Breaking News
Home / বাংলা লাইফ স্টাইল / গৃহ আনন্দ (দাম্পত্য জীবনের লাইফস্টাইল টিপস)

গৃহ আনন্দ (দাম্পত্য জীবনের লাইফস্টাইল টিপস)

গৃহ আনন্দকৃত্রিমই হোক আর অকৃত্রিমই হোক, সন্তোষসহকারে সঙ্গীকে গ্রহণ করে তৎপর গৃহকে আনন্দময় করার দিকে মনঃসংযোগ করতে হবে।

নৃত্য, গীত, বাদ্য প্রভৃতি যে সমস্ত আনন্দের উপকরণ এ-যাবৎ মানুষকে ঘরের বাহিরে আকর্ষণ করেছে, সেই সমস্ত উপকরণকে গৃহে প্রতিষ্ঠিত করে পুরুষকে গৃহ-মুখী করতে হবে। রাজার শাসন-ভীতি বা ধর্মের নরকাগ্নি-ভীতি যে পুরুষকে এ পর্যন্ত গৃহে বন্ধ করতে পারে নাই, আনন্দ তা করতে পারবে।

স্ত্রীর দায়িত্ব—স্বামীর সহযোগীতা

গৃহকে আনন্দময় করার দায়িত্ব প্রধানতঃ নারীর গলেও এ-কার্য্যে স্বামী-স্ত্রী উভয়ের সহযোগিতা নিতান্ত প্রয়োজন। বাস-গৃহ ও শয্যাদি পরিপাটি রাখা,  খাদ্য-দ্রব্য রুচিকর করে রান্না করা, শৃঙ্খলা ও মিতব্যয়িতার সহিত সংসার পরিচালনা করা, নিজের দেহ ও পোশাক-পরিচ্ছদকে সুশ্রী ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদি কার্য্য স্ত্রী সামান্য চেষ্টাতে নিজেই সম্পাদন করতে পারে। সাধ্য-মত প্রসাধন ক্রিয়াদি দ্বারা নিজের রূপ-যৌবনকে স্বামীর চক্ষে লোভনীয় রাখতে প্রত্যেক স্ত্রীর চেষ্টা করা উচিত।

নৃত্য-গীতাদি দ্বারা স্বামীকে আনন্দ দান করার যোগ্যতা প্রত্যেক  স্ত্রীর থাকা আবশ্যক। এ-সমস্ত উপায়ও স্ত্রী নিজেই অবলম্বন করতে পারে। কিন্তু এমন অনেক বিষয় আছে, যাতে স্বামী-স্ত্রীর সহযোগিতা অবশ্য প্রয়োজনীয়।

পারস্পরিক মনোভাবের বিস্তীর্ণতা

আমরা উপরে ডাঃ মেরী স্টোপসের যে  মত উদ্ধৃত করেছি, যেখানে তিনি বলেছেন যে, সংসারের যাবতীয় ব্যাপারে স্বামী-স্ত্রীর ঐক্যমত থাকিলেও যৌন-ব্যাপারে গরমিল হলে তাঁদের দাম্পত্য-জীবন সুখের হতে পারে না; পক্ষান্তরে, পৃথিবীর যাবতীয় ব্যাপারে মত-ভেদ থাকিলেও রতি-ক্রিয়ার পারস্পরিক উপযোগিতা থাকলে উভয়ের জীবন সুখের হতে পারে। যৌন-উপযোগিতার উপর অতিরিক্ত জোর দিতে গিয়েই হয়তো ডাঃ স্টোপস ঐ কথা বলেছেন। অন্যথায় তিনি রতি-ক্রিয়া ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত উপযোগিতার আবশ্যকতাকে ঐ ভাবে উড়িয়ে দিতেন না। অন্যান্য সমস্ত বিষয়ে মতের মিল থাকলেও রতি-ক্রিয়ায় পরস্পরকে আনন্দ দান করতে না পারলে যে সে-দাম্পত্য-জীবন সুখের হতে পারে না, এ-কথা আমরা বিনা-প্রতিবাদে মেনে নিচ্ছি। কিন্তু যাবতীয় ব্যাপারের মত-বিরোধ একমাত্র যৌন-উপযোগিতার দ্বারা নিরুদ্ধ হতে পারে, এ-কথা আমরা মেতে নিতে পারছি না। তবে এ-কথা সত্য যে, দম্পতির যৌন-সামঞ্জস্য তাঁদের অন্যবিধ সামঞ্জস্য বিধানের সুদৃঢ় ভিত্তি হতে পারে। দম্পতির যৌন-উপযোগিতাকে আশ্রয় করে তাঁদের অন্য সর্বপ্রকারের বিরোধ ধীরে-ধীরে অপসারিত পারে। গৃহকে সম্যক আনন্দপূর্ণ করতে হলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে সকল প্রকার ঐক্যমত না হোক অন্ততঃ সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন। সেজন্য স্বামী-স্ত্রীর পরস্পরের প্রতি নিতান্ত সহানুভুতি-সম্পন্ন হওয়া আবশ্যক।  অন্যথায় দম্পতির প্রেম দীর্ঘকাল স্থায়ী হতে পারে না। কারণ আমরা সাধারণতঃ  যাহাকে প্রেম বলে থাকি, তা আমাদের যৌন-আসঙ্গ-লিপ্সা ছাড়া আর  কিছুই নয়। এই লিপ্সা যেমন তীব্র, তেমনই অল্প-কাল স্থায়ী। রূপ-যৌবনের সঙ্গে-সঙ্গে এই লিপ্সার তীব্রতা হ্রাস-প্রাপ্ত হয়। কিন্তু এই তীব্র লিপ্সাকে ভিত্তি করেই সৌহার্দ্দ্য, সহানুভূতি  ও মমতার মিশ্রণে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যে একত্ববোধের উন্মেষ হয়, তাঁর নাম ভালবাসা। সহৃদয়তা, সহানুভূতি ও প্রীতির কর্ষণে বিবাহিত জীবনে ধীরে-ধীরে এই ভালবাসা দম্পতির প্রাণে দৃঢ়-মূল হয়ে বসে। ফলে রূপ-যৌবনের ভাটার সঙ্গে তাঁদের মধ্যে যে যৌন-লিপ্সার তীব্রতা হ্রাস-প্রাপ্ত হয়, সে-কথা তাঁরা বুঝতে পারে না।

এই স্থায়ী সত্যিকারের ভালবাসার উন্মেষ-লাভ হয় কেবল  তখনই,  যখন যৌন-লিপ্সার প্রাথমিক তীব্রতা হ্রাস-প্রাপ্ত হয়ে থাকে। কিন্তু যৌন-লিপ্সার তীব্রতা বিদ্যমান থাকতে-থাকতেই যদি সহৃদয়তা, সহানূভূতি ও প্রীতির দ্বারা পারস্পরিক মমত্ব-বোধের ভিত্তি গড়ে তোলা না হয়, তবে স্থায়ী ভালবাসা কখনও জন্মলাভ করতে পারে না। সহৃদয়তা ও সহানুভূতি সাধনার বস্তু। মানুষের মন কলে-তৈরি জিনিষ নয়। সুতরাং যত বাছাই করেই বিবাহ হোক না কেন, মন ও দেহের দিক দিয়ে একেবারে খাপ খেয়ে যাবে, এমন দু’টি নর-নারী পাওয়া নিতান্তই দুস্কর। সুতরাং সম্যকরূপে পারস্পরিক উপযোগিতা লাভের জন্য উভয় পক্ষ হতেই কিছু না কিছু ত্যাগ স্বীকার করতেই হবে। পরস্পরের প্রতি অকৃত্রিম সহানুভূতি না থাকলে এই ত্যাগ স্বীকারের বাসনা-স্ফুরণ হতে পারে না। উপরন্ত এই ত্যাগ স্বীকারের বাসনা-স্ফুরন না হলে পরস্পরকে সুখী করার কোনও চেষ্টা কোনও দিক হতে হবার সম্ভাবনা নাই।

ফলতঃ যে-গৃহে স্বামী স্ত্রী পরস্পরকে সুখী করিবার জন্য আগ্রহশীল, যে-গৃহে স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের মেজাজকে পরস্পরের উপযোগী করতে যত্নবান, সেই গৃহে আনন্দ বিরাজমান, সে গৃহেই দম্পতি সুখী না হয়ে যায় না।

এরপর পড়ুন >> স্ত্রী ও পুরুষের ভাবের পারস্পরিকতা

আপনি পড়ছেন >> যৌন বিজ্ঞান বই থেকে।

লেখাটি পড়ে আপনার কাছে ভালো লাগলে এটি শেয়ার করুন।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

সন্তান নিতে করণীয়

নব দম্পতিদের সন্তান নিতে করণীয় বিষয়!

একজন পুরুষ এবং নারী যখন নতুন সংসার শুরু করেন তখন তারা নানা স্বপ্ন দেখে থাকেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE