Home / বই থেকে / প্রথম অধ্যায়: নূর ও মাটির প্রসঙ্গ

প্রথম অধ্যায়: নূর ও মাটির প্রসঙ্গ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

 

প্রথম অধ্যায়

নূর ও মাটির প্রসঙ্গ

আরবী……

শ্রদ্বেয় সভাপতি, হযরাতে উলামায়ে কিরাম, সম্মানিত সুধী সমাজ, এলাকার সর্বস্তরের মুসলমান ভাইসব ও পর্দাশীন মা-বোনেরা! আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীনের পবিত্র কালামের মর্ম বাণী এবং হযরত রাসূলে কারীম সা.—এর হাদীসের আলোকে দিশা লাভ করার জন্য আপনারা অনেক পরিশ্রম ও অনেক ত্যাগের বিনিময়ে এই মুবারক মহা সমাবেশের আয়োজন করেছেন। আমি মনে করি, আল্লাহর কালাম-আল্লাহর রাসূলের বানী বুঝার জন্য আপনাদের অন্তরে যেই আগ্রহ রয়েছে, এই সমাবেশ আপনাদের সেই আন্তরিক আগ্রহের প্রমাণ বহন করে। আমি দোয়া করি, আল্লাহর কথা, রাসূলের কথা শোনার জন্য যে আপনারা আগ্রহী হলেন, আপনাদের সেই আগ্রহকে উসীলা করে আল্লাহ পাক আপনাদের আমাদের সবাইকে তাঁর নির্ধারিত রাসূলের বর্ণিত ইসলামের সত্য-সঠিক, সহজ-সরল পথে চলার সৌভাগ্য দান করুন। আমীন।

 

দুনিয়াতে মানুষ প্রেরণের উদ্দেশ্য

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন এই দুনিয়াতে মানবজাতিকে পর্যায় ও পালাক্রমে পাঠাচ্ছেন। এক দলকে পাঠাচ্ছেন আরেক দল নিয়ে যাচ্ছেন। আরেক দল পাঠাচ্ছেন আরেক দল নিয়ে যাচ্ছেন। এইভাবে পর্যায়ক্রমে দুনিয়াতে মানুষের আসা-যাওয়ার পালা চলছে। কিন্তু কেন আল্লাহ এই দুনিয়াতে মানুষ পাঠান? এর জবাব তিনি পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্ট ভাষায় ব্যক্ত করেছেন এভাবে যে,

আরবী…

অর্থ: “দলে দলে পালাক্রমে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে দুনিয়াতে পাঠাচ্ছেন, তোমাদের আমল পরীক্ষা করার জন্য। আল্লাহ দেখবেন, তোমরা কেমন আমল কর।” (সূরা আরাফ:১২৯)

যারা দুনিয়াতে আসার পরে আল্লাহর বিধান মতো চলবে, নবীজীর তরীকা মতো আমল করবে; পরকালে আল্লাহর আদালতে তারা জান্নাতের যোগ্য বলে বিবেচিত হবে। আর এই দুনিয়ার কিছু দিনের যিন্দেগীতে যারা আল্লাহর নির্ধারিত পথ ছেড়ে দিয়ে মনগড়া পথে চলবে, পরকালে আল্লাহর বিচারে তারা জাহান্নামের অধিবাসী বলে চিহ্নিত হবে। সুতরাং এই দুনিয়ার জীবনটা আমাদের খাম—খেয়ালীর জীবন নয়। এটি একটি কঠিন পরীক্ষার হল। দুনিয়ার জীবনের এই কঠিন পরীক্ষায় মানুষ যেন ফেল করে, সে জন্য কিয়ামত পর্যন্ত শয়তান প্রচেষ্টা চালায়। আর এ দুনিয়াতে মানুষ পাঠানোর বহু পূর্বে শয়তান আল্লাহকে বলে দিয়েছে।

একটি প্রশ্ন ও তাঁর জবাব

আপনারা জানেন, আল্লাহ পাক রাব্বুল আলামীন জগতের আদি পিতা হযরত আদম আ.কে সৃষ্টি করার পর, ইবলিশসহ সমস্ত ফেরেশতাদের আদেশ দিয়েছিলেন হযরত আদম আ.কে সিজদা করার জন্য। এ প্রসঙ্গে একটি প্রশ্ন আসে যা আমাদের আলোচ্য বিষয় বহির্ভূত। তবুও যেহেতু প্রশ্ন আসে, সেজন্য প্রশ্ন ও জবাব টি পেশ করার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ। প্রশ্ন হয় ফিরিশতারা আদম আ.কে সিজদা করার পরও যদি কোন দোষ না হয়, তাহলে আমরা পীর সাহেবদেরকে সিজদা করলে কেন দোষ হবে? এই প্রশ্নের জবাব সহজে বুঝার জন্য একটি উদাহরণ দেয়া প্রয়োজন। আপনারা হয়ত জানেন যে, হযরত আদম আ.কে দুনিয়াতে প্রেরণ করার পর, যখন তাঁর সন্তানাদি জম্মগ্রহণ করতে লাগল, প্রতি বছর এক সাথে দু’টি করে সন্তান জম্মগ্রহণ করত। আগের বছরের এক ছেলের সাথে পরের বছরের এক মেয়েকে বিয়ে দেয়ার জন্য মহান আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছিলেন। হযরত আদম আ. ও এ অনুযায়ী আমল করে যাচ্ছিলেন। আগের বছর জম্মগ্রহণ করা ছেলের সাথের পরের বছর জম্মগ্রহণ করা মেয়েকে বিয়ে দিতেন।

(শ্রোতাদেরকে লক্ষ্য করে) এ কথাটি কি আজকেই আপনারা জীবনের প্রথম শুনলেন, না আগে আরও শুনেছেন? আপন ছেলের সাথে আপন মেয়ের বিয়ে দেয়া তখন হালাল ছিল না হারাম ছিল? হালাল ছিল। এজন্য কি বর্তমানে আপনারাও আপনাদের আপন ছেলের সাথে আপন মেয়ের বিয়ে দিবেন? না। কেন দিবেন না? এর একমাত্র জবাব, এটা হারাম। কিন্তু আদম আ. এর জন্য এটি হালাল ও বৈধ ছিল। আপন ছেলের সাথে আপন মেয়ের বিয়ে দেয়া মহান আল্লাহ তাআলা হযরত আদম আ. এর যুগের জন্য হালাল করেছিলেন কিন্তু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে এটি হারাম হয়ে গেছে। ঠিক তেমনিভাবেয়াদম আ. এর যুগে সম্মান করার জন্য আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা হালাল ছিল, তাই সে যুগে ফিরিশতারা আদম আ. কে সম্মান করার জন্য সিজদা দিয়েছিলেন। কিন্তু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা. এর যুগে তা হারাম হয়ে গেছে। এ কারণেই মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ সা.-এর উম্মতদের কেউ একে অপরকে সম্মান প্রদর্শনের উদ্দেশ্যে সিজদা দিতে পারবে না। তাছাড়া একটি বর্ণনায় এসেছে, ফেরেশতাদের সিজদাটি মূলতঃ নামাযের সিজদার মত কপাল মাটিতে ঠেকিয়ে সিজদা করা ছিল না। মূলতঃ তারা মাথা ঝুঁকিয়ে অভিবাদন জানিয়েছিলেন হযরত আদম আ. কে। যেই অভিবাদকেও আরবী ভাষায় সিজদা বলা হয়। আরো পড়ুন

উৎস

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE