Home / যৌন জীবন / সঙ্গম বা সহবাস / সঙ্গমের পরে করণীয়

সঙ্গমের পরে করণীয়

সঙ্গমের সময়টিতে উভয় পক্ষেরই শরীরের মধ্যে নানা রকমের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে থাকে। তখনকার একটা সর্বাঙ্গীণ উত্তেজনার ফলে দেহের সমস্ত গন্ড সমূহে, সমস্ত রক্তশিরা ও ধমনীর মধ্যে, সমস্ত মাংসপেশী ও নার্ভমন্ডলীর মধ্যে সেই বিশিষ্ট উত্তেজনার লক্ষণসমূহ প্রবল হয়ে ওঠে। যন্ত্রাদি তখন অতিরিক্ত রকমে ক্রিয়াশীল হয়ে পড়ে। প্রমাণ স্বরূপ বলা যায় যে, যৌন উত্তেজনা ঘটবার সঙ্গে সঙ্গেই জিভ দিয়ে প্রচুর লালারস ঝরতে থাকে, গা দিয়ে বিন্দু বিন্দু ঘা ঝরতে থাকে, মেয়েদের বগল ও হাঁটুর গহ্বর থেকে রীতিমতো ঘাম গড়ায়, এবং অনেক সময় একটা দুর্নিবার মূত্রবেগও এসে পড়ে। এ ছাড়া শরীরের সর্বত্র রক্ত চলাচল দ্রুত হয়ে ওঠে, নাড়ির গতি বেড়ে যায়, আর রক্তচাপও স্বাভাবিক অপেক্ষা অনেকখানি বেড়ে যায়। উত্তেজনার মাত্রা যেমন বাড়তে থাকে তেমনি সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসপ্রশ্বাসও দ্রুততর হয়ে ওঠে, এবং প্রতি অঙ্গের মাংসপেশী শিথিলতা পরিত্যাগ করে মহা উদ্যমে রতিক্রিয়ার সঙ্গে তাল রেখে অক্লান্ত পরিশ্রমের সঙ্গে তারই সহযোগিতা করতে থাকে। এই সকল চাঞ্চল্যের বিকাশে মানুষের চেহারাটাই যেন তখন হঠাৎ বদলে যায়। নিরীহ পুরুষকে দেখায় যেন প্রচুর বলশালী আর খুব তেজস্ব। মুখের সমস্ত বলি রেখা ঘুচে গিয়ে প্রবীণকেও দেখায় নবীন যুবকের মতো।আর নারীকে দেখায় যেন স্নেহ করুণায় বিগলিত কোনো ভাবময়ী দেবীমূর্তি । এ ছাড়া তখন শরীরের সকল রকম ইন্দ্রিয়গুলি হয়ে ওঠে অতিমাত্রায় সজাগ।ঘ্রাণশক্তি হয় প্রখর, স্পর্শশক্তি হয় অত্যন্ত সূক্ষ্মণুতিসম্পন্ন, দৃষ্টিশক্তি হয় খুব তীক্ষ্ম। তীব্র কোনো আলো চোখে তখন সহ্য হয় না। তৃপ্তির শেষ মুহূর্তে চোখের তারা দুটি যথেষ্ট বিস্ফারিত হয়ে ওঠে, পল্লবগুলি ঘন ঘন স্পন্দিত হতে থাকে। তখনকার চোখের ভাব দেখলেই বঝা যায় যে শেষ মুহূর্ত এবার এসে পড়লো।

এতখানি উত্তেজনা পরিশ্রম ও চাঞ্চল্য যেমনি তৃপ্তির সঙ্গে সঙ্গে মিটে যায়, অমনি তার পরমুহূর্ত থেকেই দেখা দেয় একটা অবসাদ। শুধু মানসিক অবসাদ নয়, তার সঙ্গে শারীরিক একটা ক্লান্তি। সমস্ত শরীর ও মন তখন অবসন্ন হয়ে বিশ্রাম নিতে চায়। এই ক্লান্তিবোধের কারন আছে। সমস্ত নার্ভের ক্ষুধা পরিপূর্ণভাবে মিটে যাওয়াতেই তখন এত ক্লান্তি। এমন ক্লান্তি সাধারণ পরিশ্রমে হয় না। রতিক্রিয়াতে যেখানে যত বেশি ভালো লাগা, সেখানে নিছক পাশবিক ইন্দ্রিয়সুখের সঙ্গম, সেখানেও এতটা ক্লান্তি নেই। যেখানে শৃঙ্গারে কোনো স্পৃহা নেই, সেখানে গতানুগতিক অভ্যাস হেতু সঙ্গমটা মামুলি ও সংক্ষিপ্ত, সেখানেও এমন ক্লান্তি নেই। পরিপূর্ণ প্রেমযুক্ত সঙ্গমের যে ক্লান্তি তাতে একটা মাদকের আবল্যের মতো ভাব আসে, ঘুমে চোখ যেন জড়িয়ে আসে। যদি অতিরিক্ত তৃপ্তির সঙ্গে মাত্র একবারের সঙ্গমে কিংবা উপর্যুপরি কয়েকবারের সঙ্গমে ক্লান্তিটা খুব গভীর হয়, তাহলে কেউ কেউ কিছুক্ষণের জন্য নিরান্ত মূর্ছিতের মতো পড়ে থাকে। তবে যারা শারীরিক একটু দুর্বল তাদেরই এমন ভাব হতে পারে।

কিন্তু শরীর দুর্বল কিংবা অসুস্থ থাকলেও এই ক্লান্তিতে কারো তেমন অনিষ্ট হয় না। তখনকার ঐ ক্লান্তি অসুস্থ শরীরের পক্ষে বরং নার্ভ টনিকের কজা করে। এই ক্লান্তি উভয়পক্ষেরই শরীর ও মনের পক্ষে উপকারী। এর জন্য কোনো বলকারক দেবার প্রয়োজন হয় না, এমন কি ঘুমেরও বিশেষ প্রয়োজন হয় না। এক গ্লাস ঠান্ডা পানি খেয়ে অল্পক্ষণ শুয়ে বিশ্রাম নিয়ে নিলেই এই ক্লান্তি আপনা থেকে দূর হয়ে যায়। তার পরেই আসে একরূপ মানসিক পরিতুষ্টি , একটা সমূহ স্বাচ্ছন্দ্য ও প্রসন্নতার ভাব, সেই সঙ্গে স্ফূর্তিযুক্ত আত্মপ্রসাদ ও সার্থকতাবোধ। এটা অবশ্য ক্লান্তির খানিক পরে।

এখানে কিন্তু বিশেষ একটা জানবার কথা, পুরুষের যেমন সঙ্গম শেষ হবার সঙ্গে সঙ্গে ঐ ধরনের ক্লান্তি আসে, নারীর পক্ষে তেমন নয়। তার পক্ষে যেমন প্রথম উত্তেজনাটি জেগেও উঠে খুব ধীরে, তেমনি সে উত্তেজনা প্রশমিতও হতে তাক খুব ধীরে। তার সেটা জুড়িয়ে যেতে কিছু সময় লাগে। সুতরাং পুরুষ যখন ক্লান্ত হয়ে চোখ বুজেছে, নারীর মধ্যে তখনও তার উত্তেজনার রেশটুকু স্তমিত বহ্নিত মতো ধিকিধিকি জ্বলছে। তার ঐ সমটিতে তাই জেগে থাকতে খুবই ভালো লাগছে। ভালো লাগছে তার প্রিয়ের বুকের কাছে সরে গিয়ে মাহাটি গুঁজে থাকতে, প্রিয়ের মুখ থেকে তখনও কিছু আদর গুঞ্জন শুনতে। তখন তার পক্ষে ছাড়াছাড়ি হয়ে চোখ বুজে থাকবার সম্য নয়। এ সময় তার সারা অন্তরে সদ্যতৃপ্তির যে স্নিগ্ধ আনন্দটুকু ফুটে উঠলো, সেটুকু সঙ্গমের সময়কার উম্মাদনার চেয়েও আরো বেশি মধুর। সে চায় সঙ্গমের পরেও যৌনসঙ্গীকে তার সেই নবজাগ্রত স্নিগ্ধ আনন্দের অংশীদার করতে।

সুতরাং সঙ্গম ক্রিয়াটি সমাপ্ত হয়ে গেলেই যে সব কিছু কাজ ফুরিয়ে গেল তা ঠিক নয়। তারপরেও রয়েছে অবশিষ্ট কিছু করণীয়, তার নাম দেওয়া যেতে পারে উদযাপন লীলা। বিশেষজ্ঞেরা এটার উপরেও বিশেষ ঝোঁক দিয়ে থাকেন। যে কাজটি সার্থক ভাবে সম্পাদন করা হয়েছে, তা ওর পরক্ষণে সার্থক ভাবে উদযাপনও করা চাই।পুরুশের এতে কিছু অংশ নিতে হবে, মৈথুন শেষ করবার পরেই নিশ্চিন্ত হয়ে নিদ্রা দিলে চলবে না। তার জানা উচিত যে বিশেষ করে এই সঙ্গমের পরবর্তী সময়টি হলো তার পরীক্ষার সময়। এ সময়ে সে কেমন ব্যবহার করছে স্পষ্ট বোঝা যাবে যে তার অন্তরে রয়েছে কতখানি ভালোবাসা। যাদের অন্তরে সেই আসল বস্তু বিশেষ কিছুই নেই, তারা কাজটি ফুরোবা মাত্রই সঙ্গিনীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে অপর দিকে পাশ ফিরে শুয়ে ঘুমোতে আরম্ভ করে দেয়,কিংবা চুপ করে আপন স্বার্থঘটিত বিষয়ে মন দিতে শুরু করে দেয়। তখন কোনো কথা বলতে তাদের বিরক্তি লাগে।কিন্তু যাদের মনে সত্যিকার ভালোবাসা তাদের তখনও পর্যন্ত আনন্দের নিবৃত্তি হয় না। তারা পৃথক না হয়ে পরস্পরের গায়ে হাত রেখেই শুয়ে থাকে, মৃদুস্বরে কথা বলে, হয়তো একটু  চুম্বন করে, হয়তো একটু আদর করে। তাদের ভাব দেখলেই বোঝা যায় যে তারা তখনও নেশায় বিভোর হয়ে আছে, দুজনেই একটু আগেকার সেই রমণকালের ঘটনাগুলি হয়তো স্মরণ করছে। পরস্পরের চোখের দিকে চেয়েই তারা বুঝতে পারছে কে কোন কথাটি ভাবছে। কামনা পূরণের সক্রিয় আনন্দের পরে এই যে কিছুক্ষণের জন্য শুধুই মনস্তষ্টি জানাবার নিষ্ক্রিয় আনন্দ, এর শেষ লীলাটুকু দুজনে জেগে থেকেই উদযাপন করতে হয়।

দুঃখের বিষয় এই, সামান্য ব্যাপারটিতে অনেকেই অবহেলা করে। কেউ কেউ হয়তো এ সময়ে ইচ্ছাপূর্বকই তাচ্ছিল্য করে, কিন্তু কেউ কেউ স্ত্রীকে যথেষ্ট ভালোবাসলেও নিজেদের অজ্ঞতা থেকে এ সময়টিতে অমনোযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু স্বামীর মনে যে ভাবই থাক, স্ত্রী যখন দেখে যে সঙ্গমের পরেই স্বামী পাশ ফিরে শুয়ে সশব্দে নাক ডেকে ঘুমোতে লাগল, তখন সে অন্তরে একটু ব্যথা পায়। সে ভাবে যে স্বামী তার নিতান্ত স্থূল, আসল জিনিসটার মর্ম সে কিছু বুঝলো না, আনন্দের প্রক্রিয়াটি ফুরোবার সঙ্গে সঙ্গে আনন্দও তার ফুরিয়ে গেল। নিতান্ত স্বার্থপরের মতো স্থূল প্রাপ্যটুকু আদায় করে নিয়েই সে দূরে সরে গেল। স্ত্রীর অন্তরে তখনও যে পান করাবার মতো কতখানি অমৃত রয়েছে, স্বামী তার একটুও আস্বাদ নিতে চাইলো না।

নারীকে ভোগ করে তার মনে এটুকু ব্যথা দেওয়াও অপরাধ। তার প্রতি একটু সহানুভুতি থাকলেই এমন ক্রটি হতে পারে না। আর কিছু নয়, দুটো মিষ্টি কথা, একটু মুখের হাসি, গায়ে একবার হাত বুলিয়ে দেওয়া, দু একটি চুম্বন, এই হলেই যথেষ্ট। এতেই নারী পরম পরিতুষ্ট হয়ে যায়। বলা বাহুল্য এ সময়ে যৌন মনোভাবটি কিছুমাত্র নেই। কেউ কারো যৌন অঙ্গের দিকে চাইবে না কিংবা সেখানে স্পর্শও করবে না। তখন দুজনেত যৌন অঙ্গ সমূহের পরিপূর্ণ বিশ্রাম।যদি আবার নতুন করে যৌন বাসনা জাগাতে হয় তবে এই ক্লান্তির সময়ের আনন্দটুকু মিটে যাবার কিছুক্ষণ পরে।

ক্লান্তি যে কেবল পুরুষেরই হয়ে থাকে আর নারীর কিছুই হয় না এমন কথা নয়। নারীর তৃপ্তির মাত্রা যদি সম্পূর্ণ হয়ে থাকে, আর নারী যদি নিজে সক্রিয় হয়ে সেই তৃপ্তি উপভোগ করে থাকে—যেমন বিপরীত বিহারে, তাহলে তখন নারীও অমনি ক্লান্তি হয়ে ঘুমিয়ে পড়তে চায়। কিন্তু তবুও সে তার আগে সামান্য একটু প্রেমের চিহ্ন জানিয়ে দিতে কিংবা জেনে নিতে চায়। প্রেমের পাত্রকে আনন্দ দান করা হলেও সে তার কাছে একটু প্রত্যাশা করে। সেইটুকু হলো তার দানের পুরস্কার।পুরুষের পক্ষে এই কথাটাই জেনে রাখা উচিত। দুজনেই যখন ক্লান্ত এবং দুজনেই নিদ্রাতুর, তখন দেয়ালের দিকে পাশ ফিরে শোবার বদলে মুখোমুখি থেকে শিথিল আলিঙ্গনে আবদ্ধ হয়ে একটু কথা বলে কিংবা একটু চুম্বন করে তার পরে দুজনে একত্রে চোখ বুজে ঘুমিয়্যে পড়াই ভাল। এতে কারোইক্ষোভের কারণ থাকবে না। তৃপ্তিও হয়েছে একযোগে,ঘুমও হলো একযোগে, এর একটা আলাদা রকমের মূল্য আছে।

আপনি পড়ছেনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড থেকে>>সঙ্গমের পরে

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাঃ আমাদের সাইটের পোস্ট পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো তাহলে শেয়ার করুণ। এবং আপনার বন্ধুদের কে আমন্ত্রণ জানান আমাদের সাইটে যোগ দেওয়ার জন্য।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

হায়েয

হায়েয অবস্থায় স্ত্রী সহবাসের আরও কিছু মাসআলা

হায়েয অবস্থায় স্ত্রী সহবাসের আরও কিছু মাসআলা পড়ুন “পরিপূর্ণ স্বামী স্ত্রীর মধুর মিলন” বই থেকে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *