Breaking News
Home / সাহিত্য / কিছু গল্প / মেয়েদের সৃষ্টি করা হয়ে পুরুষের মনোরঞ্জন করার জন্য!

মেয়েদের সৃষ্টি করা হয়ে পুরুষের মনোরঞ্জন করার জন্য!

যোহায়ের ইবনে হাসান বর্ণনা করেন, কুখ্যাত জালেম হাজ্জাজ ইবনে ইউসুফ, আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের সহ বহু সাহাবায়ে কেরাম ও অনেক নিরাপরাদ লোককে হত্যা করেছিলো। সে একবার খলিফা আব্দুল মালিকের সাথে সাক্ষাৎ করতে আসলো।

খলীফা তখন মসজিদে নামায পড়ছিলেন। নামায শেষে বের হয়ে বাহনে চড়ে বসলেন। হাজ্জাজও সাথে সাথে বেরিয়ে কোন কিছুতে সওয়ার না হয়ে পায়ে হেঁটে চলতে লাগলো।

তখন খলীফা হাজ্জাজকে বললেন, হেঁটে আসছেন কেন? কোন সওয়ারীতে চড়ে আসুন।

হাজ্জাজ বিনয়ের সাথে প্রত্যাখান করে বললোঃ

আমিরুল মুমিনীন, আমি হাঁটতেই স্বাচ্ছন্দ বোধ করছি। হেঁটে আমার অভ্যাস আছে। আমি তো এক সময় প্রচুর জেহাদের সফর করেছি।

এখন শরীরে কিছুটা আলসেমী বোধ করেছি। কিছুটা হাঁটলেই শরীর ঝরঝরে তাজা হয়ে যাবে। অবসাদ কেটে যাবে।

কিন্তু খলীফা নির্দেশ দিলেন, হেঁটে নয়। সওয়ারীতে চড়ে আসুন।

অগত্য সে সওয়ারীতে চড়ে বসলো।

রাজপ্রাসাদে এসে নির্জনে একটি কক্ষে খলীফা তাঁর সাথে রাষ্ট্রীয় বিষয়াদী আলোচনা করছিলেন।

হাজ্জাজ নিজের কাজকর্মের ফিরিস্তি বেশ ফলাও করে বর্ণনা করছিলো। উদ্দেশ্যে, খলীফার দৃষ্টিতে নিজেকে নির্ভেজাল রাষ্ট্রের কল্যাণকামী জাহির করা।

হঠাৎ সেখানে একজন গৃহপরিচারিকা আসলো। কানে কানে খলীফাকে কিছু বলে বেরিয়ে গেল।

সে চলে যাওয়ার পর খলীফা হাজ্জাজকে জিজ্ঞাসা করলেন আবু মুহাম্মাদ, (হাজ্জাজের উপনাম) তুমি কি জানো মেয়েটি এসে আমার কানে কি বললো?

হাজ্জাজ কৌতুহল নিয়ে তাকিয়ে রইলো।

খলীফা বললেন, সে বললো, আমাকে আপনার স্ত্রী উম্মুল নাবিয়্যীন বিনতে আব্দুল আজীজ পাঠিয়েছেন।

আপনার স্ত্রী আপনাকে সতর্ক করে বলেছেন, নির্জনে এ লোকটির সাথে আপনার আলোচনারত থাকা আপনার নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ। কেননা লোকটি অস্ত্র সজ্জিত আর আপনি সম্পূণ নিরস্ত্র। এতে আপনার স্ত্রী ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে আছেন। এমনকি তিনি বলেছেন হাজ্জাজের সাথে নির্জনে মিলিত হওয়া মালাকুল মউতের সাথে নিভৃতে মিলিত হওয়ার চেয়েও ভয়ঙ্কর। কেননা সে অত্যন্ত নৃশংস নিষ্ঠুর হৃদয়হীন পাষাণ।

আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণকে কোন প্রকার দয়া মায়া ছাড়াই নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করেছে। এতে তাঁর হৃদয় সামান্য কাঁপেনি।

খলীফার মুখে একথা গুলো শুনে হাজ্জাজের চেহারা অপমানে লাল হয়ে গেল। তাচ্ছিল্যভরে বললো, আমিরুল মুমিনীন, মহিলার কথায় এতো পাত্তা দিলে চলে নাকি? যিনি একথা বলেছেন তিনি তো কোন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নয়। আসলে মহিলাদেরকে বেশি আস্কারা দিলে ওরা মাথায় চড়ে বসে। এজন্যই কথায় বলে; ঢোল পশু ও নারী এ তিন জিনিস সব সময় মাইরের উপর রাখতে হয়। রাষ্ট্রীয় কোন গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ওদের সাথে শেয়ার না করাই উচিৎ। তাদেরকে (মেয়েদের) সৃষ্টি করা হয়েছে বিছানায় পুরুষের মনোরঞ্জন এর জন্য। এরচেয়ে বেশি গুরুত্ব না দেওয়া উচিৎ। এ কথা বলে মুখ কালো করে উঠে চলে গেল।

পরে খলীফার স্ত্রী খলীফাকে বললেন, আপনি হাজ্জাজকে আমার সাথে দেখা করতে বলবেন।

খলীফা বললেন, কি দরকার এসব করার বলো তো? তুমি তাকে অত্যন্ত ঘৃণা করো তা আমি জানি। সে এসেছে অল্প ক’দিনের জন্য। এখন রাগারাগি করা ঠিক নয়।

স্ত্রী বললেন, রাগারাগি করবো না। আমি তাকে যা বলবো তা তো আপনি লোক মারফত জানতেই পারবেন। কালই বলবেন আমার সাথে দেখা করতে।
ঠিক আছে বলবো।

পরদিন হাজ্জাজ খলীফার দরবারে পৌঁছলে কথাবার্তা শেষে খলীফা বললেন তুমি বেগম সাহেবার সাথে সাক্ষাৎ করে যেও।

শুনামাত্রই হাজ্জাজের চেহারা রক্তশূন্য ফ্যাকাশে হয়ে গেল। ঢোক গিলে বললো, আমিরুল মুমিনীন আমাকে ক্ষমা করুন। উনার সাথে দেখা করতে ভয় লাগে। আমাকে দু’চোখে দেখতে পারে না।

খলীফা অভয় দিয়ে বললেন, ভয়ের কিছু নেই। সে বলেছে কোন রাগারাগি করবে না।

হাজ্জাজ দুরুদুরু বুকে বেগম সাহেবার মহলের দিকে রওয়ানা হলো। তাঁর আগমের সংবাদ ভিতরে জানানো হলে বলা হলো, অপেক্ষা করতে বলো। সে বসে অপেক্ষা করতে লাগলো। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পরেও ডাক এলো না। বসে থাকতে সে যখন প্রায় ধৈর্য্যের শেষ পর্যায়ে পৌঁছালো তখন ভিতরে প্রবেশের নির্দেশ এলো। সে ধীরে ধীরে এগুতে লাগলো। কামরায় প্রবেশ করেই দেখলো বেগম সাহেবা অগ্নি দৃষ্টিতে তাঁর দিকে তাকিয়ে আছে। চোখ ঠিকরে নগ্ন ঘৃণা ফুটে বেরুচ্ছে। গম্ভীর গলায় হাজ্জাজকে বললেন, বসো।

হাজ্জাজ সাবধানে জড়োসড়ো হয়ে বসে পড়লো। মনে মনে দু’আ করলো হে আল্লাহ, আমাকে তাড়াতাড়ি এখান থেকে বের করো।

মহিলাকে দেখে মনে হলো, তিনি বেশ প্রস্তুতি নিয়েই বসেছেন।

হাজ্জাজ বসার কিছুক্ষণ পরেই কঠিন গলায় বললেন, খুব বাহাদুর হয়ে গেছ, তাই না? আমিরুল মুমিনীনের সামনে বুক ফুলিয়ে বলেছ আন্দুল্লাহ ইবনে জোবায়ের, ইবনে আশআছকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছি। মহিলা গলায় তীব্র ঘৃণা মিশিয়ে বললেন, তুমি কি জানো? বর্তমানে তুমিই জগতের সবচেয়ে ঘৃণিত ব্যক্তি। কারণ, যিন নাতাকাইন অর্থাৎ হযরত আসমা বিনতে আবু বকর এবং রাসূলের অত্যন্ত প্রিয় সাহাবী হযরত যোবায়ের ইবনুল আওয়ামের পুত্র আব্দুল্লাহ বিন যোবায়েরকে নৃশংসভাবে তুমিই হত্যা করেছো। আরো অসংখ্য মানুষকে তুমি হত্যা করেছো। আজ আমি জানতে চাই আর কত রক্ত খেলে তোমার পিপাসা মিটবে? ক্ষমতার মোহে তুমি আর মানুষ নেই। মানুষ নামের হিংস্র পশুতে পরিণত হয়েছে।

হাজ্জাজের তখন মনে  হলো জমিন ফেটে গেলে আমি ভিতরে ঢুকে যেতাম। তাহলে মহিলার বিষ বাক্যবাণে আমাকে জর্জরিত হতে হতো না।

মহিলা শ্লেম্মা মেশানো গলায় বলে চলেছিলেন আজ তুমি প্রভাবশালী গভর্ণরের আসনে সমাসীন হয়ে অতীত ভুলে গেছো। সেদিনের কথা কি মনে পড়ে? যে দিন দু’মুঠো অন্নের জন্য মানুষের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে বেড়াতে। আমীরুল মুমিনীনের শুভদৃষ্টি তোমার উপরে পড়ার ফলেই রাতারাতি তোমার রাজনৈতিক উত্থান শুরু হয়। আর এখন তো তোমার নাগাল পাওয়াই দুস্কর।

আর আমিরুল মুমিনীনকে গতকাল উল্টাপাল্টা কি সব বলেছো? মহিলা শুধু বিছানায় মনোরঞ্জনের জন্য, তাদেরকে এর চেয়ে বেশী গুরুত্ব না দেয়া উচিৎ তাই না? তিনি ক্রোধে বেসামাল হয়ে উচ্চস্বরে চিৎকার করে বললেন, এই হারামজাদা তোর মা ছিলো এক উড়ণচণ্ডী শুধু বছর বছর বাচ্চা জন্মানো ছাড়া আর কোন কাজ কম্মোই জানতো না। তোর মার মতো বুদ্ধির ঢেঁকি যে মহিলা তাদের ক্ষেত্রে, তোর কথা ঠিক আছে। বিছানায় আনন্দ দেওয়া ছাড়া তাদের আর কোন গুরুত্ব নেই। কিন্তু সবাই কি তোর মায়ের মতো অপদার্থ? অনেক মহিলা আমিরুল মোমিনীনের মতো বিচক্ষণ, দক্ষ, মেধাবী। তাঁরা রাষ্ট্রীয় কাজে কোন পরামর্শ দিলে ক্ষতি কি?

মহিলা ক্রোধে থরথর করে কাঁপছিলেন। এক পর্যায়ে আত্মনিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললেন। তাড়াতাড়ি বাঁদিকে নির্দেশ দিলেন এই উজবুকটাকে এখুনি আমার চোখের সামনে থেকে বিদায় করো। ও এখানে থাকলে কি থেকে কি করে বসবো ঠিক নেই।

এতোক্ষণ হাজ্জাজ এর উপর যে টর্নেডো বয়ে গিয়েছে তাতে সে পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিল। ঘর থেকে বের হয়ে যেন ধড়ে প্রাণ ফিরে এলো। টলতে টলতে পা দুটোকে কোনরকম টেনে খলীফার নিকট গিয়ে ধাপাস করে বসে পড়লো। তাঁর অবস্থা দেখে খলীফার করুণা হলো।

বললেন, বেগম সাহেবা কি বললো?

হাজ্জাজের তখন কথা বলার অবস্থা নেই। জোর করে শুধু বলতে পারলো বলবেন না আমিরুল মুমিনীন, যে মিষ্টি কথায় আপ্যায়ণ করা হয়েছে তা শোনার আগেই কেন যে আমার মরণ হলো না। মনে হচ্ছিলো মাটি ফেটে গিয়ে ভিতরে চলে যেতে পারতাম কতোই না ভালো হতো।

খলীফা স্বগতোক্তি করে বললেন, আমার স্ত্রীর মেজাজটা একটু কড়া ধাতের। আব্দুল আজীজের মেয়ে না? তুমি ওর কথায় কিছু মনে নিয়ো না।

আপনি পড়ছেন>>প্রতিভার গল্প ২ বই থেকে

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

ফেরাউনের দাসী

দুই রমনীর হৃদয়স্পর্শী কাহিনী ( ফেরাউনের দাসী ও স্ত্রীর গল্প)

* ফেরাউনের দাসী ও স্ত্রীর গল্প টি পড়ুন। * গল্পটিতে রয়েছে মুসলিমদের জন্য দারুণ শিক্ষণীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE