Breaking News
Home / সাহিত্য / কিছু গল্প / প্রেম প্রেম খেলা!( ব্যাচেলরদের মজার গল্প ২০১৮ )

প্রেম প্রেম খেলা!( ব্যাচেলরদের মজার গল্প ২০১৮ )

— হ্যালো, আসসালামু আলাইকুম।
____ ওয়া আলাইকুমুসসালাম। কে?
— আন্টি, একটা ফ্যামিলি রুম ভাড়া দেবেন দেখলাম। বিজ্ঞপ্তি দিয়েছেন। সেটার ব্যাপারে জানতে চাচ্ছি।
___ হ্যাঁ, দেবো তো। তা স্বামী-স্ত্রী দু’জন, নাকি আন্ডা বাচ্চাও আছে? একটার বেশি বাচ্চা হলে ভাড়া দেব না। আর হ্যাঁ, বাচ্চার বয়স কিন্তু পাঁচের উপর হতে হবে। দুই মাস, এক মাসের বাচ্চা হলে দেব না। সারাদিন পাতলা ডাল ছাড়বে, বেশি পানি খরচ হবে।
উটকো ঝামেলা চলবে না।
— আন্টি, আপনি আমার মায়ের মতন।
___ জ্বি, আমি তোমার মায়ের মতন। কিন্তু ভাড়া এক টাকাও কম হবে না। পাঁচ হাজার, তো পাঁচ হাজার। যদি বলো পাঁচ টাকা ড্রেনে পড়ে গেছে, ড্রেন থেকে তুলেই দিতে হবে। দশ তারিখ দুপুরের মধ্যেই। বৃটিশরা করেছিল ‘সূর্যাস্ত আইন’, আমি করেছি ‘সূর্য মধ্যগগন আইন’। রাজি থাকলে এই পাড়,
না থাকলে পগারপার।
— বড়মা!
___ আমার স্বামীর কোন ছোট ভাই নেই বাছাধন। ভুল জায়গায় ভুল চাল দিচ্ছো।
— বড়মা, আপনার গলার স্বর এত মধুর। আজ যদি আমার মা বেঁচে থাকতেন, ঠিক আপনার মতই গলা হতো বড় মা!
___ তোমার সৎমায়ের গলা বুঝি মধুর না?
— বড়মা, কি বলবো! পৃথিবীতে আমি শুধু দুইটা মধুর গলাই শুনেছি। আমার মা, আর আপনি। আমি তো ফোন করেই ভেবেছিলাম এ বুঝি আমার মা জননী। আজ আপনি আমায় রুম না দিলেও আমি শুধু আপনার গলাটুকু শোনার জন্যে হলেও আপনাকে
ফোন দেবো। আপনি আমার ফোন ধরবেন
তো মা?
___ হয়েছে। যথেষ্ঠ হয়েছে। তোমার আর তোমার বউয়ের ভোটার আইডি কার্ড, ছবি, নাগরিকত্ব সনদ ফটোকপি করে এনো।
তা ছাড়া বাসা দেব না।
— মাগো, অভাগা যেদিকে যায় সাগরের জলও নাকি শুকায়া যায়। আমার সৎমা বড় ভাল মানুষ ছিলেন। এক বিকেলে গাড়িচাপা পড়ে মারা গেলেন। দ্বিতীয়বার মা হারালাম আমি।
___ তুমি তো ভারী অলক্ষ্মী ছেলে! আচ্ছা,
ঠিক আছে। পাঁচশো টাকা কম দিয়ো। বাসা দেখে অগ্রিম দু’হাজার টাকা দিয়ে যেয়ো। বুকিং মানি।
— জানেন মা, তারপর আমার বাবা বাড়ি ছেড়ে চলে গেলেন। সেই যে গেলেন, আর এলেন না! আহা! বড় ভাল মানুষ ছিলেন!
___ 😮 😮 😮
— আমার জনমদুখিনী এক বড় বোনও আছে। তার কাছে থাকলাম অনেকদিন। কিন্তু কপালে আছে ঘী, ঠকঠকাইয়া হবে কী? বোনের শাশুড়ি নয় বেলাই খাওয়ার খোঁটা দিতো। এক দিন তো মুখ থেকে ভাতই কেড়ে নিলো!
___ তা তো নেবেই, দামড়া ছেলে বসে বসে
খাবে এ আবার কেমন কথা? আমি হলে তো
ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতাম।
— দিয়েছেই তো আম্মাজান, ঘাড় ধরেই বের করে দিয়েছে।
___ তারপর তুমি কি করলে? রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে ঘুরতেই বিয়ে করে ফেললে? হায় রে বাঙালী! পেটে নাই ভাত, করে দ্বিগুণ দাঁত! বউও কি রাস্তায় ঘোরে নাকি?
— আম্মা, আপনার পায়ে একটু জায়গা দেন!
___ তোমায় না হয় পায়ে দিলাম, তোমার বউরে কোথায় জায়গা দেবো, হাতে? না মাথায়?
— আম্মা, ত্রিভুবনে আপনি ছাড়া আমার আর কেউ নাই। আপনার এই অধম ছেলে গরীব বলে একটা মেয়েও রাজি হল না রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে।
কোটিপতির সাথে রাস্তায় ঘোরা যায়, গাছের তলায় থাকা যায় – গরীবদের সাথে যায় না। মাগো, ছেলেকে পায়ের নিচে জায়গা দেবেন না? আপনাকে কথা দিচ্ছি, আপনার পায়ের অমর্যাদা করবো না।
____ ওহ! ব্যাচেলর?
:
:
:
অনিম দাঁত বের করে হাসছে। অবশেষে শায়লাদের বাসায় একটা রুম পাওয়া গেল! 😀 😀 😀

গল্পের লেখিকা : অনামিকা খুশবু অবনী

এরপরের গল্প : বড় ছেলে : গল্পের ওপারে! অনামিকা খুশবু অবনী

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

দূর্গাপূজা

নবাব সাহেবের দুর্গাপূজা দর্শন (হাসির গল্প)

পশ্চিম ভারতে নবাব সাহেবের জমিদারী। সেখানে চাকরি করে কয়েকজন বাঙ্গালী হিন্দু। তাহারা বহুদিন বাংলাদেশ ছাড়া …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *