Home / নারী / নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা / গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য-সমস্যা ও চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য-সমস্যা ও চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় ঘিরে রয়েছে নানান সমস্যা। তাঁর মধ্যে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি অতিসাধারণ ঘটনা ।

এই সময়ে কোষ্ঠকাঠিন্য যে-যে কারণে হয় তা হল এইরকম—

  • প্রোজেস্টেরন হরমোনের প্রভাবে অন্ত্র শিথিল (Anonicity) হওয়ার জন্য। গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে ডিম্বাশয়ের মধ্যে বিকশিত করপাস লুটিয়াম থেকে এই হরমোন বেশি মাত্রায় ক্ষরণ হয়। পরবর্তীকালে গর্ভাশয্যায় বিকশিত গর্ভের ফুল থেকে এই হরমোন নিঃসরণ হয়।
  • গর্ভাবস্থার জন্য ওজন ও আয়তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জরায়ু বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ে চাপ সৃষ্টি করার জন্য। গর্ভের পূর্বে জরায়ুর দৈর্ঘ্য ৭.৫ সেন্টিমিটার এবং ওজন ৫০ গ্রাম থাকে। কিন্তু অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পূর্ণ বিকশিত জরায়ুর দৈর্ঘ্য ৩৫ সেন্টিমিটার ও ওজন ৯০০ গ্রাম হয়ে যায়।
  • দৈহিক কাজকর্ম কম করার জন্য।
  • গর্ভাবস্থায় শারীরিক পরিবর্তন পাচনক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য।

গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য

সমস্যা

কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য নিম্নলিখিত সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে—

  • শরীর ও মন ভালো থাকে না।
  • পেটে সদাসর্বদা একটা অস্বস্তিভাব থাকে। কখনও কখনও তলপেট ও কোমরে ব্যথা অনুভূত হয়।
  • কারো কারো ক্ষেত্রে অর্শের সমস্যা দেখা দেয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য মলাশয়ের রক্ত চলাচলে (venous retum) প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। গর্ভাবস্থার জন্য শিথিল হওয়া মলদ্বারের শিরা (Venous plexus) শক্ত মলের চাপে ছিঁড়ে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে ও রক্তক্ষরণ হয়। সম্পূর্ণ গর্ভাবস্তা জুড়ে এই সমস্যা চলতে থাকে। যাদের গর্ভাবস্থার পূর্বেই অর্শ থাকে, তাঁদের ক্ষেত্রে গর্ভাবস্থায় এই সমস্যা বৃদ্ধি হয় এবং মলত্যাগের সময় অল্প বা বেশি মাত্রায় রক্তক্ষরণ হতে থাকে। ফলে রোগী কম-বেশি রক্তাল্পতায় ভোগেন।

চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় সঠিক খাদ্য-তালিকা অনুযায়ী আহার করলে এই সমস্যাকে দূরে সরিয়ে রাখা যায়।

  • বেশি পরিমান পানি পান করা। দিনে অন্ততপক্ষে ৭-৮ গ্লাস পরিশ্রুত পানীয় পানি (ফোটানো এবং ঠান্ডা) পান করা উচিত। এছাড়াও পানীয় আহার বেশি করে করা দরকার।
  • টাটকা সবুজ শাকসবজি-ফল (আশযুক্ত খাবার) দৈনন্দিন খাদ্য-তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

উপরোক্ত উপায়ে উপকার না হলে নিম্নলিখিত যে-কোনো ১ টি জোলাপ জাতীয় ওষুধ সেবন করা যেতে পারে।

  • সফসেনা—২ টি করে বড়ি রোজ রাত্রে শোবার সময় খেতে হবে।
  • মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া—৪ চামচ ১ গ্লাস ঈষদুষ্ণ পানিতে গুলে রাতে শোবার সময় খেতে হবে।
  • ক্রেমাফিন—৪ চামচ রাত্রে শোবার সময় খেতে হবে।
  • সফটোভ্যাক—৩ চামচ রাত্রে শোবার সময় খেয়ে ১ গ্লাস পানি খেতে হবে।
  • ন্যাচারোল্যাক্স—৩ চামচ রাত্রে শোবার সময়।
  • নেচারকেয়ার—৩ চামচ রাত্রে শোবার সময়।

এরপর পড়ুন >> গর্ভাবস্থায় অর্শ-সমস্যা-ধরণ ও প্রতিরোধে চিকিৎসা

লেখকঃ ডাঃ অবিনাশ চন্দ্র রায়। (স্ত্রীরোগ-বিশেষজ্ঞ)

আপনি পড়ছেন : গর্ভবতী মা ও সন্তান বই থেকে।

লেখাটি পড়ার জন্য আমার বাংলা পোস্ট.কম ব্লগ পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

আমাদের লেখিত ও প্রকাশিত আর্টিকেল, বই ও লাইফস্টাইল টিপস গুলো পড়ে আপনার কাছে ভালো লাগলে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে জানান। আমাদের প্রকাশিত আর্টিকেল-বই ও টিপস সম্পর্কে আপনার মতামত জানাতে কমেন্ট করুন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ-মা ও শিশুর বিপদ ও চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় যে-কোন সংক্রমণ মা ও শিশুর বিপদের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। এর জন্য মা ও শিশু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *