Breaking News
Home / নারী / নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা / গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ-মা ও শিশুর বিপদ ও চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ-মা ও শিশুর বিপদ ও চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণগর্ভাবস্থায় যে-কোন সংক্রমণ মা ও শিশুর বিপদের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে।

এর জন্য মা ও শিশু উভয়েরই রোগগ্রস্ততা, এমনকি মৃত্যুসংখ্যা বাড়িয়ে তোলে। এছাড়াও উক্ত সংক্রমণের বিরুদ্ধে যে-সমস্ত  ভেষজ পদার্থ ব্যবহার করা হয়, তারও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কুফল আছেই।

ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, প্রোটোজোয়া ইত্যাদি মায়ের সংক্রমণের কারণ হতে পারে। সচরাচর যে-সমস্ত ব্যাকতেরিয়া দিয়ে সংক্রমণ হয় তা হল ট্রিপোনেমা পেলিডাম, নাইজেরিয়া, গনোরি, গ্রুপ-বি স্ট্রেপটোকক্কাস, মাইকোপ্লাজপমা, ক্ল্যামাইডিয়া, স্ট্যাফাইলোকক্কাস, লিসটিরিয়া ইত্যাদি।

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণের পরিণতি

মায়ের গর্ভস্থ শিশু ও শিশু-জন্মের একমাস কাল পর্যন্ত নানা সমস্যা দেখা দেয়।

মায়ের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবঃ

  • জ্বর ও আনুষঙ্গিক উপসর্গসমূহ দেখা দেয়। সময়ের আগেই জল ভেঙ্গে যায়(প্রিম্যাচিওর রাপচার অফ মেমব্রেন)।
  • অপারেশন করে প্রসব করানোর মাত্রা বেড়ে যায়।
  • প্রসবের পর সংক্রমণ ও দেরি করে আরোগ্য লাভ।
  • সদূরপ্রসারী ফল হল বন্ধ্যাত্ব, শ্রোণীর সংক্রমণ, শ্রোণীর দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, একটোপিক প্রেগন্যান্সি এবং জরায়ুর প্রকোষ্ঠগুলি মুখোমুখি সেঁটে লেগে যাওয়া (Synachae formation) ।

ভ্রূণের ওপর সম্ভাব্য প্রভাবঃ

  • গর্ভচ্যুতি, জন্মগত বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম, অকালে প্রসব, গর্ভস্থ শিশুর পুষ্টি ও বিকাশ কম হওয়া, মৃত শিশু প্রসব হওয়া।

প্রসবের পর একমাস কাল শিশুর সম্ভাব্য সমস্যাসমূহঃ

  • জন্মের সময় সংক্রমণ, সংক্রমণ এবং তাঁর জটিলতার জন্য শিশুমৃত্যু, শিশুর রোগগ্রস্ততা বৃদ্ধি, সদূরপ্রসারী ফল—শিশুর স্নায়বিক ক্রটি ও স্নায়বিক পরিপূর্ণতার ঘাটতি।

সংক্রমণ পথঃ

  • অক্ষত বা ভাঙ্গা অ্যামনিয়টিক মেমব্রেনের মধ্য দিয়ে ঊর্ধমুখী সংক্রমণ। ফলস্বরূপ সৃষ্টি হতে পারে যোনির প্রদাহ, ডেসিডুয়া ও কোরিয়নের প্রদাহ, অ্যামনিয়নের প্রদাহ ও ভ্রূণের সংক্রমণ।
  • রক্তের মাধ্যমে সংক্রমণ।
  • স্বাভাবিক প্রসবের সময় সারভিক্স ও যোনির সংক্রামিত রসের সংস্পর্শ আসার জন্য।

উপসর্গ

  • মায়ের জ্বরঃ ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট থেকে বেশি।
  • মায়ের এবং শিশুর হার্টের গতি বৃদ্ধি, জরায়ুতে ব্যথা, শ্বেত রক্তকণিকার ব্যথা বেড়ে যাওয়া ও, দুর্গন্ধযুক্ত অ্যামনিয়টিক ফ্লুইড।
  • সাধারণত যে-সমস্ত ব্যাকটেরিয়ার দ্বারা উক্ত সংক্রমণ হয়, তা হল—ইকোলাই, বিটাহিমোলাইটক স্ট্রেপটোকক্কাস, স্ট্যাফাইলোকক্কাস অরিয়াস, ব্যাকটিরয়েডস, ক্লসট্রিডিয়া এবং নাইজেরিয়া গনোরি।

যখন সংক্রমণ থাকে, তখন অস্বাভাবিক প্রসবপর্ব পরিলক্ষিত হয় এবং অপারেশন করে প্রসব করানোর সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

রোগ অনুসন্ধান

  • শিশুর অবস্থাঃ আলট্রাসাউন্ড করে বোঝা যায়।
  • মায়ের সংক্রমণ বোঝা যাউ এইভাবেঃ

রক্তপরীক্ষা করে—শ্বেত রক্তকণিকা ২০,০০০/ কিউবিক মিলিমিটার বা তারও বেশি।

ই.এস.আর. এবং সি. রিঅ্যাকটিভ প্রোটিন নির্ণয়কে।

অ্যামনিওসিন্টেসিস এবং পেটের অ্যামনিয়টিক ফ্লুইডের সরাসরি পরীক্ষা করে।

সার্ভিক্স অথবা যোনি থেকে প্রলেপ (swabs) নিয়ে কালচার করে এবং অ্যান্টিবায়োটিক সেনসিটিডিটি পরীক্ষা করে।

চিকিৎসা

গর্ভস্থ শিশুর সংক্রমণ ধরা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপযুক্ত জীবাণুনাশক ওষুধ শুরু করে দেওয়া হয় ও যত শীঘ্র সম্ভব স্বাভাবিক প্রসব করানোর চেষ্টা করা হয়

এরপর পড়ুন : যমজ গর্ভ

লেখক ঃ ডাঃ অবিনাশ চন্দ্র রায়।

লেখকের গর্ভবতী মা ও সন্তান বই থেকে প্রকাশিত।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মায়ের মৃত্যু

গর্ভাবস্থা ও মৃত্যু। নিরাপদ মাতৃত্বের উপায়

গর্ভাবস্থায় অথবা প্রসবের পরে মায়ের মৃত্যু একটি দুঃখজনক ঘটনা। সারা পৃথিবীতে বছরে প্রায় ছ’লক্ষ মহিলা …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *