Home / বই থেকে / বর্তমান যামানার তাবলীগ জামাত কাফের কেন?

বর্তমান যামানার তাবলীগ জামাত কাফের কেন?

বর্তমান যামানার তাবলীগ জামাত কাফের হওয়ার অপরাধ এরা নবীর মতো বেদ্বীন কাফেরদের কাছে ঈমানের দাওয়াত নিয়ে যায় না। বরং তারা মুমিন—মুসলমানের কাছে ঈমানের দাওয়াত নিয়ে যায় না। এই অপরাধে তারা কাফির। একজন মানুষের নাম……নাম বলার অভ্যাস আমার নেই। কিন্তু আজকে বলতে হয়। ঢাকার একজন মানুষ আছে। লাল টকটকে চেহারা। একেবারে আবু লাহাবের মতো চেহারা। লাহাব অর্থই হল অগ্নিশিখা। আবু লাহাব এর চেহারা অগ্নিশিখার মত লাল ছিল, এজন্য সমাজের লোক তাকে আবু লাহাব উপাধি দিয়েছিল।

ঢাকার এ রকম একজন লোক আছে। নরসিংদী জেলার শিবপুর থানায় গত কয়েক বছর আগে এই তাবলীগ নিয়ে একটি বহস হয়েছিল। সেই বহসের মধ্যে আবু লাহাবের চেহারার মতো চেহারাওয়ালা লোকটাও উপস্থিত ছিল। আমি গুনাহগার উপস্থিত ছিলাম। আমি তার কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, “এই তাবলীগী জামাতের লোকেরা কাফের কোন অপরাধে? তিনি বললেন: “ঈমানদারদের কাছে ঈমানের দাওয়াত নিয়ে যাওয়ার অপরাধে”।

আমি বললাম: ভদ্র মশায়! তাহলে কুরআনে কারীমের একটি আয়াত একটু কষ্ট করে আমাকে বুঝিয়ে দিন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কুরআনে বলেছেন:

অর্থঃ “হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের উপর ঈমান আনো”। (সূরা—নিসা:১৩৬)  

গাট্টিওয়ালা তাবলীগের লোকেরা যদি ঈমানদারদেরকে ঈমানের দাওয়াত দেয়ার কারণে ওয়াবী বা কাফের হয়, তাহলে মহান আল্লাহ তাআলা যে কুরআনে ঈমানদারদেরকে ঈমান আনার দাওয়াত দিলেন, এখন মহান আল্লাহকে কি বলবেন? ঈমানদারকে ঈমানের দাওয়াত দিলে ও্যাবী বা কাফের হয়ে যায় এই কথা মানলে এখন কোন উপায় আহচে? এমন কাজ তো পবিত্র কুরআনের ভাষ্যে মহান আল্লাহই করেছেন।

একটি প্রশ্ন ও তাঁর জবাব..

ঈমানদাররা আগে থেকেই ঈমানদার! এরপর যে আল্লাহ কুরআনে কারীমে পুনরায় ঈমান আনার দাওয়াত দিলেন, তাহলে এখন তিনি কোন ঈমান আনার দাওয়াত দিলেন? এই প্রশ্নের জবাবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেনঃ

“হে ঈমানদারগণ! তোমরা ইসলামে পরিপূর্ণভাবে প্রবেশ করো…..।”(সূরা—বাকারা:২০৮)

আগে থেকেই যারা ঈমান এনেছে, আল্লাহকে বিশ্বাস করেছে, আল্লাহর রাসূলের উপর বিশ্বাস স্থাপন করেছে, পরকালে বিশ্বাস করেছে কিন্তু নামায পড়ে না। এমন ঈমানদারের ঈমান পরিপূর্ণ না অপূর্ণ? এই অপূর্ণ ঈমানদারদেরকে পরিপূর্ণ ঈমান আনার জন্য মহান আল্লাহ ডাক দিয়েছেন এবং পরিপূর্ণ ঈমান আনার দাওয়াত দিয়েছেন। গাট্টিওয়ালা তাবলীগের ভাইয়েরা এই কাজটাই করে। মসজিদে গিয়ে বলে: “ভাই! কালিমা যে বিশ্বসা করেছ, সহীহ করে পড়ার শিখেছ কিনা?” তখন লোকেরা বলে: সবার কালিমাই সহীহ হয় না।” তখন তাবলীগের ভাইয়েরা তাদেরকে বলে: “তাহলে তোময়াদেরকে দাওয়াত দিলাম আসো মসজিদে গিয়ে কালিমাটা সহীহ করে নাও”।

সুতরাং দেখা যাচ্ছে যে, যে কাজটা মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে করেছেন, গাট্টিওয়ালারাও সেই কাজটাই করছে ঈমানদারদের কাছে গিয়ে। তাই এ কারণে তাবলীগীরা কাফের হলে আল্লাহকে কি বলবে?

আল্লামা নূরুল ইসলাম ওলিপুরীরতাবলীগ বিরোধিতার অন্তরালে” বই থেকে নেওয়া। আমরা চেষ্টা করবো পুরো বইটি আপনাদের হাতে তুলে দিতে। সে জন্য আপনাদের মতামত কামনা করছি।

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *