Home / নারী / নারীর স্বাস্থ্য সমস্যা / মাসিকের সময় তলপেটে ব্যাথার কারণ ও পরামর্শ

মাসিকের সময় তলপেটে ব্যাথার কারণ ও পরামর্শ

নারীদের বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থতার মধ্যে ঋতুকালীন সমস্যা একটি যন্ত্রণাদায়ক সমস্যা। উক্ত রোগকে “মাসিক কালীন তলপেটে ব্যথা” নামে আখ্যায়িত করা হয়ে থাকে। মেয়েদের মাসিক ঋতুস্রাব আরম্ভ হওয়ার আগে বা ঋতুচলাকালীন ব্যথা অথবা এ ধরণের উপসর্গের কথা অনেক মহিলারাই বলে থাকেন। এধরণের ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাবকে কেউ কেউ “বাধক বেদনা” বলে থাকেন। চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় এটাকে বলা হয় “ডিসমেনোরিয়া”। ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাব সাধারণতঃ অল্পবয়সী, অবিবাহিতা নারীদের বেশী হয়। বয়স বৃদ্ধির সাথে সাথে রোগের ব্যথার তীব্রতা ও উপসর্গ কমে যায়।

ব্যথা যুক্ত ঋতুস্রাবের কারণ

১. হরমোনের কারনে (প্রজেসটেরোন এ মাত্রা বেশী হলে)।

২. জরায়ুর সংকোচন প্রসুত জরায়ুর রক্তাল্পতা।

৩. জরায়ুগ্রীবা বেশী সরু হলে।

৪. জরায়ুর কোন রোগ হলে- এন্ডোমেট্রিয়াসিস, জরায়ু প্রদাহ।

৫. জরায়ুর রক্তবাহী ধমনীর ত্রুটির জন্য। ৬. তলপেটে প্রদাহ (পি.আই.ডি)।

৭. মানসিক কারণ- যে মেয়েরা অতিমাত্রায় মনের দিক থেকে দুর্বল, স্পর্শকাতর, অসুখী, ভাবপ্রবণ, সবকিছুতেই বিরক্তি, দুশ্চিন্তা, ভয়,মানসিক অবসাদ এ যারা ভোগেন।

৮. বংশগত কারণ।

ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাবের লক্ষণ:

১. মাসিক স্রাবের প্রথম দিনে তীব্র ব্যথা হয়। এটি খিঁচুনী ব্যথার মতো থেমে থেমে আসে অথবা অবিরাম থাকে। ব্যথা ২/৩ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

২. ব্যাথার তীব্রতা খুবই বেশী। তলপেটে ও দুই উরুর সামনের দিকে ও ভেতরের দিকে প্রচন্ড ব্যথা হয়ে থাকে। কখনও কোমরেও ব্যথ অনুভুত হয়।

৩. ব্যথার সাথে বমি ভাব বা বমি হতে পারে মাথা ব্যথা হবে এবং শারীেিক অস্বস্থি বোধ হবে।

৪. কখনও কখনও পাতলা পায়খানা, পায়খানার রাস্তায় চাপানুভুতি হবে। টেনশনে প্রস্রাবের বেগ বেড়ে যেতে পারে। ৫. কখনও স্তনেও ব্যথা হতে পারে।

৬. রোগী বেশী দূর্বল হয়ে গেলে অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে।

৭. ঋতুস্রাবে রক্তের পরিমাণ খুবই অল্প হয়।

ব্যথাযুক্ত ঋতুস্রাবের পরামর্শ:

১. শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার দিকে খেয়াল রাখতে হবে।

২. কোষ্ঠকাঠিন্য, অপুষ্টি দূর করতে প্রচুর শাকসবজি, মাছ, মাংস, দুধ, ডিম ও পানি খেতে হবে।

৩. পরিষ্কার পরিচন্নতা এবং জীবাণূমুক্ত কাপড় বা প্যাড ব্যবহারের অভ্যাস করতে হবে।

৪. নিয়মিত ব্যায়াম বা হাটাহাটির অভ্যাস রাখতে হবে।

৫. সর্বদা হাসিখুশী ও উৎফুল্ল ভাবে জীবন যাপন করতে হবে।

৬. প্রজনন স্বাস্থ্য শিক্ষার ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।

লিখেছেনঃ ডা. মনিরুজ্জামান এম. ডি

( কলকাতার স্বর্ণপদকপ্রাপ্ত ন্যাচারাল মেডিসিন ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ ও একজন খ্যাতিমান চিকিৎসক, গবেষক, লেখক ও আয়ুর্বেদিক কেমিস্ট।)

প্রয়োজনে : 01707-330660

আরো পড়ুনঃ নারীদের পিরিয়ডের  যে ৭ টি সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শের প্রয়োজন

About ডাক্তার মনিরুজ্জামান

Check Also

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ

গর্ভাবস্থায় সংক্রমণ-মা ও শিশুর বিপদ ও চিকিৎসা

গর্ভাবস্থায় যে-কোন সংক্রমণ মা ও শিশুর বিপদের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তোলে। এর জন্য মা ও শিশু …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *