Breaking News
Home / নারী / নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা / গর্ভাবস্থা ও মৃত্যু। নিরাপদ মাতৃত্বের উপায়

গর্ভাবস্থা ও মৃত্যু। নিরাপদ মাতৃত্বের উপায়

গর্ভাবস্থায় অথবা প্রসবের পরে মায়ের মৃত্যু একটি দুঃখজনক ঘটনা।

সারা পৃথিবীতে বছরে প্রায় ছ’লক্ষ মহিলা মারা যান গর্ভজনিত কারণে এবং তার এক-চতুথার্ংশ মারা যান শুধু ভারতবর্ষে। পশ্চিমের  উন্নত দেশের তুলনায় উন্নয়নশীল দেশের মহিলাদের এই মৃত্যুসংখ্যা প্রায় ২০০ থেকে ৩০০ গুণ বেশি। উন্নয়নশীল দেশের একজন মহিলা যখন গর্ভবতী হন, তখন তার গর্ভজনিত কারণে মৃত্যুর বিপদ প্রায় ১০০ গুণ বেশি হতে পারে।

দেশ মায়ের মৃত্যুহার (প্রতি লক্ষ)
নেপাল ৮৩০
বাংলাদেশ ৬০০
পাকিস্তান ৫০০
ভারতবর্ষ ৩৪০
শ্রীলঙ্কা ৬০
থাইল্যান্ড ৫০
চীন ৪৪
জাপান ১৬
ইউ.কে
আমেরিকা
হংকং
সিঙ্গাপুর
কানাডা
নরওয়ে

সূত্রঃ দি স্টেট অফ ওয়াল্ডর্স চিলড্রেন, ১৯৯১

উন্নয়নশীল বিশ্বে প্রতি মিনিটে একজন মা মারা যান। ভারতবর্ষে মোট চার মিনিটে একজন মা মারা যান। ভারতবর্ষে প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মা মারা যান প্রসব সংক্রান্ত কারণে। আমাদের দেশে গর্ভজনিত কারণে মায়ের মৃত্যুর কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। তবে ৪১ টি শহরাঞ্চলের হাসপাতালের এক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্রতি লক্ষ গর্ভবতী মহিলার মধ্যে ওই মৃত্যুসংখ্যা ৭২১। ভারতবর্ষে প্রায় ৮০ শতাংশ মহিল্কার প্রসব হয় গ্রামাঞ্চলে। সুতরাং গ্রামাঞ্চলে ওই মৃত্যু সংখ্যা অনেক গুণ বেশি।

ওই মৃত্যুর প্রায় ৮০ শতাংশ প্রতিরোধ করা সম্ভব। কারণ ওই মৃত্যু কেন হয়, তার প্রায় সব কারণই জানা। প্রসবের পর সংক্রমণ, রক্তাল্পতা, প্রজনন অঙ্গ থেকে রক্তক্ষরণ ও গর্ভাবস্থায় উচ্চরক্তচাপ-মুখ্যত এই চারটি কারণে মৃত্যু ঘটে। তবে এই চারটি কারণ অনেক অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত কারণের অন্যতম, যা আমরা সহজেই নির্ণয় করতে পারি। হিমশৈল যখন জলে ভাসে, তখন আমরা জলের ওপরে ভাসমান অংশটুকু কেবল দেখতে পাই। বাকি বড় অংশ জলের নীচে থাকে, যা আপাতদৃষ্টিতে অদৃশ্য। ঠিক তেমনই মৃত্যুর বৃহৎ কারণগুলি হল—আর্থ-সামাজিক অবস্থা, কিছু সামাজিক কুপ্রথা, তরুণী বয়সে গর্ভধারণ (২০ বছরের নীচে) দারিদ্রতা, রক্তশূন্যতা, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের অভাব, গ্রামাঞ্চলে অথবা শহরের বস্তি এলাকায় বসবাস, পরিষ্কার পানীয় জলের অভাব, স্বাস্থ্য-সচেতনতা এবং পরিবার-কল্যাণ সম্পর্কিত শিক্ষার অভাব অত্যাদি। এই কারণগুলি অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত হয়ে ওই চারটি মুখ্য অবস্থার সৃষ্টি করে।

ভারতবর্ষে যে ৮০ শতাংশ প্রসব গ্রামাঞ্চলে হয়, তার ৮০ শতাংশই বাড়িতে ‘দাই’ দ্বারা হয়। শুধু বাকি ২০ শতাংশ প্রসব হাসপাতালে বা নার্সিংহোমে হয়। সুদূর গ্রামাঞ্চলের দাইদের ৯০ শতাংশই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নন। প্রজনন-অঙ্গ বা প্রসব-সংক্রান্ত ব্যাপারে এদের কোনো জ্ঞান নেই বললেই চলে।  ফলস্বরূপ সংক্রমণ, রক্তক্ষরণ, রক্তশূন্যতা ও ধনুষ্টঙ্কার হওয়ার সম্ভাবনা খুব বেশি হয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য ঘোষণা করেছিল ২০০০ সালের মধ্যে সকলের জন্য স্বাস্থ্য । ভারতবর্ষের গর্ভবতী মায়েরা সেই লক্ষ্য থেকে এখনও অনেক পিছিয়ে।

নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কতকগুলি সঠিক উপায়

নিরাপদ মাতৃত্বের জন্য কতকগুলি সঠিক পদক্ষেপ প্রত্যেক গর্ভবতী মহিলার গ্রহণ করা উচিৎ।

  • ২০ বছরের কম বয়সে গর্ভধারণ না করা।
  • গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ডাক্তার দেখানো ও তার পরামর্শ মতো চলা।
  • গর্ভজনিত কারণে উচ্চ রক্তচাপ হলে তা বিশ্রাম (দিনে দু’ঘন্টা ও রাতে আট ঘন্টা), লবণ কম খেয়ে অথবা ওষুধ খেয়ে তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা।
  • নিয়মিত লৌহ ও ভিটামিন জাতীয় বড়ি সেবন করা। ওই সমস্ত বড়ি প্রায় প্রত্যেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।

আমাদের দেশে গ্রাম-গঞ্জের মায়েদের প্রায় ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ রক্তাল্পতায় ভোগেন। তাই গর্ভাবস্থায় ওই লৌহজাতীয় ওষুধ প্রয়োজনীয় রক্ত তৈরি করতে সাহায্য করে। ওষুধের সঙ্গে মাছ-মাংস ডিম-দুধ-ডাল-সোয়াবিন (প্রোটিন জাতীয় খাদ্য) ও প্রচুর পরিমাণে সবুজ তাজা শাকসবজি খাওয়া উচিৎ। মাকে মনে রাখতে হবে যে তাঁকে দু’জনের (তার নিজের এবং জরায়ুর মধ্যে বিকশিত বাচ্ছার) জন্য খেতে হবে।

  • চারমাস পরে একমাস অন্তর ২ টি টিটেনাস টিকা নিতে হবে।
  • গর্ভকালে যদি বিপদের সম্ভাবনা থাকে, যেমন—২০ বছর বয়সের কমে গর্ভ বা ৩৫ বছর বয়সের পরে প্রথম গর্ভ ধারণ, কম উচ্চটা (৪ ফুট ১০ ইঞ্চি বা কম), বেশি ওজন, রক্তশূন্যতা, হৃৎপিণ্ড অথবা কিডনির অসুখ, মধুমেহ রোগ ইত্যাদি, তবে সেই মহিলাকে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে থাকা উচিৎ।
  • উক্ত বেশি বিপদের সম্ভাবনাগুলো থাকলে শহরের হাসপাতালে প্রসব করানো উচিৎ, যেখানে হঠাৎ প্রয়োজন হলে অপারেশন (সিজারিয়ান) করা যেতে পারে, হাতের কাছেই প্রয়োজনীয় রক্ত পাওয়া যেতে পারে সঞ্চালনের জন্য, শিশু-বিশেষজ্ঞের পরামর্শ ও জীবনদায়ী প্রয়োজনীয় ওষুধ সহজলভ্য হতে পারে।
  • সর্বোপরি আর্থ-সামাজিক অবস্থা ও স্বাস্থ্যশিক্ষার উন্নতি নিরাপদ মাতৃত্ব দান করতে পারে।

এরপর পড়ুন >> নকল গর্ভ

লেখক ঃ ডাঃ অবিনাশ চন্দ্র রায়।

লেখকের গর্ভবতী মা ও সন্তান বই থেকে প্রকাশিত।

রেটিং দিন

User Rating: 5 ( 1 votes)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

নারীরা মাসিকের সময় যে ৭ টি ভুল করে থাকে!

মাসিক নিয়ে নানা লুকোচরি থাকলেও এ সম্পর্কে খোলাখুলি আলোচনা করাটা অনেক বেশী স্বাস্থকর ও নারীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE