Breaking News
Home / যৌন জীবন / যৌন বিষয়ক নিবন্ধন / নর-নারীর কামজোয়ার

নর-নারীর কামজোয়ার

জগৎ যেন নিজের সৃষ্টির মায়া ভুলতে পারে না,  তাই সব কিছুকে টেনে আঁকড়ে ধরে রাখতে চায় নিজের বুকে, তাঁর এই মায়ার আকর্ষণে দুনিয়ার সব কিছু বুঝি ছিটকে বেরিয়ে যেতে পারেনি। চাঁদও দুনিয়ার সঙ্গে একদিন এমনি মায়ার বাঁধা থেকেও কেমন করে জানি না হঠাৎ ছিটকে বেরিয়ে গেল মহাশূণ্যের পানে; গিয়েও বুঝি মায়ার টান ভুলতে পারল না, তাই চন্দ্রকেও পৃথিবী তাঁর আকর্ষণীয় শক্তিতে টেনে রাখল। দুনিয়ার সব কিছুর ওপর চন্দ্রের প্রভাব প্রতিভাত হলো। তাঁর সে টান যখন প্রবল হয়ে ওঠে তখন বুঝি দুনিয়ার সব কিছু জগতের মায়া কাটিয়ে চন্দ্রাভিমুখী হতে ব্যাকুল হয়। তাই বুঝি সুনীল জলধি সেই টানের প্রভাবে সফেন উচ্ছ্বাসে ফুলে-ফেঁপে ওঠে, নদ-নদীতে জোয়ারের বন্যা বাঁধনহারা গতিতে ছুটতে থাকে, তারপর চাঁদের নাগাল না পেয়ে সগর্জনে আছড়ে পড়ে তটে তটে কূলে কূলে । সমুদ্রের এই মাতাল করা উচ্ছ্বাস, নদ-নদীর এই দিশাহারা জোয়ার বেগ যেন তাদের প্রেমাস্পদের কাছে কামনার তীব্র আবেদন।

শুধু মহাসমুদ্র নয়, নদ নয়, নদী নয়—এই তীব্র আবেগ মাতাল করে তোলে সপ্রাণ সবাইকে, —পশু-পক্ষী, কিট-পতঙ্গ থেকে দুনিয়ার সমস্ত নর-নারীকেও । কাম জোয়ারের উচ্ছ্বাএ, যৌনবোধের প্রাবল্য দিশাহারা হয় তারাও । লিপ্সা চাঞ্চল্যে বিভ্রান্ত হয় তনু মন তাদেরও।

পৃথিবীত ওপর চাঁদের অমোঘ আকর্ষণীয় শক্তির কথা বিজ্ঞান যেমন স্বীকার করেছে, তাঁকে সত্য বলে মেনে নিয়েছে, তেমনি ভাবেই স্বীকার করেছে জিবের ওপর বিশেষতঃ মানুষের ওপরও চাঁদের প্রভাব। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রকররা বহু যুক্তিতর্কের মধ্যেও সোচ্চার কন্ঠে বলেছেন যে, যদি চাঁদের প্রভাব না থাকত তবে বিশেষতঃ অমাবস্যা-পূর্ণিমার দিনেই বা রোগীদের রোগের তারতম্য ঘটে কেন? সে কথা মেনে নিলে এ সিদ্ধান্তও মেনে নিতে হবে যে, চান্দ্র মাসিক প্রভাবে নারীদের মধ্যে তো বটেই, পুরুষের ক্ষেত্রেও বিশেষ করে পূর্ণিমা তিথিতে তাদের জননযন্ত্রে আন্ত ও বাহ্যরস বৃদ্ধি পায় এবং যৌনবোধ তীব্রভাবে জেগে ওঠে। আধুনিক বিজ্ঞানও মানুষের চান্দ্রমাসিক (lunar cycle) প্রভাবের কথা স্বীকার করেছেন এবং বলেছেন যে, চান্দ্রমাসিক প্রভাবে বেশ কিছু নারী ঋতুস্রাব দর্শন করে, আর সেই সম্য তাদের দেহে সে কাম জোয়ারের আবির্ভাব ঘটে তা প্রত্যক্ষ সত্য। শুধু নারী নয়, পুরুষদেহেও এই কামজোয়ার দেখা দিয়ে তাদের লিপ্সা চাঞ্চল্যকে তীব্র করে তোলে(some investigators have even tried to prove that man like women is bound to a lunar cycle, and have suggested that this is a relic of a distant age when organic life first appeared on the shores of great inland seas and lakes where it was subject to the tidal influence of the moon—Kenneth walker)।

বিজ্ঞানীদের মতে, আদিম যুগে প্রত্যেক বয়ঃপ্রাপ্ত নারীই ঠিক পূর্ণিমা তিথির কাছাকাছি সময়ে ঋতুদর্শন তো করতই, সেই সময়ে তাদের মাসিক কামজোয়ার পরিপূর্ণ ভাবে প্রকাশ পেত। এক একটি চান্দ্রমাস নিয়ে নারীদের এক একটি ঋতুমাস অর্থাৎ আটাশ দিন পর পর তাদের ঋতুস্রাব হয়। যৌন বিজ্ঞানীদের মতে প্রত্যেক সুস্থ নারীর স্বাভাবিক ভাবে কাম জেগে ওঠার সঙ্গে তাদের ঋতুস্রাবের ও চন্দ্রমাসের ঘনিষ্ঠ সম্বন্ধ আছে। সেই কারণেই  বোধহয়, আদিম প্রস্তুত যুগে বীর যোদ্ধারা সাধারণত চতুর্দশী তিথির রাত্রেই অপর গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ যাত্রা করত। যুদ্ধে জিতে গেলে তাদের শ্রেষ্ঠ লুন্ঠন সম্ভার হিসেবে যে সব প্রাপ্তবয়স্কা কুমারী বা অন্যান্য নারীদের আহরণ করে নিজস্ব সম্পত্তি হিসেবে জবরদস্তি ভোগ করত সেই সব নারীদের ঋতুস্রাবকাল বর্তমান থাকার দরুণ যোনিনালী রস সলিলে পিচ্ছিল ও কামজোয়ারের ক্ষীন অস্তিত্ব জেগে থাকত। সেজন্য তাদের বেদনা বোধ খুব বেশি অসহনীয় হত না। অনুমান করা হয়, বোধহয় সেই কারণে অসভ্য,অর্ধসভ্য এমন কি সুসভ্য সমাজে আজ প্রমোদ উৎসবগুলি বেশির ভাগ পালিত হয়ে থাকে জ্যোৎস্নালোকিত পূর্ণিমা রজনীতে (হিন্দুদের ঝুলন, রাসযাত্রা, কোজাগরী লক্ষীপূজা, দোল এবং রোমান ক্যাথলিক খ্রীষ্টান, বৌদ্ধ, সন্তো, পারসীক, কনফুশীয় ধর্মের বহু অনুষ্ঠানই পূর্ণিমা তিথির মধ্যে হয়ে স্তন্যপায়ী স্ত্রী প্রাণীদের মধ্যে বছরে একবার কিম্বা দু’বার যৌন মিলনের জন্য একটা সহজ তাগিদ জাগে। তখন তাদের দেহে একটা অস্থিরতা দেখা দেয়, অস্বাভাবিক উত্তাপ অনুভূত হয়, আহারাদিতে রুচি থাকে না। সেই সঙ্গে যোনিমুখও গ্রন্থিরসে অত্যন্ত সিক্ত ও সামান্য স্ফীত হয়ে ওঠে। সারা দেহ থেকে একতা জোরলো কাম গন্ধ ছড়ায়। পুরুষ প্রাণীদের ক্ষেত্রেও এমন অবস্থার উদ্ভব হতে দেখা যায়। তবে তৃণভোজীদের অপেক্ষা মাংসাশী পুরুষ প্রাণিদের মধ্যে সাময়িক কামজোয়ার বেশি পরিমাণে পরিস্ফুট হয়ে থাকে। স্ত্রী ও পুরুষ প্রাণীদের কামলিপ্সার প্রাবল্য চরম হয়ে উঠে। বৈজ্ঞানিকেরা এই অদম্য লিপ্সার নাম দিয়েছেন ইস্টারাস, রাট বা অরডোর (aestrus, rut or ordour)। সাধারণত শরৎ , প্রথম হেমন্ত বা বসন্তকালে ইস্টারাস বা আসঙ্গ লিপ্সা উচ্চ প্রাণীদের মধ্যে ফুটে ওঠে, তখন বেশীর ভাগ প্রাণীজগৎ একদিকে বারম্বার কয়েক দিন ধরে যৌনলীলায় যেমন মেতে ওঠে অন্যদিকে তেমনি নবজীবন দানের সূচনা করে। মানুষ ও বনমানুষ জাতীয় প্রাণী ছাড়া বাকী সব জাতীয় স্তন্যপায়ী প্রাণীই এক বা একাধিক বার পুংপ্রাণীর সংসর্গে গর্ভধারণ করে থাকে।

আমাদের দেশে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় যে ফল পাওয়া গেছে তাতে দেখা যায়, বেশ কিছু সংখ্যক নারী ঋতু সমাগমের ঠিক পূর্ব মুহূর্তে ও ঋতু বন্ধের ঠিক পর মুহূর্তে দুটি কামজোয়ার অনুভব করে। আবার আর একদল নারী ঋতু সমাগমের পূর্বে একটি ও তের-চৌদ্দ দিনের মাথায় আর একটি কাম জোয়ারের আগমন টের পায়। তৃতীয় ও শ্রেণীর আর এক দল নারি ঋতু বন্ধের দু-এক দিন পরে একবার ও তের-চৌদ্দ দিন পরে আর একবার কামজোয়ারের আবির্ভাব বুঝতে পারে। এ জোয়ার আগমনের তারতম্য বোঝাতে বিজ্ঞানীরা বলেছেন, ঋতুর ঠিক পূর্বের বা পরের জোয়ারটি হয় বেশী নিবিড়, তীব্র ও অসংবরণীয়। পূর্ব জোয়ারটির আগমনে বহু নারী তাই আবেগ চঞ্চল হয়ে ওঠে, মানসিক বিভ্রান্তি বোধ করে। পূর্বের বা পরের কামজোয়ারটির স্থায়িত্ব কাল মোটামুটি দু’দিন। অন্যগুলির আয়ু মাত্র এক দিনের মতো। অতি কামশীলা নারীদের জোয়ার স্থিতিকাল বড় জোর পাঁচ-ছ দিন।

কিন্তু শীতপ্রধান দেশের নারীদের কামজোয়ার আবির্ভাবের যে রিপোর্ট পাওয়া যায়, তাতে আমাদের দেশের নারীদের কামজোয়ার আগমনের রিপোর্টের সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না। ওদেশে সাধারণ সুস্থ,সবল, কায়িক পরিশ্রমী শ্রেণীর নারীরা প্রতি চৌদ্দ দিন অন্তর একটা কামজোয়ারের আগমন অনুভব করে। ডাঃ মেরি সি. স্টোপস তাঁর Married Love গ্রন্থে তাঁদের দেশের নারীদের কামজোয়ার আবির্ভাবের বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেছেন, উপরোক্ত শ্রেণীর নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত কামনা জাগে ঋতু আরম্ভের দু-এক দিন পূর্বে ও ঋতু আরম্ভের তের বা চৌদ্দ দিনে। একটি কামজোয়ারের স্থায়ীত্বকাল হয় বড় জোর তিনদিন, অন্যটি চারদিন। যৌন বিজ্ঞানী হ্যাভলক এলিস তাঁর যে বিরাট প্রামাণিক গ্রন্থে এ সম্বন্ধে গবেষণালদ্ধ রিপোর্ট পেশ করেছেন, তাতেও জানা যায় যে, পাশ্চাত্য নারীদের স্বয়মাগত কামজোয়ারের আবির্ভাব ঘটে ঋতুস্রাবের ঠিক পূর্বের দু’তিন দিনে, অনেকের ঋতুস্রাব সময়ে ও ঋতুবন্ধের ঠিক পরের দু’তিন দিন। ও দেশের মেয়েদের কামজোয়ারের বেগ ও স্থায়িত্বকাল সম্বন্ধে ওরা বলেন, এদের প্রথম কামজোয়ারটি অর্থাৎ ঋতুর পূর্ব মুহূর্তেরটি হয় বেশী শক্তিশালী । আবার কেউ বলেন, ঋতুবন্ধের অব্যবহিত পরেরটি হয় অধিকতর নিবিড় ও চাঞ্চল্যকর।(F.H.A Marshall –Physiology of Reproduction)  । এদের স্থিতিকাল তিন-চার ঘন্টা থেকে তিন-চার দিন পর্যন্ত বলা হয়েছে। অতএব দেখা যাচ্ছে; কিছুটা ফারাক থাকলেও এদেশের মেয়েদের সঙ্গে আমাদের দেশের মেয়েদের কামজোয়ার আবির্ভাবের নিয়মে মোটামুটি একটা সামঞ্জস্য আছে। তবে স্থিতিকালের বেলা এ দেশেই কি বা ওদেশেই কি, কারুর স্বীকৃতির সঙ্গে মিল নেই। এরা বিভিন্নজনে বিভিন্ন ধরনের উক্তি করেছে বা করে। কেউ বলে কয়েক সেকেন্ড, কয়েক মিনিট, কিছুক্ষণ, কয়েক ঘন্টা আবার কেউ বলে, একদিন কি দুদিন কি তারও বেশি। আবার আরও অনেকে বলে বেশ কিছুদিন পর্যন্ত তা থাকত। কতদিন পর্যন্ত থাকত তাঁর সঠিক হিসাব দেওয়া যায় না—ইত্যাদি ইত্যাদি।

যারা শেষের সঠিক হিসাব দিয়েছিল তারা একথাও বলেছিল যে, যতক্ষণ না তাঁদের বাসনার তৃপ্তি হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তারা এটির অস্তিত্ব টের পেয়েছে এবং এই ধরনের উত্তরদাত্রী বেশীর ভাগই কুমারী। তাঁদের উত্তরের ভাবে একথা স্পষ্টই বোঝা যায়, তারা অবৈধ পন্থায় অদম্য কামজ্বালা নিবৃত্ত করতে বাধ্য হয়েছিল। আর যে সব বিবাহিতারা ঐ উত্তরটি দিয়েছিল তারাও স্বামী সংসর্গে বা তাদের অনুপস্থিতিতে কুমারীকন্যাদের পন্থা অনুসরণ করতে বাধ্য হয়েছিল। এই বিশেষ ক্ষণটির কামজোয়ারের  আধিপত্য এত বেশি প্রবল হলে মানুষ দিশাহারা হয়ে পড়ে, তাদের সংযমের বাঁধ ভেঙ্গে পড়ে। এ দেশীয় শাস্ত্রকারেরা এই মাহেন্দ্র ক্ষণটির নাম দিয়েছেন ‘কামচূড়া’ অর্থাৎ কামের আসন তখন ওঠে চরম শিখরে। আর সেই কালতি যদি হয় পূর্ণিমা কি অমাবস্যা তবে তো কথাই নেই। অসহনীয়, দুর্বার হয়ে ওঠে তখন নারীর আসঙ্গ লিপ্সা। তাদের পক্ষে এটি তখন সংযমরক্ষার যেন অগ্নিপরীক্ষা । তখন অতি বড় সতী-সাধ্বীর পক্ষেও নিজেকে সামলে রাখা শুধু দুঃসাধ্য নয়, অসাধ্যও হয়ে ওঠে। এই কালটিতে স্বামীকে চায় সব সময় কাছে পেতে, তাঁর আদর-সোহাগ বেশি করে পেতে। স্বামীর অনুপস্থিতি তো বটেই, তাঁর অবহেলা বা উদাসীনতা তাঁর কাছে তখন অসহ্য। বোধ হয়, সেই কারণেই প্রোষিতভর্তিকা স্ত্রীরা হয়ে ওঠে বেশি চঞ্চল। স্বামী বিরহে তনু-মন বিকল হয় তো বটেই, পদস্খলন অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠাও বিচিত্র হয় না।

এই প্রসঙ্গে একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করি। এটি কেস হিস্টি নয়—সত্য ঘটনা।  নারু ওরফে নারায়ণ সামন্ত কলকাতার কোন এক মাড়োয়ারী গদিতে চাকুরী করত। মাইনে ছাড়া উপরি আয় ছিল। দেশের বাড়িতে যে পৈত্রিক সম্পত্তিটুকু ছিল তা ভোগ-দখল ও রক্ষাণাবেক্ষণের ভার বিধবা-মা আর সদ্য বিয়ে করা বৌ-এর ঘাড়ে চাপিয়ে নিশ্চিন্তে পাইস হোটেলে দুবেলা সুলভ মূল্যে আহার সেরে কলকাতার বাবুর বাড়ির গদির এক কোণে পড়ে থাকত। বাপ-ঠাকুরদা তাদের অভাবের বানে ভাসিয়ে দিয়ে দিব্যি ইহজগতের পাট চুকিয়ে দেহরক্ষা করেছিল। নারু বহু কষ্টে মূল্যবান চাকুরিটি যোগাড় করে এবং রোজগারের প্রতিটি পয়সাকাএ গায়ের রক্ত মনে করে মা-বৌ এর কথা ভুলে কলকাতায় মুখ গুঁজে পড়ে থাকত। পয়সার মায়া তাঁকে এমনি বাঁধনে বেঁধে ছিল যে ছুটি ছাটা তো দূরের কথা বৎসরান্তে একবার ঘরে ফেরার তাগিদও বোধ করত না। নেহাৎ না গেলে চলে না, এমনবস্থায় দু-চার দিনের জন্যে দেশে ফিরত। কিন্তু পয়সার মোহ তাঁকে এমনি পেয়ে বসেছিল যে, দু-চার দিন থাকতে না থাকতেই তাঁর মন পালাই পালাই করত। নারুর বৌ নয়নতারা ঐ কদিনই স্বামীকে নাগালের মধ্যে পেয়ে প্রণয় পাশে আষ্টেপৃষ্টে বেঁধে রাখতে চাইত। আদায় করে নিতে চাইত স্বামীর আদর সোহাগ; মেটাতে চাইত দীর্ঘ দিনের অতৃপ্ত কামতৃষ্ণা। নয়নতারা সে তৃষ্ণা হত মরুতৃষ্ণার মতো, বেরসিক অর্থগৃধু স্বামীটি তৃষ্ণার্তকে বঞ্চিত রেখেই পয়সা রোজগারের পেছনে ছুতট কলকাতা। বিয়ের পরের বছর নারুর দেশে ফেরাই আর হয়ে উঠল না।বিরহিনী নয়নতারার অবস্থাও কাহিল হয়ে উঠল। স এওনুভব করত অমাবস্যা কি পূর্ণিমা তিথিগুলো এলেই তাঁর দেহে যেন কিসের একটা দুর্বার তাগিদ জাগে, দুরারোধ্য এক লিপ্সা তাঁকে চঞ্চল করে তোলে; কস্তরীমৃগের মতো পাগল করে তোলে তাঁকে বেশ ক’দিন ধরে। সংযমের বাঁধ যেদিন ভেঙ্গে গেল নয়নতারার, সেদিন তাঁর পদস্খলন ঘটল।

মোহনলাল ছিল নারুর বাল্যসঙ্গী। তবে নারুর স্বভাবের ঠিক উল্টো। নারু শান্তশিষ্ট, মোহনলাল তেমনি চঞ্চল আর হৈ হৈ প্রিয়।নারুর সমবয়সী  হলেও মোহনলালের বিয়ে হয়নি, বাপ-মা নাকি ছেলের বাজার দর তুলছিল। মোহন নয়নতারাকে বৌদি আর নয়নতারা সেই সুবাদে মোহনকে ঠাকুরপো বলে দাকত। নারুর বর্তমানে মোহনের যাতায়াত ছিল বেশি, অবর্তমানে কম, কিন্তু নারুর বিয়ের পর যাতায়াতটা বেশীই হয়ে গেল, আর মনে হলো নারু সেদিন থেকে তাঁর প্রিয়তম বিশ্বাসী বন্ধুটির ওপর তাঁর অবর্তমানে গৃহের সমস্ত কর্তৃত্ব চাপিয়ে দিয়ে গেল। ফলে রক্ষক মোহনলাল কাজে অকাজে নারুর বাড়িতে আসে-যায়, নারুর মা-বৌ-এর সঙ্গে গল্পগুজব করে, এটা ওটা খায়, খাওয়ায়, তদারক করে আর বিধবা বুড়িটার অনুপস্থিতিতে নয়নতারার সঙ্গে হাসি-মস্করাও করতে ছাড়ে না। নারুর অনুপস্থিতি তদের ঘনিষ্ঠতাকে আরও বেশি প্রশ্রয় দিয়েছিল।

সেবার দোলের তিনদিন আগে নয়নতারা ঋতুদর্শন করল। দোলের আগের দিন তাঁর দেহে কামজোয়ারের আগমন ঘটল। তীব্রতা বেড়ে উঠল ঠিক দোলের দিন। মোহনলাল সকালে এল নয়নতারার সঙ্গে দোল খেলতে। নয়নতারা রাতের নেমতন্ন করল—ফাগ খেলার আর খাওয়া-দাওয়ার। মোহনলাল জানিয়ে গেল রাত করে আসবে। যথাসময়েই সে এল। নারুর মা বসে থেকে ক্লান্ত হয়ে শুয়ে পড়েছিল। মোহনের আগমন টের পেল না। ফাগ মাখাবার সময় নয়নতারা আগে খাওয়া-দাওয়া সেরে নিতে বললো। খাওয়া সারা হলে নয়নতারা ঘরের মধ্যে নিয়ে গেল ফাগ খেলতে। ফাগ না দেওয়ার কপট অনিচ্ছা প্রকাশ করল। মোহনলাল জোরজবরদস্তি করতে সব গোলমাল হয়ে গেল। স্বামি বিরহিণী, কামতৃষ্ণা, বিভ্রান্ত বধূটি মোহনকে বাহুপাশের নিবিড়ালিঙ্গনে আবদ্ধ করে দেহক্ষুধা নিবৃত্তির আমন্ত্রণ জানাল। সেই প্রথম আর শেষ রজনী নয়; মোহন কামজোয়ারে পরিপ্লাবিতা যৌবনাঢ্যা নারীর ভোগলিপ্সা চরিতার্থ করতে ক’দিনই অধিক রাতে পাঁচিল টপকে এ বাড়িতে এসেছে। ভোগাতুরা নারী জোয়ারবন্যা রোধ করতে না পেরে উদ্দেশ্যহীনভাবে ভেসে গেছে। আর অচিরেই তাঁর কলঙ্কের কথা প্রকাশ পেয়েছে। গর্ভাবস্থার কথা গোপন রাখা যায় নি। হতভাগিনী পাপের বোঝা গর্ভে নিয়ে চিরদিনের জন্য বহিস্কৃত হয়েছে স্বামীগৃহ থেকে। সে বা তাঁর সেই নিরাপরাধ সন্তানটি এখনও ইহলোকের শ্বাস গ্রহণ করছে কি না সে খবর আর কেউ রাখে না।

এ তো গেল নারীর কামজোয়ার আবির্ভাবের কথা কিন্তু পুরুষের দেহেও যে কাম জোয়ার এসে হানা দেয় সে কথা অনেকেরই জানা নেই। অথচ সে জোয়ার আসে। আশ্চর্যের কথা, পুরুষের দেহে কামজোয়ার আগমনের ব্যাখ্যা কেউ কোথাও করেননি বা ইচ্ছে করেই যেন তা এড়িয়ে গেছেন। না বলেছেন মহামতি বাৎস্যায়ন, না কল্যাণমল্ল, না কোকা পন্ডিত, না হ্যাভলস এলিস। ডাঃ ভিলহেলম ফ্লীজ, হারমান স্ফোরেড ইত্যাদি যে দু’চারজন গবেষক এ বিষয়ে আলোকপাত করতে চেয়েছিলেন, এলিস সাহেবের তাতে নাকি পূর্ণ স্থা নেই। না থাক, যাঁরা বোঝাতে চেয়েছেন তাদের বক্তব্যকেও অগ্রাস্য করা সমীচীন হবে বলে মনে হয় না। চান্দ্রমাসের কথা ধরতে গেলে (ঠিক কোন কোন তিথিতে তা অবশ্য বলা শক্ত) অনেকেই অমাবস্যা বা পূর্ণিমা তিথিতে বেশ মনোযোগ ও গভীর গবেষণাপূর্ণ মন নিয়ে বুঝতে চেষ্টা করলে দেহে নিশ্চয় একটা পরিবর্তন অনুভব করতে পারবেন মপ্নে হয়। বিশেষত পূর্ণিমার জ্যোৎস্নালোকে পুরুষদেহের ওপর যে বাহ্যিক প্রভাব পরে তাতে পুরুষ সামান্য ভাবেও চঞ্চল না হয়ে পারে না। হতে পারে নারীর তুলনায় এই জোয়ার বেগ ও লিপ্সা – চাঞ্চল্য কম, তাহলেও তাঁর আগমন ঘটেই। তিথি হিসাব করে বোঝাতে গেলে বলতে হয়, দেহ-মনে-সুস্থ বিশ থেকে পঞ্চাশ বছরের পুরুষেরা প্রতি দিন সাতদিন অন্তর বা সাড়ে-সাতটি তিথির মাথায় একটি ছোট বড় কামজোয়ার অনুভব করে। সব চেয়ে প্রবল কামজোয়ারটি আসে পূর্ণিমার সময়। সেটি হয় যেমন তীব্র, তেমনি দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী। শুল্কাচতুর্দশী ও পূর্ণিমা – এই তিথি দুটিতে পুরুষের কামজোয়ারের স্থায়িত্বকাল। কৃষ্ণা চতুর্দশী ও অমাবস্যার কালটিতে আর একটি অপেক্ষাকৃত কম তীব্র জোয়ার দেখা দেয়। দু’তিন ঘন্টার  মতো স্থায়ী হয় যে কামজোয়ারটি সেটি আসে শুল্কা কৃষ্ণাসপ্তামী বা অষ্টমীর কাছাকাছি সময়ে। যে সব পুরুষেরা সাআ সপ্তাহ প্রবাসে কাটিয়ে শনি-বরিবারে বাড়ি যান সেই শনি বা রবিবার যদি পূর্ণিমা কি অমাবস্যা হয় তাহলে নিশ্চয় তারা লক্ষ্য করে থাকবেন, এই বিশেষ দিন দুটিতে তাদের ভোগলিপ্সা কতখানি চঞ্চল করে তোলে এবং পত্মীসহবাসের জন্য ব্যাকুল হয়ে ওঠেন কি না? ঐ বিশেষ দিন দুটি পুরুষদেহে কামজোয়ারের আবির্ভাব ঘটে। এ কথা  নিশ্চয় অনেকের জানা আছে যে, পুরুষের বীর্য একটা নির্দিষ্ট পরিমাণ পর্যন্ত জম্মায় ও জমা হয়। মাত্রা বেশী হয়ে গেলে বীর্যাধার ফুলে ওঠে, বের হয়ে আসবার তাগিদ বোধ করে। দেখা যায়, অবিবাহিত পুরুষদের পূর্ণিমা বা অমাবস্যার কাছাকাছি সময়েই তাদের নোইশস্খলন হয়। শুধু অবিবাহিত নয়, প্রবাসী পুরুষদের বেলাতেও এমন কান্ড ঘটে।  তবে শহরবাসী পুরুষদের চেয়ে পাড়াগাঁর পুরুষেরা কামজোয়ার আবির্ভাবকে স্পষ্ট অনুভব করতে পারে এবং তা নিয়মিত ভাবে।

সাগর নদীতে যেমন আসে জোয়া, তেমন আসে ভাঁটা। নর-নারীর  কাম নদীতেও তেমনভাবে আসে জোয়ার, উচ্ছাসের পরেই ভাঁতার টান।

আগেই বলা হয়েছে যে, বেশীর ভাগ নারীরই প্রবল কামজোয়ার আসে ঋতুস্রাব  আগমনের কিছু আগে মুহূর্তে। প্রতি চান্দ্রমাসে পূর্বোল্লিখিত কটি তিথি বা দিন ছাড়া অন্যান্য সময়ে নারীরা পুরুষ সংস্বর্গের জন্যে লালায়িত হয় না; বিশেষ করে ঋতুস্রাবের পর সতেরো –আঠারো থেকে ছাব্বিশ-সাতাশ দিন বা তিথির  মধ্যে। এই যে বিরতি কাল, এটি তাদের কাম নদীর ভাঁটার সময়। এ সময় কোন নারী বা স্ত্রীর সঙ্গে যৌন সঙ্গম করলে নারীর সুখানুভব তখন খুব গভীর হয় না। তাছাড়া তাঁর গর্ভোৎপত্তির সম্ভাবনা একেবারেই থাকে না বা খুব কম থাকে। সেজন্যে এই সময়টিতে রতিসঙ্গম করলে নারী হয় রতিতৃপ্তিহীন। প্রত্যেক নর-নারীই সজাগ দৃষ্টি দিলেই দেখতে পাবেন যে, পুরুষের আর নারীর কাম জোয়ার সমসাময়িক বা ঠিক একই মুহূর্তে আসে না, হয়তো বা যখন আসে তারা পরস্পরকে কাছে পায় না।  অতএব চান্দ্রমাসিক তিথির আওতাতে পড়েছে এমন ক্ষণে অর্থাৎ উভয়ের কামজোয়ার আগমনের মাহেন্দ্রক্ষণে মিলিত হলে পুরুষ ও নারী তাদের চরমতৃপ্তি লাভ করবে এ কথা নিশ্চিত। আর যে সময়টা নারীর কাম-ভাঁটার সময় বা বিরতিকাল সে সময় নারী সহবাস করলে   গর্ভোৎপাদনের আশঙ্কা থাকে না অর্থাৎ সহজ পন্থায় জম্মশাসনের উদ্দেশ্য সিদ্ধ হওয়া সম্ভব। তবে এ ক্ষেত্রে নারীকে যে অতৃপ্ত রাখা হয় সে কথা পূর্বেই উল্লেখ করেছি।

ভাঁটার সময় নারী রতিকর্মে অতৃপ্ত থাকে বটে কিন্তু মিলনের পূর্বে শৃঙ্গার করার যে রীতি আছে সেটি অবলম্বন করে শৃঙ্গারকলাকে যদি বাড়িয়ে নেওয়া যায় তাহলে ঐ সময়টিতে যে কোন নারীরই সুপ্ত কামচেতনা যান্ত্রিক ভাবে জাগিয়ে তুলতে পারা যায়। না হলে তাদের জাগানো তো সম্ভব হয়ই না, তাদের পরিতৃপ্ত করাও যায় না।

এই আলোচনা সমাপ্তির আগে প্রত্যেকটি নর-নারীকেই বিশেষ করে পুরুষ জাতিকেই একটি কথা বলতে চাই যে, কামজোয়ার আগমনের সময় আসঙ্গলিপ্সু প্রত্যেক নর-নারীই দিশাহারা হয়ে পড়ে, তখন তারা উপযুক্ত সঙ্গী বা সঙ্গিনী না পেলে শুধু পদস্খলনই ঘটায় না, নিজদের আরও অনেক সর্বনাশকেই আমন্ত্রণ জানায়। সর্বনাশ দেখা দেয় তাদের দেহ-মনে, তাদের স্বভাবে চরিত্রে। বিশেষতঃ নারী ভুগতে শুরু করে হৃৎপিন্ড, নাড়ি, জরায়ু ও ঋতুস্রাব ঘটিত নানারকম ব্যাধিতে; সংসার জীবনে আসে বিশৃঙ্খলা; স্বভাবে হয় চোর, মিথ্যাবাদী, খুনী, রাজদ্রোহী, বিবিধ অপকর্মের অপরাধী ও অভদ্র ইতর। দারিদ্র্য, অভাব-অনটনকেই সব সময় এই সব দুষ্কর্মের জন্যে দায়ী করা চলে না, ওপরে ব্যক্ত কারণগুলিও সেই সঙ্গে আছে।

তাই বুদ্ধিমান পুরুষ যদি স্ত্রীর ঋতস্রাব কালের প্রতি লক্ষ্য রেখে, কাম-জোয়ার আগমনের ক্ষণটি স্মরণে রেখে, কামচূড়ের দিন বা কামজোয়ারের মধ্যবর্তী একটি বা দুটি রাত্রিতে অন্ততঃ দুবার পত্মীকে কামনাতৃপ্ত করে তাহলে নিজেদের ও সাংসারিক জীবনে কোন বিশৃঙ্খলা আর ঘটেনা, সুখ আর শান্তি দুটোই বজায় থাকে।

আপনি পড়ছেনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড থেকে>>নর-নারীর কামজোয়ার

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাঃ আমাদের সাইটের পোস্ট পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো তাহলে শেয়ার করুণ। এবং আপনার বন্ধুদের কে আমন্ত্রণ জানান আমাদের সাইটে যোগ দেওয়ার জন্য।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

প্রেমের কথা

কলারূপে প্রেম- প্রেমের আবশ্যকতা ও প্রীতি-স্থাপনের উপায়

‘কলারূপে প্রেমের কথা শুনে অনেকে হয়তো চমকিয়ে উঠেছেন। যে #প্রেম নিছক মানসিক ব্যাপার মাত্র, তাঁকে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE