Breaking News
Home / যৌন জীবন / অন্যান্য / স্তন বৃত্তান্ত

স্তন বৃত্তান্ত

সাধারণত মানুষের ধারণা ঋতু হওয়ার আগেই বক্ষপট যখন স্তনে রূপান্তরিত হতে  থাকে বুঝি একটি বালিকার নারীত্বের দিকে যাত্রা শুরু হয়। আসলে স্তনের বিকাশ মাতৃগর্ভেই । ছেলে লম্বা মেয়ে যেকোন শিশুরই স্তনবৃন্ত থেকে কলোস্ট্রাম রস ক্ষরিত হতে দেখা যায়। স্বচ্ছবর্ণের এই রসের ক্ষরণ বস্তুত মায়ের হরমোন রসের প্রভাব  ঘটে থাকে।

যৌবনের প্রারম্ভে মস্তিষ্কে অবস্থিত পিটুইটরি গ্ল্যান্ডের ক্ষরণের প্রভাবে বালিকার ডিম্বকোষ থেকে প্রচুর পরিমাণে এস্ট্রোজেন হরমোন রস নির্গত হতে থাকে। এই এস্ট্রোজেন হরমোন রক্তের সঙ্গে মিশে স্তনমূলে এসে পৌঁছায় এবং স্তনবৃন্তকে ফুটিয়ে তুলতে থাকে। শুধু তাই নয়, এই সময়  ওই হরমোন বালিকার স্তনের দুগ্ধকোষ গুলিকেও বিকশিত করে দিতে থাকে এবং এই কোষগুলির চারপাশে চর্বি সৃষ্টি করে পূর্ণ প্রস্ফুটিত স্তনে ধীরে ধীরে রূপান্তরিত করতে থাকে।

বালিকার বক্ষে স্তনের বিকাশের প্রাথমিক লক্ষণ দেখা দেওয়ার পর স্তন পূর্ণ বিকশিত হতে সময় নেয় ১৮ মাস। এই বিকাশের পথে প্রোজেস্টেরোন নামে আর একটি হরমোন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই হরমোন ক্ষরিত হয় মাসে মাসে, বালিকা যখন ঋতুমতী হয়।

স্তনের গঠনতন্ত্রে কোষমন্ডল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই কোষে দুগ্ধ তৈরি হয় এবং জোগান দেয়। এছাড়াও স্তনমন্ডলে রয়েছে অসংখ্য শিরা উপশিরা ও  তন্ত্ব। যা স্তনের কোষমন্ডলকে সাহায্য করে স্তনের দৃঢ়তা ও আকৃতি ধরে রাখার জন্য। এই শিরা উপশিরার যোগ স্তনবৃন্তের সঙ্গে। এই শিরা সমূহের স্পর্শেন্দ্রিয় অত্যন্ত সজীব—তাই শিশুর ঠোঁটের ছোঁয়ায় স্তনবৃন্ত উত্তেজিত হয়ে কথিন হয়ে ওঠে এবং বৃন্তমুখে মাতৃদুগ্ধের জোগান এসে পড়ে। বয়োঃসন্ধিকালে কিছু কিছু বালকের বুকেও স্তনের স্ফীত দেখা যায়। শরীরে অতিরিক্ত মেদ থাকার জন্য এইরূপ হয় না। এর কারণ রক্তে যৌনরসের আধিক্য। সাধারণত ১২ থেকে ১৮ মাস পরে এই সমস্যা আর থাকে না। কিন্তু এই সমস্যা স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। স্থানবিশেষে শল্যচিকিৎসকেরও পরামর্শ  প্রয়োজন হয়ে পড়ে।

 

