Breaking News
Home / বাংলা লাইফ স্টাইল / নিজের স্মার্টনেস সমরিদ্ধ করতে দূর করুন বদভ্যাস

নিজের স্মার্টনেস সমরিদ্ধ করতে দূর করুন বদভ্যাস

নখখুব গুরুত্বপূর্ণ একটি কথা চলছে দুই পক্ষের মধ্যে। কথা বলছেন আর দাঁত দিয়ে নখ খুঁটছেন দুজনের একজন। পাশেরজন বিষয়টি খেয়াল করলেও ভদ্রতার খাতিরে কিছুই বলছেন না।

মুখে না বললেও নেতিবাচক একটি ধারণা কিন্তু তৈরি হয়ে যায় অল্প সময়েই। হাতের নখ কামড়ানো, বারবার পা নাড়ানো, জোরে জোরে হাত নেড়ে বা আঙ্গুল তুলে কথা বলা, মাথা চুলকানো, নাকের ভেতর আঙ্গুল ঢুকিয়ে চুলকানো, হাতের কাছে লম্বা কিছু পেলেই কানে ঢুকিয়ে দেওয়া, আঙ্গুল ফোটানো—কত ধরণের মুদ্রদোষ যে আছে! নিজের ইজান্তেই এগুলোর চর্চা করতে থাকেন। বাড়ীর লোকজন হয়তো বিষয়টি তেমনভাবে নেয় না, সমস্যাটা হয় কর্মক্ষেত্রে । অনেকের কাছে এটি হতে পারে ভয়ানক বিরক্তির কারণ।

কারিনা কাপুর
এই বদ অভ্যাসে আক্রান্ত বলিউড তারকা স্বয়ং কারিনা কাপুর

বড় দোষ মুদ্রাদোষ

মুদ্রাদোষ আর কিছু নয়, নেহাত সচেতনার অভাব। সচেতনতা ও সর্তকতার অভাবেই মানুষের মধ্যে গড়ে ওঠে মুদ্রাদোষের রেওয়াজ। মুদ্রাদোষটা খুব স্বাভাবিক একটি বিষয় মনে করে যারা বসে আছেন, তাঁদের জন্য বলছি—আপাত দৃষ্টিতে সাধারণ মনে হলেও এটি অনেক বড় দোষ। করপোরেট প্রতিষ্ঠান গুলোতে এ বিষয়টি খুব সহজভাবে নেওয়া হয় না। নেহাত মুদ্রাদোষের কারণে বদলি বা চাকরি থেকে কৌশলে সরিয়ে দেওয়ার নজিরও আছে। তাই নিজের মুদ্রাদোষকে স্বাভাবিক ভাবে না নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।

যত্ত সব বদভ্যাস

অফিসে ঢুকতে প্রায় পাঁচ—দশ মিনিট দেরি করা, অফিসে ব্যক্তিগত কাজ বা ঝামেলা টেনে আনা, অফিসের ফোনে দীর্ঘ সময় কারো সঙ্গে খোশগল্প করা, কারো সঙ্গে অ্যাসাইনমেন্ট থাকলে সময় মতো না পৌঁছানো, ফাইল বা কাগজ কোনো অফিসে পাঠানোর কথা থাকলে দেরিতে পাঠানোর ব্যবস্থা করা, কোনো সভার দেরি করে উপস্থিত হওয়া, অফিস থেকে আগেভাগেই বেরিয়ে যাওয়া—এ ধরনের বদভ্যাস থাকতে পারে আপনার মধ্যেও। আপাত দৃষ্টিতে এগুলো সাধারণ ক্রটি মনে হলেও এসবই হতে পারে আপনার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় ক্ষতির কারণ। তাই বদলে ফেলুন এ ধরনের ক্রটিপূর্ণ অভ্যাস। মুদ্রাদোষ ও বদভ্যাসের মধ্যে পার্থক্যটা হলো, মুদ্রাদোষ ঘটে মনের অজান্তেই আর বদভ্যাসের প্রকাশ জ্ঞহতে অনেকটা সচেতনভাবেই। অফিসের কারো পেছনে লেগে থাকা, কারো ব্যক্তিগত বিষয় সবার সঙ্গে শেয়ার করা বা কারো দোষ সবার কাছে বলে বেড়ানো—এ গুলো বদভ্যাসের পর্যায়ে পড়ে।

বদলে ফেলুন নিজেকে

মুদ্রাদোষ বা বদভ্যাস যা-ই বলি না কেন, সবই দূর করা সম্ভব। এসব বাজে অভ্যাস থেকে নিজেদের নিজেরাই মুক্তি দিতে পারি। এর জন্য চাই কেবল সদিচ্ছা। মুদ্রাদোষ পরিহার করার জন্য নিজের চেষ্টাই যথেষ্ট। নিজের মুদ্রাদোষটি শনাক্ত করে সব সময় সচেতন থাকতে হবে, যাতে মনের ভুলে আমরা যেন এমন চর্চা না করি। যিনি কথা বলতে বলতে হাত নাড়েন, তিনি হাত পেছনে রেখে কথা বলার অভ্যাস করতে পারেন। এ ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখা। এটি থাকলে নিজেকে বদলাতে খুব বেশি বেগ পোহাতে হয় না।

অন্যের সাহায্য নিন

নিজেকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা অনেকের পক্ষেই সম্ভব হয় না। খেয়াল থাকে না বলেই মুদ্রাদোষের চর্চা হয়। তাই এ ক্ষেত্রে অন্যের সাহায্য বেশ কাজে দেবে। কাছের সহকর্মীদের জানিয়ে রাখতে হবে, যাতে তারা সেই সময়টায় থামিয়ে দেন বা মনে করিয়ে দেন, নিয়মিত ব্যায়াম এ ক্ষেত্রে আপনাকে সাহায্য করতে পারে। মাত্রা ছাড়িয়ে গেলে অবশ্যই মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। অনেক মুদ্রাদোষ থাকে, যা অনেক মানসিক রোগের অনুসর্গ হয়ে দাঁড়ায়।

নিজেই যথষ্ট

বদভ্যাস দূর করতে কারো সাহায্যের দরকার হয় না। আপনি নিজে নিজেই বদলে ফেলতে পারেন বদভ্যাস। দেরি করে অফিসে যাওয়ার বদভ্যাস থাকলে তা বদলে ফেলুন। কেউ দেরি করে অফিসে ঢুকে জ্যামের অজুহাত দেয়, এটা মোটেই উচিত নয়। রাস্তা ঘাটের নানা সমস্যা, জ্যাম ইত্যাদি মাথায় রেখেই বাসা থেকে বের হতে হবে। অফিসে কাজের জায়গা, সেখানে খোশগল্পে মেতে ওঠা, অতিরিক্ত হাসি ঠাট্টা, অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানো দায়িত্বহীনতাই প্রমাণ করবে। এসব অভ্যাস থাকলে তা বদলে ফেলা খুব একটা কঠিন কাজ নয়। এর জন্য সদিচ্ছাই যথেষ্ট।

টিপস

* কাজের সময় অফিস খোশগল্প করবেন না।

* খুব জোরে হাসি ঠাট্টা অন্যের বিরক্তির কারণ হতে পারে।

* বাসা থেকে বেশি সময় হাতে নিয়ে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হোন। ঘুম থেকে নির্দিষ্ট সময়ে ওঠার জন্য ঘরিতে পর পর কয়েকটি অ্যালার্ম দিতে পারেন।

* কখনোই নিজের কাজ অন্যের উপর চাপিয়ে দেবেন না। তবে প্রয়োজন কোনো সহকর্মীর সাহায্য নিতে পারেন

* ক্রটিপূর্ণ অভ্যাস রাতারাতি পরিবর্তিত হবে না। এর ধৈর্য নিয়ে নিয়মিত অনুশীলন করতে হবে।

* অভ্যাস পরিবর্তন হতে থাকলে নিজেই নিজেকে মনে মনে অভিনন্দন জানাতে হবে। তাহলে সুন্দর অভ্যাসটি স্থায়ী হবে।

রূপচর্চাঘরে বসেই রূপচর্চা

আমাদের দেশে বিউটি পার্লার গুলোর আমদানি খুব বেশি দিনের নয়। তারও অনেক আগে থেকেই এ দেশের নারীরা রূপচর্চা করতেন। আর তার উপকরণগুলো জুটে যেতো রান্নাঘর আর ভাঁড়া ঘর থেকেই।

আজও আপনি হারবাল কেয়ার—এর বেশির ভাগই কম খরচে ঘরে বসেই করতে পারেন। এতে সময় হয়তো একটু বেশিই খরচ হবে। কিন্তু বাজারের কেনা সিন্থেটিক ক্রিম, লোশন ইত্যাদির তুলনায় উপকার পাবেন অনেক গুণ বেশি। আর সব চেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ঘরে তৈরি এসব জিনিসে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াও নেই। কিভাবে কি উপকরণ ব্যবহার করলে তার সুফল কি হবে এবার দেয় গেল তারই কিছু পরামর্শঃ

অনেকের পক্ষেই সাবান ব্যবহার ত্বকের ক্ষতি ডেকে আনে। এক্ষেত্রে এদের জন্য দরকার হচ্ছে রাতে শোবার আগে দুধের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে তুলোতে করে সারা মুখ, হাত—পা—গলায় এবং ঘাড়ে লাগান। ১৫/২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। দেখবেন মুখ, হাত—পা পরিস্কার হয়ে গেছে। আপনার ত্বক যদি খুব বেশি তেলতেলে হয় তবে লেবুর রসের বদলে দুধ ও বেসনের মিশ্রণ ব্যবহার করুণ। আর ত্বক যদি খুব বেশি শুল্ক হয়ে থাকে, তবে এসব ত্বকের উপযোগী হচ্ছে দুধের সর ও লেবুর রস লাগানো। ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ বা তেলতেলে হলে অর্থাৎ সব রকম ত্বকের জন্য একটি চমৎকার উপটান তৈরি করে নিতে পারেন। আধা কাপ দুধের মধ্যে আধা কাপ ছোলার ডাল ভিজিয়ে রেখে দেবেন সারা রাত। পরদিন ঝাল—মশলা শূন্য পরিস্কার শীল পাটায় মিহি করে বেটে ত্বকে লাগান। সুফল পাবেন অনেক রকমের। আপনার ত্বক যদি স্বাভাবিক বা শুকনো হয়, তবে এই ডাল বাটার মিশ্রণে একটি ডিম, দু’ফোঁটা অলিভ অয়েল ও সামান্য একটু চন্দন গুড়া মিশিয়ে নেবেন। আর তৈলাক্ত ত্বকের পক্ষে এই ডাল বাটার সাথে লেবুর রস, ডিমের সাদা অংশ এবং চন্দন মেশাবেন। আর যাদের মুখে ব্রণ বা ফুস্কুড়ি তারা এ উপটান ব্যবহার করবেন না। কমলা লেবুর খোশা সব ত্বকের পক্ষেই সহায়ক। কমলা লেবু খাওয়ার পর এর খোসাগুলো না ফেলে কড়া রোদে শুকিয়ে গুঁড়ো করে শিশিতে ভরে রেখে দিন। ত্বক যাদের তৈলাক্ত তারা কমলার খোসা গুঁড়ের সাথে লেবুর রস, ডিমের সাদা অংশ এবং বেসন মিশিয়ে মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। স্বাভাবিক বা শুষ্ক ত্বক হল লেবুর রস আর ডিম ছাড়া হলুদ বাটা আর দুধ ব্যবহার করবেন। এছাড়া বাড়িতে আরো নানা উপটানের উপাদান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। সেসব মিলিয়ে ঠিক আপনার ত্বকের প্রয়োজন মতো উপটান তৈরি করে নিন। এর জন্য শুধু জানতে হবে কোন কোন উপাদানের কি কি উপকারিতা। তাহলে নিজেই নিজের মাস্ক তৈরি করে নিতে পারবেন। যেমন দুধ বা দুধের সর ত্বককে পরিস্কার ও নরম করে। হলুদ ত্বকের অ্যান্টিসেপটিকের কাজ এবং নরম মসৃণ করে। চন্দন তৈলাক্ত ত্বকের পক্ষে ভিষণ উপকারী। এটি ত্বকে অ্যাস্ট্রিনজেন্টের কাজ করে। বেসন ত্বক পরিস্কার করে ভিটামিন-বি যোগান দেয়। ডিমের প্রোটিন যোগান দেয় এবং ত্বকের বার্ধক্য রোধ করে। লেবুর রস ত্বকের কালো দাগ দূর করে দেয়। বীটের রস ত্বকে লালিমা আভা যোগান দেয়। বাঁধাকপির রস ত্বকে কোমল ভাব এনে দেয়। শসার রস অ্যাস্টিনজেন্ট লোশনের মতোই কাজ দেয়। এ রকম আরো হরেক রকম উপকরণ রয়েছে, যা একেবারে আপনার হাতের নাগালের মধ্যেই। এসব নিয়ে পরে আলোচনার আশা রইলো।

এবার বাড়িতে বসে ময়েশ্চারাইজার এবং গোলাপ পানি তৈরির একটি নিয়ম জানিয়ে দিচ্ছি। সম পরিমাণ গোলাপের পানি ও গ্লিসারিন মিশিয়ে রেখে দিন। ব্যাস তৈরি হলো ময়েশ্চারাইজার।

কিছু পরিমাণ গোলাপের পাপড়ি সংগ্রহ করে নিন। এবার এই পাপড়িগুলো ভাল করে ধুয়ে এক কাপ পাপড়ির সাথে এক কাপ পানি মিশয়ে স্টেনলেস স্টিলের হাঁড়িতে করে উননে বসান। হাঁড়িটি ঢেকে ২০ মিনিট ফোটান। তারপর নামিয়ে পাতলা কাপড়ে ছেঁকে নিন। ব্যাস তৈরি হয়ে গেল বিশুদ্ধ গোলাপ পানি। যা সবার ত্বকের পক্ষেই ভিষণভাবে উপকার করে থাকে। এই গোলাপ পানি ঠান্ডা করে শিশইতে ভরে রেখে দিন এবং প্রয়োজনের সময় তা ব্যবহার করুণ।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

পশু পাখি

পশু-পাখির প্রতিও সদয় হোন!

অমায়িক ব্যবহার কারো অভ্যাসে পরিণত হলে তা সাধারণত দূর হয় না। তা তাঁর প্রকৃতির অংশ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE