Breaking News
Home / বই থেকে / বাদশাহ আলমগীরের গৌরবময় শাসন

বাদশাহ আলমগীরের গৌরবময় শাসন

১৭ শতাব্দীর প্রথম দিকে বৃটিশরা এদেশে আসার আগে এ দেশ শাসন করত কারা? মুসলমানরা। এদেশে বৃটিশদের আগমন করার পূর্বে যেই সকল  মুসলমানগণ এ দেশ শাসন করতেন ঐ সমস্ত শাসনকর্তাদের মধ্যে থেকে একজন ছিলেন বাদশাহ আলমগীর। বাদশাহ আলমগীরের উপাধী ছিল ফকীহ বাদশাহ। কারণ তিনি বাদশাহ হয়েও ফকীরের মতো জীবন যাপন করতেন। তিনি নিজেরগ হাতে টুপি সেলাই করে পাইকারী বিক্রি করতেন। আর তা থেকে অর্জিত মুনাফা দ্বারা নিজ সংসার চালাতেন। দেশের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য কোন বেতন—ভাতা গ্রহণ করতেন না। বর্তমান যুগে একথা বললে, রাজনৈতিক নেতারা বলবে : বেতন নেবো না দেশের স্বার্থে কাজ করব কোন স্বার্থে? ইসলামের বিধান হল, দেশ শাসন পেট পালার উপায় নয়। দেশ শাসন কোন বেতনভোগী চাকুরী নয়। দেশ শাসন আল্লাহর বিশিষ্ট ইবাদত। এটা ভিন্ন কথা। যা আমার আলোচ্য বিষয় নয়। যা হোক, বাদশাহ আলমগীর এর বিশাল সাম্রাজ্য শাসন করতেন, অথচ তা থেকে তিনি কোন বেতন ভাতা গ্রহণ করতেন না। তখন বাংলাদেশ ছিল  না। ছিল না পাকিস্তানও। বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ভারত এই তিন দেশ তখন এক দেশ ছিল। তাঁর নাম ছিল মহাভারত।

বাদশাহ আলমগীর কত বড় ধার্মিক বাদশাহ ছিলেন তাঁর একটা প্রমাণ হল তিনি ছিলেন ফকীহ বাদশাহ। আর এর চেয়েও বড় প্রমাণ হল তিনি তৎকালীন সময়ে তাঁর সমকালীন আলেমদের সহযোগিতায় পৃথিবীর বিখ্যাত ফতোয়ার কিতাব “ফতোয়ায়ে আলমগীরী” রচনা করেছিলেন। ভাবনার বিষয় যে, কত বড় আল্লাহওয়ালা আর কত বড় জ্ঞানী পণ্ডিত হলে একজন দীনদার বাদশাহ সারা পৃথিবীর বিখ্যাত  ফতোয়ার কিতাব  “ফতোয়ায়ে আলমগীরী” লেখার কাজে হাত দিতে পারেন।

বাদশাহ আলমগীর এবং তাঁর মতো মুসলিম শাসকরাই বৃটিশদের আগমনের পূর্বে এদেশ শাসন করতেন। তখনকার যুগে বাংলাদেশ ছিল না, পাকিস্তান ছিল না। সমস্ত ভারতের যত প্রদেশ ছিল তাঁর একটা প্রদেশের নাম ছিল বঙ্গ প্রদেশ। বৃহত্তর সিলেট বাদ দিয়ে, বর্তমান বাংলাদেশের সবটা এবং কলিকাতা এলাকাসহ এই অঞ্চলের নাম ছিল তখনকার ভারতের বঙ্গপ্রদেশ। এই বঙ্গ প্রদেশেই তখন আশি হাজার মাদরাসা ছিল। এখন চিন্তা করুন! কত বড় আল্লাহওয়ালা বাদশাহ হলে একতা প্রদেশের মধ্যে আশি হাজার মাদরাসা পৃষ্ঠপোষকতা করতে পারেন। তখনকার দিনে ঐ সকল মাদরাসা-মক্তবগুলোর কোন একটিকেও সাহায্যের জন্য জনগণের কাছে হাত বাড়াতে হতো না। সরকারের কাছেও সাহায্য চাও লাগতো না। তখন প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই ওয়াকফকৃত বিশাল সম্পত্তি ছিল এবং প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের জন্যই কিছু নিবেদিতপ্রাণ ব্যক্তি এমন থাকতো  যারা নিজেদের মূল্যবান সম্পত্তি মাদরাসায় নামে দান করে দিত। আর এই সকল সম্পত্তি আয় থেকেই সেই মাদরাসা-মক্তবগুলো সারা বছর স্বচ্ছলভাবে চলতে পারত। কিন্তু বর্তমান যামানার অবস্থা এই যে, কোন মাদরাসা সাহয্যের জন্য সরকারের দিকে হাত বাড়ায়, আর কোন মাদরাসা সাহায্যের জন্য জনগণের দিকে তাকিয়ে থাকে। মোঘল শাসনামলে যত মাদরাসা এই দেশে চালু ছিল তাঁর কোন মাদরাসাই এমন করতে হতো না। আরো পড়ুন>>>

আপনি পড়ছেন: “তাবলীগ বিরোধিতার অন্তরালে” বই থেকে

About Syed Rubel

Creative writer and editor of amar bangla post. Syed Rubel create this blog in 2014 and start social bangla bloggin.

Check Also

মোজার উপর মাসাহ

মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান (হাদিস)

জেনে নিন মোজার উপরে মাসাহ করার বিধান। রাসূল (সাঃ) ও সাহাবায়ে কেরামগণ চামড়ার মোজা পরিধান …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Optimization WordPress Plugins & Solutions by W3 EDGE