গর্ভকালীন অবস্থান

গর্ভকালীন অবস্থায় স্তনের বৃদ্ধি ঘটে। এই সময় স্তন কিছুটা নরম হয়ে পড়ে। এই সময় গর্ভকেশর প্রচুর পরিমাণে এস্ট্রোজেন তৈরী করে। এই এস্ট্রোজেন অন্যান্য হরমোন এবং কোষ ক্ষরিত লালার সঙ্গে মিশে স্তনমন্ডলের দুগ্ধ নালাগুলিকে স্ফীত এবং দুগ্ধ বহনের উপযুক্ত করে তুলতে থাকে। একই সময় গর্ভকেশর থেকে উৎপাদিত প্রোজেস্টেরন স্তনমন্ডলের কোষসমূহকে উত্তেজিত করে স্তনকে বর্ধিত করে তুলে। স্তনমন্ডলের দুগ্ধ থলিগলিতে দুগ্ধ উৎপাদনে কোষসমূহ তৈরী হতে থাকে।

গর্ভকালীন সময় প্রচুর পরিমাণ মেদ স্তনে ক্রমে জমা হতে থাকে। এই সময় স্তনের ওজন প্রায় ১ কেজির মত বৃদ্ধি পায়। হরমোনের প্রভাবে স্তনবৃন্তের মুল ধীরে ধীরে খয়েরি রং ধারণ করতে থাকে।

এস্ট্রোজেন এবং প্রোজেস্টরন শুধুমাত্র স্তনের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে না, শিশু ভূমিষ্ঠ হওয়ার পূর্বমুহূর্ত পর্যন্ত তারা মাতৃদুগ্ধের উৎপাদনও বন্ধ রাখে। কিন্তু শিশু জম্মের অব্যবহিত পরেই গর্ভকেশর এবং তার দ্বারা উৎপাদিত হরমোনের অনুপস্থিতিতে মস্তিষ্কের পিটুইটুরি কোষ প্রোলাকটিন নামক এক নতুন ধরনের হরমোন সৃষ্টি করতে শুরু করে যা মাতৃদুগ্ধ উৎপাদনকারী কোষসমূহকে উত্তেজিত করতে থাকে। প্রথম ২/৩ দিন কিন্তু স্তনমুখে দুধ আসে না। সেই সময় বৃন্ত থেকে যা ক্ষরিত হয় বিজ্ঞানশাত্রে তার নাম কোলোস্ট্রাম। পাতলা দুধ জাতীয় তরল যা প্রোটিন, মিনারেলস (বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ধাতু) এবং নিউট্রিনস (পুষ্টি) বহন করে তা সদ্যোজাত শিশুর পক্ষে অত্যন্ত জরুরী।  

 

স্তনের আকৃতির পরিবর্তন

গর্ভকালীন যেমন স্তনের স্ফীত হয় তেমনি ঋতু শুরুর অব্যবহিত পূর্বেও স্তনের স্ফীতি ও কোমলতা লক্ষ্য করা যায়। এতে চিন্তিত হওয়ার কিছু নেই। এই সময় রক্তের প্রোজেস্টেরন হরমোনের আধিক্য বশতঃ এই রকম ঘটে থাকে। বরং বলা যেতে পারে, ঋতুচক্রের এ এক স্বাস্থ্যকর লক্ষণ। গর্ভনিরোধক বড়িতে সিনথেটিক প্রোজেস্টরন থাকার কারণে, এই বড়ি ব্যবহার করলেও স্তনে স্ফীতি দেখা যায়।

মহিলাদের স্তনের খুব সাধারণ একটি অসুখ হল ফাইব্রোমিষ্টিক ডিজিস। স্তনের ভেতরে ফোঁড়ার মত ডেল দেখা যায়। যৌবনের সন্ধিক্ষণ থেকে শুরু ঙ্করে যে কোন বয়সের নারীরই এই উপসর্গ দেখা যেতে পারে। তবে সাধারণত ঋতুচক্রের সময়ই এই উপসর্গ বেশি দেখা যায়। আসলে ঋতুচকের সময় হরমোনের উপস্থিতি স্তনমন্ডলের কোষসমূহকে স্ফীত করে । ঋতু শেষ হওয়ার পরই সাধারণত এই ডেলা মিলিয়ে যায়। যদিও এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয় তবু এই ডেলা যদি মিলিয়ে না যায় তবে অতি অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর একটি বিষয় এখানে পরিস্কার করে বলে নেওয়া প্র্যোজন__ এই ডেলা কিন্তু স্তন ক্যানসার নয়। তবে খুব বেশি দীর্ঘায়িত হলে তা ক্যানসারের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

এই ঋতুচক্রের মধ্যে স্তনের স্ফীত জয়ে ওঠা, রক্তের হরমোন মাত্রার ওঠানামা ইত্যাদির ফলশ্রুতি কখনো কখনো স্তনে কিন্তু অপ্রয়োজনীয় রস দনা বেঁধে উঠতে থাকে। দীর্ঘস্থায়ী ডেলা বেঁধে থাকার এই একমাত্র কারণ। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই উপসর্গের নাম সিস্টে (Cysts)। সাধারণত ৪০ বছর বয়সের পর এই উপসর্গ দেখা যায়। স্তনে ব্যথা, অস্বস্তি এবং কখনো কখনো বৃন্ত থেকে রক্ত ক্ষরিত হতে দেখা যায়।

চিকিৎসকের পরামর্শে জেনে নেওয়া উচিৎ এই ডেলা সিস্ট না, ক্যানসার। শল্য চিকিৎসা দ্বারা এই ডেলা নির্মূল করা যায়। তবে, বেশিরভাগ ডেলা ২/১ মাসের মধ্যে নিজের থেকেই মিলিয়ে যায়।

 

স্তনের টিউমার

স্তনের টিউমার দুই ধরণের। বিনাইন (Benign) এবং ম্যালিগন্যান্ট (Malignant)। এই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারই হল ব্রেস্ট ক্যানসার বা স্তন ক্যানসার। এবং স্তনের অন্যান্য উপসর্গের মত এই টিউমারের সমস্যাও সাধারণত চল্লিশোর্ধ নারীর ক্ষেত্রেই বেশি। টিউমার হল কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি। কিন্তু বিনাইন টিউমার স্তনে একটি কোষে সীমাবদ্ধ থাকে। আর ম্যালিগন্যান্ট দ্রুত স্তনমন্ডলের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। বিনাইন টিউমার মারাত্মক নয়, কিন্তু ম্যালিগন্যান্ট টিউমার মৃত্যুর অগ্রদূত।

স্তন ক্যানসারের লক্ষণ হল স্তনের ভেতরে ফোঁড়ার ডেলা দেখা যাবে  যা কিন্তু বেদনাময় নয় এবং ঋতুচক্রের সঙ্গে এর আকৃতি এবং স্থায়ীত্বের পরিবর্তন হবে না। বৃন্ত থেকে ক্ষরণ হবে। বৃন্ত ভেতর দিকে জট পাকিয়ে যাবে এবং কমলালেবুর খোসা ছাড়ানোর মত স্তনে টোল পড়তে থাকবে।

এই সব লক্ষণ গুলির যে কোন একটি লক্ষণ দেখা দিলেই তা খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলেও সম্ভাব্য মারাত্মক ক্যানসারের কথা স্মরণে রেখে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

আপনি পড়ছেনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড থেকে>>স্তন বৃত্তান্ত

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাঃ আমাদের সাইটের পোস্ট পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো তাহলে শেয়ার করুণ। এবং আপনার বন্ধুদের কে আমন্ত্রণ জানান আমাদের সাইটে যোগ দেওয়ার জন্য।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

বীর্যের পরিমাণ

ইতিপূর্বে এ বিষয়টি আলোচনা করা হয়েছে যে, বীর্য নামক উপাদান, যার রঙ সাদা ও গাঢ়, …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE