Home / ব্লগ / নারীরা কেনো পরকীয়া প্রেমে জড়ায়?  

নারীরা কেনো পরকীয়া প্রেমে জড়ায়?  

কিছুদিন আগে একজন আমাকে প্রশ্ন করেছিলেন… তিনি জানতে চেয়েছিলেন বর্তমানে বাংলাদেশে পরকীয়া প্রেমের ঘটনা বেশি দেখা যাচ্ছে।

নারীরা পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ কি?

আমি জবাবে তাকে বলেছিলাম, বাংলাদেশের পুরুষেরা তাদের  স্ত্রীর সঙ্গে ভালো ব্যবহার করে না এবং পরনারী দেখলে হুশ থাকে না। পরনারীকে পটানোর গভীর ব্যস্ত হয়ে যায়। যা নিজের স্ত্রীর বেলায় করে না। তাঁর পরে আছে আরো অন্যান্য বিষয়াদি। নারীদের পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে যাওয়ার পেছনের কারণ গুলোর দিকে একটু চোখ বুলানো যাক…

বাংলাদেশের অনেক স্বামীই জালেম। তারা স্ত্রীদের সাথে ভালো ব্যবহার করে না, কথা কথা অশ্লীল কুরুচিপূর্ণ ভাষায় গালিগালাজের সাথে স্ত্রীকে মারধর পর্যন্ত করে থাকে। দিন শেষে সেই স্ত্রীকে দিয়েই নিজের মনোবাসনা পূরণ করে থাকে। এই শ্রেণীর পুরুষেরা স্ত্রীকে নিজের দাস মনে করে। অথচ কোরআন হাদীসে স্ত্রীর সাথে উত্তম আচরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসূল (সাঃ) নারীদেরকে দুনিয়ার  শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। নারীদেরকে নিজের পিতা হিসেবে ভূষিত করেছেন। অথচ জালেমদের সেদিকে কোন ভ্রূক্ষেপ নেই। ফলস্বরূপ নারীরা স্বামীর প্রকৃত ভালোবাসা, মায়া, মহব্বত থেকে বঞ্চিত হয়ে সমাজের নারীর একটি অংশ জড়িয়ে যাচ্ছে পরকীয়া। দেহ লোভী দুষ্ট পুরুষদের ফাঁদে পা দিয়ে নিজেদেরকে ফাও ভোগের বস্তুতে পরিণত করছে নারীরা। আর সুযোগ সন্ধানী বাদুরেরা তাদেরকে ব্যবহার করে যাচ্ছে। সমাজের একটি নারীর অংশ এই পতনের দায়ী হচ্ছে স্বামীদের অসদাচরণ। আমরা নারীদের বিভিন্ন অভিযোগ ও তাদের সহজ সরল স্বীকারোক্তি থেকে জানতে পারি নারী লোভী পুরুষদের ফাঁদে তাদের পা দেওয়ার কারণ। আমাদের কাছে যেসব নারী অভিযোগ করেছে, তার মধ্যে অনেকেই জানিয়েছেন স্বামীর খারাপ ব্যবহারের কথা, স্বামীর নির্যাতন কথা এবং স্বামীর যৌন আচরণের কথা। সমাজে এমনও জালিম স্বামী আছেন যারা স্ত্রীকে ঘরের চার দেওয়ালের মাঝে বন্ধি করে রাখতে চান। স্ত্রীকে কারোর সাথে মিশতে দিতে চান না, এমন কি নিজের বাবা-মা ভাই বোনের সাথে। অথচ নিজেই আবার পরনারীর সাথে ফষ্টি-নষ্টি করে বেড়ান। আমাদের সমাজের খুব কম নারীই আছে যারা স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হয়নি। সমাজের অর্ধেকের বেশি নারী কোনও না কোন সময় স্বামীর নির্যাতনের স্বীকার হয়। সব পত্রিকার পাতায়ও আসেনা এবং স্বামীর এই ঘৃণ্য অপরাধের সামাজিকভাবে কোন বিচারও হয় না। মামলা তো খুব কমই হয়। অথচ সংসার জীবনে  নারীর অবধান পুরুষের চাইতেও কম নয়। সংসারে পুরুষদের চাইতে একজন নারীকে অনেক বেশী পরিশ্রম করতে হয়। রান্না-বান্না থেকে শুরু করে ছেলে-মেয়েদের দেখা শুনা করা পর্যন্ত একজন নারীকে দায়িত্ব পালন করতে হয়। যেসব মায়েদের সন্তানাদি এক বা দুইটি তাদের জ্বালা যন্ত্রণা একটু কম। কিন্তু যেসব মায়েদের  ছেলে-মেয়ের সংখ্যা চার বা পাঁচটি তাদের জ্বালা যন্ত্রণা অনেক বেশি হয়। এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে একজন মাকে কত কষ্ট করতে হয় যারা বাস্তবে দেখেছেন তারা বলতে পারবেন।

সংসারে  এতো জায়-ঝামেলা সহ্য করার পরেও যখন একজন নারী তার কাজ করতে গিয়ে সামান্য ক্রটি বিচ্যুতি করে, তখন জালেম স্বামীদের নির্যাতন সহ্য করতে হয়। খাবারের কোনো ব্যবধান হলে কটু কথা শুনতে হয়। এর সাথে আরো কত কি।  এই হচ্ছে বাংলাদেশের নারীদের প্রকৃত অবস্থা।

এর জন্য দায়ী কে? বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থা। নারীদের সংসারীক কাজ-কর্মকে খাটো করে দেখা হয়। আর পুরুষের অর্থ উপার্জনকে বড় করে দেখা হয়। এতে জালেম স্বামীরা নিজেকে ঘরের রাজা মনে করে। আর স্ত্রীকে দাস মনে করে।

পরকীয়া প্রেমদেশের আইনের ব্যবস্থাও কম দায়ী নয়।  বাংলাদেশের নারী নির্যাতনের আইন কিন্তু প্রয়োগ নেই। বাংলাদেশে নারী নির্যাতনের ঘটনা অনুযায়ী বিচারের হার খুব কম। যারা জনগণের রক্ষ তাদের বিরুদ্ধেও নারী ও যৌন নির্যাতনের সংখ্যা কম নয়। একটি নারী যৌন নির্যাতনের অভিযোগ জানাতে থানায় গিয়েছেন, খবরের পাতায় দেখা যায় সেখানেও তিনি দ্বিতীয় ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে।  এতে অপরাধীদের অপরাধ করার প্রভবতা বেড়ে যায়। তারা অপরাধ করতে ভাবেনা এর আমাকে শাস্তি পেতে হবে।

বাংলাদেশের কত স্বামী তার স্ত্রী মৌলিক চাহিদা গুলো পূরণ করতে পারতেছে? কতজন স্বামী স্ত্রীর সঙ্গে ভালো আচরণ করছে? কতজন স্বামী তার  স্ত্রীর যৌন চাহিদার প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছে? তাদের যৌন চাহিদা পূরণ করতে পারছে? নারীদের মধ্যে অনেকের অভিযোগ থাকে তাদের  স্বামী দুই মিনিটেও সহবাসে স্থায়ী হতে পারেনা।  চিকিৎসার কথা বললে লজ্জা  তাও নিতে চায় না। আরেকদল পুরুষ আছেন মদ গাজা খেয়ে গভীর রাতে বাসায় ফিরে। তারপর স্ত্রীকে দিয়ে  নিজের  প্রয়োজন মিটিয়ে ঘুমিয়ে পরে। স্ত্রীর চাহিদা অপূরণ থেকে যায়। সমাজের নারীদের একটি অংশের জীবন এভাবে চলতে থাকে বছরের পর।

একটি নারী যখন স্বামী ভালোবাসা, স্নেহ-আদর, মায়া-মহব্বত ও যৌন সুখ থেকে বঞ্চিত তখন পেছন থেকে কেউ যদি তার প্রতি ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দেয় তখন ঐ নারীটি ফাঁদে পা দেওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। কারণ জীবনটা কোন খেলনা নয়। সবাই চায় জীবনটাকে উপভোগ করতে। কিন্তু হালাল পথ যখন রুদ্ধ হয়ে যায়, তখন হারাম পথের দুয়ার খুলে যায়।

নারীদের মধ্যে যারা  সহনশীল তার চোখ বুঝে সহ্য করে সন্তানের দিকে তাকিয়ে জীবনটা কাটিয়ে দিতে চেষ্টা করে। আর যারা সহনশীল নয় তারা পরকীয়ায় পড়ে।

আমাদের সমাজের একটি  অংশ মনে করে নারীর নির্যাতনের জন্য শিক্ষার অভাব দায়ী। কিন্তু দেখা যাচ্ছে স্বল্প শিক্ষিত থেকে শুরু করে উচ্চ শিক্ষিত পুরুষ এমন কি শিক্ষকদের দ্বারাও যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে।  তারা এ ব্যাপারে কি বলবেন?

বাংলাদেশের একটি অংশ তারা ধর্মহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত করার আপ্রাণ চেষ্টা করতেছেন। তারা ধর্মকে সমাজের উন্নয়নের বাঁধা মনে করছেন। কিন্তু আমরা ধর্মহীন শিক্ষিত ছেলেদের কার্যকলাপ দেখছি, তাদের ভিতরে ধর্মীয় মূল্যবোধ না থাকার কারণে, ধর্মের আদর্শ না থাকার উচ্চ শিক্ষিত  হলেও প্রকৃতপক্ষে সুশিক্ষা প্রাপ্ত হচ্ছে না। যার কারণে তারা শিক্ষিত হলেও  কাজ করছে গরু ছাগলের ন্যায়।

ধর্মহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত করতে গেলে সেসমাজে অপরাধের সংখ্যা বাড়বে বৈ কমবে না। নারীরও কখনো মুক্তি আসবে না। ধর্মহীন সমাজের দ্বারা প্রকৃত অর্থে নারী হয়ে যাবে পুরুষের যৌন দাসী। যাকে ব্যবহার করার পর ছুড়ে ফেলে দেওয়া যাবে। কিন্তু দেশের আইন “সম্মতি” দেখিয়ে কোনো বিচার করতে পারবেনা। বাস্তব উদাহরণ যদি দেখতে চান তাহলে চিত্র নায়িকা নাজনিন আক্তার হ্যাপি’র দিকে তাকান। উন্নত রাষ্ট্রগুলোতে এভাবে নারীকে ভোগ করে যায়। নারীর দেহ লোভী পুরুষদের কাছে বারে বারে একই তরকারী দিয়ে ভাত খেতে ভালো না লাগার তরকারীর মতো নারীকে সঙ্গীকে বদল করে।

আরো পড়ুনঃ স্ত্রীকে পরকীয়া প্রেম হতে দূরে রাখার উপায়

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মিশর

বিপ্লবের ঘটনাঃ মিসর, ২০১১। হোসনে মোবারকের পতন যেভাবে ঘটেছিল

২০১০ সালে মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় ২৮ বছর বয়স্ক খালেদ সৈয়দ কে পুলিশ নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *