Home / নারী / নারীর জীবনধারা / প্রশ্নঃ আমি কি করলে স্বামী বেশি খুশি হবে?

প্রশ্নঃ আমি কি করলে স্বামী বেশি খুশি হবে?

প্রশ্নঃ আমি কি করলে স্বামী বেশি খুশি হবে?

স্বামীকে খুশি রাখার উপায় বা কিছু নিয়ম বলে উপকৃত হবো। স্বামী খুশি থাকে এমন কোন কাজ ও টিপস বলে দিলে ভালো হয়।

প্রিয় পাঠিকা, স্বামীকে খুশি রাখার সম্পর্কে জানতে চাওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

প্রিয় পাঠক-পাঠিকা, আমাদের নিকট আপনার কোনো জিজ্ঞাসা আছে? আপনার কোনো জিজ্ঞাসা থাকলে নির্দ্বিধায় আমাদেরকে >> বার্তা পাঠান। 

আমার বাংলা পোস্ট.কম ব্লগের উত্তরঃ সংসারে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখা স্বামী স্ত্রীর একান্ত কর্তব্য। যাদের সংসারে শান্তি ও শৃঙ্খলা বৃদ্ধমান থাকে, তাঁরা দুনিয়ায় থেকেই জান্নাতের সুখ লাভ করতে পারে। দুনিয়াটাই তাদের জন্য জান্নাতের বাগান হয়ে যায়। যাদের সংসারে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় থাকে না, তাঁরা অশান্তি আগুনে নরকের আযাব দুনিয়াতেই ভোগ করে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়। কেননা, বনের আগুন পুড়ায় বন-জঙ্গল, আর সংসারের অশান্তির আগুনে পুড়ায় মন। অন্তর পুড়ার দাহ চোখে দেখা যায় না আচরনে প্রকাশ পায়।

স্বামীকে খুশি রাখার উপায়সুখ হাতে এসে ধরা দেয়, জীবনে সুখী হওয়ার পথ তৈরি করে নিতে হয়। যেপাত্রে পানি যেমন, জীবনকে সুখী করতে চাইলে অনুরূপ পানির মতো হতে হবে। জীবন যেখানে যেমন, আপনাকে তেমন করে নিজেকে গঠন করে নিতে হবে। সব জায়গায় একই রকমের জীবন যাপন করা যায় না, সময়ের সাথে সাথে জীবনেরও পরিবর্তন আসে। এই পরিবর্তনের সাথে নিজেকে আপ টু ডেট (Up to Dat) রাখতে হবে।

আপনি আপনার স্বামীর কাছ যেরূপ উত্তম আচরণ প্রত্যাশা করেন, আপনাকেও অনুরূপ আচরণ করে যেতে হবে। আপনাকে সময় ও প্রেক্ষাপটও বুঝতে হবে। তাহলেই তো আপনি হতে পারবেন অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী। কিন্তু কয়জন স্ত্রী সময় ও প্রেক্ষাপটের সাথে নিজেকে মানিয়ে চলেন? সমস্যাটি শুরু হয় ঠিক এখান থেকেই।

১। আচরণগত সমস্যাঃ অনেক স্ত্রীকে দেখা যায় স্বামীর সাথে সুন্দর আচরণ করে না। ছোট খাটো বিষয় নিয়ে কটু কথা বলে। দিনে দিনে এমনটি চলতে থাকলে স্ত্রীর প্রতি স্বামী অসন্তুষ্ট হবে এটাই স্বাভাবিক। সুখময় দাম্পত্য  জীবন গড়তে এটি পরিহার করা জরুরী। তাই, স্বামীর কাছ থেকে ভালো আচরণ পেতে হলে স্ত্রীকে অবশ্যই স্বামীর সাথে উত্তম আচরণ করতে হবে। স্বামী কোন একটি বিষয় নিয়ে আপনার সাথে খারাপ আচরণ করে ফেলেছে, আপনি পাল্টা হিসেবে অনুরূপ আচরণ করতে যাবেন না। তাতে আপনিও তাঁর সমান হয়ে গেলেন।

০২. ঝগড়া-ঝাটিঃ  নারীদের মধ্যে অনেকেই আছে ছোট খাটো বিষয় নিয়ে শ্বশুড়-শাশুড়ি ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ঝগড়া লেগে যায়, তাঁদের ছোট খাটো কটু কথা ও কাজ স্বামীর কাছে মস্ত বড় করে উপস্থাপন করে, এটা সেটা লাগিয়ে কান ঝালা-পালা করে দেয়। একটি লোক সারাদিনের কাজ কর্ম শেষ করে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় এসে দেখা পরিবারের সদস্যদের প্রতি আপনার ঝগড়া ঝাটি হয়েছে, অথবা পরিবারের সদস্যদের ছোট খাটো তেতু কথা তাঁকে শুনাচ্ছেন কিংবা আপনি নিজেই কোন একটা বিষয় নিয়ে ঝগড়া শুরু করে দিলেন, তখন তাঁর কাছে কেমন লাগবে? নিশ্চয় আপনার খারাপ লাগবে তা নয় কি? অতএব, পরিবারের ছোট খাটো কটু কথায় কান দিবেন না অথবা উত্তম পন্থায় জবাব দিন। কেননা, আপনি একজন আদর্শ ব্যক্তিত্ববান বধূ।

০৩। স্বামীকে খুশি করাঃ স্বামীকে খুশী রাখার চেষ্টা করুণ। এমন কোন কাজ ও কর্ম করবেন না যা তার মন মেজাজ খারাপ করে দেয়। বরং এমন কিছু করুণ যা তাঁকে আনন্দ দেয়, তাঁর মনকে প্রফুল্ল করে। প্রয়োজনে মজার কথা বলুন, হাস্যো কৌতুক কিংবা মজার ঘটনা এবং মজার গল্প গুজব করতে পারেন। স্বামীকে খুশী রাখতে আরো পড়ুনঃ স্বামীকে খুশী রাখার উপায় ও কলা-কৌশল

০৪. যৌন ইচ্ছাঃ অনেক স্ত্রীকে দেখা যায়, স্বামীর যৌন ইচ্ছাকে কোন গুরুত্ব দেয় না স্বামীকে খুশি রাখার নিয়মএমনকি তাঁর কাজে সাহায্যও করে না। স্বামী কাছে ডাকলে কাছে যেতে তাল-বাহানা করে, তাঁর যৌন প্রস্তাবে কারণ বিহীন রাজী হতে চায় না। বারে বারে এমটি চলতে আপনার প্রতি আপনার স্বামীর বিরক্তি এসে যেতে পারে। আপনার স্বামী আপনার একান্ত নিজস্ব সম্পদ। বিবাহ ব্যতীত আপনার স্বামীকে ব্যবহার করার অন্যের কোন অধিকার নেই। তাই স্বামীর যৌন ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিন। তাঁর যৌন চাহিদা পূরণে আন্তরিক হোন। তাঁর যৌন কর্ম সম্পাদন করার কাজে সাহায্য করুণ। আপনি যেরূপ আপনার স্বামীর কাছ থেকে আদর সোহাগ পেতে কামনা করেন, অনুরূপ আপনিও যৌন কর্ম সম্পাদনে অনুরূপ আচরণের বহিঃপ্রকাশ ঘটান। কেননা আপনি অন্যদের মতো গরু ছাগল নয় বরং আপনি অসাধারণ। একে অপরের পরিপূরক।

আপনি যৌন কলা-কৌশল শিখতে পড়ুন একটি ছোট বই : মেয়েদের যৌনশিক্ষা ও কলা-কৌশল।

যৌনতার পর অবশ্যক স্বামীকে ধন্যবাদ জানান। এই ছোট কথার দ্বারাও দেখবেন আপনার স্বামী অনেক খুশি হবে।

০৫. পরিষ্কার পরিচ্ছনতাঃ নিজেকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে চেষ্টা করুণ। সারাদিনের গৃহের কাজ কর্ম করে ঘামের ভেজা শরীর নিয়ে স্বামীর সাথে শুতে যাবেনা। নিজের গুপ্তাঙ্গে ময়লা জমে যাতে দুর্গন্ধ না সৃষ্টি করে সেদিকে বেশি নজর রাখবেন এবং বগলের ও নাভির নিচের লোম নিয়মিত পরিষ্কার রাখবেন। নয়তো ঘামের কটু গন্ধ ও দেহের বিশেষ অঙ্গের ময়লা জমে থাকার কারনে স্বামীর মনে আপনার প্রতি অনাগ্রহের সৃষ্টি হবে।

০৬. সাজ-সজ্জাঃ আউলা ঝাউলা না থেকে সাজ-সজ্জা গ্রহণ করে পরিপাটি হয়ে স্বামীর সামনে নিজেকে আকর্ষনীয় রূপে হাজির করুণ। অন্যদের মতো পর পুরুষকে নিজের রূপ-সৌন্দর্য দেখানোর জন্য রূপ-সজ্জা করে গ্রহণ করে স্বামীর কিংবা নিজের অর্থ নষ্ট করবেন না। এতে আপনার কোন লাভ নেই বরং হিতে বিপরীত হতে পারে। আপনার স্বামী আপনাকে আকর্ষনীয় রূপে  দেখতে না পেয়ে বরং পরনারীকে আকর্ষনীয় রূপে দেখে আপসোস করে বলতে পারে “আমি কি একটা বিয়ে করলাম, এই মেয়ে আগে আসিলো কই”। আমি মিথ্যা বলছি না বাস্তবে দেখেই বলছি।

আরও পড়ুন >> স্বামীদের খুশি করার কলাকৌশল

আমার  তরফ থেকে আপনার প্রতি এই পরামর্শ গুলোই দিলাম। বাকী গুলো নিজ থেকে যুক্ত করে নিতে পারেন।

পরামর্শঃ আপনার স্বামী আপনার নিজস্ব সম্পদ। আপনার আচরণগত সমস্যার কারণে যাতে পরনারীর প্রতি আকৃষ্ট না হয়ে যায় সেদিকে আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনি তাঁকে কাজ দ্বারা সন্তুষ্ট করতে না পারলেও কথার দ্বারা সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টা করুণ।

উত্তর লিখেছেনঃ সৈয়দ রুবেল। (প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদকঃ আমার বাংলা  পোস্ট.কম)

লেখক মুফীজুল ইসলাম এর একটি গল্প পড়ুনঃ এক বর পাগল নারীর গল্প।

এই আর্টিকেলটি আপনার বন্ধুদেরকে পড়াতে ফেসবুক, টুইটার, হোয়াটআপ এ শেয়ার করুণ।

এ সম্পর্কে আপনার মতামত প্রদান করতে কমেন্ট করুণ।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

বিধবা

বিধবা নারীদের যৌন চাহিদা ও আমাদের সমাজ ব্যবস্থা

প্রশ্নঃ বিধবা মেয়েদের যৌন ক্ষুধা হয় কি?   উত্তরঃ বিধবা মেয়েদের অনেক সমস্যা। একদিকে যেমন …

One comment

  1. চমৎকার পরামর্শ দেওয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *