Home / নারী / নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা / গর্ভাবস্থায় অর্শ-সমস্যা-ধরণ ও প্রতিরোধে চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় অর্শ-সমস্যা-ধরণ ও প্রতিরোধে চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় ঘিরে রয়েছে নানান ধরনের সমস্যা।

এর মধ্যে অর্শের সমস্যা একটি সচরাচর ঘটনা। গর্ভাবস্থায় এই সমস্যা নতুন করে সৃষ্টি হতে পারে অথবা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থার আগে যার এই সমস্যা থাকে, তিনি গর্ভাবস্থায় বেশি করে ভুগতে পারেন।

কেন এই সমস্যা?

  • গর্ভাবস্থায় কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায় মূলত স্ত্রী-হরমোন প্রোজেস্টেরন-এর প্রভাবে। এই হরমোন গর্ভাবস্থায় বেশি মাত্রায় নিঃসৃত হয় ডিম্বাশয়ের করপাশলুটিয়াম থেকে অথবা গর্ভশয্যায় বিকশিত গর্ভের ফুল থেকে। এই হরমোনের প্রভাবে ক্ষুদ্র ও বৃহদন্ত্র শিথিল হয়ে যায়। পৌষ্টিক নালীর মাংসপেশির সঙ্কোচন ক্ষমতা ও স্ব্যংচল অবস্থা কমে যায়।
  • গর্ভাবস্থায় ওজন ও আয়তনে বৃদ্ধিপ্রাপ্ত জরায়ু ও বিকাশমান শিশু বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ে চাপ সৃষ্টি করে। কারণ গর্ভের পূর্বে জরায়ুর দৈর্ঘ্য ও বিকাশমান শিশু বৃহদন্ত্র ও মলাশয়ে চাপ সৃষ্টি করে। কারণ গর্ভের পূর্বে দৈর্ঘ্য ও ওজন যথাক্রমে ৭.৫ সেন্টিমিটার ও ৫০ গ্রাম থাকে, যা অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় দৈর্ঘ্যে ৩৫ সেন্টিমিটার ও ওজনে প্রায় ৯০০ গ্রাম হয়ে যায়।
  • গর্ভাবস্থায় দৈহিক কাজকর্ম কম করার জন্য ও এই সময়ে শারীরিক পরিবর্তন পাচনক্রিয়াকে প্রভাবিত করার জন্য কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা যায়।
  • এই সময় লৌহবড়ি সেবনের জন্যও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। কারও কারও স্বাভাবিক প্রাতঃকৃত অভ্যাস অনিয়মিত হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের জন্য মলাশয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। গর্ভের জন্য শিথিল হওয়া মলদ্বারের শিরা-উপশিরা শক্ত মলের চাপে ছিঁড়ে গিয়ে ক্ষতের সৃষ্টি করে ও মলত্যাগের সময় অল্প বা বেশি মাত্রায় রক্তক্ষরণ হয়। সমস্ত গর্ভাবস্থা জুড়ে এই সমস্যা চলতে থাকে, ফলে রোগী কম-বেশি রক্তাল্পতায় ভোগেন।

অর্শের ধরণ

ইন্টারন্যাল অর্থাৎ মলদ্বারের ভেতরে থাকে।

এক্সটারন্যাল অর্থাৎ যা মলদ্বারের বাইরে থাকে। এক্ষেত্রে মলদ্বারে অতিরিক্ত চুলকানি হয়। এক্সটারন্যাল অর্শের সঙ্গে ফিশারও থাকতে পারে, যার জন্য মলদ্বারে অতিরিক্ত ব্যথা অনুভূত হয়।

রোগ প্রতিরোধ ও চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় সঠিক খাদ্য তালিকা অনুযায়ী আহার করলে এই সমস্যা কিছুটা দূরে সরিয়ে রাখা যায়।

  • দিনে অন্তরপক্ষে ৭-৮ গ্লাস পরিশ্রুত পানীয় পানি পান করা উচিত। এছাড়া পানীয় আহার বেশি করে করা দরকার।
  • টাটকা সবুজ শাকসবজি, ফল ও আঁশযুক্ত খাবার দৈনন্দিন খাদ্য-তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা উচিত।

উপরোক্ত  উপায়ে উপকার না হলে কিছু কিছু ওষুধ সেবন করা যেতে পারেঃ

  • ইসবগুলের ভূষিঃ ৩-৪ চামচ ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে রোজ রাত্রে খেতে হবে।
  • নেচারোল্যাক্স বা নেচারকেয়ারঃ ৩-৪ চামচ ১ গ্লাস পানিতে মিশিয়ে রাতে শোবার সময় খেতে হবে।
  • ক্রেমাফিন পিঙ্ক, মিল্ক অফ ম্যাগনেসিয়া অথবা ল্যাক্সিটঃ ২-৩ চামচ রাতে শোবার সময় খেলে উপকার পাওয়া যায়।
  • মলদ্বারে ক্ষতের জন্য প্রক্টোসিডিল মলম বা শিল্ড মলম মলত্যাগের পর মলদ্বারে লাগালে উপকার পাওয়া যায়।
  • অর্শের জন্য মলদ্বারে বেশি মাত্রায় প্রদাহ হলে জাইলোকেন মলম মলদ্বারে লাগালে উপশম হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে একটি পাত্রে ঈষদুষ্ণ পানির সঙ্গে ২ চামচ স্যাভলন বা বিটাডিন মিশিয়ে ওই পানিতে ১৫ মিনিট করে দিনে দু’বার বসলে খুব উপকার পাওয়া যায়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ করা ভালো যে, প্রসবের পর অর্শের সমস্যা আপনা থেকেই বহুলাংশে কমে যায়।

আপনি পড়ছেন : গর্ভবতী মা ও সন্তান বই থেকে।

লেখকঃ ডাঃ অবিনাশ চন্দ্র রায়। ( স্ত্রী রোগ বিশেষজ্ঞ)

এই বই থেকে পূর্বে প্রকাশিত আর্টিকেল সমূহ…

06 গর্ভাবস্থায় ওষুধ

07 গর্ভাবস্থায় এক্স-রে

13 গর্ভাবস্থায় হার্টের রোগ

14 গর্ভাবস্থায় ডায়াবেটিস

লেখাটি পড়ার জন্য আমার বাংলা পোস্ট.কম ব্লগ পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাকে ধন্যবাদ।

আমাদের লেখিত ও প্রকাশিত আর্টিকেল, বই ও লাইফস্টাইল টিপস গুলো পড়ে আপনার কাছে ভালো লাগলে শেয়ার করে আপনার বন্ধুদেরকে জানান। আমাদের প্রকাশিত আর্টিকেল-বই ও টিপস সম্পর্কে আপনার মতামত জানাতে কমেন্ট করুন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ-মা ও শিশুর বিপদ ও চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় যে-কোন সংক্রমণ মা ও শিশুর বিপদের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। এর জন্য মা ও শিশু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *