Breaking News
Home / ব্লগ / প্রশ্নঃ সতী নারী কাকে বলে? সতীত্ব কি শুধু নারীদের জন্যই প্রযোজ্য?

প্রশ্নঃ সতী নারী কাকে বলে? সতীত্ব কি শুধু নারীদের জন্যই প্রযোজ্য?

প্রশ্নঃ সতী নারী কাকে বলে? সমাজে সতীত্ব কি শুধু নারীদের বেলায় প্রযোজ্য? পুরুষদের কি সতীত্ব থাকার প্রয়োজন নেই?

উত্তরঃ যে নারী স্বামীর অধিকার অন্য পরপুরুষের কাছে বিলিয়ে দেন না তিনিই হচ্ছেন সতীনারী। আর এসব নারীরাই আল্লাহর রাসূলের (সাঃ) কথা অনুযায়ী দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কিন্তু বর্তমানে অনেক নারীই তাঁরা ভুল পথে পরিচালিত হচ্ছে এবং নিজেদের পরপুরুষের ভোগের বস্তু বানিয়ে নিচ্ছে।

অনেক নারী-পুরুষ মনে করে বিয়ের আগে সেক্স করা থেকে বিরত থাকাকেই সতীনারী বলে। তাই বিয়ের পর প্রথম মিলনের সময় যোনিপথের রক্ত বের হওয়াকে সতীনারীর প্রতীক ভাবে।

কিন্তু বিয়ের আগে সেক্স করা থেকে বিরত থাকা নারীকে সতীনারী বলে না। একজন নারী বিয়ের আগে সেক্স করা ছাড়াও, এবং বিয়ের পরও তাঁর সতীত্ব হারাতে পারে।

বিয়ের আগে সেক্স করা নারীকে কুমারীত্ব হারানো নারী বলা যেতে পারে কিন্তু বিয়ের আগে সেক্স না করা নারীকে পুরোপুরী সতীনারী বলা যাবে না।

অনেকের মনে হয়তো প্রশ্ন জাগতে বিয়ের আগে সেক্স করা নারীকে যদি অসতী নারী না বলা হয় তাহলে অসতী নারী কে আবার বিয়ের পর স্বামীর সাথে যৌনাচার করার পরও একজন নারী কিভাবে তাঁর সতীত্ব হারাতে পারে?

তাদের এ প্রশ্নের উত্তর হচ্ছে, একজন নারী তাঁর যোনিপথের পর্দা ছিড়ে যাওয়ার ভয়ে সেক্স করল না কিন্তু তাঁর ছেলে বন্ধুদের সাথে বাকী যা কিছু করার তা সবই করল তা আপনি এই নারীকে কি সতীনারী বলবেন? অপর আরেক নারী বিয়ের পূর্বে সবই ভালো কিন্তু বিয়ের পর স্বামী অনুপস্থিতি ও অক্ষমতার কারণে যৌবনের তাড়নায় ভিন্ন পুরুষের সাথে সম্পর্ক স্থাপন করে এবং যৌন কর্ম করে তাঁর যৌবনের চাহিদা পূরণ করলো তাঁকে কি আপনি সতীনারী বলবেন?

এর সঠিক উত্তর হচ্ছে এ দুই শ্রেণীর নারীই হচ্ছে দুশ্চরিত্রা আর দুশ্চিরিত্রা নারীকেই অসতী নারী বলা হয়।

একজন সতীনারীর কাছে তাঁর স্বামীই সব। নিজের সব কিছু স্বামীর জন্য তাঁর দেহের অঙ্গ প্রতাঙ্গ হেফাযত করে রাখে এবং স্বামীর সম-মর্যাদা অন্য কাউকে দেয় না।

সমস্যা হচ্ছে আমাদের সমাজ একপক্ষকে খারাপ বললেও অপর পক্ষকে ছেড়ে কথা বলে। আমাদের সমাজ শুধু নারীদের সতীত্ব খোঁজে কিন্তু পুরুষের সতীত্ব খোঁজে না। যারা নারীদের সতীত্ব নষ্ট করে যাচ্ছে আমাদের সমাজ তাদেরকে দোষারূপ করে না।

আরও পড়ুন ঃ সতী নারী চেনার উপায়

আমার জানা মতে বাংলাদেশে ১ লক্ষের অধিক দেহ-পসারিণী আছে। একজন দেহ-পসারিণী যদি গড়ে প্রতিদিন ৫ জন পুরুষকে অর্থের বিনিময়ে দেহ ভোগের সুযোগ দেয় তাহলে প্রতিদিন ৫ লক্ষের বেশি পুরুষ শুধু অবৈধ পন্থায় যৌন কর্ম করার মাধ্যমে তাঁর যৌবনের চাহিদা পূরণ করছে। এখন তাদেরকে অসতী পুরুষ বলবে কে?

কিন্তু ইসলাম এ দুইটি দলকেই দুশ্চরিত্রা বলে এবং ভয়ংকর শাস্তি উপভোগ করার আইন দিয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশের কথিত নারীবাদীরা আঙ্গুল অপরাধীদের উপরে তোলার বদলে ইসলামের উপরেই তুলে। কারণ ইসলাম পুরুষের মতো নারীকে চার বিয়ের অধিকার দেয়নি বলে। এইসব নারীবাদীরা শুধু পুরুষের চার বিয়ে দেখে কিন্তু চার বিয়ের শর্ত দেখে না এবং দেখে না এর মানদন্ডও। এরা বিজ্ঞানের কথা বলে কিন্তু বিজ্ঞানের বিপরীতে চলে। তাঁর প্রমাণ পুরুষের একাধিক বিয়ে নিয়ে তাদের আপত্তিকর কথা-বার্তা।

এইসব কথিত নারীবাদীদেরকে বলি, আপনারা এমনেই তো কথায় কথায় ইসলামকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখান ও চলেন, আপনারা এক কাজ করুন, নিজেরা চারটি করে বিয়ে করুন এবং চারটি স্বামীর সংসারের কাজ কর্ম করুন এবং তারই সাথে চারটি স্বামীর সাথে পাল্লা করে যৌন কর্ম করুন। চার স্বামীর সাথে যৌন সঙ্গম উপভোগ করে এর পর নারীদের চার বিয়ে করার অধিকার নিয়ে কথা বলুন। এমনেতেই তো ইসলামের বিধি-নিষেধ আপনারা মানেনা তাহলে এটিকে মানবেন কেনো? আপনারা যেহেতু ইসলাম মানেন না তাহলে অপ্রত্যাশিত ভাবে ইসলামের এই মানদন্ড মেনে নিজেদেরকে কেনো এক স্বামীর অধিনে রেখেছেন। সমাজ পরিবর্তন করতে হলে সে পরিবর্তন নিজের মধ্যে আনতে হয়। এক দিকে পরিবর্তন আনবেন, কিন্তু অপর দিকটিকে বাদ রেখে দিবেন তা কেমন করে হয়?

আর পুরুষদের বলি, নিজে বিয়ে করার জন্য তো খুব ভালো করেই সতীনারী খুঁজেন। কিন্তু আপনি নিজে কতজন নারীর সতীত্ব নষ্ট করেছেন তাঁর হিসাব কি রেখেছেন? নিজেরা নারীদের সতীত্ব নষ্ট করবেন আবার নিজেই বিয়ে করার জন্য সতী নারী খোঁজবেন, আল্লাহ আপনাকে সতীনারী মিলি দেবেন ভাবেন কি করে?

বাংলার একটি প্রবাদ আছে, উপরের দিকে থু থু নিক্ষেপ করলে সে থু থু নিজের মুখের উপড়ে এসেই পড়ে। প্রবাদ সত্য, কাজ করার আগে বুঝে করবেন।

দুশ্চরিত্রা নারী দুশ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং দুশ্চরিত্র পুরুষ দুশ্চরিত্রা নারীর জন্য (উপযুক্ত)। (একইভাবে) সচ্চরিত্রা নারী সচ্চরিত্র পুরুষের জন্য এবং সচ্চরিত্র পুরুষ সচ্চরিত্রা নারীর জন্য (উপযুক্ত)। তাদের সম্পর্কে (দুশ্চরিত্র লোকেরা) যা বলে,তা থেকে তারা পবিত্র। তাদের জন্যে আছে ক্ষমা ও সম্মানজনক জীবিকা।” আল কোরআন (২৪:২৬)

লিখেছেনঃ সৈয়দ রুবেল (প্রতিষ্ঠানা ও সম্পাদকঃ আমার বাংলা পোস্ট)

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

পণ্য

ইসলাম নারীদের পণ্য বানিয়েছে!

নতুন নতুন গজিয়ে উঠা তথাকথিত নারীবাদীদের প্রায় একটা অভিযোগ করতে দেখা যায়। সেটা হলো, ইসলাম …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE