Breaking News
Home / ব্লগ / ধর্ষণের মিছিল থামান, নয়তো একদিন আপনার কন্যারা এই মিছিলের শ্লোগানের শিকার হবে।

ধর্ষণের মিছিল থামান, নয়তো একদিন আপনার কন্যারা এই মিছিলের শ্লোগানের শিকার হবে।

ধর্ষণ মানেই গায়ের জোরে নিজের ইচ্ছা চরিতার্থ করার মনোবৃত্তি। নৃশংসতা ধর্ষণের মনোবৃত্তির দোসর। আজকাল প্রায় রোজই নৃশংস ধর্ষণের ঘটনা জানতে পাই। বর্তমান সময়টা নিষ্ঠুর কদর্য বৈষম্য আর সংঘাতে অস্থির। নৃশংসতা দেখতে দেখতে আমাদের মন অবশ হয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রের রক্ষকদের নিষ্ঠুরতা, সমাজের আর গোষ্ঠীর নিষ্ঠুরতা, ব্যক্তির নিষ্ঠুরতা। ঘাত, প্রতিঘাত, প্রতিশোধ। আমাদের এসব সয়ে যাচ্ছে। বোধগুলো ভোঁতা হয়ে যাচ্ছে। ভাবনাগুলো যান্ত্রিক হয়ে গিয়েছে।
গত শুক্রবার রাতে টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কর্মী রূপা খাতুনকে ধর্ষণ শেষে ঘাড় মটকে হত্যা করেছে বাসের হেল্পার ও তার চার সহকর্মী। ধর্ষন শেষে রুপার লাশ বনে ফেলে দিয়ে চলে যায়।

গত শুক্রবার বগুড়ার চারমাথা থেকে বাসটি সন্ধ্যা সাতটার পর ময়মনসিংহের উদ্দেশে যাত্রা করে। বগুড়ার বনানী এলাকা থেকে ওই তরুণীসহ আরও পাঁচ-ছয়জন যাত্রী বাসে ওঠেন। বাসটি সিরাজগঞ্জে আসার পর শুধু ওই তরুণী ছাড়া আর কোনো যাত্রী ছিল না। বাস এলেঙ্গা পার হওয়ার পর চালকের সহকারী শামীম প্রথমে তরুণীকে অশোভন প্রস্তাব দেন। পরে জোর করে বাসের পেছনের আসনে নিয়ে যান। তখন তরুণী তাঁর মুঠোফোন এবং সঙ্গে থাকা পাঁচ হাজার টাকা শামীমকে দিয়ে অনুরোধ করেন, তাঁর কোনো ক্ষতি যেন না হয়। টাকা ও মুঠোফোন নেওয়ার পর শামীম তরুণীকে হত্যা করার ভয় দেখিয়ে ধর্ষণ করেন। পরে বাসের অপর দুই সহকারী আকরাম ও জাহাঙ্গীরও তাঁকে ধর্ষণ করেন। বাস মধুপুর উপজেলা সদরের কাছাকাছি পৌঁছালে তরুণী চিৎকার করে ওঠেন। এ সময় শামীম, আকরাম ও জাহাঙ্গীর তাঁর ঘাড় মটকে হত্যা করেন। পরে মধুপুর শহর পার হয়ে বনাঞ্চলে প্রবেশের পর পঁচিশ মাইল এলাকার সুমি নার্সারির কাছে তরুণীর মরদেহ ফেলে দেন।
কতটা হিংস্র ও জানোয়ার হলে একটি অসহায় মেয়েকে এভাবে ধর্ষনের পর হত্যা করতে পারে ভাবা যায় কি? রুপার ঘটনাটা যখন পড়ছিলাম তখন চোখের সামনে যেন মেয়েটির অসহায় চেহারাটি ভেসে উঠে বারবার। কল্পনাতে শুধু বারবার ঘটনাটা সামনে ভেসে আসে, কি করে সম্ভব একটি চলন্ত বাসে একটি মেয়েকে ধর্ষন করা? যদিও চলন্ত বাসে ধর্ষণ এটাই প্রথম নয়। ধর্ষনের সময় ড্রাইভার ও সুপারভাইজার বা কি ভাবছিলেন? এই পরিবহন শ্রমিকদের কি একবারও মনে হয়নি রুপাদের ও আমাদের কষ্টের টাকায় দেওয়া ভাড়াতে তাদের পেটে দু মুঠো ভাত জুটে?
নাহ! এ কি ভাবছি আমি! একজন ধর্ষক কখনো মানুষ হতে পারেনা, কোন জানোয়ারের মাঝে মনুষ্যত্ব থাকেনা, তাই তাদের মাথায় এমন চিন্তা ভাবনা আসা সম্ভব না। কারন আজ প্রথম আলোতে দেখলাম, এত বড় বর্বরোচিত ঘটনা ঘটানোর পরও ঘাতকদের আচরণ ও চিন্তাভাবনা ছিল খুবই স্বাভাবিক সংবাদমাধ্যমে এমন খবর পেয়ে বিস্মিত হয়েছি সত্যি।
নিউজে দেখলাম, টাঙ্গাইলের মধুপুরে শালবনের মধ্য দিয়ে যাওয়া রাস্তার ওই অংশটি গা-ছমছমে নির্জন। ওই পথের নিয়মিত যাত্রীরা বলছে, সেখানে নাকি সন্ধ্যার পর যানবাহনের সঙ্গে পুলিশের পাহারা থাকার কথা। সেই দিন কি তা ছিল না? না থাকলে, কেন? আর থেকে থাকলে কি দায়িত্ব পালন করেছেন তারা? তাদের নাকের ডগায় কি করে এমন বর্বর ঘটনা ঘটে গেলো?
কুমিল্লার মেধাবী ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুকেও ধর্ষনের পর ক্যান্টনমেন্টের বনে ফেলে দিয়ে যায় হিংস্র নরপশু একদল ধর্ষক। তনুকে হত্যার পর আপামর সকল জনতা রাজপথে নেমেও বিক্ষোভ করেছিলেন, কিন্তু ফলাফলের সময় আমরা দেখলাম রাস্ট্রের রক্ষকরা বলছেন তনুকে ধর্ষনের কোন আলামত পাওয়া যায়নি, তনুকে ভাল্লুকে খেয়েছে, তাই এমন ঘটনায় বাংলাদেশের আইনে কোন বিচারের ব্যাবস্থাও নেই।
সত্যিই তো ভাল্লুককে তো গ্রেপ্তার করা যায় না, তাকে তো আর ফাঁসিতে ঝুলানো যায় না। তাই তনু হত্যার বিচারের ফলাফল শুন্য।
কিন্তু রুপা ও রিশাকে ভাল্যুকে খায়নি, দেখতে চাই এর কি বিচার হয়। যদিও শুক্রবারের ঘটনায় পুলিশ অবশ্য তৎপর হয়ে ঘাতকদের খুঁজে বের করে গ্রেপ্তার করেছে। হয়তো বিচারের আশাও করা যেতে পারে। কিন্তু তাতে এমন ঘটনা থামবে বলে ভরসা করতে পারছি না। কারন বর্তমান সময়ে কিছু কিছু পুরুষরুপী কাপুরুষ ধর্ষণটাকে একটি আর্ট হিসেবে নিয়েছে। আর এই আর্ট এখন ঘরে ঘরে পরিবারে পরিবারে জনে জনে শাখা বিস্তার করেছে।
এই লেখা যখন লিখছি তখন একটি নিউজে দেখলাম, সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রী তার খালুর বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ তুলেছে। ভেবে দেখুন, ঝুঁকি কার কাছ থেকে? বরং প্রশ্ন করা যায়, কার কাছ থেকে না? সপ্তম শ্রেণীর ছাত্রী তার খালু দারা ধর্ষনের শিকার, সেদিন দেখলাম সিলেটে এক বাবা তার নিজ মেয়েকে ধর্ষন করেছেন। কার কাছে মেয়েরা ঝুঁকিহীন? উত্তর মিলে কারো কাছেই না।
#দুই
একটা সময় ক্রিকেট খেলাটি ছিলো বিনোদন, তারপর কালের বিবর্তনে ক্রিকেট হয়ে গেলো ব্যবসায়িক চিন্তা ধারনা, আর বর্তমানে ক্রিকেট হল রাজনৈতিক দাবা। সরকারী আমলা ও নেতারা যে যখন যেভাবে পারছে এই বিনোদনকে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করছে। ক্রিকেট খেলোয়াড়দের দিয়ে জোর করে নিজ নামে সাফাই গেয়ে জনসমর্থন জোগান দিচ্ছেন নেতা নেত্রীরা।
২০১৩ সালে আমরা দেখেছিলাম, কথিত যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবীতে শাহবাগে জড়ো হয়েছিলো কয়েকজন জনপ্রিয় ক্রিকেটার, একপর্যায়ে শুনা যায় তাদেরকে সেখানে যেতে বাধ্য করা হয়েছে।
এর কিছুদিন পর আমরা দেখেছিলাম সরকার দলের একটি ছোটখাটো সমাবেশের মঞ্চে একজন জনপ্রিয় ক্রিকেটারকে। সেসময়েও গোপন সুত্রে জানা যায় সমাবেশে যেতে তাকে বাধ্য করা হয়েছিলো।
গতকাল আমরা দেখেছিলাম আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়া ম্যাচের শেষের দিকে হটাত করেই গ্যালারিতে এসে উপস্থিত হন, প্রথমে নিউজের এক শিরোনামে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী বলছেন’
“দেখো, আমি আসার আগেই বাংলাদেশ জিতে যাবে “। তখনই খানিকটা ধারনা করেছিলাম ঘটনাটা আসলে কি হতে পারে!
পাপন সাহেব নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রীকে সম্ভাব্য জয়ের আগাম বার্তা দিয়েছেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের এই সুবর্ন সুযোগ প্রধানমন্ত্রী হারাতে চাইলেন না। ধুমধাম করে নিরাপত্তার বলয় ভেঙে গ্যালারিতে এসে উপস্থিত হলেন সময়ের সদব্যবহার করতে।
করলেনও তাই,
খেলা শেষে প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিলেন ১৫ জন খেলোয়াড়কে পুরস্কার হিসেবে ২ কোটি টাকা দেওয়া হবে। আর বাংলাদেশের বিজয়কে তিনি ঈদের শুভেচ্ছা উপহার হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন। যদিও বন্যাদুর্গত ৬০ লক্ষ মানুষের জন্যে প্রধানমন্ত্রী কোটি টাকাও বরাদ্ধ রাখতে পারলেন না।
আমরা ক্রিকেট পাগল জাতি, প্রধানমন্ত্রীর এই মহানুভবতা দেখে হিংসে করি, গর্বে বুক ফুলিয়ে বলি আমাদেরও একজন প্রধানমন্ত্রী রয়েছেন যিনি দেখতে হুবুহু পরী “।
গতকাল প্রকাশিত প্রথম আলোর এক ছবিতে দেখলাম প্রধানমন্ত্রী বাম কানে মোবাইল ধরে কথা বলছেন গ্যালারি থেকে বেরিয়ে, অতি আনন্দে প্রধানমন্ত্রী ভুলেই গিয়েছেন যে তিনি বাম কানে শুনতে পান না।
যাই হোক, ক্রিকেট যে এখন রাজনৈতিক তাসে পরিনত হয়েছে তা আর বুঝার বাকি নেই।
**
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, গতকালের ক্রিকেটের বিজয়কে আপনি ঈদের শুভেচ্ছা উপহার আখ্যা দিয়েছেন, তবে ধর্ষনের শিকার রুপার রক্তাক্ত লাশকে কিসের উপহার হিসেবে আখ্যা দিবেন?
ক্রিকেটের বিজয়ে হোক কিংবা রাজনৈতিক ফায়দা উসুলের কায়দাই হোক কিন্তু অতি আনন্দ দেখাতে গিয়ে আপনি ভুলেই গিয়েছেন শোকের মাস আগস্টে কোন আনন্দ করা যাবেনা।
ঘাড় মটকানো নিহত রক্তাক্ত রুপার কথাও ভুলে গেলেন আনন্দের জোয়ারে ভেসে! তার পরিবারের পাশে গিয়েও আপনার রাজনৈতিক ফায়দা উঠাতে পারতেন। কিন্তু তা করেন নি।
আমরা দেখেছিলাম, বিএনপিকে ক্ষমতা থেকে নামাতে এক ইয়াসমিন হত্যা মামলায় আপনি সারা বাংলাদেশে কাঁপন ধরিয়ে দিয়েছিলেন মাঠে নেমে, অথচ আজ আপনার শাসনামলে আপনার চোখের সামনে হাজারো ইয়াসমিনরা ধর্ষনের শিকার হচ্ছে কিন্তু আপনি সেসব দেখেও না দেখার ভান করে আছেন।
আপনিও একজন কন্যা সন্তানের মা, একবার রুপা রিশা ও তনুদের জায়গায় আপনার কন্যাকে কল্পনা করে দেখুন কতটা বর্বরতা চালানো হয়েছে ওদের উপর। আপনিও একজন নারী, শুধু একবার কল্পনা করে দেখুন কতটা নির্মমভাবে রুপাদের মতো নারীদেরকে খাবলে খাবলে ছিড়ে খেয়ে ঘাড় মটকিয়ে মারা হয়েছে। ভাবতেই আমার গা শিউরে উঠে, শুধু জানিনা আপনার কেমন লাগে!
জানতেও চাইনা আপনার অভিমত বা অনুভূতি,
শুধু এটুকু জানাতে চাই ” ক্রিকেটের বিজয় হয়তো আপনার জন্যে ঈদের উপহার, কিন্তু সারা বাংলাদেশের ঈদের উপহার হল ধর্ষনের শিকার রুপার রক্তাক্ত লাশ “।
লাশের এই মিছিল থামান, নয়তো একদিন আমার আপনার কন্যারা এই মিছিলের শ্লোগানের শিকার হবে।

লেখকঃ মেজর ডালিম এর ফেসবুক ওয়াল থেকে।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

এই ঘর এই লোকালয়

গ্রন্থ পর্যালোচনায় —মিলি চৌধুরী কবি  শফিকুল  ইসলাম  এক  জীবন বিদগ্ধ  চেতনার  কবি  । হৃদয়ের  টানাপোড়নের  …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE