা। তারপর থেকে কিন্তু দুজনের মধ্যে এসে পরা চাই নির্বিরোধ সহযোগিতা।

মেয়েদের বিলম্বিত যৌনবাসনা জাগিয়ে তোলবার জন্য পুরুষকে অনেক কিছুই করতে হয়। সেই শৃঙ্গার প্রক্রিয়াগুলি হলো মূল যৌন ক্রিয়ার অলঙ্কার। জীবজন্তুদের মধ্যে পরস্পরের যৌন বাসনা জাগানো আমাদের মতো এত বেশি কঠিন নয়। তাদের যৌন স্পৃহা অল্প আয়াসেই জেগে ওঠে। কিন্তু সভ্যতা বহুকাল থেকে আমাদের মনের উপর  এমন লাগাম দিয়ে রেখেছে যে মনে হয় চলতে গিয়েও আড়ষ্ট হওয়া বুঝি আমাদের প্রকৃতির আসল স্বরূপ। বিশেষত মেয়েরা তাদের সংকোচের বর্মটাকে এমনই কঠিভাবে আঁকড়ে ধরে থাকে যে অনেককে তাই ছাড়াবার জন্য প্রাণান্ত হতে হয়। এই শৃঙ্গারদির অলঙ্কার প্রয়োগের দ্বারাই তাদের সেই পাটে পাটে জড়িয়ে থাকা খোলসগুলি একে একে ঘোচানো দরকার। যখন সব কিছু লজ্জা ও সংকোচের কৃত্রিম আবরণ ঘুচে গেছে তখন তারা একেবারে মাটির মানুষ, তাদের মতো বাধ্য এবং বোদ্ধা আর কেউ নেই। কিন্তু যতক্ষণ সেই খোলসগুলি না ঘুচলো ততক্ষণ পর্যন্ত তাদের মনের দুয়ারে বরফের মতো জমাট, বজ্রের মতো আট। এই বজ্র আঁটুনিকে শিথিল করবার জন্য দুই

পৃঃ ৫২

পক্ষে থেকেই উদ্যেগী হতে হবে। এক পক্ষ ব্যাকুল হয়ে উঠে যে সমস্ত আদর আলিঙ্গন মহা আগ্রহের সঙ্গে নিবেদন করছে, অপর পক্ষের সেগুলিকে নির্লজ্জ লালসামাত্র মনে করা ঠিক হবে না। উত্তেজনাকে উত্তমরূপে জাগিয়ে তোলবার জন্য চুম্বনের সঙ্গে নিপীড়ন ও আলিঙ্গন, এবং তারই সঙ্গে আদরপূর্ণ অস্ফুট সম্বোধন, এমন কি হয়তো স্তনবৃন্ত কন্ডুয়ণ প্রভৃতিও অনেক কিছু একসঙ্গে দরকার হতে পারে। শয্যাসঙ্গী যৌনভাবাপন্ন করবার উৎসুক্যে যদি কখনো এক পক্ষ খুবই আত্মবিস্মৃত হয় তবু ক্ষমার মনোভাব নিয়ে অপর পক্ষের তাতে যথাসম্ভব প্রশয় দিতে হবে। তখনকার এ ধরনের সহযোগিতায় কোনো অপমান নেই।

তবে মেয়েদের তরফের যৌন সহযোগিতা আর যৌনকামনা পুরুষের মতো সহজে জাগে না। এ বিষয়ে অনেকটা বিলম্ব জেগে ওঠাই তাদের পক্ষে স্বাভাবিক। যৌন উত্তেজনায় আগে জাগবে পুরুষ, তার অনেক পরে জাগবে নারী। যৌন ক্রিয়াতে প্রবৃত্ত হবার আগে কেন যে পুরুষকে স্ত্রীর প্রস্তুতির জন্য এত রকম শৃঙ্গার প্রচেষ্টা করতে হয়, একজন ফরাসী পন্ডিত চমৎকার একটি উপমার দ্বারা সে কথা বুঝিয়ে দিয়েছেন। মনে করো একটি পুরুষ আর একটি নারীকে একসঙ্গে একটা পাহাড়ে গিয়ে উঠতে হবে। পুরুষটি তাড়াতাড়ি অনায়াসে উঠে যেতে পারে, কিন্তু মেয়েটির গতি মন্থর । সে ওঠে ধীরে ধীরে। এ অবস্থায় পুরুষ যদি সে কথাটি বিবেচনা না করে একাই উঠে চলে যায়, তাহলে মেয়েটি থাকে পিছনে পড়ে। পুরুষ যখন পাহাড়ের চুড়ায় পৌঁছে গিয়ে অপর দিকে নামতে শুরু করেছে, তখনও হয়তো মেয়েটির অর্ধেক পথই ওঠা হয়নি। এমনভাবে তাকে ফেলে চলে না গিয়ে পুরুষের পক্ষে  উচিত হবে একটুও না এগিয়ে আগে মেয়েটিকেই খুব খানিকটা উপর দিকে এগিয়ে দেওয়া। সে আগে অনেকখানি এগিয়ে গেলে তখন পুরুষটি তার পিছু পিছু উঠতে থাকলে তবেই  দুজন একত্রে চুড়ায় গিয়ে পৌঁছবে।

যৌন উত্তেজনার ধাপে ধাপে ওঠাকেই এখানে পাহাড়ে ওঠার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে, আর সঙ্গমের তৃপ্তিকে ধরা হয়েছে  পাহাড়ে চুড়া। ঐ চুড়াতে দুজনে একত্রে পৌঁছাবার উদ্দেশ্যেই পুরুষের সংযত হয়ে আগে স্ত্রীকে শৃঙ্গার ও আদর প্রভৃতির দ্বারা খুব খানিকটা উত্তেজিত করে নিতে হয়। প্রত্যেক পুরুষের পক্ষেই এ কথা জেনে রাখা উচিত যে মেয়েদের গতি এ বিষয়ে মন্থর।

পূর্বরাগ ও প্রস্তুতি সম্বন্ধে এখানে অল্প মাত্রই আলোচনা করা গেল। বলা বাহুল্য এগুলি ছাড়া আরো বহু রকমের উত্তেজক উপায় আছে যার সমস্ত জানা অথবা উল্লেখ করা সম্ভব নয়। সেগুলি সাধারণত দুজন নরনারীর ব্যক্তিগত আবিস্কারের ব্যাপার। যখন দুজনেই খোঁজে দুজনকে আনন্দ দিতে, তখন নিজেদের মধ্যে কত অদ্ভুত উপায়ের যে উদ্ভাবনা হতে পারে সে কথা বলা যায় না। কিন্তু সব কিছুর মধ্যেই আগে দুজনের পরস্পরকে পরিতৃপ্তি করবার মূলগত ইচ্ছাটি থাকা চাই। তা না হলে হরেক রকমের প্রক্রিয়া জানা থাকলেও কিছু লাভ নেই, কোনোটাতেই আনন্দ পাওয়া যাবে না। আনন্দের আসল উপাদানটি থাকে দুজনের মনের মধ্যে, কোনো বিশিষ্ট প্রক্রিয়ার মধ্যে নয়।

(১) এটা ইসলামের দিক দিয়ে হারাম কি না আমরা সঠিক জানিনা, তবে নবী করীম (সাঃ) বলেছেন যৌন অঙ্গের দিকে না তাকাতে এবং নবী করীম (সাঃ) নিজেও স্ত্রীর লজ্জাস্থানের দিকে দেখেন নি ও তার স্ত্রীরাও নবী করীম (সাঃ) এর লজ্জাস্থানে দেখেননি। কারণ হিসাবে জানা যায় তাতে নাকি চোখের জ্যোতি কমে যায়। আল-হাদীস। [ ব্লগ পরিচালক]

 

পৃঃ ৫৩

আপনি পড়ছেনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড থেকে>>পূর্বরাগ ও প্রস্তুতি

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাঃ আমাদের সাইটের পোস্ট পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো তাহলে শেয়ার করুণ। এবং আপনার বন্ধুদের কে আমন্ত্রণ জানান আমাদের সাইটে যোগ দেওয়ার জন্য।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

বীর্যের পরিমাণ

ইতিপূর্বে এ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে যে, বীর্য নামক উপাদান, যার রঙ সাদা ও গাঢ়, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE