Home / বই থেকে / রোযা-হজ্জ ছাড়া শুধু ছয় কথার দ্বারা বেহেশতে যাবে কিভাবে?

রোযা-হজ্জ ছাড়া শুধু ছয় কথার দ্বারা বেহেশতে যাবে কিভাবে?

এখন দেখা গেল যে, ভহয় উসূলও কুরআন-হাদীসের বাইরে মনগড়া কিছু নয়। বরং এটাও কুরআন-হাদীসেরই সুস্পষ্ট নির্দেশনা । কিন্তু প্রশ্ন হল : ছয় উসূল থেকে রোযা হজ্জ বাদ গেল কেন। ইসলামের মৌলিক স্তম্ভের অন্যতম রোযা-হজ্জ বাদ দিয়ে শুধু ছয় কথার দ্বারা বেহেশতের যাবে কিভাবে?

এর জবাব বুঝার আগে একটি ভূমিকা বুঝা দরকার। কুরআনের বিভিন্ন জায়গায়, বিভিন্ন স্থানে আমরা দেখি যে, স্বয়ং মহান আল্লাহ তাআলাও ঈমান, নামায, আল্লাহর পথে দান করা ইত্যাদির কিছু বিষয় বর্ণনা করে ইসলামের অন্যান্য বিষয়ের কথা আর আলোচনা করননি। বরং এগুলো বলেই ঘোষণা করেছেন যে, যদি এগুলো মানো এর উপর আমল করো তাহলেই হেদায়েত পাবে। জান্নাতে যেতে পারবে। সেখানে ঈমান, নামাযের পর আর রোযা বা হজ্জের কথা বলেননি। যেমন পবিত্র কুরআনের শুরুতেই আছে। আল্লাহ বলেন,

আরবী…….

অর্থ : “এটি মহান আল্লাহর থেকে অবতীর্ণ সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই। আর একে অবতীর্ণ করা হয়েছে মুত্তাকী (খোদাভীরু)দের হিদায়াতের জন্য।

১. (আর খোদাভীরু বা মুত্তাকী হল) যারা অদৃশ্যের উপর (না দেখে গায়েবানা) ঈমান আনে।

২. নামায কায়েম করে।

৩. যারা আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে দান করে।

৪. আর যারা ঈমান আনে আপনার প্রতি অবতীর্ণ কুরআন ও

৫. আপনার পূর্ববর্তী নবীদের উপর অবতীর্ণ আসমানী কিতাবসমূহের উপর।

৬. আর বিশ্বাস রাখে শেষ দিবস তথা পরকালের উপর। আর তারাই হল প্রকৃত সফলকাম।” (সূরা বাকারা : ২-৫)

লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো, এখানে হজ্জ ও রোযার কথা কিন্তু আলোচনা করা হয়নি। অথচ বলা হয়েছে, যারা উপরে উল্লেখিত (হজ্জ-রোযা ছাড়া) বিষয়ের উপর আমল করবে তারাই হেদায়াত প্রাপ্ত ও সফলকাম। তাহলে এখানে হজ্জ ও রোযার কথা গেল কোথায়? আয়াতে উল্লেখিত রোযা ঝহ ছাড়া ছয় কথাও কি গাট্টিওয়ালা তাবলীগীরা বলেছে?……না। এটা তো স্বয়ং আল্লাহই বলেছেন। শুধু এখানেই শেষ নয়। অপর আয়াতে রোযা—হজ্জ ছাড়া ছয় কথা উল্লেখ করে তা পালনকারীদের জন্য জান্নাতুল ফিরদাউসের ওয়াদা করে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন ইরশাদ করেন :

আরবী……

অর্থ : “ঐ সকল মুমিনরাই সফল!

১. যারা মনোযোগের সাথে নামায আদায় করে।

২. অনর্থক কাজ ছেড়ে দেয়।

৩. যথাযথভাবে ভাবে যাকাত আদায় করে।

৪. নিজেদের যৌনাঙ্গকে অবৈধ পন্থায় ব্যবহার থেকে মুক্ত রাখে।

৫. আল্লাহর দেয়া আমানত ও আল্লাহর সাথে কৃত ওয়াদাকে রক্ষা করে।

৬. যথাসময়ে নামায আদায় করে। (এই ছয়টি বিষয়ের মধ্যে রমযান মাসে রোযা রাখবে, কাবা শরীফের হজ্জ করবে—এরকম কথা আছে কি না? নেই। অথচ এ কথা বলার পর পরই আল্লাহ তাআলা বলেছেন) তারাই হল জান্নাতুর ফিরদাউসের উত্তরাধিকারী। তারা সেই জান্নাতে থাকবে চিরকাল।” (সূরা মুমিন : ১/১১.

কুরআনে এ আল্লাহ বিভিন্ন স্থানে ভহয় কথা বলে তাঁর পালনকারীকে “হেদায়াতপ্রাপ্ত’ এবং ‘জান্নাতের উত্তরাধিকারী’ বলেছেন অথচ সেই ছয়টি বিষয়ের মধ্যে রোযা বা হজ্জের নাম নেই; তাহলে এক্ষেত্রে কি প্রশ্ন আসে না যে, তারা রোযা-হজ্জ ছাড়া কিভাবে জান্নাতে যাবে?

সুতরাং দেখা গেল যে, বিষয়টি বুঝার ভুল। যারা কুরআনে বর্ণিত এই ছয় কথার প্রকৃত মর্ম বুঝবে, তারা তাবলীগের ছয় কথার মর্মও বুঝবে। যারা কুরআনের মর্ম বুঝবে না, তারা তাবলীগের মর্মও বুঝবে না।

তাই আমরা প্রথমে কুরআনের ছয় কথায় রোযা ও হজ্জ আছে কিনা বুঝার চেষ্টা করি। তারপরই তাবলীগের ছয় কথায় রো্যা ও হজ্জ আছে কি না বুঝে আসবে।

পবিত্র কুরআনের সূরায় বাকারার ২,৩,৪ নং আয়াতে মুত্তাকীনদের ছয়টি গুণের কথা কথা বলেছেন। এর ৪ নং গুণে বলা হয়েছে, যারা রাসূল সা. এর কাছে নাযিলকৃত কুরআন বিশ্বাস করবে। আর একথা বলারই অপেক্ষা রাখে না যে, কুরআন বিশ্বাস করলে এতে উল্লেখিত রোযা ও হজ্জের আয়াতগুলিসহই বিশ্বাস করবে। সুতরাং উক্ত ছয় কথার ভিতরেই রোযা ও হজ্জের কথা আছে।

অনুরূপভাবে সূরায়ের নূর এর প্রথম দসিকের আয়াতগুলিতে আল্লাহ মুমিনদের যে ছয়টি গুণের কথা উল্লেখ করেছেন এর ৫ নং গুন হলো আমানত রক্ষা করবে। আর বান্দার কাছে আল্লাহর সবচেয়ে বড় আমানত হল ত্রিশ পারা কুরআনের বিধি-বিধান পালন করা। যার ভিতরে রোযা এবং হজ্জের বিধানও রয়েছে। সুতরাং এ ছয় কথা থেকে রোযা ও হজ্জ বাদ পড়েনি। আরো পড়ুন>>

আপনি পড়ছেন: “তাবলীগ বিরোধিতার অন্তরালে” বই থেকে

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

[পঞ্চম পরিচ্ছেদ] ইসলামী শরী‘য়াহ বাস্তবায়নের হুকুম

আল্লাহর প্রতি ঈমান ও তাঁর একত্ববাদে বিশ্বাস এটাই দাবী যে, আমরা ঈমান আনব যে, তিনি …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *