Home / নারী / মা ও শিশু / গর্ভাধান

গর্ভাধান

গর্ভবতী মেয়েদের ছবিসঙ্গমে সূক্ষ্মভাবের সার্থকতা যাই থাক, স্থুল  দিক দিয়ে ফল ফলে যায় গর্ভাধানে। পুরুষের শুক্র কোনোক্রমে নারীর যোনিতে গিয়ে পড়লেই তাঁর থেকে নারীর গর্ভে সন্তান উৎপাদন হবে, প্রকৃতির এই বিধান। দৈবাৎ একরূপ আণবিক যোগাযোগের দ্বারাই এটি ঘটে, কিন্তু কবে কখন যে এই অদ্ভুত রকমের  যোগাযোগ হয়ে পড়বে সে কথা কিছু বলা যায় না। এমনও হতে পারে যে সহস্র বারের মধ্যেও সেটি হলো না।

 পূর্বে বলা হয়েছে, এক একবারের সঙ্গমে পঁচিশ কোটি শুক্রকীট যোনিমধ্যে ছাড়া পেয়ে যায়। ঐ পঁচিশ কোটির প্রত্যেকটি কীট কোনো প্রবল আকর্ষণে স্ত্রী জরায়ুর দিকে ডিম্বকোষের উদ্দেশ্য যাত্রা শুরু করে। এদের গতি প্রতি মিনিটে ১/১০ ইঞ্চি, কিন্তু যাত্রাপথে বাঁধা পায় যথেষ্ট। অধিকাংশই হয়তো জরায়ুর মধ্যে প্রবেশেই করতে পারে না। কিছু সময়ের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পরে তাদের জীবন লীলা শেষ হয়। কিন্তু তবু অবশিষ্ট শুক্রকীট দফায় দফায় যোনি থেকে জরায়ুর মধ্যে প্রবেশ করতে থাকে। তাঁর মধ্যে কতকগুলি জরায়ু গহ্বর অতিক্রম করে ডিম্ববাহী নলের রাস্তা ধরে আরো ভিতরের দিকে অভিযান করতে থাকে। সেখানে কোথায় অবস্থান করে আছে একটি মাত্র ডিম্বকোষ, কয়েকটি শুক্রকীট হয়তো দৈবাৎ একত্রেই সেখানে পৌঁছে যায়। তখন যে বিশিষ্ট শুক্রকীট সকলের চেয়ে অগ্রগামী হয়ে আছে সেই তাঁর মাথা দিয়ে ডিম্বকোষটির আবর ভেদ করে ওর অভ্যন্তরে ঢুকে যায়। একবার একটি শুক্রকীট ঐ কোষের মধ্যে ঢুকে পড়লে তারপরে দ্বিতীয় কোনো কীট আর সেখানে ঢুকতে পারে না। তবে দুটি শুক্রকীট একত্রে একটি ডিম্বকোষের ঢুকতে পারে, কিংবা দুটি শুক্রকীট দুই দিকের স্বতন্ত্র ডিম্বকোষে এক সময়ে ঢুকতে পারে। এর থেকেই যমজের সৃষ্টি হয়।

ডিম্বকোষ আর শুক্রকীট, যখন দুইয়ে মিলে এক হয়ে গেছে,তখন সেটি একটি ভ্রূণ। এর মধ্যে কোষ থেকে কোষের সৃষ্টি খুব দ্রুতবেগে অগ্রসর হয়ে চলেছে। এক থেকে দুই, দুই থেকে চার, চার থেকে আট, এমনি ভাবে নিমেষে নিমেষে কোষের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে। সেই কারণে দিনে দিনে ডিম্বের আয়তন উত্তরোত্তর বেড়ে যেতে থাকে। শুক্রকীট কিংবা ডিম্ভকোষের চেহারা অমিলিত অবস্থাতে চর্মচক্ষে যেখানে মোটেই দেখা সম্ভব ছিল না, সেখানে মিলিত অবস্থার ভ্রূণটি তিন দিনের মধ্যেই এমন বড় হয়ে ওঠে যে তখন চর্মচক্ষেই তাঁকে স্পষ্ট দেখা যায়। সাতদিনের মধ্যে সেটি লম্বা হয়ে যায় প্রায় সিকি ইঞ্চির মতো। এক মাসের মধ্যেই তাঁর মাথায় আলাদা গঠন হয়ে যায়। তাঁর পিঠে একটি শিরদাঁড়াও দেখা যায়, হাত পায়ের্ও বোঝবার মতো আকৃতি হয়ে পড়ে। একটা মাসেই সে প্রায় আধ ইঞ্চি লম্বা হয়ে গেছে। দুই মাসে তাঁর আকার দাঁড়িয়ে গেছে দেড় ইঞ্চি।

ইতিমধ্যে মায়ের রক্তের সঙ্গে তাঁর নিত্য আদান-প্রদানের জন্য জরায়ুর ভিতর একটি স্বতন্ত্র গর্ভফুলের সৃষ্টি হয়েছে। গোল চাকার মতো এক পিঠ থাকে জরায়ুর ঝিল্লীগাত্রের সঙ্গে আটা, আর অন্য পিঠ থাকে অনেক রক্তশিরার সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম গুচ্ছ। সেই গুলি থেকে একগুচ্ছ রক্তশিরা বা নাড়ি ভ্রূণের পেটের নাভি পর্যন্ত চলে যায়। তাঁর দ্বারাই ভ্রূণদেহের মধ্যে মায়ের রক্তের আদান-প্রদান চলতে থাকে। এই নাড়ির রক্তের ভিতর দিয়ে ভ্রূণটি খাদ্য এবং অক্সিজেন, একত্রে দুই জিনিসই পেতে থাকে। সুতরাং তাঁর স্বতন্ত্রভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস নেবার কোনোই দরকার হয় না। এই দুইটি জিনিসের মধ্যে যখন যেটুকু ভ্রূণের পুষ্টির কারণে দরকার হয় সেটুকু সংগ্রহ করে নেয়, একবারও তাঁর কোনো ব্যতিক্রম হয় না। মা অনেক পরিমাণে খাদ্য খেলেই যে ভ্রূণ তাঁর থেকে অনেকখানি বেশি জিনিস পেয়ে প্রকান্ড বড় হয়ে উঠবে , আর মা কম ওজনে খেলেই যে ভ্রূণ আকারে খুব ছোট হবে, এমন কোনো কথা নেই। তাঁর যতটা পর্যন্ত বাড়বাড় কথা ততটা সে বাড়বেই। এদিকে গর্ভফুল আর ভ্রূণকে অন্তরাল করে ক্রমে ক্রমে একটি পাতলা আবরণও রচিত হয়, সেই আবরণের মধ্যে জল এসে জমে। ভ্রূণ ভাসতে থাকে সেই জলের আবেষ্টনের মধ্যে।

 তৃতীয় মাসের শেষে ভ্রূণটি আরো অনেক বড় হয়ে গেছে। তখন সে প্রায় চার ইঞ্চি লম্বা হয়েছে। কিন্তু সন্তানটি ছেলে না মেয়ে ? তাও তখন বেশ বোঝা যাচ্ছে। তিন মাস অর্থাৎ বারো সপ্তাহের আগে গর্ভে বাড়ন্ত সন্তানটি ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা জানতে পারবার কোনো উপায় নেই। অনেকের তাই ধারণা যে তিন মাস পর্যন্ত সন্তানের কোনো লিঙ্গ নির্ধারণই ঘটে না, সেটা শুরু হয়ে থাকে তাঁর পরে। সুতরাং হয়তো ঐ তিন মাসের শেষাশেষি সময়ের মধ্যে এমন কোনো প্রক্রিয়া করা চলতে পারে, যাতে ইচ্ছা অনুযায়ী সন্তানটিকে ছেলেতে কিংবা মেয়েতে পরিণত করবার কৌশল থাকতে পারে। কিন্তু এ সকল ধারণা একেবারেই ভুল। ছেলে হবে না মেয়ে হবে তা বীজ সংযোগের প্রথম মুহূর্তে থেকেই স্থির হয়ে যায়। আসলে শুক্রকীটদের মধ্যেই নর-নারীর তফাৎ আছে। অর্থাৎ ওদের মধ্যে কতকগুলি থাকে নর-ধরনের শুক্রকীট, আর কতকগুলি নারী-ধরনের শুক্রকীট। সুতরাং এখন আর কোনো কথাই বুঝতে বাকি রইল না। কোন নরজাতীয় শুক্রকীট আগে এসে যদি ডিম্বকোষকে অধিকার করে, তাহলে শেষ পর্যন্ত সন্তানটি হবে ছেলে। আর নারীজাতীয় শুক্রকীট যদি ঢুকে যায় তবে সন্তানটি হবে মেয়ে। কেবল শুক্রকীটেরই মধ্যে নরনারী বৈচিত্র্যের দ্বারা এই ছেলে মেয়ের ভেদটা গোড়া থেকে নির্দিষ্ট হয়ে থাকে। আমরা যাকে এখানে নর-নারীর তফাৎ বলছি,সেটা কিন্তু আসলে ক্রোমোসোম নামক ভিতরকার একরকম জৈব পদার্থের প্রভেদ। এই ক্রোমোসোম বলতে দুই জাতের স্বতন্ত্র জিনিস বোঝায়। মনে করা যাক তাঁর নাম ক কিংবা খ। নারীর ডিম্বকোষের মধ্যে কেবল ক্রোমোসমই থাকে। শুক্রকীটের মধ্যে ক কিংবা খ দুইই থাকতে পারে। যদি ক-যুক্ত শুক্রকীট ডিম্বকোষে ঢোকে তাহলে ওর ক এবং ক মিলে সন্তানটি হবে মেয়ে। আর তা না হয়ে যদি ওর ক এবং খ মেলে, তবে সন্তান হবে ছেলে।

যাই হোক, পাঁচ মাসে গর্ভের সন্তানটি আরো বড় হয়ে উঠেছে। সে তখন প্রায় দশ ইঞ্চি লম্বা। তাঁর আকার প্রকারও হয়েছে অনেকটা মানুষের মতো। সে তখন রীতিমতো পেটের ভিতর নড়াচরা করতে শুরু করেছে। নয় মাসের মধ্যেই সে ভ্রূণ থেকে সম্পূর্ণ একটি মানবশিশু হয়ে দাঁড়াবে। তখন তাঁর মাপ দেড় ফুট থেকে দুই ফুট।

ইতিমধ্যে গর্ভবর্তী নারীটির দেহে কি কি  পরিবর্তন ঘটতে তাই দেখা যাক। নারী গর্ভবর্তী হলে প্রথমে তাঁর মুখে চোখেই কিছু কিছু অভ্রান্ত লক্ষণ দেখতে পাওয়া  ঋতুস্রাব বন্ধ হয়ে যেতে পারে। আবার গর্ভে সন্তান রয়েছে অথচ তা সত্বেও একটু আধটু ঋতুস্রাব দেখা দিচ্ছে, এমনও কখনো কখনো হয়ে থাকে।সুতরাং কেবল ঋতু বন্ধ হওয়া দেখেই নিশ্চিন্ত করে কিছু বলা চলে না। তাঁর সঙ্গে আরো কিছু কিছু লক্ষণ থাকা চাই। সেই সকল লক্ষণও মেয়েরা প্রথম মাস থেকেই টের পায়। তাদের শরীরের স্ফূর্তি কমে যায়, অস্বাভাবিক একটা আলস্যের ভাব আসে, খাবার রুচি বিগড়ে যায়, মুখে কোনো কিছুই ভালো লাগে না। আর তারা নানা দিক দিয়ে শরীরের মধ্যে একটা অসুস্থতা বোধ করতে থাকে। সকালে উঠেই গা বমি করা তাঁর মধ্যে একটি প্রধান লক্ষণ।

কিন্তু যতক্ষণ  পর্যন্ত পেটের মধ্যে সন্তান না নড়ছে ততক্ষণ পর্যন্ত তেমন জোর করে কিছু বলা যায় না। চার মাসের পর থেকে পেটের ভিতর সন্তানের নড়া শুরু হয় এবং সেটা স্পষ্টই বোঝা যায়। ঐ সময় থেকে পেটের উপর কান দিয়ে অথবা যন্ত্র দিয়ে পরীক্ষা করলেই সন্তানের দ্রুতগতি হার্টের শব্দটিও স্পষ্ট শুনতে পাওয়া যায়। গর্ভস্থ সন্তানের হার্টের গতি মিনিটে প্রায় ১৪০ বার হয়ে থাকে, সুতরাং অত স্রুত শব্দ যে মায়ের হার্টের নয় তা অনায়াসেই বুঝতে পারা যায়।

গর্ভসঞ্চার হয়েছে জানতে পারলে তখন থেকেই হিসাবকরা চলতে থাকে যে কবে সন্তানটি প্রসব হবে। কিন্তু এ কথা জানা থাকলেও প্রসবের নির্দিষ্ট দিনটি নির্ধারিত করে বলা সম্ভব নয়। কারণ কোন দিনে যে শুক্রকীটের সঙ্গে ডিম্বকোষের সংযোগ ঘটলো সে কথা কেমন করে জানা যাবে? যদি একবার মাত্র সঙ্গমের ফলে গর্ভ হয়ে থাকে তবুও তা জানা যায় না, কারণ শুক্রকীটেরা নারীর জরায়ুর মধ্যে গিয়ে কয়েকদিন পর্যন্ত এমনিই বেচে থাকে, আর তাদের কোনোটির দ্বারা আসল গর্ভাধান সঙ্গমের তিন চার দিন পরে কিংবা তারও পরে ঘটতে পারে। সেই জন্য প্রসবের তারিখ সম্বন্ধে নিশ্চিত করে বলবার কোনো উপায় নেই। তবে কাছাকাছি আন্দাজ করবার একটা সহজ নিয়ম আছে। প্রথমে জেনে নিতে হয় যে শেষ ঋতুস্রাবটি ঠিক কোন তারিখে শুরু হয়েছিল। মেয়েরা নিজেদের আন্দাজ অনুযায়ী প্রায় সকলেই এ কথা বলতে পারে, কারন তাদের অনেকটা জানাই থাকে যে প্রত্যেক মাসের কোন তারিখে ঋতু দেখা দেবার কথা। যে মাসের ঐ তারিখে শেষ ঋতুটি দেখা দিয়েছিল, সেই মাসের থেকে ঠিক নয় মাসের পরের পঞ্জিকাতে ঐ তারিখটাই ধরে নাও। তাঁর উপরে আরো সাতটা দিন যোগ করে দাও। এই হিসাব মতো শেষ কালে যে তারিখ দাঁড়ালো, ঠিক সেই তারিখে না হলেও তারই খুব কাছাকাছি তারিখে প্রসব হবার সম্ভাবনা । ঐ তারিখের সাত দিন আগুপিছুর মধ্যে প্রসবের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

গর্ভ লক্ষণ কখনো কখনো কৃত্রিমও হতে পারে। তাতে কোনো কারণে উপর্যুপরি কয়েক মাস ঋতুও বন্ধ থাকে, অরুচি প্রভৃতি লক্ষণগুলিও এসে পড়ে, এবং এমন কি পেটের আয়তনও বাড়ছে মনে হয়। তারপর হয়তো দেখা যায় যে পেটে কোনো টিউমার জম্মাচ্ছে, কিংবা ভিতরে শুধুই খানিক চর্বি জমেছে। যাদের বয়স পেরিয়ে ঋতু যায়। তাঁর চোখের কলে কালি পড়ে, আর মুখের স্বাভাবিক রংটাও যায় বদলে। অনেকের মুখের উপর স্থানে ফ্যাকাশে রং-এর অল্পবিস্তর একটা ছোপ পড়ে। আরো একটি বিশিষ্ট লক্ষণ দেখা দেয় তাঁর স্তনে। স্তন দুটি বেশ স্ফীত হয়ে ওঠে, বোটা দুটি অনেকখানি ঠেলে বেরিয়ে এসে টাটিয়ে থাকে, আর বোটার চারি পাশের ফিকা বাদামী রঙের বৃত্তাকার চামড়াটুকুর রং বদলে গিয়ে সমস্তটা ঘড় কালো হয়ে ওঠে। স্তনের চামড়ার এই নতুন কালো রং দেখলে আর গর্ভ সম্বন্ধে কোন সন্দেহ থাকেনা। এ ছাড়াও তিন মাস পার হয়ে গেলে তখন যদি সেই স্তনে বোটাঁটি ধরে টেপা যায় তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেখান থেকে কয়েক ফোঁটা দুধও বেরিয়ে আসে। এটিও গর্ভসঞ্চারের এক নির্ভুল লক্ষণ।

সন্তানের আয়তন বাড়বার সঙ্গে মায়ের জরায়ুর আয়তনও বেড়ে যেতে থাকে, সুতরাং গর্ভবর্তীর তলপেট ক্রমশ উঁচু হয়ে উঠতে থাকে। তৃতীয় মাসের পর থেকে এটুকু বেশ নজরে পড়ে। নীচের পেটের স্ফীত তলার দিক থেকে ক্রমশ উপর দিকে ঠেলে উঠতে থাকে। বাড়ন্ত জরায়ুটি তখন পেটের ভিতরকার সমস্ত যন্ত্রগুলিকে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নিজের জায়গা করে নেয়। এই চাপের দরুণই অন্ত্রনালীর মধ্যে খাদ্য ও মলের গতিবিধি বাধাপ্রাপ্ত হতে থাকে। সেই জন্য গর্ভকালে প্রায়ই মেয়েদের কোষ্ঠবদ্ধতা দেখা দেয় আর হজম শক্তিও কমে যায়। অজীর্ণ অরুচি প্রভৃতি হয়ে থাকে কতকটা এই কারণেই। শুধু তাই নয়, বর্ধিত জরায়ুর চাপ ক্রমশ বুকের দিকেও ঠেলা মারে। তাঁর ফল অল্প পরিশ্রম করতে গেলেই গর্ভবর্তী নারী হাঁপাতে থাকে। এদিকে বড় বড় রক্তশিরাগুলির উপরেও যখন চাপ পড়তে থাকে, তখন রক্ত চলাচলেরও কিছু ব্যাঘাত ঘটে। তারই ফলে পা দুটি রসস্ত শোথের মতো প্রায় ফুলে উঠতে দেখা যায়। এ ফোলা যে সকল সময়েই নির্দোষ হয় না নয়,  কখনো দোষাক্তও হতে পারে। সেই জন্য গর্ভনীর পা ফোলা দেখলেই ডাক্তাররা মূত্র পরীক্ষা করে জানতে চান যে কিডনির মধ্যে কোনো দোষ ঘটছে কিনা।

গর্ভকালে যৌনস্থানের ভিতরে-বাইরেও অল্পবিস্তর পরিবর্তন ঘটে। যোনির উপরকার চামড়ার স্বাভাবিক রং অপেক্ষাকৃত কালো হয়ে যায়, এবং সময়ে সময়ে সেই কালো রং-এর ছোপ কুঁচকি পার হয়ে দুই পাশের জানুদেশে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। যোনির ভিতরকার মাংসাদি এবং তাঁর শেষপ্রান্তে ঝুলে থাকা জরায়ুকন্ঠের বোঁটাটি পর্যন্ত স্বাভাবিক মতো শক্ত থাকে না, আগেকার চেয়ে অনেক বেশি নরম হয়ে যায়। জরায়ুর বোঁটাটির এমনি খুব নরম হপ্যে যাওয়া গর্ভাধানের একটি অভ্রান্ত লক্ষণ। তাই যোনির মধ্যে জরায়ুতে হাত দিয়ে পরীক্ষা করে দেখলেই ডাক্তাররা অনায়াসে বলতে পারেন যে গর্ভসঞ্চার হয়েছে কিনা।

মেয়েরা প্রথমে নিজে নিজেই গর্ভসঞ্চারের কথা বুঝে নেয় তাদের মাসিক ঋতুস্রাবটি বন্ধ হয়ে গেলে। যেমনি কোনো মাসে নির্ধারিত সময়ে ঋতুস্রাবটি না হলো অমনি তারা ধরে নেয় যে, পেটে সন্তান জম্মেছে। কিন্তু তাদের এমনি সিদ্ধান্ত সব সময়ে ঠিক হয় না। শরীরের ভালোমন্দ প্রভৃতি অনেক কারণেই গর্ভসঞ্চার না হলেও দুই এক দফা থেকে যাবার সময় এসে পড়ে, আর ঐ সময় সন্তানের জন্য যারা খুব লালায়িত হয়ে ওঠে, তাদের মধ্যেও এমনি মিথ্যা গর্ভলক্ষণ প্রকাশ পেতে দেখা যায়। আরো হতে পারে, খুবই তরুণ বয়সে, যখন মেয়েরা গর্ভসঞ্চার হয়ে পরাকে কোন কারণে অত্যন্ত ভয় করে। ঋতুজীবন তাদের তখন অথচ ভালো করে আরম্ভই হয়নি। একবার মাত্র ঋতুর সময় পার হয়ে গেলে দেখলেই তারা সবজান্তা ব্যক্তিদের কাছে পরামর্শ নিতে যায়, তারা তুকতারের দ্বারা ঋতুস্রাব ঘটিয়ে দিতে চেষ্টা করে। তাঁর পরে যখন আপনা থেকেই ঋতুটি দেখা দেয় তখন মেয়েরা ভাবে যে তুকতাকের প্রকৃতই খুব গুণ আছে। বলা বাহুল্য জোর করে ঋতুস্রাব এনে ফেলবার চেষ্টা করা খুবই অনিষ্টকারী। ঋতুস্রাব এমন জিনিস নয় যে অনায়াসে তাঁকে আবির্ভূত করা যায়। বিজ্ঞানে  বা অবিজ্ঞানে এমন কোন অব্যর্থ ওষুধ আজ পর্যন্ত আবিস্কৃত হয়নি।    

আপনি পড়ছেনঃ মেডিক্যাল সেক্স গাইড থেকে>>গর্ভাধান

প্রিয় পাঠক/পাঠিকাঃ আমাদের সাইটের পোস্ট পড়ে যদি আপনার কাছে ভালো তাহলে শেয়ার করুণ। এবং আপনার বন্ধুদের কে আমন্ত্রণ জানান আমাদের সাইটে যোগ দেওয়ার জন্য।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মাতৃস্তন্য দুগ্ধ শিশুর অমৃত আধার

সর্বযুগে সর্বদেশে মাতৃস্তন্য পান ও মাতৃস্তন্য দান নবজাত শিশুর জীবন সংরক্ষণ ও বৃদ্ধির ক্ষেত্রে এক …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *