Home / যৌন জীবন / যৌন বিষয়ক নিবন্ধন / দাম্পত্য-প্রীতির মূলকথা!

দাম্পত্য-প্রীতির মূলকথা!

দাম্পত্য-সম্পর্ক মূলত যৌনসম্পরক।দুটি প্রাপ্তবয়স্ক নর-নারীর আইন-সিদ্ধ ও সমাজসম্মত ব্যক্তিনির্দিষ্ট যৌন সম্পর্কই দাম্পত্য-সম্বন্ধের প্রধান বৈশিষ্ট্য । স্বামী-স্ত্রী উভয়ের আঙ্গিক সামঞ্জস্য, পারস্পরিক রতিতৃপ্তি লাভ এবং পারস্পরিক যৌননিষ্ঠ । যৌন-আকর্ষণের উপরই দাম্পত্য-প্রীতির নিবিড়তা এবং স্থায়িত্ব নির্ভর করে। স্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতায় রতিজীবনে স্বামীর বিচিত্র যৌনকামনা যথাযথভাবে পরিতৃপ্তি হলে সুন্দর সুপুরুষ স্বামীও অসুন্দর আকর্ষণহীনা বা লাবণ্যহীনা স্ত্রীর চিরতরে অঞ্চলবদ্ধ হয়ে থাকতে পারে।

স্বামী যদি শৃঙ্গার ও সঙ্গমের নৈপুণ্য এবং রতিশক্তিতে স্ত্রিকে নিয়মিতভাবে রতিতৃপ্তি দিতে সক্ষম হন, তাহলে পরমা সুন্দরী স্ত্রীও স্বামীর অন্য সবকিছু অযোগ্যতা বা অক্ষমতা ভুলে পতিপ্রাণা সাধ্বী স্ত্রীরূপে চিরদিন স্বামীর অনুবর্তিনী থাকে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রী যেখানে একে অন্যের রতিতৃপ্তি সাধনে অক্ষম হয়, সেইখানেই স্বামী-স্ত্রীর সম্প্রীতি নষ্ট হয়, দাম্পত্য-নিষ্ঠা ব্যাহত হয়। দিনের পর দিন রতি-অতৃপ্তির ফলে স্বামী বা স্ত্রী গোপনে ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। দাম্পত্য জীবনে এর চেয়ে বড় ব্যর্থতা বা অভিশাপ আর কিছু নেই।

প্রশ্ন উঠতে পারে, রতিজীবনে পুরুষের ভূমিকা সক্রিয়। স্ত্রীর সঙ্গে মিলনে দ্রুতই হোক বা বিলম্বেই হোক, সে অনিবার্য ভাবেই স্খলনজনিত রতিতৃপ্তি লাভ করে। নারীকেই বরং পুরুষের উপযুক্ত শৃঙ্গারের অভাবে অথবা দ্রুতস্খলনের অনেক ক্ষেত্রেই চরমতৃপ্তি লাভে বঞ্চিত হতে হয়। একহা নিঃসংশয়ে সত্য। কিন্তু গতানুগতিকভাবে নিছক দৈহিক পরিতৃপ্তি লাভেই কোন স্বামীই চিরদিন স্ত্রীর প্রতি আকর্ষণ অক্ষুণ্ণ রাখতে পারে না। স্ত্রীর গর্ভকাল এবং দু’তিনটি সন্তান প্রসবের পর স্বাস্থ্য ও লাবণ্য ক্ষুন্ন হলে তার প্রতি স্বামীর আকর্ষণ দ্রুত কমতে থাকে। আবার ঠিক সেই সময়েই কামাবেগ এবং রতিস্পৃহা চরম স্তরে উন্নীত হয়।

নিয়মিতভাবে রতিক্রিয়ায় অভ্যস্ত হবার স্বাভাবিক লজ্জা ও জড়তা দূর হলে এবং সন্তান-প্রজননের পর নারীর মিলনেচ্ছা তীব্রতর এবং সহজলভ্য হয়। কিন্তু পুরুষের স্খলনকালীন রতিতৃপ্তির কোন অল্পাধিক্য ঘটেনা। স্খলন দ্রুতই হোক বা বিলম্বেই হোক, তাতে পুরুষের মিলনান্তিক পুলকানুভূতি একরূপই হয়। কারণ পুরুষের রতিতৃপ্তি প্রধানত তার জননাঙ্গে সীমাবদ্ধ।

পুরুষের প্রধান এবং প্রায় একমাত্র কামকেন্দ্র তার জননাঙ্গ এবং তার রতিতৃপ্তির একমাত্র উৎস হলেও সেই পুলকানুভূতি দৈহিক ও মানসিক দুটি পৃথক ধারায় তুল্যভাবে সঞ্চারিত হয়। কারণ দৈহিক প্রেরণা ছাড়া পুরুষের মধ্যে আছে প্রবল মানসিকতা। কিন্তু নারীর মানসসত্তা পুরুষের চেয়ে অনেক দুর্বল। নারী সেই অভাব  পূরণ করেছে তার কামকেন্দ্রের বহুত্বে, তার দৈহিক অনুভূতি এবং সংবেদনের তীব্রতায় । তাই স্তন ও যোনিদেশ শৃঙ্গারে সঙ্গমে নারী পুরুষের স্খলনকালীন রতিতৃপ্তির চেয়ে অনেক বেশী পরিমাণে এবং দীর্ঘস্থায়ী তৃপ্তি লাভ করে।

দাম্পত্য রতিজীবনে স্বামীর রতিতৃপ্তি অবশ্য প্রাপ্য হলেও মিলনের একঘেয়েমীতে এবং স্ত্রীর সক্রিয় সহযোগিতার অভাবে পুরুষের স্বাভাবিক রতিবৈচিত্র্যের স্পৃহা চরিতার্থ না হলে ক্রমশই পুরুষের মিলনের আগ্রহ তথা পরিতৃপ্তি ব্যাহত হতে থাকে। তাই দাম্পত্য-রতিজীবনকে সফল এবং সর্বাঙ্গসুন্দর করে তোলার জন্য স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই রতিমিলনের বৈচিত্র্য সম্বন্ধে অবহিত এবং সচেষ্ট হওয়া প্রয়োজন। এইটিই দম্পতির রতিসাধনার মূল কথা। কারণ পারস্পরিক তৃপ্তিকর এবং সামঞ্জস্যপূর্ণ রতিজীবনের উপর সম্প্রীতি এবং দাম্পত্য-জীবনের স্থায়ীত্ব নির্ভর করে।

দাম্পত্য রতির সঙ্গে প্রীতির সম্পর্ক এমন অবিচ্ছিন্ন যে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে রতিবিহীন প্রীতি অথবা প্রীতিবিহীন রতি আমাদের পক্ষে অকল্পনীয় । কার্যত বিবাহ হলো দুটি নর-নারীর রতিসম্পর্ক, যার মুখ্য উদ্দেশ্য রতিতৃপ্তি লাভ। অপর দুটি গৌণ-উদ্দেশ্য সন্তান প্রজনন এবং পরস্পরের দায়িত্ব গ্রহণ। ক্যারন হর্নীর মতে, দাম্পত্য-সম্পর্ক তিনটি সম্বন্ধের সমন্বয়,— দেহের সম্বন্ধে, মনের সম্বন্ধে এবং সাংসারিক সম্বন্ধ। এই তিনটি সম্বন্ধের সফলতার উপরই দাম্পত্য জীবন সুখের হয়।

সুতরাং দাম্পত্য-সম্পর্কের সম্প্রীতি বা সফলতা কেবলমাত্র রতি পরিতৃপ্তির উপরই নির্ভর করে না। আমাদের সমাজের রীতি অনুসারে দাম্পত্য- সম্পর্ক নিছক ব্যক্তিনির্দিষ্ট যৌন সম্পর্ক মাত্র নয়। সাংসারিক, সামাজিক, নৈতিক— অজস্র কর্তব্য ও দায়িত্ববন্ধনে আবদ্ধ। সেই সঙ্গে কালের বিবর্তনে শিক্ষা সংস্কার ও প্রগতির প্রভাবে স্বামীর  “পতির্হি দেবতা ন্যার্য্যাঃ পতিবন্ধুঃ পতিগুরুঃ” এবং স্ত্রীর “রতি পুত্রফলী দারা” রূপ অনেক পাল্টেছে।

 

স্ত্রী আজ কেবলমাত্র স্বামীর রতিসঙ্গিনী এবং পুত্রপ্রসবিনী মাত্র নয়। দৈহিক প্রয়োজনের দিক থেকে সে যেমন পুরুষের রতিসঙ্গিনী, দৈহিক প্রয়োজনের দিক থেকে সে তেমনই পুরুষের ‘জীবনসঙ্গিনী’। সেখানে স্ত্রীর ভূমিকা দেহ-যৌবনের ঊর্ধ্বে । তার দায়িত্ব অজস্র। স্ত্রীর সেই জীবন সঙ্গিনীর ভূমিকা বা দায়িত্ব যেখানে ক্ষুন্ন, সেখানে নিপুন রতিসঙ্গিনী হয়েও দাম্পত্যপ্রীতি কোন স্ত্রীই বেশীদিন অক্ষুন্ন বা অবিকৃত রাখতে পারে না। দেহগত পরিতৃপ্তির অতিরিক্ত যে দেহাতীত আনন্দ, সে আনন্দ অক্ষুন্ন থাকতে পারে না। শুধু জীবনসঙ্গিনীর আত্মিক সম্পর্ক- বন্ধনে। এই জীবন সঙ্গিনীরই ভক্তি, নিষ্ঠা, আনুগত্য, সাহচর্য প্রভৃতি সাতটি কর্তব্য বন্ধনেই হিন্দু স্ত্রী স্বামীকে ‘সাত পাকে’ বাঁধে।

তেমনই  পতির্হি দেবতা ন্যার্য্যাঃ স্বামীদেবতা বা তাঁর পরম গুরুর ভূমিকা কেবলমাত্র রতিসঙ্গী বা প্রমোদসঙ্গী এবং ভরণপোষণকর্তা রূপেই নয়, বিবাহকালে উচ্ছারিত মন্ত্রের প্রতিশ্রুতি অনুসারে স্ত্রীর হৃদয়বৃত্তির অনুবর্তনে স্ত্রীর আশা, আকাঙ্ক্ষা ও বাসনা পূরণে। আজ আমরা আধুনিক পাশ্চাত্য ভাবধারায় যতই প্রভাবিত হই না কেন, আমাদের দাম্পত্যজীবন এই মহান আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ। তাই আমাদের দাম্পত্য-সম্পর্কের স্থায়ী সম্প্রীতি কেবলমাত্র পরস্পরের রতিসঙ্গতি বা রতিতৃপ্তির উপরই নির্ভর করে না। অর্থাৎ দাম্পত্যপ্রীতি বা তাঁর স্থায়ীত্ব রতি-সামঞ্জস্যবিহীন নয়, আবার রতিতৃপ্তি সাপেক্ষও নয়।

দাম্পত্য- সম্প্রীতির মূলসূত্রটি হলো এককথায় একাত্মতা। এই একাত্মতা বা পারস্পরিক হৃদয় বিনিময়ই দাম্পত্য-জীবনের আদর্শ , দাম্পত্য্-প্রেমের স্থায়ী আধার । রতি-সামঞ্জেস্যের মতোই এই একাত্মতাও স্বামী-স্ত্রী উভয়েরই সাধনা-সাক্ষেপ। তুল্য রতিতৃপ্তি লাভের মতোই পস্পরের ইচ্ছা, বাসনা, রুচি ও বিচিত্র হৃদয়বৃত্তির সমন্বয়ই এর লক্ষ্য, যে জন্য উভয়েরই দায়িত্ববোধ, দাম্পত্যনিষ্ঠা এবং ত্যাগ ও তিতিক্ষার প্রয়োজন। এই সাধনারই প্রধান অঙ্গ পরস্পরের দৈহিক এবং মানসিক তৃপ্তিবিধান।

দাম্পত্য-রতিজীবনে উভয়ের পরিতৃপ্তি ছাড়া উভয়ের প্রীতিবর্ধন বা সন্তোষ সাধনের জন্য চারটি একান্ত অপরিহার্য । যথা, পারস্পরিক মমত্ববোধ, পারস্পরিক সহানুভূতি ও সহযোগিতার মনোভাব, বাচনিক তোষণ ও সদাচরণ, এবং পরস্পরের ইচ্ছা, রুচি ও আদর্শের প্রতি নিষ্ঠা এবং অনুরাগ। আমার মনে হয়, দাম্পত্য-জীবনে স্থায়ী সম্প্রীতির জন্য কোন বিষয়েই মনান্তর বা অপ্রীতি ঘটতে পারে না।

একথা অবশ্য স্বীকার্য যে, পারিবারিক প্রভাব বা অশান্তির পরিবেশ এবং আর্থিক অস্বাচ্চন্দ্যও অনেকক্ষেত্রে দাম্পত্য-প্রীতির অন্তরায় সৃষ্টি করে। কিন্তু স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যদি সত্যিকারের একাত্মবোধ বা সম্প্রীতি থাকে, তবে যে কোন প্রকার প্রতিকূলতা বা অস্বাচ্চন্দ্য তারা হাসি মুখে বরণ করে নিতে পারেন। পারস্পরিক নির্ভরতা এবং মমত্ববোধ থাকলে, এবং স্ত্রী যদি স্বামীর ইচ্ছা বা অবস্থার অনুবর্তিনী হন, তা হলে দাম্পত্য-প্রীতি রক্ষার জন্য কোনরকম বিপর্যয়ে অথবা স্বার্থত্যাগে তারা কাতর হবে না ।

শাশুড়ি, ননদ প্রভৃতি বর্ষীয়সী নিউরোটিকা মহিলারা প্রায়ই আমাদের দেশে নববধূর অশান্তি ও লাঞ্চনার কারণ হয়। এরূপ ক্ষেত্রে স্ত্রী যদি কায়মনপ্রাণে স্বামীর অনুরাগিনী এবং অনুবর্তিনী হন, তবে দাম্পত্য-প্রীতিরক্ষার জন্য সহৃদয়া এবং বিবেকবোধসম্পন্ন স্বামীর কর্তব্য অবিচল দৃঢ়তায় সমস্ত বাহ্য প্রভাব প্রতিকুলতা প্রতিহত করে স্ত্রীর মর্যাদা এবং শান্তি অক্ষুণ্ণ রাখা।

স্ত্রী যদি উগ্রকামিতা বা সাময়িক দুর্বলতা বশত ব্যভিচারিণী হন, তবে প্রথমেই সেজন্য স্ত্রীকে তাড়না না করে সহৃদয় স্বামীর প্রথম কর্তব্য তাঁর কারণ নির্ণয় করা,– নিজের ক্রটি, অক্ষমতা বা অযোগ্যতা এবং স্ত্রীর বিশেষ যোউনকামনা সম্বন্ধে অবহিত  হওয়া, এবং আন্তরিক প্রচেষ্টায় সেইদিক থেকেই স্ত্রীকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করা। কিন্তু স্ত্রীর প্রতি যথার্থ মমত্ববোধের অভাবে অনেক অস্থিরচিত্ত স্বামী স্ত্রীর প্রতি যতই কঠোর মনোভাব অবলম্বন করেন, দাম্পত্য প্রীতি ততই নষ্ট হয়, এবং স্ত্রীও ততই বেপরোয়া হয়। এতে পারস্পরিক মর্যাদা ও শান্তি নষ্ট হয়।

এ বিষয়ে স্ত্রীদের বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন। স্বামী যদি স্ত্রীর দ্বারা দেহের ও মনের বিচিত্র সম্ভোগস্পৃহা চরিতার্থ করতে পারেন, স্ত্রী যদি তাঁর নিপুন রতিসঙ্গিনী এবং ইচ্ছানুবর্তিনী গৃহিনী হন, তবে যে কোন স্ত্রীর পক্ষেই স্বামীকে অঞ্চলবদ্ধ করা সম্ভব।

সুতরাং স্বামী যদি অন্য নারীর প্রতি আকৃষ্ট হন, তাহলে স্ত্রীকে খুঁজে দেখতে হবে, নিজের মধ্যে কোথায় কী ক্রটি লুকিয়ে আছে, –কোন বিষয়ে তাঁর কাছে স্বামী অতৃপ্ত। স্বামী-স্ত্রী দুজনকেই স্মরণ রাখতে হবে, উভয়ের দৈহিক ও মানসিক পরিতৃপ্তিই দাম্পত্য-প্রীতির মূলকথা, যেজন্য স্বামী-স্ত্রীর একাত্মতা প্রয়োজন। একদেহ, একমন, একপ্রাণ,-এই মমত্ববোধই দাম্পত্য-প্রীতি সম্ভব, সেটা সাধনা সাপেক্ষ। 

আপনি পড়ছেনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড থেকে>>দাম্পত্য-প্রীতির মূলকথা!

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাঃ আমাদের সাইটের পোস্ট পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো তাহলে শেয়ার করুণ। এবং আপনার বন্ধুদের কে আমন্ত্রণ জানান আমাদের সাইটে যোগ দেওয়ার জন্য।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

প্রেমের কথা

কলারূপে প্রেম- প্রেমের আবশ্যকতা ও প্রীতি-স্থাপনের উপায়

‘কলারূপে প্রেমের কথা শুনে অনেকে হয়তো চমকিয়ে উঠেছেন। যে #প্রেম নিছক মানসিক ব্যাপার মাত্র, তাঁকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE